Home / বই থেকে / তেইশ (ব্যথিত হৃদয়)

তেইশ (ব্যথিত হৃদয়)

দোয়ার পর হাজী বশির সাহেব দাঁড়িয়ে যান। তিনি দু’কদম এগিয়ে এসে সাকিবকে জড়িয়ে ধিরে আনন্দ গদগদ কণ্ঠে বলতে লাগলেন–মাওলানা সাকিব! সামনাসামনি নাকি কারো প্রশংসা করা ভালো নয়। তবে এতটুকু কথা তোমাকে না বলে পারছি না যে, আজকের এই অনুষ্ঠানটা আমার কাছে এতই অর্থবহ ও ভালো লেগেছে যে , তা ভাষায় ব্যক্ত করার মতো ক্ষমতা আমার নেই। বিশেষ করে তুমি এত সুন্দর আলোচনা করেছ যা ইতিপূর্বে আমি কোথাও শুনি নি। সত্যি বলতে কি, তুমি তোমার বক্তব্য যেসব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর অত্যন্ত চমৎকারভাবে তুলে ধরেছ, এসব প্রশ্ন আমারও ছিল। আমিও মনে করতাম, ইসলামের নারীর মর্যাদা কম, পর্দার বিধান নারী-স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, পর্দা নারী শিক্ষার অন্তরায়। তাছাড়া নারী স্বাধীনতার ব্যাপারেও আমার অন্তরে বেশ খটকা ছিল। কিন্তু তোমার আলোচনা দ্বারা আমার মন একদম পরিস্কার হয়ে গেছে। এখন আর আমার মনে কোনো প্রশ্ন নেই।

কথা বলতে বলতে এতক্ষণে তারা রিচার্স সেন্টারের অফিস রুমে এসে পৌঁছে যায়। সেখানে যাওয়ার পর মেহমানদেরকে উত্তমরূপে আপ্যায়ন করা হয়। আপ্যায়ন শেষে আবার জমে উঠে কথাবার্তা। কথা শুরু করেন হাজী সাহেবই। তিনি মুফতি মাওলানা সাকিবুল হাসানকে লক্ষ্য করে বলেন–

মাওলানা সাকিব! তুমি আমার ছেলের বয়সের লোক। তোমার কাছে আমি একটি আবদার করতে চাই। আশা করি তুমি আমার আবদার রক্ষা করবে।

সাকিব বলল, জ্বী বলুন হাজী সাহেব। আমি যে কোনো ত্যাগের বিনিময়ে আপনার আবদার রক্ষা করতে চেষ্টা করব।

হাজী সাহেব বললেন, মাওলানা! আল্লাহ পাক আমাকে অনেক টাকা পয়সা দিয়েছেন। ধন-দৌলত দিয়েছেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় এই যে, একমাত্র হজ্ব ছাড়া দীনের কোনো উল্লেখযোগ্য কাজে আমি আমার পয়সা খরচ করি নি। আজ এখানে এসে কেন জানি আমার মনের ভিতর এক অভূতপূর্ব আন্দোলন শুরু হয়েছে। মন যেন বারবার আমাকে বলছে–হাজী সাহেব। আজ থেকে আপনি দীনের কাজে টাকা-পয়সা ব্যয় করতেব থাকুন। আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিবেন। সুতরাং আমি এখন থেকেই প্রতিজ্ঞা করলাম যে, আগামী দিনগুলোতে আমার টাকা পয়সা ধর্মীয় কাজে ব্যয় করব। আর তোমার বই ছাপানোর কাজে অংশ গ্রহণ করেই আমি এর সূচনা করতে চাই। অর্থাৎ আজকের এই অনুষ্ঠানে প্রদত্ত বক্তব্যগুলোকে একত্র করে তোমরা বই আকারে প্রকাশ করার যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছ, তাঁর সম্পূর্ণ খরচ আমি বহন করতে চাই। তোমাদের এই রিচার্স সেন্টারের পক্ষ থেকে যদি ভবিষ্যতে আরো কোনো বই বের কর, তবে এর ব্যয়ভারও আমি বহন করব ইনশাআল্লাহ। আশা করি তুমি আমাকে মাহরুম করবে না।

হাজী সাহেবের কথা শেষ হওয়ার সাথে সাথে উপস্থিত সবাই একসাথে উচ্চকণ্ঠে বলে ওঠল–আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহ আপনাকে কবুল করুন।

সাকিব বলল, হাজী সাহেব! আমরা অবশ্য বই ছাপানোর প্রস্তুতি আগেই নিয়ে রেখেছিলাম। সে টাকা দিয়েই…..।

সে টাকা তোমরা সেন্টারের অন্য কাজে ব্যয় করো। তবু আমার আশা তোমরা অপূর্ণ রেখো না। সাকিবের কথা শেষ হওয়ার আগেই হাজী সাহেব বললেন।

ঠিক আছে। আল্লাহ আপনার আশা পূর্ণ করুণ।

সাকিবের আলোচনা শুনে হাজী সাহেব যেমন মুগ্ধ হয়েছিলেন, তেমনি বিমোহিত হয়েছিলেন উপস্থিত সমস্ত লোক। মনে হয়, তাঁর বয়ান শুনে সবার অন্তরে এমন একটি বদ্ধমূল ধারণার সৃষ্টি হয়েছে যে, ইসলাম কিংবা ইসলামী বিধি-বিধান সম্পর্কে যে কোনো সমস্যার সমাধান তাঁর কাছে পাওয়া যাবে। হয়তো এই সুধারণার বশবতী হয়েই তারা মাওলানা সাকিবের আরো কিছু প্রশ্নের অবতারণা করে। জানতে চায় এসব প্রশ্নের সঠিক জবাব।

সাকিব অত্যন্ত সুন্দরভাবে সেসব জবাব প্রদান করার পর সকলেই খুশি মনে সেখান থেকে বিদায় নেয়।-আরো পড়ুন

আপনি পড়ছেনঃ ব্যথিত হৃদয় (ইসলামীক উপন্যাস)

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

মোজার উপর মাসাহ

মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান (হাদিস)

জেনে নিন মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান। রাসূল (সাঃ) ও সাহাবায়ে কেরামগণ চামড়ার মোজা পরিধান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *