Home / বই থেকে / দশ (ব্যথিত হৃদয়)

দশ (ব্যথিত হৃদয়)

নাঈমা এখন সুন্দর করে রিডিং পড়তে পারে। তাঁর রিডিং পড়া বেশ স্বচ্ছ ও পরিস্কার। যত কঠিনই হোক না কেন, সে খুব দ্রুত অনর্গল পড়ে যেতে পারে। কোথাও আটকায় না সে। মাদরাসায় ভর্তি হওয়ার পর সাকিব প্রায়ই হাজী সাহেবের বাসায় আসত। এ আসার পিছনে যতটা না সাকিবের ইচ্ছা কাজ করত তাঁর চেয়ে বেশি কাজ করত হাজী সাহেবের স্নেহমাখা নির্দেশ। মাদরাসায় ভর্তি হতে যাওয়ার দিন হাজী সাহেব পরম মমতায় সুরে বলেছিলেন—বাবা! তুমি কিন্তু প্রতি মাসে দু তিন বার না পারলেও অন্তত একবার হলেও আমাদের দেখে যেও। আমরা কিন্তু তোমাকে কখনো ভুলতে পারব না।

সাকিব তখন বলছিলেন, চাচাজান, আমি যে কোনো মূল্যে আপনার আশা পূর্ণ করব ইনশাআল্লাহ। আমার জন্য খাস করে দোয়া করবেন।

একদিন সাকিব কোনো কাজে নাঈমাদের বাসায় গিয়ে দেখল, নাঈমা তাঁর পড়ার টেবিলে বসে গুনগুন করে একটি বাংলা বই দ্রুত পড়ে যাচ্ছে।

সাকিব তাকে এ অবস্থায় দেখতে পেয়ে বলল, পড়া বেশ জমে উঠেছে দেখছি!

সাকিবের আওয়াজ পেয়ে নাঈমা ঘাড় ফিরিয়ে পিছনে তাকায়। সাকিবকে দেখতে পেয়ে কিছুটা লজ্জা পেয়ে যায় যেন! কিন্তু তা ক্ষণিকের জন্য।

পরক্ষণেই সে স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বলে ওঠে, বেশি না পড়ে উপায় নেই যে!

মানে! সাকিবের কথায় কৃত্রিম বিস্ময়।

মানে হলো, ভালো করে পড়তে না পারলে ম্যাডাম বকা দেন। তাছাড়া…।

থামলে কেন? বলো।

না মানে বলছিলাম যে, ভালো করে রিডিং পড়তে না পারলে আপনার গল্পের বইও তো পড়তে পারব না।

ও সে কথা তুমি এখনও মনে রেখছ!

জ্বী, মনে রেখেছি।

তা একটু পড়ে শোনাও তো দেখি কেমন পড়তে পার!

নাঈমা আবারও লজ্জা পায়। তথাপী সে বইয়ের একটি পৃষ্ঠা সুন্দর করে সাকিবকে পাঠ করে শোনায়।

এতটুকুন মেয়েকে এত সুন্দর ও শুদ্ধ উচ্চারণে বাংলা পড়তে দেখে সাকিব বিস্মিত হয়। মুগ্ধ হয়ে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে নাঈমার মুখপানে। তারপর সেই পৃষ্ঠা থেকে সে তাকে কয়েকটি প্রশ্ন ও শব্দের বানান জিজ্ঞেস করে।

নাঈমা দেরী না করে খুব সুন্দরভাবে গুছিয়ে চটপট উত্তর দেয়। নির্ভুল ভাবে শব্দগুলো বানান করে।

অতঃপর ইংরেজী বই থেকে আরো কয়েকটি প্রশ্ন করলে সেখানেও নাঈমা স্বীয় দক্ষতার পরিচয় দেয়। এমন সুন্দর করে উত্তরগুলো প্রদান করে মনে হয় সে যেন এইমাত্র উত্তর গুলো মুখস্থ করে এসেছে।

পড়া শোনার পর্ব শেষ হলে নাঈমা বলল, সাকিব ভাইয়া! এবার কি আমি আপনার বই পড়ার উপযুক্ত হয়েছি?

হ্যাঁ, খুব উপযুক্ত হয়েছ।

তাহলে নই কখন পাচ্ছি?

পাবে। অতি তাড়াতাড়িই পাবে।

একটা তারিখ দেন না?

তারিখ দেওয়া সম্ভব নয়, তবে সপ্তাহ খানেকের মধ্যে আমি এদিকে আসব।

তখন তোমার জন্য বই নিয়ে আসব। ঠিক আছে?

ঠিক আছে বলে নাঈমা হাস্যোজ্জ্বল মুখখানা সামান্য কাত করে। তারপর বলে, ভাইয়া! খেয়াল করে আনবেন কিন্তু। না হয় খুব কষ্ট পাব আমি।

কষ্ট পেতে হবে না। আমি অবশ্যই তোমার জন্য হৃদয় গলে সিরিজের বই নিয়ে আসব।

হৃদয় গলে সিরিজের বই মানে? তখন না বললেন বইটির নাম যে গল্পে হৃদয় গলে!

ওহু! তোমাকে তো সে কথাটা বুঝিয়ে বলা হয়নি। তাই ব্যাপারটি তুমি বুঝতে পারনি। আসল ব্যাপার হলো, ;হৃদয় গলে’ হলো চরিত্রগঠনমূলক একটি সুন্দর সিরিজের নাম। অর্থাৎ একই লেখকের এ বইগুলো একের পর এক প্রকাশিত হচ্ছে। আর যে গল্পে হৃদয় গলে হলো সেই সিরিজেরই প্রথম তিনখন্ড বইয়ের নাম। এবার বুঝেছ?

বুঝেছি। তো অবশিষ্ট বইগুলোর নাম কি?

একেকটার একেক নাম। তুমি যখন পড়বে তখন সাথে সাথে নামও জেনে নিতে পারবে।

কয়েকটি নাম বলুন না।

তুমি দেখছি বই পড়ার আগেই নাম মুখস্থ করে নিতে চাও।

মুখস্থ করা উদ্দেশ্য নয়। উদ্দেশ্য হলো, নামগুলো শুনলে পড়ার আগ্রহটা হয়তো আরো বেড়ে যাবে।

তা অবশ্য ঠিক।

বলুন তাহলে।

যেমন, যে গল্পে অশ্রু ঝরে, যে গল্পে হৃদয় কাড়ে, যে গল্পে জুড়ে, যে গল্পে মানুষ গড়ে, যে গল্পে ঈমান বাড়ে, নারী জীবনের চমৎকার কাহিনী, হৃদয়বিদারক করুণ কাহিনী, সোনালী সংসার ইত্যাদি।

আচ্ছা ভাইয়া! এই সিরিজের সব গুলো বইয়ের মধ্যেই কি গল্প আছে?

হ্যাঁ, দু একটা বাদে সবগুলোই গল্পের বই।

উহ! তবে তো আমি অনেক গল্প পড়তে পারব। তাই না ভাইয়া!

ঠিকই বলেছ তুমি। তবে শুধু গল্প পড়লেই চলবে না।

আর কি করতে হবে? নাঈমার প্রশ্ন।

গল্প পড়ে আমল করতে হবে।

তা তো অবশ্যই। গল্প শুনে আমল না করলে কি আর আমি আব্বু আম্মুর এত বাধ্য হই!

তাঁর মানে! সাকিবের কণ্ঠে বিস্ময়।

মানে হলো, ওই যে আপনি আমাকে হৃদয় গলে সিরিজের বই থেকে পিতা মাতার খেদমত ও তাদের কথা মান্য করা সম্পর্কে কয়েকটি গল্প শুনিয়েছিলেন, সেগুলো শুনেই তো আমি এখন পিতা—মাতার বাধ্য সন্তান।

এবার তাহলে ঘটনাটা বুঝতে পারলেন?

হু, বুঝেছি। আল্লাহ তোমাকে শুধু পিতা মাতা নয়, ভাইদের সহ বড়দের কথাও মেনে চলার তাওফীক দান করুণ।

পিতা মাতা আর দুইভাই ছাড়া আমার বড় কে আছে যার কথা আমাকে মেনে চলতে হবে?

তোমার এ প্রশ্নের জবাব আজ নয়। সময় মত পেয়ে যাবে। আজ তাহলে আসি। কেমন?

আচ্ছা আসুন। আল্লাহ হাফেয।

সেদিন নাঈমার মায়াবী চাহনি আর তীক্ষন মেধার পরিচুয় পেয়ে তাঁর প্রতি একটা হৃদয়ের টান অনুভব করে আপন গন্তব্যে ফিরেছিল সাকিব!-আরো পড়ুন

আপনি পড়ছেনঃ ব্যথিত হৃদয় (ইসলামীক উপন্যাস)

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

মোজার উপর মাসাহ

মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান (হাদিস)

জেনে নিন মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান। রাসূল (সাঃ) ও সাহাবায়ে কেরামগণ চামড়ার মোজা পরিধান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *