Home / বই থেকে / পর্দা ( আদর্শ বিবাহ )

পর্দা ( আদর্শ বিবাহ )

ব্যভিচারের ছিদ্রপথ বন্ধ করার আর এক উপায় হল পর্দা। রমণীর দেহ – সৌষ্ঠব প্রকৃতিগতভাবেই রমণীয়। কামিনীর রূপলাবণ্য  এবং তদুপরি তার অঙ্গরাগ  বড় কমনীয় ; যা পুরুষের কামানল প্রজ্বলিত করে। তাই পুরুষের দৃষ্টির অন্তরালে থেকে নিজের মান ও
মর্যাদা রক্ষা করতে নারী জাতির প্রতি সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর এই বিধান এল। এই জন্যই কোন গম্য ( যার সহিত নারীর কোনও   সময়ে বিবাহ বৈধ হতে পারে এমন ) পুরুষের দৃষ্টিতে তার সৌন্দর্য ও লাবণ্য প্রকাশ করতে পারে না।
কারণ এদের দৃষ্টিতে কাম থগাকে না। আর যাদের থাকে তারা মানুষ নয়। পশু। ( কাদের সহিত কোনও কালেও বিবাহ বৈধ নয় তাদের কথা পরে আলোচিত হবে।) অনুরূপ নারীর রূপ বিষয়ে অজ্ঞ বালক; যৌনকামনাহীন পুরুষ এবং অধিকারভুক্ত ক্রীতদাসের
সহিত মহিলা দেখা- সাক্ষাৎ করতে পারে।
পর্দার ব্যাপারে আল্লাহর সাধারণ নির্দেশঃ- হে নারী জাতি! তোমরা স্বগৃহে অবস্থান কর এবং প্রাক- ইসলামী (জাহেলিয়াতী) যুগের মত নিজেদেরকে প্রদর্শন করে বেড়িও না। (কুঃ ৩৩/৩৩)
হে নবী! তুমি তোমার স্ত্রী, কন্যা ও মুসলিম রমণীগণকে বল, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের (মুখমন্ডলের) উপর টেনে নেয়। এতে ( ক্রীত দাসী থেকে) তাদের কে চেনা সহজতর হবে; ফলে তাদের কে উত্যক্ত করা হবে না।  ( লম্পটরা তাদেরকে উত্যক্তা করবে না।) (কুঃ ৩৩/৫৯)
মুমিন নারীদেরকে বল, তারা যেন নিজেদের দৃষ্টি সংযত করে ও লজ্জাস্থান হিফাযত করে এবং যা প্রকাশ পায় তা ছাড়া তাদের  (অন্যান্য) আভরণ প্রদর্শন না করে, তাদের গ্রীবা ও বক্ষদেশ যেন মাথার কাপড় ( উড়না অথবা চাদর) দ্বারা আবৃত করে।
(কুঃ ৩৩/৫৩)  (হে পুরুষগণ!) তোমরা তাদের ( নারীদের ) নিকট হতে কিছু চাইলে পর্দার অন্তরাল হতে চাইবে। এ বিধান তোমাদের  এবং তাদের হৃদয়ের জন্য অধিকতর পবিত্র।( কুঃ ৩৩/৫৩)
  সুতরাং মুসলিম নারীর নিকট পর্দাঃ-
আল্লাহ ও তদীয় রসূলের আনুগত্য।
পর্দা, প্রেম ও চরিত্রের পবিত্রতা, অনাবিলতা ও নিস্কলস্কতা।
পর্দা, নারীর নারীত্ব, সতীত্ব , সম্ভ্রম ও মর্যাদা।
পর্দা, লজ্জাশীলতা,অন্তর্মাধু্র্য ও সদাচারিতা।
পর্দা, মানবরূপী শয়তানের দৃষ্টি থেকে রক্ষাকবচ।
পর্দা, ইজ্জত হিফাযত করে, অবৈধ প্রণয়, ধর্ষণ , অশ্লীলতা ও ব্যভিচার দূর করে, নারীর মান ও মূল্য রক্ষা করে।
জিনিস দামী মূল্যবান হলেই তাকে গোপনে লুকিয়ে রাখা হয়। যত্রেতত্রে কাঁচ পাওয়া যায় বলেই তার কোন কদর নেই। কিন্তু  কাঞ্চন পাওয়া যায় না বলেই তার বড় কদর। পর্দানশীন নারী কাঁচ নয়; বরং কাঞ্চন, সুরক্ষিত মুক্তা।
পর্দা, নারীকে কাফের ও ক্রীতদাসী থেকে বাছাই করে সম্ভ্রান্তা মুসলিম নারীরূপে চিহ্নিত করে।
পর্দা, আল্লাহর গযব ও জাহান্নামের আগুন থেকে পর্দা।
নারীদের প্রধান শত্রু তার সৌন্দর্য ও যৌবন। আর পর্দা তার লালকেল্লা।

 ইসলামের সুসভ্য দৃষ্টিতে নারীর পর্দা ও সভ্য লেবাসের কয়েকটি শর্ত নিম্ন্রূপঃ-

১- মুসলিম মহিলা যে পোশাক ব্যবহার করবে তাতে যেন পর্দা পাওয়া যায়;অর্থাৎ সেই পোশাক যেন তার সারা দেহকে আবৃত
করে। সুতরাং যে লেবাসে নারীর কেশদাম, গ্রীবা, বক্ষদেশ, উদর ও পৃষ্ঠদেশ ( যেমন, শাড়ি ও খাটো ব্লাউজে) এবং হাঁটু ও জাং ( যেমন, স্ক্যার্ট ,ঘাগরা,ফ্রক ইত্যাদিতে) প্রকাশিত থাকে তা ( সাধারণতঃ গম্য পুরুষদের সন্মুখে) পরিধান করা হারাম।
২ এই লেবাস যেন সৌন্দর্যময় ও দৃষ্টি – আকর্ষী না হয়। সুতরাং কামদার ( এমব্রয়ডারি করা) চকচকে রঙ্গিত বোরকাও
পরা বৈধ নয়।

৩- এমন পাতলা না হয় যাতে ভিতরের চামড়ার রঙ নজরে আসে। এতএব পাতলা শাড়ি, উড়না প্রভৃতি মুসলিম মহিলার  ড্রেস নয়। প্রিয় নবী (সাঃ) বলেন, দুই শ্রেণী মানুষ জাহান্নামের অধিবাসী ; যাদেরকে আমি দেখিনি।(তারা ভবিষ্যতে আসবে।)
প্রথম শ্রেণী ( অত্যাচারীর দল) যাদের সঙ্গে থাকবে গরুর লেজের মত চাবুক, যদ্দারা তারা লোককে প্রহার করবে।
আর দ্বিতীয় শ্রেণী হল সেই নারীদল; যারা কাপড় তো পরিধান করবে, কিন্তু তারা বস্ততঃ উলঙ্গ থাকবে, যারা পুরুষদের  আকৃষ্ট করবে এবং নিজেরাও তাদের প্রতি আকৃষ্ট হবে, যাদের মস্তক ( খোঁপা বাধার কারণে) উটের হিলে যাওয়া কুজের মত হবে।
তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না, তার গন্ধও পাবে না। অথচ জান্নাতের সুগন্ধ এত এত দূরবর্তী স্থান থেকেও পাওয়া যাবে। ( মুঃ, বাঃ, আঃ, সিসঃ ১৩২৬ নং)
৪- এমন টাইটফিট বা আট -সাট না হয় যাতে দেহাঙ্গের  উচ্চতা ও নীচতা এবং আকার ও আকৃতি কাপড়ের উপরে বুঝা যায়। তাই এমন চুস্ত ও ফ্যাশনের লেবাস মুসলিম রমনী পরিধান করতে পারে না, যাতে তার সুডৌল স্তনযুগল, সুউচ্চ নিতম্ব,
সরু কোমর প্রভৃতির আকার প্রকাশ পায়।
টাইটফিট ইত্যাদি লেবাস যে কত বড় ফিতনা সৃষ্টিকারী ও হারাম তা বিভিন্ন লেডীস অন্তবার্স কোম্পানির নামই সাক্ষ্য দেই।
যেমন, Look me, Take me, Follow me, Buy me, Touch me, Kiss me প্রভৃতি।
অবশ্য যে মহিলারা এই ধরনের বেলাল্লাপনা পোশাক পরে নিজেদেরকে প্রদর্শন করে বেড়ায়, তাদের মন্ব ঐ কথাই বলে।
৫- এই লেবাস যেন পুরুষদের অনুকৃত বা অনুরূপ না হয়। সুতরাং প্যান্ট, শার্ট প্রভৃতি পুরুষদের মত পোশাক কোন মুসলিম মহিলা ব্যবহার করতে পারে না। যেহেতু পুরুষদের বেশধারণী নারীদের উপর আল্লাহর অভিশাপ থাকে। ( বুঃ , মিঃ ৪৪২৮- ৪৪২৯ নং)
৬- তদুনরূপ তা যেন ঢিলে ম্যাক্সি ও শেলোয়ার কামীস এবং তার উপর অস্বচ্ছ চাদর বা উড়না; যা মাথার কেশ, বক্ষস্থল ইত্যাদি আচ্ছাদিত করে তা মুসলিম রমণীর লেবাস।   
কেবল মাত্র শেলোয়ার কামীস বা ম্যাক্সি অথবা তার উপর বক্ষে ও গ্রীবায় থাক বা ভাঁজ করা উড়নার লেবাস কাফের মহিলাদের।
অনুরূপ শাড়ি যদি সর্বশরীরকে ঢেকে নেয় তবে মুসলিমদের; নচেৎ থাক করে বুকে চাপানো থাকলে তথা কেশদাম ও পেট-পিঠ প্রকাশ করে রাখলে তা অমুসলিম মহিলাদের লেবাস। আর প্রিয় নবী (সাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি যে জাতির অনুকরণ  করবে , সে সেই জাতির দলভুক্ত। ( আদাঃ সজাঃ ৬১৪৯ নং)
৭- এই পোশাক যেন জাঁকজমক ও আড়ম্বরপূর্ণ তথা প্রসিদ্ধিজনক না হয়। ( আঃ, আদাঃ   ইমাঃ, মিঃ ৪৩৪৬ নং)
৮- লেবাস যেন সুগন্ধিত বা সুরভিত না হয়। পূর্বেই বলা হয়েছে যে, যে নারী সুগন্ধি ছড়িয়ে লোকালয়ে যায়, সে বেশ্যা নারী।
প্রকাশ যে, নারী দেহ যৌবনের চিহ্ন দেখা দেওয়া মাত্রই এই শর্তের পোশাক পরা ওয়াজেব। ( আযিঃ ১৭৭, আফাই ১৩-১৮,
মামুঃ ৫৮-৫৯ পৃষ্ঠা) আরো পড়ুন

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

[পঞ্চম পরিচ্ছেদ] ইসলামী শরী‘য়াহ বাস্তবায়নের হুকুম

আল্লাহর প্রতি ঈমান ও তাঁর একত্ববাদে বিশ্বাস এটাই দাবী যে, আমরা ঈমান আনব যে, তিনি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *