Home / বই থেকে / ছাব্বিশ (ব্যথিত হৃদয়)

ছাব্বিশ (ব্যথিত হৃদয়)

সাত দিন পর। সাকিব একটি ট্যাক্সি করে নব দম্পতিকে নিয়ে হাজী সাহেবের বাসায় হাজির হলো। মেহমানদের আগমনকে কেন্দ্র করে হাজী ভবনে সাজ সাজ রব পড়ে গেল। হাজী সাহেব তখন বাসায় ছিলেন না। তাঁর বড় ছেলে আব্দুস সালাম মেহমানদের অভিবাদন জানালেন।

হাজী সাহেবের বাড়ি। চারিদিক পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন। সৌন্দর্যমণ্ডিত। ভারি চমৎকার। বাড়ির মাঝে ছোট একটি ফুল বাগান। বাগানে নানা জাতের রং-বেরংয়ের ফুলের অপূর্ব সমারোহ। বাগানের মাঝে একটি ফোয়ারা। সাদা ধবধবে মর্মর পাথরে নির্মিত। সেই ফোয়ারার উছলে পড়া পানি দারুণ চমৎকার দেখায়। চারদিক সবুজ গাছপালায় বেষ্টিত ফুল বাগানের মাঝে অবস্থিত ফোয়ারাটি বেহেশতের নাজ-নেয়ামতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। সত্যি, ভারি মনোরম ও হৃদয়গ্রাহী সে দৃশ্য!

বাসার ভেতর যাওয়ার পর নাঈমা আম্মা সহাস্য বদনে আনন্দের সাথে খালেদাকে গ্রহণ করলেন। আর নাঈমা তো খালেদাকে পেয়ে খুশিতে আটখানা। খালেদা যখন নাঈমার নিকট এল, তখন নাঈমা তাঁর সৌন্দর্যে বিমোহিত হয়ে তাঁর স্মৃতিময় চেহারার দিকে অপলক নেত্রে চেয়ে রইল। খালেদা নাঈমার মুখোমুখি হতেই কিছুটা লজ্জা পেয়েছিল। তা এই ভেবে যে, নাঈমার সাথে একই ক্লাসে লেখা পড়া করেছে খালেদা। দু’জনের মধ্যে ছিল কত হৃদয়ের টান। আজ সে তাঁর স্বামীকে নিয়ে নাঈমাদের বাসায় বেড়াতে এসেছে। অথচ নাঈমার এখনো বিয়েই হয় নি।

খালেদাকে নববধূর সাজে সজ্জিতা দেখে এ মুহূর্তে নাঈমার মনেও কত স্বপ্ন উঁকি দিয়েছে কে জানে!

নাঈমাদের এক ভাড়াটিয়ার মেয়ে নাজমা। সে প্রায়ই নাঈমার কাছে আসে। কথাবার্তা বলে। আজ সে সকালে সে নাঈমার কাছে শুনেছিল যে, খালেদা তাঁর স্বামী সোহেল ও বড়ভাই সাকিব সহ তাদের বাসায় বেড়াতে আসবে। সুতরাং বিকালে যখন মেহমানরা আসল, তখন নাজমাও তাদেরকে দেখার জন্য দৌড়ে এল। প্রথমেই সে খালেদাকে দেখে বিস্ময়ে থ খেয়ে রইল। তারপর বলল, আমি নাঈমার কাছে আপনার অনেক প্রশংসা শুনেছি। তাই অনেকদিন যাবত আপনাকে দেখার ও সাক্ষাতের তামান্নাও অন্তরে ছিল। আল্লাহর শুকরিয়া আজ উভয়টি বাস্তাবায়িত হলো।

সামান্য সময়ের ব্যবধানে তিনজনের মধ্যে আলাপ আলোচনা বেশ জমে ওঠল। এক পর্যায়ে নাজমা খালেদাকে লক্ষ্য করে বলল, আপনি তো সাক্ষাৎ পূর্ণিমার চাঁদ।

খালেদা বলল, আমি কেমন তাতো আপনারা দেখছেন। কিন্তু সুন্দরী বলতে যা বুঝায়, তাতো আপনি এবং বোন নাঈমা।

খালেদার কথায় উভয়ে হেসে ফেলল। নাজমা বলল, আমরা হয়তো সুন্দরী ঠিক। কিন্তু আপনি তো সাক্ষাৎ পরী। শুধু পরী নয়, হুর।

হুর! খালেদার কণ্ঠে বিস্ময়।

হ্যাঁ, হুরই বটে। হুরকে তো কেউ কখনো দেখেনি। শুধু কুরআন ও হাদীসে তাদের কথা আলোচনা করা হয়েছে। কিন্তু তোমাকে দেখে আমরা অনুমান করতে পেরেছি, হুর কেমন হবে। যদিও হুরের সৌন্দর্য-লালিত্য অনুমান করাও অসম্ভব।

জানালার পাহসে কারো পদধ্বনি শুনতেই পর্দার ফাঁকে দিয়ে বাইরে দৃষ্টি ফেলে নাঈমা। দেখে তাঁর বট ভভাইয়ের সাথে সাকিব এক কামরা থেকে অন্য কামরায় প্রবেশ করছে। তাকে দেখেই নাঈমার চেহারায় একটা রক্তিমাভা ছড়িয়ে পড়ে। যা খালেদা কিংবা নামজা কারো দৃষ্টিকেই ফাকি দিতে পারে নি।

রাতে খাওয়া দাওয়ার পর সোহেল খালেদাকে একটি সাজানো গোছানো কক্ষে থাকতে দেওয়া হলো। আর সাকিবের জন্য নির্ধারিত হলো আরেকটি কক্ষ।

সাকিব নিয়মিত তাহাজ্জুদ পড়ে। আজও তাঁর ব্যতিক্রম হয় নি। সে যে রুমে ঘুমিয়েছিল ওটার সাথে এটাচ বাথরুম ছিল না।

সাকিব ঘুম থেকে জেগে কমন বাথরুমে যায়। ওজু-ইস্তেঞ্জা সেরে ফিরে এসে দেখে, কক্ষের সব কিছু এমন নিপুন ভাবে সুন্দর করে সাজানো, যার কোথাও ক্রটির লেশমাত্র নেই। যেন এই মাত্র কোনো দক্ষ হাতে সম্পাদিত হয়েছে এগুলো। সাকিব অভিভূত হয়। চিন্তা করে–এত স্বল্প সময়ে কে এর সুন্দর করে রুমটা সাজিয়ে গুছিয়ে গেল? কে মশারী তুলল? তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার জন্য কে জায়নামাজ বিছিয়ে রাখল? তবে কি এটা নাঈমার কাজ! হতেও পারে । এসব কথা চিন্তা করে সাকিব তাঁর মনের মধ্যে একটি আনন্দের শিহরণ অনুভব করে। আরো পড়ুন

আপনি পড়ছেনঃ ব্যথিত হৃদয় (ইসলামীক উপন্যাস)

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

[পঞ্চম পরিচ্ছেদ] ইসলামী শরী‘য়াহ বাস্তবায়নের হুকুম

আল্লাহর প্রতি ঈমান ও তাঁর একত্ববাদে বিশ্বাস এটাই দাবী যে, আমরা ঈমান আনব যে, তিনি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *