Home / বই থেকে / চৌত্রিশ (ব্যথিত হৃদয়)

চৌত্রিশ (ব্যথিত হৃদয়)

কালের পরিক্রমায় সাকিবের সৎ ভাই সেন্টু বড় হয়। রাশেদা খানমের আদর্শে(?) গড়া এই সন্তানও স্বভাব-চরিত্রে মায়ের মতোই হয়। সে কোনোদিন মসজিদে যায় নি। নামাজ পড়ে নি। এমন কি জুমুআর নামাজও। রমজান মাসে দিনের বেলায় সে পেটপুরে খানা খায়। দিনের
অধিকাংশ সময় টিভি দেখেই শেষ হয়। গভীর রাত পর্যন্ত সে বিভিন্ন চ্যানেল দেখে তারপর বিছানায় যায়। কোনোদিন আটটার আগে ঘুম থেকে জাগে না বা জাগতে পারে না। সাকিব ও তাঁর পিতা উভয়ে তাকে সঠিক পথে আনার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছে। কিন্তু রাশেদা খানমের কারণে তাদের কোনো চেষ্টাই সফলতার মুখ দেখতে পারে নি।

সেন্টু বড় হলে রাশেদা খানমই মেয়ে দেখে পছন্দ করে। এতে সেন্টুর পিতা কিংবা বড় ভাইয়ের মতামতকে তিনি গুরুত্ব দেন নি। গুরুত্ব দেওয়ার কোনো প্রয়োজন আছে বলেও তিনি মনে করেন নি। তাঁর কথা হলো, আমার পুত্রবধূ হবে আমার মনমতো। মোল্লা কিংবা মোল্লা টাইপের কোনো লোক দিয়ে আমার ছেলের বউ নির্বাচন করলে চলবে না। কারণ ওদেরকে বউ নির্বাচনের দায়িত্ব দিলে ওরা মোল্লা মার্কা বউই নিয়ে আসবে। আর মোল্লা মার্কা বউ আমার একদম অপছন্দ!

সেন্টুর স্ত্রীর নাম রোজিনা। সে সুন্দরী হলেও বদদ্বীন। আধুনিকা। ঠিক সেন্টু ও তাঁর মায়ের মতো। পর্দা পুশিদা কি জিনিষ কোনোদিন তা বুঝ নি। আলহামদু সূরা তো দূরের কথা কালিমাটা পর্যন্ত শুদ্ধ করে বলতে পারে না। নামাজ-রোজার ধারে কাছেও নেই। এসব কথা শুনলেই সে নাক সিটকায়। অথচ রাশেদা খানমের ভাষায় এই মেয়েই হলো ‘ফাস্ট ক্লাস বউ’!

যে রাশেদা খানমকে শতবার বলেও সাকিবের শ্বশুড় বাড়িতে নেওয়া যায় নি, সেই তিনিই আজ সেন্টুর শ্বসশুড় বাড়িতে যাওয়ার জন্য নতুন শাড়ি ও গহনা পড়ে রেডি হয়েছেন।

একটি ঝকঝকে নতুন মাইক্রো ভাড়া করে আগেই প্রস্তত রাখা হয়েছে। খানিক পর রাশেদা খানম, সেন্টু, রোজিনা ও আরো কয়েকজনকে নিয়ে চলতে শুরু করল গাড়িখানা। কিন্তু তাদের ভাগ্যের নির্মম পরিহাস! গাড়িখানা তাঁর গন্তব্যে পৌঁছতে পারে নি। নতুন বেয়াইর বাড়িতে বেড়ানোর স্বাদ পূর্ণ হলো না রাশেদা খানমের। পথে তারা মারাত্মক গাড়ি দুর্ঘটনার শিকার হলেন। সেন্টু ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারাল আর বাকীরা সবাই গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলো।

আহতদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আহত হয়েছেন রাশেদা খানম। তাঁর অবস্থা আশংকাজনক। তাঁর দু’হাত একটি পা ভেঙ্গে গুড়ো হয়ে গেছে। মাথায়ও প্রচন্ড আঘাত পেয়েছেন। সবাই তাঁর জীবনের আশা ছেড়েই দিয়েছিল। কিন্তু হায়াত আছে বিধায় বেঁচে রইলেন। তবে এমন বাঁচা যে, যে বাঁচার চেয়ে মরে যাওয়াই উত্তম ছিল।

রাশেদা খানম আজ দশ বছর যাবত পঙ্গু হয়ে কালাতিপাত করছন। তবে তাঁর সৌভাগ্য যে, মৃত্যুর কয়েকদিন আগে তিনি তাঁর ভুল বুঝতে পেরেছেন।

তিনি সাকিবকে ডেকে এনে চোখের পানি ফেলে দিয়ে বলেছেন, বাবা সাকিব! আসলেই আমি তোমার উপর অনেক জুলুম করেছি। অত্যাচার করেছি। আমি কখনোই তোমার কল্যাণ কামনা করি নি। আমি চেয়েছিলাম, তোমাকে বাদ দিয়ে তোমার পিতার অগাধ সম্পত্তি আমরা একাই ভোগ করব। কিন্তু চাইলেই যে সবকিছু পাওয়া যায় না, আল্লাহর পাকড়াও যে অত্যন্ত কঠিন–এর জ্বলন্ত প্রমাণ আমি নিজে। আর সেন্টুর মৃত্যুতে হৃদয়ে যে ব্যাথা পেয়েছি সে ব্যাথা হয়তো কোনোদিন ঘুচবে না। তাই ব্যথিত হৃদয় নিয়েই হয়তো আমি তোমাদের মাঝ থেকে বিদায় নিবো বাবা। বিদায় বেলায় সত্য কথাটা স্বীকার করে গেলাম। যাতে আমার আত্মটা কিছুটা হলেও শান্তি আপ্য। তুমি আমাকে ক্ষমা করে দি–ও বা—-বা !

রাশেদা খানমের কণ্ঠস্বর ক্ষীণ হয়ে আসে। তিনি আর বলতে পারলেন না। একটা নিঃশ্বাস ছেড়ে স্তব্ধ হয়ে গেলেন চিরদিনের জন্য। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

সমাপ্ত।

আপনি পড়ছেনঃ ব্যথিত হৃদয় (ইসলামীক উপন্যাস) আরো বই দেখুন

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

মোজার উপর মাসাহ

মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান (হাদিস)

জেনে নিন মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান। রাসূল (সাঃ) ও সাহাবায়ে কেরামগণ চামড়ার মোজা পরিধান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE