Breaking News
Home / ইসলাম / শিক্ষামূলক গল্প / খোদার প্রেমের অপূর্ব কাহিনী

খোদার প্রেমের অপূর্ব কাহিনী

আব্দুল্লাহ ইবনে হুযাফা (রা.) শত্রুপক্ষের বন্দিশালায় আবেগ ও বুদ্ধিমত্তার মূর্ত প্রতীক। খলীফাতুল মুসলিমীন হযরত ওমর (রা.) রোমের উদ্দেশ্যে আব্দুল্লাহ ইবনে হুযাফার (রা.) নের্তৃত্বে একটি সৈন্যদল পাঠালেন। শত্রুরা তাঁকেসহ কাফেলার সকলকে বন্দী করে ফেলল। এ মহৎ ব্যক্তিত্বকে যখন রোম সম্রাতের কাছে নিয়ে যাওয়া হল। সম্রাট তাঁকে এ মর্মে প্রস্তাব দেয় যে, যদি তুমি খ্রিষ্ট ধর্ম গ্রহণ কর, তবে আমার সাম্রাজ্যে তোমাকে অংশীদার করব। হতভাগা সম্রাট ভেবেছিল যে, ধন-সম্পদ ও পদ মর্যাদার লিপ্সায় এ মরুচারী যাযাবর কুপোকাত হয়ে যাবে। কিন্তু সে কল্পনাও করতে পারেনি যে, তার সন্মুখে দন্ডায়মান মুহাম্মদে আরবী (সাঃ) এর একজন ভক্ত ও অনুরক্ত পাগলপারা সাহাবী। যার দরিদ্রতা ও অনটনের সন্মুখে একটি নয় দুটি নয় হাজারো সম্রাটদের সাম্রাজ্য উৎসর্গ হয়ে থাকে।

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে হুযাফা (রা.) তাঁর প্রস্তাবকে পরিস্কার ভাষায় প্রত্যাখ্যান করে দিলেন। এই বীরোচিত আচরণ ও পাহাড়সম অটলতার দরুন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে হুযাফা (রা.) তাই পেয়েছেন, যা এ পৃথিবীতে হকপন্থী ও সত্য পথের পথিকরা পেয়ে থাকেন। সম্রাট তাঁকে শূলে চড়িয়ে তীর মারতে মারতে নিঃশেষ করে ফেলার জন্য নির্দেশ জারি করল। সিপাহী নির্দেশমত তাঁকে শূলে চড়াল। সকল প্রস্তুতি শেষ। কামানগুলো তাক করানো হল, তাঁকে ঝাঁযরা করে ফেলার জন্য। মৃত্যু এখন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে হুযাফার (রা.) সন্মুখে অপেক্ষামান। কিন্তু সম্রাট এ দৃশ্য দেখে হতভম্ব ও বিস্মিত হয়ে তাকিয়ে রইল যে, এ অকুতোভয় খোদা প্রেমিকের চেহারায় দুশ্চিন্তা, বিষন্নতা, ভীতি বা পেরেশানীর কোন ছাপ নেই। চোখ মেলে স্মিত হাঁসি আর প্রফুল্ল চেহারায় মৃত্যুকে অভিবাদন জানাতে সম্রাট ইতি পূর্বে কাউকে দেখেনি। সম্রাট তাঁর এ অবস্থা দেখে ভাবল, তাঁকে এমন কোন ভয়ঙ্কর পন্থায় হত্যা করতে হবে যে, তাঁর মত অকুতোভয় নির্ভীক ও সাহসী মানুষটিকে পর্যন্ত দিশেহারা ও পেরেশান করে ছাড়বে।

এজন্য সম্রাট তাঁকে শুলকাষ্ঠ হতে নামিয়ে আনার নির্দেশ দিল। আর একটি ডেকে পানি ঢেলে তা ফুটানোর হুকুম করল। পানি ভর্তি ডেগটি যখন সিদ্ধ পানির উত্তাপে টগবগ করছে, হযরত আব্দুল্লাহ (রা.) পবিত্র ও মহত১ কাফেলার একজন বন্দীসাহাবীকে এনে তাঁরই সন্মুখে ডেকে ছেড়ে দেওয়া হল। হযরত আব্দুল্লাহ (রা.) চেয়ে রইলেন যে, সঙ্গী কয়েদীকে ছেড়ে দেওয়া মাত্র তাঁর হাড্ডি থেকে মুহূর্তের মধ্যে গোশত খসে পড়ল। আর ডেগ বিভৎসভাবে চকচক করতে লাগল পাষান্ড সম্রাট বলল-যদি তুই না করিস, তবে তোকেও একই পরিণতির শিকার হতে হবে। কিন্তু এ ভয়ঙ্কর দৃশ্য হযরত আব্দুল্লাহ (রা.) কে তাঁর সাহসী অবস্থান থেকে বিন্দুমাত্র টলাতে পারেনি। তাঁর মুখে একটিই কথা ছিল-এ টগবগে ফুটন্ত পানিতে পড়ে ঝলসে যাওয়া সম্ভব, তবুও ঈমান ত্যাগ করা সম্ভব নয়।

সৈন্যরা তাঁকেও কড়াতে নিক্ষেপ করার জন্য নিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু এখানে এক অদ্ভুত দৃশ্যের অবতারণা হল। আব্দুল্লাহ ইবনে হুযাফা (রা.) চড়ে মুচকী হাসি আর প্রফুল্ল মনে মৃত্যুকে অভিবাদন জানাচ্ছিলেন, তিনিই এখন কড়াইর কাছে যেতেই তাঁর চোখে অশ্রু ঝলঝল করছিল। তাঁকে অশ্রুশিক্ত দেখে সাম্রাট মনে করেছিল, আমি বুঝি জয়লাভ করেছি। সে তৎক্ষণাত হযরত আব্দুল্লাহ (রা.) কে ফিরিয়ে আনল এবং কান্নার কারণ জিজ্ঞাসা করল। প্রত্যুত্তরে হযরত আব্দুল্লাহ (রা.) বললেন-আমি এজন্য আক্ষেপ করে ক্রুন্দন করছিলাম যে, হায়! যদি আমার শত আত্মা থাকত, আর সকল আত্মাকে আজ আল্লাহর রাস্তায় এ নিদারুন আচরণের সামনে উৎসর্গ করতে পারতাম। সম্রাট একথা শুনে অবাক হয়ে গেল। সে লোমহর্ষক ও বিভৎস মৃত্যুর দুতারে দাঁড়ানো ব্যক্তির মুখ হতে এরূপ জবাব কখনও আশা করেনি।

পরিশেষে হয়ত সম্রাট ভাবল, এমন লোকের শাস্তি তাঁকে হত্যা করা নয়, তাঁকে জীবিত রাখাই হল আসল শাস্তি। তাই সম্রাট তাঁকে লক্ষ্য করে বলল- ঠিক আছে। তুমি কেবল আমার ললাটে চুম্বন কর। তবেই তোমাকে মুক্ত করে দেব।

হযরত আব্দুল্লাহ (রা.) বললেন- এর বিনিময়ে কেবল আমাকে নয়, আমার সকল সঙ্গীকেও মুক্ত করলে আমি তা করতে পারি। সম্রাট বলল- আমি তোমার সকল সঙ্গীকেও মুক্ত করে দেব। হযরত আব্দুল্লাহ ইইবনে হুযাফা (রা.) সন্মুখে অগ্রসর হয়ে তাঁর মস্তকে চুম্বন করলেন। আর সকল সঙ্গীদের নিয়ে নিরাপদে ফিরে এলেন।

এই বরকতময় কাফেলা যখন হযরত ওমরের (রা.) নিকট পৌঁছাল এবং তাদের বিস্তারিত ঘটনা তিনি শুনলেন, তৎক্ষনাত তিনি স্বস্থান হতে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে হুযাফা (রা.) যে ঈমানী জয় তথা শক্তি, বিচক্ষণতা ও দুরদর্শিতাসহ কাফেলার নের্তৃত্ব দিয়েছেন এবং অলৌকিকভাবে সদলবলে নিরাপদে ফিরে এসেছেন তাঁর স্বীকৃত ও পুরস্কার স্বরূপ তাঁর কপালে চুম্বন করলেন। -আল-ইসাবাহ-২/২৮৮

বিভাগঃ ইসলাম / মূল বিভাগ দেখুন

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

তিন যুবকের গল্প

গুহায় আঁটকে পড়া তিন যুবকের গল্প ও শিক্ষা

একবার তিনজন যুবক পথ চলছিল, এমন সময় তারা বৃষ্টিতে আক্রান্ত হ’ল। অতঃপর তারা এক পাহাড়ের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE