Breaking News
Home / বই থেকে / তের (ব্যথিত হৃদয়)

তের (ব্যথিত হৃদয়)

 সাকিব ও তাঁর সাথীরা মুফতি সাহেবের সিদ্ধান্তকে সর্বান্তকরণে মেনে নেয়। তাদের কথা হলো, হুজুরকে যখন মুরব্বী বানিয়েছি, তাঁর কাছে যখন সব কিছু সমর্পন করেছি, সুতরাং তাঁর সিদ্ধান্ত মানার মধ্যেই আমাদের কামিয়াবী ও সফলতা নিহিত আছে। অবশ্য মুফতি সাহেবও তাদের পরামর্শ করে সিদ্ধান্তগুলো পাকা করেছেন।

সাল শেষ হলো। সাকিব ও তাঁর সাথীরা এই এক বছরের মধ্যে দেশের প্রায় সব কটি জেলায় জামাত নিয়ে ঘুরাফেরা করেছে। শহর, গ্রাম, পার্বত্য অঞ্চল—এক কথায় কমবেশি সময় সব খানেই তারা লাগিয়েছে। বছরের এই দীর্ঘ সফরে কতভাবে যে তারা খোদায়ী মদদ বাস্তবে প্রত্যক্ষ করেছে তাঁর কোনো ইয়াত্তা নেই। এই সময় লাগানোর দ্বারা তাদের ঈমান-আমলে যেন নতুন করে রঙ্গ লেগেছে। চরিত্র—মাধুর্য যেন বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতসব উপকারিতা ছাড়াও এই সফরের মাধ্যমে তাদের সব চেয়ে বড় ফায়দা হয়েছে তাহলো, উম্মতের দরদ ও ভালবাসা তাদের অন্তরে আরো শক্তভাবে গ্রোথিত হয়েছে। এজন্য রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর গোটা উম্মতকে কিভাবে সৎপথে আনা যায়, কিভাবে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচানো যায়—এই ফিকিরে তারা গটা দিন অতিবাহিত করতে থাকে।

উম্মতে মোহাম্মদী বিশেষ করে মুসলমানদের প্রতি সাকিবদেরব অত্যধিক দরদ ও ভালোবাসা সৃষ্টি হওয়ার কারণ হলো, তারা বছর ব্যাপী এই দীর্ঘ সফরে এমন অসংখ্য মুসলমান পেয়েছেন, যারা ঠিকমত কালেমাটা পর্যন্ত উচ্চারণ করতে পারে না। আর যেসব লোকেরা কালেমার উচ্চারণও ঠিক হয় না, শরীয়তের অন্যন্য হুকুম-আহকাম সম্পর্কে তাদের কতটুকু জ্ঞান আছে তা সহজেই অনুমান করা যায়। লোকদের এ অবস্থা প্রত্যক্ষ করে সাকিবরা মনে দারুণ ব্যথিত হয়, চোখ ফোটে কান্না আসতে চায়। তাই তখন থেকেই তারা প্রতিজ্ঞা করে, মৃত্যু পর্যন্ত তাবলীগের এই মোবারক কাজের সাথে জড়িত থাকবে। মাদরাসায় পড়ানোর সাথে সাথে সাধারণ মানুষকেও নামাজ-কালাম শিখাবে, ঈমান-আমলের তালীম দিবে। দুনিয়া থেকে মুখ ফিরিয়ে আখেরাতমুখি করার চেষ্টা করবে।

তাবলীগ জামাত থেকে ফিরার কয়েকদিনের মধ্যেই সাকিবদের খেদমতের ব্যবস্থা হয়ে যায়। মুফতি শফীউল্লাহ সাহেব এ ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। শুধু তাই নয়, তিনি মাদরাসা কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে একথা স্থির করেছেন যে, সাকিবরা সবাই মাত্র দুটি করে হাদীসের ক্লাস করাবে। বাকী সময়টুকু তারা গবেষণা, পত্র-পত্রিকায় লেখালেখি, যুগোপযুগী বই-পুস্তক রচনা, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রভৃতি কাজে ব্যয় করবে। তাছাড়া প্রতি বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে কাকরাইল মারকাজ মসজিদে রাত্রিযাপন ছাড়াও তাবলীগের দৈনন্দিন ও সাপ্তাহিক বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবে।-আরো পড়ুন

আপনি পড়ছেনঃ ব্যথিত হৃদয় (ইসলামীক উপন্যাস)

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

মোজার উপর মাসাহ

মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান (হাদিস)

জেনে নিন মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান। রাসূল (সাঃ) ও সাহাবায়ে কেরামগণ চামড়ার মোজা পরিধান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE