Home / যৌন জীবন / অন্যান্য / সাংসারিক জীবনে কলহের প্রতিকার

সাংসারিক জীবনে কলহের প্রতিকার

32সাংসারিক জীবন কলহ মুক্ত থাকার ব্যাপারে যে যতো কথাই বলুক না কেন, এর একমাত্র প্রতিষেধক হচ্ছে স্বামী স্ত্রী পরস্পরের অধিকার ও হক সম্পর্কে পূর্ণ ওয়াকিফহাল থাকা এবং সে হক পুরণ করতঃ পরস্পরে উভয়ের প্রতি দয়াদ্র হওয়া। দাম্পত্য জীবনে সুখী হতে চাইলে, অবশ্যই সকলকে যত্মবান হতে হবে। অন্যথায় ছোটখাটো দাম্পত্য কলহ ধীরে ধীরে প্রকটরূপ ধারণ করে গোটা পরিবারের শান্তি বিঘ্নিত করবে। এ ব্যাপারে স্বামী স্ত্রীর সচেতন হওয়া খুবই জরুরী।

প্রত্যেক দম্পতি যদি তাদের দাম্পত্য জীবনে কতিপয় বিষয়ে একটু যত্মবান হন এবং স্বয়ং দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট থাকেন, তাহলে ইনশাআল্লাহ দাম্পত্য কলহ সহজেই মিটে যেতে বাধ্য। সংক্ষিপ্তাকারে সেগুলো নিম্মে উল্লেখ করা হল। যথাঃ

১। স্বামী স্ত্রী পরস্পরের সম্পর্ক হতে হবে বন্ধুত্বপূর্ণ।

২। কুরআঙুল কারীমে বর্ণিত আছে, পুরুষেরা নারীর উপর কর্তৃত্বশীল।

স্ত্রীর উচিৎ – স্বামীর এ শরীয়তপ্রদত্ত কর্তৃত্ব বা অভিভাবকত্ব মেনে নেয়া।

তবে পুরুষদেরকে তাঁর স্ত্রীদের উপর অযাচিতভাবে ক্ষমতা প্রয়োগের মানসিকতা ত্যাগ করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই নারীদের উপর অবিচার করা যাবে না। পুরুষদের স্মরণ রাখতে হবে নবী করীম (সাঃ) বিদায়ী হজ্বের ভাষণ। তাতে বর্ণিত হয়েছে যে, আমি তোমাদের নারীদের হক সম্পর্কে ওসীয়ত করে যাচ্ছি, তাদের সাথে উত্তম আচরণ করবে। তাদের উপর তোমাদের হক আছে এবং তোমাদের উপর তাদের হক আছে। তোমাদের হক হল, তারা যেন তোমাদের শয্যায় অন্য কাউকে আস্তে না দেয়। আর তাদের হক হল, তোমরা উত্তম রূপে তাদের ভরণ-পোষণ করবে।” – (তিরমিযী)

৩। নারীদের বক্রতা স্বভাবজাত , এটা তাদের থেকে পৃথক করা যাবে না। তবে এটা তাদের কোনো দোষ নয় বিশেষ হিকমতে সৃষ্টিগত ভাবে এ স্বভাব তারা প্রাপ্ত হয়েছে। নবী করীম (সাঃ) নারীদের এ অবস্থাকে পাঁজরের বক্র হাড্ডির সাথে তুলনা করে বলেছেন, “যদি এ পাঁজরের বক্র হাড্ডি সোজা করতে যাও, তাহলে তা ভেঙ্গে ফেলবে। আর যদি লাভবান হতে চাও, তাহলে তাঁর বক্রতা মেনে নিয়েই লাভবান হতে হবে। মূলত এটি গভীর প্রজ্ঞা পূর্ণ বিরল উপমা। তাই স্বামী এ ব্যাপারে অত্যন্ত সতর্কটার ভূমিকা নিলে তথা স্ত্রীর বক্রতা মেনে নিয়ে সেভাবে ম্যানেজ করে চললে, দাম্পত্য জীবন মধুময় হবে।

৪। হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সাঃ) বলেছেন-“আমি যদি মানুষকে অন্য কোনো মানুষের সম্মুখে সিজদা করার হুকুম দিতাম, তাহলে স্ত্রীকে তাঁর স্বামীর সম্মুখে সিজদা করার হুকুম দিতাম।”-(তিরমিযী)

উক্ত হাদীস থেকে প্রতীয়মান হয় যে, প্রত্যেক স্ত্রীর জন্য আবশ্যক হল তাঁর স্বামীকে সর্বোচ্চ সম্মান ও শ্রদ্ধাভক্তি প্রদর্শন করা। তাই সকল স্ত্রীকে এ ব্যাপারে যত্মবান হওয়া জরুরী।

এমনকি স্বামীর মাঝে কোনো প্রকার কু-অভ্যাস থাকলে তাঁর জন্য তাকে অবহেলা করা যাবে না । বরং স্বামীকে আন্তরিক ভালোবাসা মহব্বত শ্রদ্ধাভক্তি ও সেবা করে তাঁর মন জয় করতঃ সেই কু-অভ্যাস দূর করণে আপ্রাণ চেষ্টা তদবীর করে যেতে হবে।

৫। স্বামীর আর্থিক অবস্থার উপর খেয়াল রাখতে হবে। তাঁর শক্তি- সামর্থ্য অনুপাতে জীবনমান চালাতে হবে। স্বামীর আর্থিক শক্তি-সামর্থ্যের বাইরে কোনো কিছু আবদার করা যাবে না। প্রয়োজনাতিরিক্ত কোনো কিছু আবদার করে না পেলে, তাতে মন খারাপ করা অনুচিত।

স্ত্রী নিজ কথায় অটল থাকার জন্য জিদ ধরা অনুচিত। প্রাথমিক ভাবে স্বামীর কথা জেনে পরবর্তীতে তা নিয়ে নিভৃতে সিদ্ধান্তে পৌঁছা উত্তম।

স্বামীর ক্রয়কৃত বস্তুর সরাসরি সমালোচনা বা প্রত্যাখ্যান করা ঠিক নয়। তাতে লাভের তুলনায় ক্ষতির সম্ভাবনাই অধিক। তাই যদি কখনো কোনো বস্তু অপছন্দ হয়, তারপরও তা হাসিমুখে গ্রহণ করতে হবে এবং ভালো বলে উল্লেখ করতে হবে।

৬। স্বামীর সেবায় নিজেকে সর্বক্ষণ নিয়োজিত রাখবে। যেন তাঁর ভালোবাসা ও সেবায় তাঁর প্প্রতি স্বামী সন্তুষ্ট থাকেন। তিদ্রুপভাবে স্বামীকেও স্ত্রীর প্রতি আন্তরিক ভালোবাসা দেখাতে হবে। তাঁর হক আদায়ের ক্ষেত্রে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

স্বামী স্ত্রী উভয়ের মধ্যে কোনো প্রকার ভুল বুঝাবুঝি হলে, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তা মিটিয়ে ফেলতে হবে। অন্যথায় তৃতীয় পক্ষ ইবলিশ এ সুবর্ণ সুযোগ হাতে পেয়ে উভয়ের মাঝের শান্তিকে বিনষ্ট করে দেবে। সর্বদাই স্মরণ রাখতে হবে, ইবলিশ কখনই কারো বন্ধু হতে পারে না বরং ইবলিশ মানুষের প্রকাশ্য দুশমন।

৭। প্রত্যেক স্ত্রীকে তাঁর রূপ-যোউবন কোনো অবস্থাতেই এর অপব্যবহার না করে তাঁর স্বামীর জন্য সংরক্ষিত রাখতে হবে।

বড় আফসোসের বিষয়, আধুনিক সমাজে এর পুরোপুরি উল্টো অবস্থা বিরাজমান। অর্থাৎ, আধুনিক মহিলারা বাইরে বের হলে সেজেগুজে বের হন বটে, কিন্তু স্বামীর মনোরঞ্জনের জন্য সাজসজ্জার প্রয়োজনই মনে করেন না। আমাদের সমাজের সিংহভাগ মহিলারাই এ ব্যধিতে আক্রান্ত । দাম্পত্য জীবন সুখময় করে রাখতে সকলকে এ অভ্যাস পরিত্যাগ করে কেবল মাত্র স্বামীর জন্যই সাজসজ্জার অভ্যাস করতে হবে। অন্যথায় দাম্পত্য জীবনের আসল সুখ পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

৮। স্বামী স্ত্রী উভয়ে উভয়ের অধিকার সম্বন্ধে জানতে হবে এবং তা আদায়ে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। বেশিরভাগ দম্পতি কুরআন-হাদীস অনুযায়ী স্বামী – স্ত্রীর হক ও অধিকার সম্বন্ধে পুরোপুরি অবহিত না থাকার দরুণ দাম্পত্য জীবনে অশান্তিতে ভোগে। এ ব্যাপারে স্বামী স্ত্রী উভয়ের প্রয়োজনীয় জ্ঞানার্জন করা একান্ত জরুরী।

৯। এককভাবে প্রত্যেক স্বামীর নিম্মোক্ত বিষয় গুলর প্রতি তীক্ষ্ণ নজর রাখলে, দাম্পত্য জীবন সুখময় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশ গুলো সুন্নাতের মর্যাদা সম্পন্ন। যথা-

(ক) স্ত্রীর অভিমান সহ্য করা।

(খ) শরীয়তের আওতায় স্ত্রীর মন খুশী করতে চেষ্টা করা।

(গ) স্ত্রীর সাথে আনন্দ – ফুর্তি, হাসি ঠাট্রা করা।

(ঘ) স্ত্রীর আরাম আয়েশের প্রতি খেয়াল রাখা।

(ঙ) স্ত্রীর কাজে যথাসম্ভব সহযোগিতা করা।

(চ) স্ত্রীর মুখে আদর করে খাবার তুলে দেয়া।

(ছ) খোরপোষের সংকীর্ণতা না করা।

(জ) স্ত্রীকে প্রয়োজনীয় হাত খরচা দেয়া।

(ঝ) স্ত্রীর মন জয় কুরতে চেষ্টা অব্যাহত রাখা।

(ঞ) মাঝে মধ্যে স্ত্রীর পছন্দনীয় বস্তু উপহার দেয়া।

(ট) সময়মত বাসায় ফেরা এবং সর্বদা স্ত্রীর সাথে রাত্রি যাপন করা।

(ঠ) স্ত্রীর দোষ না দেখে, বরং গুণগুলো দেখা।

(ড) স্ত্রীর সাথে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পরামর্শ করা ইত্যাদি।

১০ তদ্রুপভাবে প্রত্যেক স্ত্রী এককভাবে নিম্মোক্ত বিষয় গুলো পালনে সচেষ্ট হলে, দাম্পত্য জীবন সুখময় হবে বলে আশা করা যায়। যথাঃ

(ক) স্বামীর হককেই সবচেয়ে বড় মনে করতে হবে।

(খ) স্বামীকে অন্যায়ভাবে কষ্ট না দেয়া বা তাঁর মনে ব্যাথা না দেয়া।

(গ) স্বামীর ডাকে তৎক্ষনাৎ উপস্থিত হয়ে তাঁর মনোরঞ্জন করা।

(ঘ) কখনো স্বামীর অবাধ্য না হওয়া।

(ঙ) স্বামীকে সবচেয়ে প্রিয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে জানা।

(চ) নিজের সাধ্যমত স্বামীর সেবা করা। স্মরণ রাখা জরুরী যে, ফরযের পর স্ত্রীর জন্য জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ আমল হল স্বামীর খেদমত করা। নেককার হওয়ার পর স্বামীর সন্তুষ্টি অর্জনকারী স্ত্রীকে হাদীসে জান্নাতের সুসংবাদ দেয়া হয়েছে।

সর্বাগ্রে দীনের হুকুম পালন করে পরবর্তীতে স্বামী ও স্ত্রী উভয়ে উভয়ের জন্য নিবেদিত প্রাণ থাকতে হবে। মনে রাখা দরকার যে, বান্দার প্রতি প্রথম দাবী হচ্ছে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের। পরবর্তীতে পুরুষের জন্য গর্ভধারিণী স্ত্রী এবং স্ত্রীর জন্য স্বীয় স্বামীর দাবীই সবচেয়ে বেশি । অর্থাৎ কোনো পুরুষ স্বীয় স্ত্রীকে অবহেলা করে এবং স্ত্রী তাঁর স্বামীকে অবজ্ঞা করে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সন্তুষ্টি অর্জনে কখনই কামিয়াব হবে না।

আপনি পড়ছেনঃ একান্ত নির্জনে গোপন আলাপ (বাংলা সেক্স বই)

বিভাগঃ নারী পুরুষের যৌন জ্ঞান

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

বীর্যের পরিমাণ

ইতিপূর্বে এ বিষয়টি আলোচনা করা হয়েছে যে, বীর্য নামক উপাদান, যার রঙ সাদা ও গাঢ়, …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE