Breaking News
Home / বই থেকে / ছয় (ব্যথিত হৃদয় )

ছয় (ব্যথিত হৃদয় )

সাকিব নাঈমাকে স্কুলে আনা—নেওয়া করে দু’বছর যাবত। সাকিবের বয়স এখন বার। নাঈমার বয়স আট। সাকিব নাঈমাকে নিয়ে পনের বিশ মিনিটের মধ্যেই স্কুলে চলে যেত। স্কুল কাছে হওয়ায় হেঁটেই আসা—যাওয়া করে ওরা। আকাশ খারাপ থাকলে মাঝে মধ্যে রিক্সায়ও চড়ে।

প্রথম প্রথম নাঈমার সাথে সাকিবের তেমন একটা কথা হতো না। বিশেষ প্রয়োজন না হলে দুজনই চুপচাপ থাকত। এ অবস্থাটা বজায় ছিল প্রায় তিন মাসের মতো।

তিন মাস পরেই এক রাতে সাকিব তাঁর মাকে স্বপ্নে দেখে। মায়ের বলে যাওয়া কথাগুলো সাকিবের হৃদয়ে ঝড় তুলে। তাই তো পরের দিনই সে বাংলাবাজারে ছুটে গিয়ে কয়েকটি বই কিনে এনেছিল।

যা হোক, সাকিব রীতিমত তাঁর পড়া চালিয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে একদিন তাঁর মনে একটি ভাবনা উদয় হয়। সে ভাবতে থাকে, নাঈমাকে নিয়ে স্কুলে আসা যাওয়া করতে আমার প্রায় ত্রিশ চল্লিশ মিনিট সময় ব্যয় হয়। এই সময়টুকু বেকার নষ্ট করে লাভ কি! আমি যদি নাঈমার সাথে আলাপ করে তাকে গল্প শোনার জন্য রাযি করাতে পারি তবে তো এক কাজে দু’কাজ হয়ে যাবে। একদিকে সময়টা কাজে লাগবে, আর অপর দিকে তাকে উপদেশমূলক গল্প শোনানোর দ্বারা উভয়েরই ফায়েদা হবে তাছাড়া গল্প বলা ও শোনার ফাঁকে কোন সময় যে আমাদের পথ চলা শেষ হয়ে আসবে তাও টের পাওয়া যাবে না।

একদিন সাকিব নাঈমাকে বলল, নাঈমা! আমি আজ তোমাকে একটই সুন্দর গল্প শোনাব।

আপনি বুঝি অনেক গল্প জানেন?

অনেক না জানলেও কিছু কিছু জানি।

আমি তো কোনো গল্প জানি না। আপনি কোত্থেকে গল্প শিখেছেন?

বই পড়ে শিখেছি।

আচ্ছা, আপনি তাহলে বই পড়তে জানেন!

এই তো, স্রষ্টার করুণা ও মায়ের দোয়ায় কিছুটা পারি।

আপনি বই পড়েন কোন সময়? আপনাকে তো কখনো বই পড়তে দেখি নি।

তুমি যখন ঘুমিয়ে যাও তখন আমি জেগে থেকে মজার মজার গল্প পড়ি।

ওমা! আপনি তাহলে ঘুমান না?

ঘুমাই। প্রতি রাতে বেশ কয়েকটি গল্প পড়ে তারপর ঘুমাই।

ঠিক আছে। এখন গল্প বলা শুরু করুণ।

সাকিব গল্প বলে শেষ করলে নাঈমা পরিতৃপ্ত হয়ে খুশিতে বাগবাগ হয়ে যায়। মনে হয় এত সুন্দর গল্প কখনো সে শুনে নি। সে সাকিবকে বলে—আপনি এত সুন্দর গল্প জানেন অথচ এতদিন আমাকে বলেন নি কেন? রাতে ঘুমানোর সম্য প্রতিদিন আমি আম্মুকে গল্প বলার জন্য কত পীড়াপীড়ি করি। কিন্তু কোনো দিন আমাকে একটি গল্পও শোনান নি। মাঝে মধ্যে বড় ভাইয়া অবশ্য দু’একটা গল্প বলেন, কিন্তু আপনার গল্পটি যেমন ভালো লেগেছে, ভাইয়ার বলা গল্প এমন ভালো লাগে নি। আচ্ছা সাকিব ভাই! আপনি যে বই থেকে গল্প পড়েন সে বইটির নাম কি?

নাম জেনে তোমার লাভ কি? তুমি কি পড়তে পারবে?

এখন পড়তে না পারলেও কিছুদিন পর তো পড়তে পারব?

হ্যাঁ, তা অবশ্য পারবে।

আপনি কিন্তু বইটির নাম এখনো বলেন নি।

ও হ্যাঁ, বইটির নাম হলো, যে গল্পে হৃদয় গলে।

বাহ, ভারী সুন্দর নাম তো! এ বইটি কি আমাকে দেখাবেন?

শুধু দেখাবই না, পড়তেও দেব। তবে এখন নয়। যখন তুমি সুন্দর করে বাংলা রিডিং পড়তে পারবে তখন দেব।

এখন কি তাহলে দেখতেও দিবেন না?

হ্যাঁ, দেখতে দেব। আজ বাসায় যাওয়ার পরই তোমাকে দেখাব।

ঠিক আছে। তবে এখন কিন্তু আমার সাথে একটি ওয়াদা করতে হবে।

ওয়াদা!

হ্যাঁ, ওয়াদা।

কি ওয়াদা করতে হবে আমাকে?

আপনাকে আজ থেকে এ ওয়াদা করতে হবে যে, প্রতিদিন আমাকে স্কুলে যাওয়া আসার সময় কমপক্ষে দুটি করে গল্প শোনাবেন।

ও আচ্ছা তাই! আমি তো মনে করেছি, কোনো কঠিন কিছু আমাকে করতে হবে। ঠিক আছে ওয়াদা দিলাম।

মনে থাকে যেন।

অবশ্যই মনে থাকবে ইনশাআল্লাহ।

সেদিনের পর থেকে সাকিব তাঁর ওয়াদা মত প্রতিদিন দুটি করে গল্প শোনায় নাঈমাকে।-আরো পড়ুন

আপনি পড়ছেনঃ ব্যথিত হৃদয় (ইসলামীক উপন্যাস)

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

মোজার উপর মাসাহ

মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান (হাদিস)

জেনে নিন মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান। রাসূল (সাঃ) ও সাহাবায়ে কেরামগণ চামড়ার মোজা পরিধান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE