Breaking News
Home / বই থেকে / প্রসাধন ও অঙ্গসজ্জা ( আদর্শ বিবাহ )

প্রসাধন ও অঙ্গসজ্জা ( আদর্শ বিবাহ )

নারীর রূপমাধুরী ও সৌন্দর্য লাবণ্য নারীর গর্ব। তার এ রূপ – যৌবন সৃষ্টি হয়েছে একমাত্র কেবল তার স্বামীর জন্য।
স্বামীকে সে রূপ উপহার না দিতে পারলে কোন মূল্যই থাকে না নারীর। এই রূপ – যৌবন স্বামীকে উপহার দিয়ে কত যে আনন্দ, সে তো নারীরাই জানে। সুন্দর অঙ্গের উপর অঙ্গরাগ দিয়ে আরো মনোহারী ও লোভনীয় করে স্বামীকে উপহার দিয়ে উভয়েই পরমানন্দ ও প্রকৃতি দাম্পত্য – সুখ লুটতে পারে পার্থিব সংসারে। সুতরাং অঙ্গ যার জন্য নিবেদিত অঙ্গরাগও তার জন্যই নির্দিষ্ট। স্বামী ব্যতিত অন্য কারো জন্য অঙ্গসজ্জা করা ও তা প্রদর্শন করা বৈধ নয়। যুগের তালে তালে নারীদের অঙ্গরাগ , মেকআপ ও প্রসাধন – সামগ্রী অতিশয় বেড়ে উঠেছে। যার হালাল ও হারাম হওয়ার কষ্টিপাথর হল এই যে,
ঐ প্রসাধনদ্রব্য ব্যবহারে যেন অঙ্গের বা ত্বকের কোন ক্ষতি না হয়। ঐ দ্রব্যে যেন কোন প্রকার অবৈধ বা অপবিত্র বস্ত মিশ্রিত না থাকে; তা যেন বিজাতীয় মহিলাদের বৈশিষ্ট্য না হয়। ( যেমন সিন্দুর, টিপ প্রভৃতি) এবং তা যেন বেগানার সামনে প্রকাশ না পায়।( ফউঃ ২/৭৭১)
সুতরাং শরীয়তের সীমার মাঝে থেকে নারী যে কোন প্রসাধন কেবল স্বামীর মন আকর্ষণের জন্য ব্যবহার করতে পারে। পরিধান করতে পারে যে কোন পোশাক তার সামনে। কেবল তাকেই ভালো লাগানোর জন্য।
এই সাজ- সজ্জাতেও লুকিয়ে থাকে ভালোবাসার রহস্য। পক্ষান্তরে স্ত্রী যদি স্বামীর জন্য অঙ্গসজ্জা না করে ;পরন্ত বাইরে গেলে বা আর কারো জন্য প্রসাধন করে। তবে নিশ্চয়ই সে নারী প্রেম- প্রকৃতির বিরোধী। নচেৎ সে স্বামীর প্রেম ও দৃষ্টি আকর্ষণকে জরুরী ভাবে না। এমন নারী হতভাগী বৈ কি? সে জানে না যে, তার নিজের দোষে স্বামী অন্যাসক্ত হয়ে পড়বে। টাইটফিট চুশ্ত পোশাক কেবল স্বামীর দৃষ্টি আকর্ষণের উদ্দেশ্যে বাড়ির ভিতরে পরিধান বৈধ। অবশ্য কোন এগানা ও মহিলার সামনে , এমন কি পিতা- মাতা বা ছেলে -মেয়েদের সামনেও ব্যবহার উচিত নয়।(ফউঃ২/৮২৫)
কেবল স্বামীর দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য ব্রা ব্যবহার বৈধ। অন্যের জন্য ধোঁকার উদ্দেশ্যে তা অবৈধ।   (ফমামুঃ ১/ ৪৭০)
যে পোশাকে অথবা অলঙ্কার কোন প্রকারের মানুষ বা জীব – জন্তুর ছবি অঙ্কিত থাকে তা
ব্যবহার করা বৈধ নয়। যেহেতু ইসলাম ছবি ও মূর্তির ঘোর বিরোধী। ( ফইজঃ ৪০ পৃষ্ঠা)
যে লেবাস বা অলঙ্কারে ক্রুশ , শঙ্খ, সর্প বা অন্যান্য কোন বিজাতীয় ধর্মীয় প্রতীক চিত্রিত
থাকে মুসলিমের জন্য তাও ব্যবহার করা বৈধ নয়। ( ফামনিঃ ৭ পৃষ্ঠা)
নিউ মডেল বা ফ্যাশনের পরিচ্ছদ ব্যবহার তখনই বৈধ, যখন তা পর্দার কাজ দেবে এবং তাতে কোন হিরো – হিরোইন বা কাফেরদের অনুকরণ হবে না। ( ফামুনিঃ ১২ পৃষ্ঠা)
স্ক্যার্ট- ব্লাউজ বা স্ক্যার্ট গেঞ্জি মুসলিম মহিলার ড্রেস নিয়। বাড়িতে এগানার সামনে সেই ড্রেস  পরা উচিত ; যাতে গলা থেকে পায়ের গাঁট পর্যন্ত পর্দায় থাকে। আর ( বিনা বোরকায় ) বেগানার সামনে ও বাইরে গেলে তো নিঃসন্দেহে তা পরা হারাম। ( ফামুনিঃ ২১ পৃষ্ঠা) প্যান্ট – শার্ট মুসলিমদের ড্রেস নয়। কিছু শর্তের সাথে পরা বৈধ হলেও মহিলারা তা ব্যবহার  করতে পারে না; যদিও তা ঢিলেঢালা হয় এবং টাইটফিট না হয়। এই জন্য যে,  তা হল পুরুষদের ড্রেস। আর পুরুষের বেশধারিণী নারী অভিশপ্তা।( ফামুনিঃ ৩০-৩১ পৃষ্ঠা) কেশবিন্যাসে মহিলার সিঁথি হবে মাথার মাঝে। এই অভ্যাসের বিরোধিতা করে সে মাথার  এক সাইডে সিঁথি করতে পারে না। ( ফউঃ ২/৮২৭) সাধারণতঃ এ ফ্যাশন দ্বীনদার মহিলাদের নয়।
বেণী বা চুঁটি গেঁথে মাথা বাঁধাই উত্তম। খোঁপা বা লোটন মাথার উপরে বাঁধা অবৈধ।
পিছন দিকে ঘাড়ের উপর যদি কাপড়ের উপর তার উচ্ছতা ও আকার নজরে আসে তবে তাও বৈধ নয়। মহিলার চুল বেশি লম্বা আছে- একথা যেন পরপুরুষে আন্দাজ না করতে পারে। যেহেতু নারীর  সুকেশ এক সৌন্দর্য ; যা কোন প্রকারে বেহানার সামনে প্রকাশ করা হারাম। (ফউঃ ২/৮৩০,ফমঃ৯৪ পৃষ্ঠা)
প্রিয় নবী (সাঃ) বলেন, আমার শেষ যামানার উম্মতের মধ্যে কিছু এমন লোক হবে যারা ঘরের  মত জিন ( মোটর গাড়ি )তে সওয়ার হয়ে মসজিদের দরজায় দরজায় নামবে।( গাড়ি করে নামায  পড়তে আসবে ) আর তাদের মহিলারা হবে অর্ধনগ্না; যাদের মাথা কৃশ উটের কুজের মত  (খোঁপা) হবে। তোমরা তাদেরকে অভিশাপ করো। কারণ, তারা অভিশপ্ত! ( মুআঃ ২/২২৩, ইহিঃ, তাঁবাঃ, সিসঃ ২৬৮৩ নং)
এ ভবিষ্যৎ বাণী যে কত সত্য তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
মাথার ঝরে – পরা – কেশ মাটিতে পুতে ফেলা উত্তম। যেহেতু বিশেষ করে মহিলাদের চুল
উল্লেখযোগ্য দীর্ঘ হলে যুবকদের মন কাড়ে। পরন্ত ঐ চুল নিয়ে যাদুও করা যায়। তাই যেখানে- সেখানে না ফেলাই উচিত। ( ফমঃ ৯৯ পৃষ্ঠা)  
মহিলার চুল ও কেশদাম অমূল্য সম্পদ, তা বিক্রয় করা বৈধ নয়। মহিলারা চুলে খেযাব বা কলফ ব্যবহার করতে পারে।
তবে কালো রঙের কলফ ব্যবহার হারাম। বাদামী , সোনালী , লালচে প্রভৃতি কলফ দিয়ে রঙাতে পারে। তবে তাতে যেন  কোন হিরোইন বা কাফের নারীর অনুকরণ বা বেশধারণ উদ্দেশ্য না হয়। (ফামুনিঃ ২৫, তামুঃ ৩০ পৃষ্ঠা)
সৌন্দর্যের জন্য সামনের কিছু চুল ছাঁটা অবৈধ নয়। তবে কোন হিরোইন বা কাফের মহিলাদের অনুকরণ করে তাদের মত অথবা পুরুষদের মত করে ছেঁটে সাধনা – কাট , বা হিপ্পি- কাট ইত্যাদি হারাম। (ফউঃ ২/৮২৬-৮৩১, ফমঃ ১০৭-১১১ পৃষ্ঠা)
তাছাড়া সুদীর্ঘ কেশদাম সুকেশিনীর এক মনোলোভা সৌন্দর্য , যা ছেঁটে নষ্ট না করাই উত্তম। ( ফমামুঃ ২/৫১২-৫১৫)
স্বামীর দৃষ্টি আকর্ষণের উদ্দেশ্যে – অর্থের অপচয় না হলে – মেশিন দ্বারা চুল কুঁচকানো বা থাকথাক করা বৈধ। (ফউঃ ২/৮২৯)
তবে কোন পুরুষ সেলুনে অবশ্যই নয়। মহিলা সেলুনে মহিলার নিকট এসব বৈধ। তবে গুপ্তাঙ্গের লোম আদি ( বৈজ্ঞানিক  পদ্ধিতিতে) পরিস্কার করতে কোন মহিলার কাছেও লজ্জাস্থান খোলা বৈধ নয়। ( ফামুনিঃ ১৩ , রাখুঃ ১০৩ পৃষ্ঠা)
কৃত্রিম চুল বা পরচুলা (ট্যাসেল ) আদি কেশ বেশি দেখাবার উদ্দেশ্যে ব্যবহার হারাম,স্বামী চাইলেও তা মাথায় লাগানো যাবেনা।
প্রিয় নবী (সাঃ) বলেন, যে নারী তার মাথায় এমন চুল বাড়তি  লাগায় যা তার মাথার নয় সে তার মাথায় জালিয়াতি সংযোগ করে। ( সজাঃ ২৭০৫ নং)
যে মেয়েরা মাথায় পরচুলা লাগিয়ে বড় খোঁপা প্রদর্শন করে আল্লাহ রসূল (সাঃ) তাদের উপর অভিসম্পাত করেছেন।( সজাঃ৫১০৪ নং, ফউঃ ৮৩ পৃষ্ঠা)
ভ্রু চেঁছে সরু চাঁদের মত করে সৌন্দর্য আনয়ন বৈধ নয়। স্বামী চাইলেও নয়। যেহেতু ভ্রু ছেড়া বা চাঁছাতে আল্লাহর সৃষ্টিতে পরিবর্তন করা হয়; যাতে তার অনুমতি নেই। তাছাড়া নবী (সাঃ) এমন মেয়েদেরকেও অভিশাপ করেছেন।(সজাঃ ৫১০৪ নং, ফমঃ ৭২,৯৪ পৃষ্ঠা) অনুরূপ কপাল চেঁছেও সৌন্দর্য আনা অবৈধ। ( সিসঃ ৬/৬৯২ )
মহিলার গালে বা ওষ্ঠের উপরে পুরুষের দাড়ি – মোচের মত দু- একটা বা ততোধিক লোম থাকলে তা তুলে ফেলায় দোষ  নেই। কারণ, বিকৃত অঙ্গে স্বাভাবিক আকৃতি ও শ্রী ফিরিয়ে আনতে শরীয়তের অনুমতি আছে। ( ফউঃ ২/৮৩২, ফমঃ ৯৪ পৃষ্ঠা)    
নাক ফুড়িয়ে তাতে কোন অলঙ্কার ব্যবহার বৈধ। (ফমঃ ৮২ পৃষ্ঠা)
দেগে নুখে- হাতে নক্সা করা বৈধ নিয়। এরূপ দেগে নক্সা যে বানিয়ে দেয় এবং যার জন্য বানানো হয় উভয়কেই নবী (সাঃ) অভিসম্পাত করেছেন।( সজাঃ৫১০৪ নং, তামুঃ ২৯ পৃষ্ঠা)   স্বামীর দৃষ্টি ও মন আকর্ষণের জন্য ঠোঁট- পালিশ , গাল -পালিশ প্রভৃতি অঙ্গরাগ ব্যবহার বৈধ; যদি তাতে কোন প্রকার হারাম বা ক্ষতিকর পদার্থ না থাকে। ( ফউঃ ২/৮২৯ )  দাত ঘষে ফাঁক- ফাঁক করে চিরনদাতীর রূপ আনা বৈধ নয়। এমন নারীও নবী .( সাঃ) এর মুখে অভিশপ্তা। ( সঃজা ৫১০৪ নং,আযিঃ ২০৩ পৃষ্ঠা)
অবশ্য কোন দাত অস্বাভাবিক ও অশোভনীয় রূপে বাঁকা বা অতিরিক্ত ( কুকুর দাঁত) থাকলে তা সিধা করা বা তুলে ফেলা  বৈধ। ( ফমাঃ ২৮, ফমঃ ৯৪ পৃষ্ঠা)
নখ কেটে ফেলা মানুষের এক প্রকৃতিগত রীতি। প্রতি সপ্তাহে একবার না পারলেও ৪০ দিনের ভিতরে কেটে ফেলতে হয়। ( মুঃ, আদাঃ, নাঃ, তিঃ আযিঃ ২০৬ পৃষ্ঠা) কিন্তু এই প্রকৃতির বিপরীত করে কতক মহিলা নখ লম্বা করায় সৌন্দর্য  আছে মনে করে। নিছক পাশ্চাত্যের মহিলাদের অনুকরণে অসভ্য লম্বা ধারালো নখ – পালিশ লাগিয়ে বন্য সুন্দরী সাজে।    কিন্তু যে ব্যক্তি যে জাতির অনুকরণ করে সে সেই জাতির দলভুক্ত।(আদাঃ, আঃ, আযিঃ ২০৫ পৃষ্ঠা) নখে নখপালিশ ব্যবহার অবৈধ নয়, তবে ওযুর পূর্বে তুলে ফেলতে হবে। নচেৎ ওযু হবে না। (রাখুঃ ১০১ পৃষ্ঠা)
অবশ্য এর জন্য উত্তম সময় হল মাসিকের কয়েক দিন। তবে গোসলের পূর্বে অবশ্যই তুলে ফেলতে হবে। মহিলাদের নখ সর্বদা মেহেন্দী দ্বারা রঙ্গিয়ে রাখাই উত্তম। (আদাঃ, মিঃ ৪৪৬৭ নং)  এতে এবং অনুরূপ আলতাতে পানি আটকায় না। সুতরাং না তুলে ওযু – গোসল হয়ে যাবে। (ফমঃ ২৬ পৃষ্ঠা)
রঙ ব্যবহার পুরুষদের জন্য বৈধ নয়। অবশ্য চুল- দাড়িতে কলফ লাগাতে পারে; তবে কালো রঙ নয়।
পায়ে নুপুর পরা বৈধ যদি তাতে বাজনা না থাকে। বাজনা থাকলে বাইরে যাওয়া অথবা বেগানার সামনে শব্দ করে চলা হারাম। কেবল স্বামী বা এগানার সামনে বাজনাদার নুপুর বা তোড়া আদি ব্যবহার দোষের নয়। (ফমঃ৮০ পৃষ্ঠা)
অতিরিক্ত উচু সরু হিল- তোলা জুতা ব্যবহার বৈধ নয়। কারণ এতে নারীর এমন ভঙ্গি সৃষ্টি হয় যা দৃষ্টি – আকর্ষী; যাতে  পুরুষ প্রলুদ্ধ হয়। তাছাড়া এতে আছাড় খেয়ে বিপদগ্রস্ত বা লাঞ্চিতা হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। ( রাখুঃ ৮৬ পৃষ্ঠা)
স্বামীর জন্য নিজেকে সর্বদা সুরভিতা কএ রাখায় নারীত্বের এক আনন্দ আছে।
ভালোবাসায় যাতে ঘুণ না ধরে ; বরং তা যাতে গাঢ় থেকে গাঢ়তর হয় সে চেষ্টা স্বামী – স্ত্রীর উভয়কেই রাখা উচিত।
তবে মহিলা কোন সেন্ট বা সেন্টজাতীয় প্রসাধন ব্যবহার করে বাইরে বেগানার সামনে আকর্ষণ করে সুপ্ত যৌনবাসনা জাগ্রত করে, কামানল প্রজ্বালিত করে ঠিক তেমনিই পরপুরুষের মন, ধ্যান, যৌবন প্রভৃতি আকৃষ্ট হয়। তাই তো যারা সেন্ট ব্যবহার করে বাইরে বেগানা পুরুষের সামনে যায় তাদের কে শরীয়তে " বেশ্যা" বলা হয়েছে। (মিঃ ১০৬৫)
এখানে খেয়াল রাখার বিষয় যে, সেন্ট যেন কোহল বা স্পিরিট মিশ্রিত না থাকে, থাকলে তা ব্যবহার (অনেকের নিকট ) তা বৈধ নয়।( মবঃ ২০/১৮৫, ফইঃ ১/২০৩)
কোন বিকৃত অঙ্গে সৌন্দর্য আনয়নের জন্য অপারেশন বৈধ। কিন্তু ক্রটিহীন অঙ্গে অধিক সৌন্দর্য আনয়নের উদ্দেশ্যে অস্ত্রোপচার করা বৈধ নয়। (ফমঃ ৯২ পৃষ্ঠা) পক্ষান্তরে অতিরিক্ত আঙ্গুল বা মাংস হাতে বা দেহের কোন অঙ্গে লটকে থাকলে তা কেটে ফেলা
বৈধ। ( যীমানুঃ ১২২ পৃষ্ঠা)
কোন আঙ্গিক ক্রটি ঢাকার জন্য কৃত্রিম অঙ্গ ব্যবহার দূষণীয় নয়। যেমন, সোনার বাঁধানো নাক, দাঁত ইত্যাদি ব্যবহার  করা যায়। (ফউঃ ২/৮৩৩)
সতর্কতার বিষয় যে, অলঙ্কার ও পোশাক – পরিচ্ছদ মহিলা মহলে মহিলাদের আপোষে গর্ব করা এবং দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য ক্ষণে ক্ষণে ড্রেস চেঞ্জ করা বা অলঙ্কার বদলে পরা বা ডবল সায়া ইত্যাদি পরা ভালো মেয়ের লক্ষণ নয়। গর্ব এমন এক কর্ম যাতে মানুষ লোকচক্ষে খর্ব হয়ে যায়। প্রিয় নবী (সাঃ) বলেন, যা ইচ্ছা খাও-পর, তবে যেন দুটি জিনিস না থাকে;  অপচয় ও গর্ব। (বুঃ)   
আল্লাহ তাআলা সুন্দর। তিনি সৌন্দর্য ও পরিচ্ছন্নতা পছন্দ করেন। কিন্তু এতে সময় ও অর্থের অপচয় করা বৈধ নয়।
কারণ, তিনি অপব্যয়কারিকে পছন্দ করেন না। পরন্ত অপব্যয়কারীরা শয়তানের ভাই-বোন।  পক্ষান্তরে , ফুলের সৌরভ ও রুপের গৌরব থাকেও না বেশী দিন।
সৌন্দর্য – গর্বিতা ওগো রাণী!
তোমার এ কমনীয় রম্য দেহখানি,
এই তব যৌবনের আনন্দ বাহার
জান কি গো , নহে তা তোমার?
এক বৃদ্ধার মুখমন্ডলে ঔজ্জ্বল্য দেখে একজন মহিলা তাকে প্রশ্ন করল,তোমার চেহারায় এ বৃদ্ধ বয়সেও লাবণ্য ফুটছে, রূপ যেন এখনো যুবতীর মতই আছে। তুমি কোন ক্রিম ব্যবহার কর গো?  বৃদ্ধা সহাস্যে বলল, দুই ঠোঁটে ব্যবহার করি সত্যবাদিতার লিপষ্টক, চোখে ব্যবহার করি ( হারাম থেকে) অবনত  দৃষ্টির কাজল, মুখমণ্ডলে ব্যবহার করি পর্দার ক্রিম ও গোপনীয়তার তেল, অন্তরে ব্যবহার করি আল্লাহর প্রেম, মস্তিকে ব্যবহার করি প্রজ্ঞা, আত্নায় ব্যবহার করি আনুগত্য এবং প্রবৃত্তির জন্য ব্যবহার করি ঈমান।
সত্যই কি অমূল্য ক্রিমই না ব্যবহার করে বৃদ্ধা। তাই তো তার চেহারায় ঈমানী লাবণ্য ও জ্যোতি। আরো পড়ুন

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

মোজার উপর মাসাহ

মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান (হাদিস)

জেনে নিন মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান। রাসূল (সাঃ) ও সাহাবায়ে কেরামগণ চামড়ার মোজা পরিধান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE