Home / বই থেকে / পাঁচ (ব্যথিত হৃদয় )

পাঁচ (ব্যথিত হৃদয় )

হাজী সাহেবের বড় ছেলে আব্দুস সালাম বেশির ভাগ সময় হোটেলেই থাকে। হাজী সাহেব কোথাও চলে গেলে সে ক্যাশে বসে। এছাড়া তেমন কোনো কাজ নেই তাঁর। ইচ্ছা করলে সে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতে আদায় করা ছাড়াও নানাবিধ ইবাদত-বন্দেগীতে সময় কাটাতে পারে। মাঝে মধ্যে হাজির হতে পারে কাকরাইল মার্কাস মসজিদের শবগোজারীতেও। কিন্তু না, এসব সে কিছুই করবে না। শুধু টই টই করে সময় নষ্ট করবে। হাজী সাহেব নামাজের জন্য তাকে যে বলেন না, তা নয়। কিন্তু তা অনেকটা রেওয়াজী বা দায়সারা গোছের বলার মতোই। ছেলে নামাজ না পড়লে জাহান্নামের জ্বলন্ত আগুনে দগ্ধ হবে, কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হবে, সাপ—বিচ্ছুতে কামরাবে ইত্যাদি আযাবের কথা চিন্তা করে যেভাবে দরদ নিয়ে বলা দরকার তা তিনি কখনোই বলেন না। একথাটা ছোট বালক সাকিবও বুঝতে পারে।

আজ শুক্রবার। বহুদিন পর সাবান মেখে গোসল করে সাকিব। নতুন জামা আর টুপি পড়ে হোটেলের কাছে আস্তেই আব্দুস সালাম জিজ্ঞেস করে—

কিরে সাকিব! নামাজ পড়তে যাবি?

হ্যাঁ, আজ তো জুমুআর নামাজ। মসজিদে যেতেই হবে। জামাত ছাড়া তো আর জুমুআর নামাজ পড়া যায় না। নামাজ শেষ করে অল্প সময়ের মধ্যেই চলে আসব আমি।

যা। তাড়াতাড়ি যা।

আপনিও চলুন না? আজ জুমুআর দিন। এ দিনটি মুসলমানদের সাপ্তাহিক ঈদের দিন। জুমুআর নামাজ নাকি অনেক ফজীলতের। হুজুরদের মুখে শুনেছি।

অতটুকু ছেলে নিয়মিত নামাজ পড়ে অথচ ত্রিশ বছরের যুবক হয়েও আমি এক ওয়াক্ত নামাজ পড়ি না—কথাটি ভাবতেই এক রাশ লজ্জা এসে ঘিরে ধরে আব্দুস সালামকে। সাথে সাথে কোনো এক অজানা আশংকায় ঘাবড়ে যায় সে। মনে মনে বলে—না, আমাকেও নামাজ পড়তে হবে। রোজা রাখতে হবে। নেক আমল করতে হবে। নিঃশ্বাসের কোন বিশ্বাস নেই। নামাজ—রোজা ও নেক আমল ছাড়া সঙ্গে তো আর কিছুই যাবে না।

খানিক পর আব্দুস সালাম মসজিদে রওয়ানা দেয়। তাঁর দিকে চোখ তুলে তাকাতেই হতবাক হয় সাকিব। বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়ে তাকিয়ে থাকে সে। শুধু সাকিবই নয়, অবাক হয় আশে পাশের দোকানীরাও। পরস্পর বলাবলি করতে থাকে, আরে! দেখো দেখো, আব্দুস সালাম নামাজ পড়তে যাচ্ছে। আল্লাহ পাক তাকে হেদায়েত দিয়েছেন। কবুল করেছেন।

সেদিন থেকে আব্দুস সালাম পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে। নামাজের সময় হলে সাকিবই তাকে ডেকে মসজিদে নিয়ে যায়। আব্দুস সালাম সাকিবকে বলে রেখেছে, তুমি মসজিদে যাওয়ার সময় অবশ্যই আমাকে নিয়ে যাবে। তাঁর কথায় সাকিব বেশ খুশি হয়। নিজেকে ধন্য মনে করে। হাজার শোকর আদায় করে রাব্বুল আলামিনের দরবারে।-আরো পড়ুন

আপনি পড়ছেনঃ ব্যথিত হৃদয় (ইসলামীক উপন্যাস)

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

[পঞ্চম পরিচ্ছেদ] ইসলামী শরী‘য়াহ বাস্তবায়নের হুকুম

আল্লাহর প্রতি ঈমান ও তাঁর একত্ববাদে বিশ্বাস এটাই দাবী যে, আমরা ঈমান আনব যে, তিনি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *