Breaking News
Home / যৌন জীবন / অন্যান্য / যিনা ব্যভিচারের বিশেষ ছয়টি ক্ষতি

যিনা ব্যভিচারের বিশেষ ছয়টি ক্ষতি

১। যিনাকারীর চেহারার রৌনক্ব বা উজ্জলতা, শোভা, সৌন্দর্য বা বাহার শেষ হয়ে যাবে।

২। রোজি রোজগারে বরকত কমে যায়। যে কাজই করুক না কেন, কোনো কাজেই বরকত হয় না।

৩। হায়াত কমে যায়। হায়াতে বরকত হয় না। অর্থাৎ হায়াত পাওয়ার পরও যথেষ্ট পরিমাণ ছাওয়াবের কাজ করতে পারে না।

৪। আল্লাহর আযাব-গজবে নিপতিত হয়। বালা-মছিবত সর্বদা লেগেই থাকে। একটার পর একটা সমস্যা লেগেই থাকে।

৫। হাশরের ময়দানে হিসাব নিকাশে কঠোরতা করা হবে।

৬। দীর্ঘকাল জাহান্নামে পড়ে থাকতে হবে। বলা হয়েছে, যিনাকারীর কবরের দিকে আগুনের বিশ লাখ দরজা খুলে দেওয়া হবে। প্রত্যেক দরজার সাথে সাপ, বিচ্ছু আসবে এবং তাকে দংশন করতে থাকবে। এ অবস্থা কিয়ামত পর্যন্ত চলতে থাকবে। আরো বলা হয়, যে বৎসরে যিনা করেছে, সে বৎসরের আমল বাদ হয়ে যাবে, জাহান্নামের মধ্যে বিশেষ একটি কুপ রয়েছে, যেখানে কেবল যিনাকারীদেরকেই নিক্ষেপ করা হবে। আর সে কুপের আগুনের শাস্তি এতো কঠিন হবে, যদি সে কুপের মুখ খুলে সেওয়া হয়, তাহলে সে আগুনে সারা জাহান্নামবাসি পুড়ে ছায় হয়ে যাবে। এমনও বলা হয় যে, যদি সে কুপের সামান্যতম আগুন অন্যান্য জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হয়, তাহলে সেসব জাহান্নামবাসীরা জ্বলে পুড়ে যাবে। এই কঠিন কোপে কেবল যিনাকারী, সুদখোর, পিতা-মাতার নাফরমান বান্দারা শাস্তিভোগ করতে থাকবে।

 যিনা করার পর যখন সে গোসল করে এবং গোসলের এক ফোটা পানি মাটিতে পড়ে, তখন যমীন আল্লাহর দরবারে এ বলে ফরিয়াদ জানায়, হে আল্লাহ! তুমি আমাকে হুকুম করো যেন আমি এ যিনাকারীকে আমার ভূগর্ভে নিয়ে আসি। তখন আল্লাহ তাআলা বলেন, তুমি শান্ত হও, সবর কর। এক সময় তোমার কাছেই আসবে। যিনাকারী ব্যক্তি যিনা করার সময় মুমিন থাকে না। বনি ইসরাইলের ৭০ হাজার লোক এই যিনার কারণেই আচানক মছিবতাক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছিল।

 যিনা নামক ও হীন কাজটি মানুষের আত্মিক ও ঈমানী শক্তিকে নিঃশেষ করে দেয়। সমস্ত নেক খাছলত ও সৎ স্বভাবগুলো ধীরে ধীরে মুছে দেয়। কুদরতী ভাবেই যিনাকারীর সুনাম-সুখ্যাতি, মান-ইজ্জত ও সম্মান বিলীন হতে থাকে। নেককার মহিলারা যিনাকারীকে যথেষ্ট ভয় পায়। যিনা করার কারণে সকল সৎ কাজ করার সাহস হারিয়ে যায়। চেহারা ফেকাশে হয়ে যায়। রোজি রোজগার ও কামাইয়ে বরকত থাকে না।

 যিনা ব্যভিচার এমনই একটি খারা কাজ, যা পৃথিবীর কোনো মাজহাব এমনকি কোনো ধর্মই স্বীকৃতি দেয় না। সব ধর্মেই যিনা ব্যভিচারকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। যিনাকারীর শাস্তি সব ধর্মেই রয়েছে। কুরআনুল কারীমের ১৮ পারার সুরা ‘নুর’ –এ যিনাকারীর শাস্তি বর্ণনা করা হয়েছে।   

 দুনিয়াতে যিনার মজায় এমন ক্ষতিকর দিক রয়েছে, যা বর্ণনা করে শেষ করা যাবে না। দেখা গেছে, অনেক বিত্তবান ব্যক্তিরা যিনার কাজে লিপ্ত হওয়ার এক পর্যায়ে তারা রাস্তার ফকির হয়ে গেছে। নিজের কষ্টে অর্জিত অরথ সম্পদ যিনা করতে গিয়ে নিঃশেষ করে দিয়েছে। অবশেষে আলালহর নিকট অপরাধী বান্দা হিসেবে গণ্য হয়েছে এবং দুনিয়ার লোকজনের নিকটও ঘৃণ্য লোক হিসেবে গণ্য হয়েছে।

 দুনিয়ার এ স্বাদ ও মজা ক্ষণিকের জন্য। এ স্বাদ ও মজা একদিন ছাড়তেই হবে, আজীবন ধরে রাখা যাবে না। দুনিয়াতে জীবিত থাকাবস্থায় বৃদ্ধ হলে এমনি এমনিই বাদ পড়ে যাবে। যৌবন বয়সের বাহাদুরী ক্ষণিকের জন্য। বৃদ্ধ বয়সে এ বাহাদুরী আর থাকবে না। সুতরাং এখন থেকেই নিজেদেরকে সংযত করে পরকালের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে।

 আল্লাহর দরবারে দুআ করি, তিনি যেন এ কাজে লিপ্ত ব্যক্তিদের কে সঠিক বুঝ দান করেন, তাদেরকে এ হীন কাজ থেকে বিরত থাকার তাওফীক দেন। যিনার লিপ্ত ব্যক্তিরা নিম্মোক্ত দুআটি বেশি বেশি পড়বে-

“হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট আমার কান দ্বারা খারাপ কথা শ্রবণ করা থেকে আশ্রয় চাচ্ছি এবং আমার দৃষ্টিশক্তির খারাবতা, আমার যবানের খারাবতা, আমার কলবের খারাবতা ও বীর্যের খারাবতা থেকে আশ্রয় চাচ্ছি”।

 উক্ত দুআটি হাদীস শরীফ থেকে নেওয়া হয়েছে। এটি প্রত্যেক নামাযের শেষে তিনবার করে পড়বে। 

আপনি পড়ছেনঃ একান্ত নির্জনে গোপন আলাপ (বাংলা সেক্স বই)

বিভাগঃ নারী পুরুষের যৌন জ্ঞান

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

বীর্যের পরিমাণ

ইতিপূর্বে এ বিষয়টি আলোচনা করা হয়েছে যে, বীর্য নামক উপাদান, যার রঙ সাদা ও গাঢ়, …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE