Breaking News
Home / বই থেকে / চব্বিশ (ব্যথিত হৃদয়)

চব্বিশ (ব্যথিত হৃদয়)

নাঈমা ও খালেদা উভয়েই এ বছর দাওরায়ে হাদীস পাশ করেছে। শুধু পাশই করে নি, গোটা বাংলাদেশের মেয়েদের মধ্যে তারা প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে। নাঈমা প্রথম হয়েছে। খালেদা দ্বিতীয় । আরো মজার কথা হলো, দারুর রাশাদের ছাত্র মুহাম্মদ সোহেল শিকদারও একই পরিক্ষায় ছেলেদের মধ্যে প্রথম হয়ে বিরল কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছে। তবে একথা অনস্বীকার্য যে, তাদের এ ফলাফলের পিছনে অনেকখানিই রয়েছে সাকিবের ভূমিকা। সত্যি বলতে কি, ওদের তিনজনের পিছনেই সাকিব বিভিন্নভাবে এ পরিমাণ মেহনত করেছে যা বর্ণনাতীত। নিয়মিত পড়াশুনার খোঁজ-খবর নেওয়া, প্রয়োজনীয় কিতাবাদি কিনে দেওয়া, নিজের করা নোটখাতা ফটোকপি করে প্রত্যেকের কাছে পৌঁছে দেওয়া ইত্যাদি কাজ অত্যন্ত নিষ্ঠা ও গুরুত্বের সাথে সাকিব গোটা বছর আঞ্জাম দিয়েছে। সে এসব কাজে মোটেও ক্লান্তিবোধ করে নি। তাছাড়া প্রয়োজনীয় উপদেশ ও দিক নির্দেশনামূলক কথাবার্তা তো আছেই।

খালেদা মাদরাসায় ভর্তি হওয়ার পর অসংখ্য বার আতাউর রহমান সাহেব ঢাকায় এসেছেন। এভাবে বারবার আসা যাওয়ার মাধ্যমে মুফতী শফীউল্লাহ সাহেব, মসজিদের ইমাম আব্দুল ওয়াদুদ এবং হোটেল মালিক হাজী বশীর সাহেবের সাথে তাঁর বেশ সখ্যতা ও আন্তরিকতা গড়ে এঠে। এমনকি এক সম্য তা এরূপ পর্যায়ে পৌঁছে যে, তিনি ঢাকায় এলে মুফতি সাহেব ও ইমাম সাহেবের বাসায় অন্তত এক বেলা করে হলেও আথিতেয়তা গ্রহণ না করে বিদায় নিতে পারতেন না। আর হাজী সাহেবের বাসায় তো দু একদিন বেড়াতেই হতো। তাই আতাউর রহমান সাহেব ঢাকা আসলে অন্তত দুদিন সময় অবশ্যই জাতে নিয়ে আসতেন ।

গত কয়েকদিন আগে ঢাকা থেকে ফিরার সময় আতাউর রহমান সাহেব সাকিবকে লক্ষ্য করে বললেন, বাবা সাকিব! খালেদা তো এবার পরীক্ষা দিয়ে ভালো রেজাল্ট করল। বিয়ের বয়সও হয়েছে তাঁর। বর্তমানে দেশের যে পরিস্থিতি, এমতাবস্থায় উপযুক্ত মেয়েকে ঘরে বসিয়ে রাখাও আমি ভালো মনে করি না। তাই বলছিলাম কিও, তুমি যদি ওর বিয়ের ব্যাপাররে একটু ফিকির করতে তাহলে খুব ভালো হতো। আমি তো গ্রামের মানুষ। তোমাদের লাইনে লেখাপড়া কিংবা পরিচিতি কোনোটাই আমার নেই। তাই তোমার উপরই আমি খালেদার বিয়ের দায়িত্ব অর্পণ করতে চাই। ওর বর হিসেবে তুমি যাকে পছন্দ করবে আমরা তাই মেনে নিব।

খালেদার জন্য সাকিব বেশ আগে থেকেই সহেলকে পছন্দ করে আসছিল। সে জন্য সে গোপনে গোপনে সোহেলের পারিবারিক অবস্থাসহ সব খবরাখবর নিয়ে রেখেছে। এমনকি একদিন সে বেড়ানোর ছুতোয় সোহেলদের বাড়িঘরও দেখে এসেছে। যাতায়াত ব্যবস্থাও বেশ ভালো। বাড়িতে পর্দা-পুষিদার কোনো কমতি নেই। সোহেলের পিতা ও বাড়ির লোকদের সাথে আলাপ আলোচনা সাকিব ভালো করেই বুঝতে পেরেছে যে, সোহেলরা খান্দানী লোক। দীনদারী ও পরহেযগারী ওদের রগে-রেশায় প্রোথিত। সর্বোপরি খালেদার সাথে সোহেলের মানাবেও ভালো।

এবার খালেদা ও সোহেলের বিয়ে নিয়ে বেশ তোড়জোড় শুরু হলো। অল্প দিনের মধ্যেই বিয়ের সর্ব প্রকার পূর্ব প্রস্তুতি সম্পন্ন হলো এবং এক সময় দিন তারিখ ধার্য করে উলামায়ে কেরাম, মুরব্বীয়ানে কেরামসহ সকলের উপস্থিতিতে সোহেল-খালেদার শুভ পরিণয়ের কাজ সমাধা হলো।-আরো পড়ুন

আপনি পড়ছেনঃ ব্যথিত হৃদয় (ইসলামীক উপন্যাস)

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

মোজার উপর মাসাহ

মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান (হাদিস)

জেনে নিন মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান। রাসূল (সাঃ) ও সাহাবায়ে কেরামগণ চামড়ার মোজা পরিধান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE