Home / যৌন জীবন / যৌন বিষয়ক নিবন্ধন / হায়েযের কতিপয় মাসআলা

হায়েযের কতিপয় মাসআলা

  • হায়েয চলাকালীন সকল প্রকার নামায-রোজা আদায় করা নিষেধ। তবে নামায ও রোযার মধ্যে কিছু পার্থক্য আছে। হায়েযের কারণে নামায একেবারে মাফ হয়ে যায়, কিন্তু রোযা সাময়িকের জন্য হয়, পরবর্তীতে আদায় করতে হয়। কিন্তু নামায আর কখনো আদায় করতে হয় না।
  • সুন্নত বা নফল নামাযরত অবস্থায় হায়েয দেখা দলে, সাময়িকের জন্য মাফ হয়ে যায় । কিন্তু পরবর্তীতে তা কাযা করতে হয়। দিনে রোযা অর্ধেকের পর হায়েয দেখা দিলেও একই হুকুম। সাময়িকের জন্য মাফ হয়ে যাবে কিন্তু পরবর্তীতে কাযা করতে হবে।নফল রোযার ক্ষেত্রে একই হুকুম।
  • ফরয নামায চলন্তাবস্থায় হায়েয দেখা দিলে নামায ফাসেদ হয়ে যায় এবং সে ওয়াক্তের নামাযও  মাফ হয়ে যায়।
  • নামাযের শেষ ওয়াক্তে হায়েজ দেখা দিলে স ওয়াক্তের নামায ওখনও আদায় নাকরে, তবে নামায মাফ হয়ে যাবে কাযা করতে হবে না।
  • রমযান মাসে হায়েয  হলে দিনের বেলা পবিত্র হলেও সন্ধ্যা পর্যন্ত পানাহার করা নিষেধ। রোযাদারের মতো না খেয়ে থাকা ওয়াজিব। তবে ঐ দিন রোযার নধ্যে গণ্য হবে না, বরং ঐ দিনের রোযা কাযা করতে হবে।
  • হায়েয ইবিস্থায় যে কাপড় পরিধান করেছিলে, তাতে হায়েযের নাপাকি বা ভিন্ন কোনো নাপাকী লেগে না থাকে; তাহলে সে কাপড় পরিধান করে নামায আদায় করতে পারবে। এতে কোনো সমস্যা নেই। আর যদি কোনো স্থানে নাপাক লেগে থাকে, তাহলে কেবল স এস্থানটুকই ধৌত করলে যথেষ্ট।  পূর্ণাঙ্গ কাপড় ধৌত করার প্রয়োজন নেই।
  • হায়েয চলাকালীন সময়ে স্ত্রী সহবাস করা হারাম। তবে একত্রে চলা-ফেরা, খাবার-দাবার, ঘুম, শয্যাগ্রহণ করা সবই জায়েয। কিন্তু স্বামী তাঁর স্ত্রীর হাটু থেকে নাভি পর্যন্ত স্থানে তাঁর কোনো অঙ্গ স্পর্শ করে লজ্জত হাসেল করতে পারবে না। এ মুহূর্তে স্বামী তাঁর স্ত্রী থেকে যৌন ক্ষুধা মিটাতে পারে না। শরীয়ত মতে হারাম হওয়ার সাথে সাথে হেকিমী মতেও বিভিন্ন রোগ সৃষ্টির কারণ। যদি স্বামী এমুহূর্তে স্ত্রীর সাথে সহবাস করতে চায়, তাহলে স্বামীকে নরম সুরে বুঝাবে। কথা না মানলে, কোনো ক্রমেই রাজি হবে না। কেননা পাপ কাজে উভয়েই কবিরা গুনাহে গোনাহগার হবে।
  • হায়েয চলাকালীন স্বামী তাঁর স্ত্রীর নাভি থেকে হাটু পর্যন্ত স্থানে হাত বা কোনো অঙ্গ লাগাবে না। কিন্তু নাভীর উপর থেকে মাথা পর্যন্ত অন্যান্য স্থানে হাত লাগাতে পারবে এমনই চুমুও দিতে পারবে।
  • কারো পাঁচ দিন বা নয় দিন নিয়মিত হায়েয আসত। সে নিয়ম মতো হায়েয হায়েয হয়ে বন্ধ হয়ে গেক; সুতরাং যতক্ষণ গোসল না করবে, ততক্ষণ স্বামী সহবাস করতে পারবেনা। তবে যদি এ অবস্থায়  এক ওয়াক্ত নামায চলে যায় এবং এর মধ্যে রক্তস্রাব না আসে, তাহলে বিনা গোসলে সহবাস করতে পারবে। এর পূর্বে সহবাস ঠিক হবে না।
  • পূর্ণাঙ্গ দশ দিন দশ রাত রক্তস্রাব হয়েন বন্ধ হয়ে গেলে সহবাস করাতে কোনো সমস্যা নেই। গোসল করুক বা না করুক।
  • হায়েয চলাকালীন মহিলার শরীর ও মুখের লালা পাক। অন্য কোনো নাপাকী শরীরে থাকে সেটি ভিন্ন কথা। কেবল হায়েযের কারণে শরীর নাপাক বলা যাবে না। এ অবস্থায় শরীরে ছোঁয়া লাগলে বা স্বামী স্ত্রীর মুখের ভিতর জিহ্বা প্রবেশ করালে তাতে নাপাক হবার কিছু নেই।

একদিন কিংবা দুদিন রক্তস্রাব  হয়ে বন্ধ হয়ে গেলে গোসল করা ওয়াজিব নয়, অযু করে নামায পড়বে, কিন্তু সহবাস করা যাবে না। কেননা পনের দিনের মধ্যে রক্তস্রাব শুরু হলে বুঝতে হবে যে, সেটা হায়েযের সময় ছিল। আর যদি পনের দিনের মধ্যে রক্তস্রাব দেখা না যায়; তবে প্রথম দু-এক দিনের রক্তস্রাব ইস্তেহাযা বলে বিবেচিত হবে এবং সে সময়কার নামাযও ( যা আদায় করা হয় নি) কাযা করতে হবে।    

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

প্রেমের কথা

কলারূপে প্রেম- প্রেমের আবশ্যকতা ও প্রীতি-স্থাপনের উপায়

‘কলারূপে প্রেমের কথা শুনে অনেকে হয়তো চমকিয়ে উঠেছেন। যে #প্রেম নিছক মানসিক ব্যাপার মাত্র, তাঁকে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *