Home / বই থেকে / পঁচিশ (ব্যথিত হৃদয়)

পঁচিশ (ব্যথিত হৃদয়)

সোহেলের খালেদার বিয়ে অত্যন্ত সুন্দর ও সুচারুরূপে সম্পন্ন হওয়ায় সকলেই মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করল। সোহেলের মত গুণধর স্বামী পেয়ে খালেদার আনন্দ আর ধরে না। বিয়ের পর এ পর্যন্ত সে কয়েকবার তাঁর স্বামীর বাড়িতে আসা যাওয়া করেছে। খালেদা শুধু মনের মতো স্বামীই পায় নি। শ্বশুর-শাশুড়ীও পেয়েছে। তারা খালেদাকে নিজের মেয়ের মতোই আদর-স্নেহ করে। সে ঠিকমত খেল কিনা, ঘুমাল কিনা, কোনো কিছুর প্রয়োজন আছে কিনা ইত্যাদির খোঁজ-খবর সব সময় তারা নিয়ে থাকেন।

খালেদার এতটুকু কষ্ট হউক–এটা সোহেল যেমন চায় না, তেমনি চায় না তাঁর শ্বশুর-শাশুড়ীও। যাদেরকে নিয়ে খালেদা চলবে, যাদের সান্নিধ্যে তাকে জীবনের বাকি অংশটুকু কাটাতে হবে তাদেরকে মন মতো পেয়ে যাওয়ার খালেদার দাম্পত্য জীবন সুখেই কাটতে লাগল।

একদিন বিকেল বেলা রিচার্স সেন্টারে বসে কম্পিউটারে কাজ করছিল সাকিব। এমন সময় হাজী বশীর সাহেব সালাম দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করলেন। হাজী সাহেবের কণ্ঠ শোনা মাত্রই সাকিব তাঁর কাজ বন্ধ করে উঠে দাঁড়াল। সেই সাথে সালামের জবাব দিয়ে এক রকম দৌড়ে এসেই হাজী সাহেব বুকে জড়িয়ে ,ওয়ানাকার দোয়া পড়ল–আল্লাহুম্মা যিদ মুহাব্বাতি লিল্লাহি ওয়া রাসূলিহি। তারপর বলল–

আপনার আগমনে আমি অত্যন্ত খুশি হয়েছি। একথা বলে সাকিব তাকে হাত ধরে একটি সোফায় বসিয়ে দেয়।

হাজী সাহেব বললেন, তোমাকে না জানিয়ে দুটো কথা বলার জন্য এখানে চলে এলাম।

জ্বী। আপনার সব কথা আমি শুনব। তাঁর আগে চা-নাস্তা হয়ে যাক।

নাস্তার কোনো প্রয়োজন নেই। শুধু এক কাপ রং চা হতে পারে।

সাকিব কাজের ছেলে কামালকে ডেকে আপেল, আঙ্গুর ও চা-বিস্কুট আনার নির্দেশ দিল। তারপর হাজী সাহেবের দিকে মনোযোগী হয়ে বলল, জ্বী চাচাজান! এবার বলুন।

হাজী সাহেব বললেন–

তোমার সেমিনার স্মারকের কাজ কতটুকু হলো?

এতক্ষণ স্মারকের কাজই করছিলাম। কাজ প্রায় শেষের দিকে। এখন শেষ বারের মতো ফাইনালে প্রুফ দেখা হচ্ছে। আশা করি আগামী দশ পনের দিনের মধ্যেই ট্রেসিং বের করতে পারব।

আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহ পাক তোমাকে কামিয়াব করুক।

আমীন।

আমি আরেকটি কথা বলতে চাচ্চিলাম।

বলুন।

নাঈমা আমাকে বারবার বলছে আর এটা আমারও দীলের একান্ত তামান্না যে, সোহেল ও খালেদাকে আমাদের বাসায় নেওয়া। এই নব দম্পতি আমাদের বাসায় যাবে। কয়েক দিন বেরাবে। সাথে যাবে তুমিও। আশা করি, তুমি এতে অমত করবে না।

এত তাড়াহুড়া কিসের! মাত্র ছ মাস হলো। ওরা তো যে কোনো সময় আপনার বাসায় যেতে পারে।

মাওলানা! নতুন অবস্থায় বউ নিয়ে বেরানোর মজাই আলাদা। তা অবশ্য তুমি বুঝবে না। তাছাড়া আমার মা নাঈমার বারংবার তাগদা তো আছেই।

তা আপনি কবে নিতে চান?

তাদের সাথ আলোচনা করে তুমি যখন বলবে তখনই আমরা তৈয়ার, প্রস্তুত। তুমি কেবল মোবাইল করে আমাকে তারিখটা জানিয়ে দিও।

ঠিক আছে। আমি দু একদিনের মধ্যে জানিয়ে দিব। তবে আমি কিন্তু ওদের সাথে যেতে পারব না। আম্র ব্যস্ততা তো দেখতেই পাচ্ছেন।

তা হয় কী করে। তোমাকে অবশ্যই যেতে হবে। শুধু গেলেই চলবে না। তাদের সাথে তোমাকেও বেরাতে হবে।

বেড়াতে হবে!

হ্যাঁ, বেড়াতে হবে। মাদরাসায় ভর্তি হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত একদিনেও কি তুমি আমাদের বাসায় বেড়িয়েছ? তুমি যাও আর আসো। কোনোদিন এক ঘন্টার বেশি অপেক্ষা করো না। ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে বিদায় নাও। এখন আর এ হবে না। হতে দেওয়া হবে না।

হাজী সাহেবের কথায় কিসের যেন ইঙ্গিত পায় সাকিব। সে বলে আচ্ছা চেষ্টা করে দেখব, ওদের সাথে যাওয়া যায় কি-না।

আম অত কিছু বুঝি না। আমি তোমার উপস্থিতি চাই। তাছাড়া… … ।

হাজী সাহেব থেমে যান। কি যেন বলতে গিয়েও বলতে পারেন নি।

থামলেন কেন? বলুন।

মানে বলতে চাইছিলাম যে, নাঈমার মাও তোমাকে যেতে বলেছে।

ও আচ্ছা তাই! ঠিক আছে চাচীআম্মা যখন যেতে বলেছেন তখন না গিয়ে আর উপায় কি!

নাঈমার মা তো বারবার বলে, সাকিব আমাদের জন্য কত কিছু করল। তাঁর ওসিলায় আমরা দিন পেলাম। সর্বোপরি নাঈমার আশাতীত সুন্দর রেজাল্টের পেছনে তাঁর অবদান ভোলার মতো নয়। কিন্তু সাকিবের কী হলো বুঝলাম না। নাঈমার রেজাল্টের খবর নিয়ে এই যে একবার এসেছিল আর একবারও আসে নি আপনি যান। সোহেল-খালেদাসহ সাকিবকে দাওয়াত করে আসুন। ওরা কমপক্ষে চার পাঁচ দিন আমাদের বাসায় বেড়াবে।

যাওয়ার ইচ্ছা যে একেবারে নেই তাও কিন্তু নয়। সত্যি কথা কি, অত্যধিক ব্যস্ততার কারণে ইচ্ছা থাকলেও যাওয়া হয়ে ওঠে না। তবে এবার ওয়াদা দিলাম, যাবোই ইনশাআল্লাহ।

উভয়ের মধ্যে আরো কিছুক্ষণ আলাপ-আলোচনা চলল। তারপর একসময় সাকিবের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে নিজ বাসায় চলে এলেন হাজী সাহেব।-আরো পড়ুন

আপনি পড়ছেনঃ ব্যথিত হৃদয় (ইসলামীক উপন্যাস)

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

মোজার উপর মাসাহ

মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান (হাদিস)

জেনে নিন মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান। রাসূল (সাঃ) ও সাহাবায়ে কেরামগণ চামড়ার মোজা পরিধান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *