Breaking News
Home / বই থেকে / পাত্রী পছন্দ ( আদর্শ বিবাহ )

পাত্রী পছন্দ ( আদর্শ বিবাহ )

পত্নী পুরুষের সহধর্মিণী , অর্ধাঙ্গিনী, সন্তানদাত্রী, জীবন- সঙ্গিনী, গৃহের গৃহিণী , সন্তানের জননী , হৃদয়ের

শান্তিদায়িনী, রহস্য রক্ষাকারিনী, তার সুখী সংসারের প্রধান সদস্যা।

সুতরাং এমন সাথী নির্বাচনে পুরুষকে সত্যই ভাবতে হয়, বুঝতে হয়। শুধুমাত্র প্রেম, উচ্ছৃঙ্খলতা ও আবেগে নয়; বরং বিবেক ও দিমাগে সে বিষয় নিয়ে চিন্তা করতে হয়।

সাধারণতঃ মানুষ তার ভাবী- সঙ্গিনীর প্রভাব – প্রতিপত্তি, মান -যশ – খ্যাতি , ধন-সম্পদ , কুলীন বংশ, মনোলোভা রূপ – সৌন্দর্য প্রভৃতি দেখে মুগ্ধ হয়ে তার জীবন – সঙ্গ লাভ করতে চায়; অথচ তার আধ্যাত্নিক ও গুণের দিকটা গৌণ মনে  করে। যার ফলে দাম্পত্যের চাকা অনেক সময় অচল হয়ে রয়ে যায় অথবা সংসার হয়ে উঠে তিক্তময়। কিন্তু জ্ঞানী পুরুষ অবশ্যই খেয়াল রাখে যে,

দেখিতে পলাশ ফুল অতি মনোহর,

গন্ধ বিনে তারে সবে করে অনাদর।

যে ফুলের সৌরভ নাই, কিসের সে ফুল?

কদাচ তাহার প্রেমে মজেনা বুলবুল।

গুণীর গুণ চিরকাল বিরাজিত রয়,

তুচ্ছ রূপ দুই দিনে ধূলিসাৎ হয়।

প্রিয় নবী (সাঃ) বলেন, রমণীকে তার অর্থ , আভিজাত্য , রূপ- সৌন্দর্য ও দ্বীন – ধর্ম দেখে বিবাহ করা হয়।

কিন্তু তুমি দ্বীনদার কে পেয়ে কৃতকার্য হও। তোমাদের হস্ত ধূলিধূসরিত হোক। ( বুঃ, মুঃ, মিঃ ৩০৮২ নং)

তিনি আরও বলেন, তোমাদের প্রত্যেকের শুকরকারী অন্তর ও যিকিরকারী জিহ্বা হওয়া উচিত। আর এমন মুমিন স্ত্রী গ্রহন করা উচিত; যে তার আখেরাতের কাজে সহায়তা করবে। ( ইমাঃ ১৮৫৬ নং, সিসঃ ২১৭৬ নং)

সুতরাং এমন পাত্রী পছন্দ করা উচিত , যে হবে পুণ্যময়ী , সুশীলা, সচ্চরিত্রা , দ্বীনদার, পর্দানশীন;যাকে দেখলেমন খুশীতে ভরে ওঠে যাকে আদেশ করলে সত্বর পালন করে, স্বামী বাইরে গেলে নিজের দেহ, সৌন্দর্য ও ইজ্জতের এবং স্বামীর ধন- সম্পদের যথার্থ রক্ষণা- বেক্ষণা করে। ( নাঃ ৩২৩১ নং, হাঃ২/১৬১,আঃ ২/২৫১)

মহান আল্লাহ বলেন, সুতরাং সাধ্বী নারী তো তারা , যারা ( তাদের স্বামীদের অনুপস্থিতিতে ও লোক চক্ষুর অন্তরালে)অনুগতা এবং নিজেদের ইজ্জত রক্ষাকারিণী ; আল্লাহর হিফাযতে ( তওফীকে) তারা তা হিফাযত করে।( কুঃ ৪/৩৪)

এরপর দেখা উচিত , ভাবী- সঙ্গিনীর পরিবেশ। শান্ত প্রকৃতির মেজাজ , মানসিক সুস্থতা ইত্যাদি; যাতে সংসার হয় প্রশান্তিময়।জ্বালাময়তা থেকে দূর হয় বাক্যলাপ, লেনদেন ও সকল ব্যবহার।

বিবাহের একটি মহান উদ্দেশ্যে হল সন্তান গ্রহণ। এ উদ্দেশ্যে কে সামনে রেখে স্ত্রী নির্বাচন বাঞ্চনীয়। প্রিয় নবী (সাঃ) বলেন, অধিক প্রেমময়ী, অধিক সন্তানদাত্রী রমণী বিবাহ কর। কারণ, আমি তোমাদের কে নিয়ে কিয়ামতে অন্যান্য উম্মতের  সামনে (সংখ্যাধিক্যতার ফলে) গর্ব করব।( আদাঃ, নাঃ , মীঃ ৩০৯১ নং)

অতঃপর সাথীর রূপ- সৌন্দর্য তো মানুষের প্রকৃতিগত বাঞ্ছিত বাসনা। যেহেতু স্ত্রী সুন্দরী হলে মনের প্রশান্তি ও আনন্দ অধিক হয়। অন্যান্য রমণীর প্রতি কখনই মন ছুটে না। পরন্ত আল্লাহ সুন্দর। তিনি সৌন্দর্য কে পছন্দ করেন। ( সিসঃ ১৬২৬ নং)

অতঃপর দেখার বিষয় সঙ্গিনীর কৌমার্য। কুমারীর নিকট যে সুখ আছে অকুমারীর  নিকট তা নেই। এটা তো মানুষের প্রকৃতিগত পছন্দ। যেহেতু ভালোবাসার প্রথম উপহার তার নিকট পেলে দাম্পত্যে পূর্ণ পরিতৃপ্তি আসে। নচেৎ যদি তার মনে ভালোবাসার  নিক্তি পূর্ব স্বামীর দিকে ঝুঁকে বর্তমান স্বামীকে তুচ্ছজ্ঞান করে । আবার কখনো নিজের ভাগ্যের এই পরিবর্তন কে বড় দুর্ভাগ্য মনে করে ভালোবাসার ডালি খালি করে রসহীন সংসার করে বর্তমান স্বামীর দেহপাশে। কিন্তু মন থাকে সেই মৃত অথবা সেই তালাকদাতা

স্বামীর নিকট। ফলে দাম্পত্যর জীবন মধুর হয়ে গড়ে উঠতে পারে না। অবশ্য বর্তমান স্বামী পূর্ব স্বামী হতে সর্ববিষয়ে উত্তম হলে সে কথা ভিন্ন। পরন্ত প্রকৃতি দাম্পত্য- সুখ উপভোগ করার উদ্দেশ্যে প্রিয় নবী (সাঃ) এক সাহাবীকে কুমারী নারী বিবাহ  করতে উদ্ধুদ্ধ করে বলেন,কেন কুমারী করলে না? সে তোমাকে নিয়ে এবং তুমি তাকে নিয়ে প্রেম কেলি করতে। (বুঃ, মুঃ, মিঃ ৩০৮৮ নং)

অন্যত্র তিনি বলেন, তোমরা কুমারী বিবাহ কর। কারণ কুমারীরদের মুখ অধিক মিষ্টি, তাদের গর্ভাশয় অধিক সন্তানধারী ,তাদের যৌনী পথ অধিক উষ্ণ, তারা ছলনায় কম হয় এবং স্বল্পে অধিক সন্তুষ্ট থাকে।( ইমাঃ, সিসঃ। ৬২৩ নং, সজাঃ ৪০৫৩ নং)

উর্বর জমিতে যে ফসলের বীজ সর্বপ্রথম রোপিত হয় সেই ফসলই ফলনে অধিক ও উত্তম হয়। ফসল তুলে সেই জমিতেই অন্য  ফসল রোপণ করলে আর সেই সোনার ফসল ফলে না। অনুরূপ ভালোবাসার বীজও।

অবশ্য যার সংসারে পাক্কা গৃহিণীর প্রয়োজন, যে তার ছোট ছোট ভাই বোন ইত্যাদির সঠিক প্রতিপালন চায়, তাকে অকুমারী বিধবা বিবাহ করাই উচিত( বুঃ ২৯৬৭ নং)

পরন্ত যদি কোন বিধবা বা পরিত্যক্তার প্রতি এবং তার সন্তান- সন্ততির প্রতি সদয় হয়ে তাকে বিবাহ- বন্ধনে আবদ্ধ করে  তার দুর্দিন দূর করে সুদিন আনে তবে নিশ্চয় সে ব্যক্তি অধিক সওয়াবের অধিকারী।( মবঃ ১৮/ ১১৯)

 সর্বদিক দিয়ে নিজের মান যেমন, ঠিক সেই সমপর্যায়ে মান ও পরিবেশের পাত্রী পছন্দ করা উচিত। এতে কেউ কারোর উপর গর্ব প্রকাশ না করতে পারে কথার আঘাতে প্রেমের গতি বাঁধাপ্রাপ্ত হবে না। পজিশন , শিক্ষা,সভ্যতা, অর্থনৈতিক অবস্থা, বংশ প্রভৃতি উভয়ের সমান হলে সেটাই উত্তম। যেমন উভয়ের বয়সের মধ্যে বেশী তরতম্য থাকা উচিত নয়। নচেৎ ভবিষ্যতে বিভিন্ন জোয়ার – ভাটা দেখা দিতে পারে।

উপর্যুক্ত সর্বপ্রকার গুণ  ও পজিশনের পাত্রী পেলেই শোনার সোহাগা। এমন দাম্পত্য হবে চিরসুখের এবং এমন স্বামী হবে বড় সৌভাগ্যবান। পক্ষান্তরে কিছু না পেলেও যদি দ্বীন পায় তবে তাও সৌভাগ্যের কারণ অবশ্যই।

সুতরাং বউ ও জামাই পছন্দের কষ্টিপাথর একমাত্র দ্বীন ও চরিত্র। বংশের উচ্চ – নীচতা কিছু নেই। যেহেতু মানুষ সকলেই সমান। সকল মুসলিম ভাই – ভাই। মহান আল্লাহ বলেন,হে মানুষ! আমি তোমাদের কে এক পুরুষ ও এক নারী হতেই সৃষ্টি করেছি। পরে তোমাদের কে বিকক্ত করেছি বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে; যাতে তোমরা এক অপরের সাথে পরিচিত হতে পার। তোমাদের মধ্যে সে ব্যক্তিই আল্লাহর নিকট অধিক মর্যাদা সম্পন্ন যে ব্যক্তি অধিক সংযমী ( মুক্তাকী ও পরহেজগার) (কুঃ ৪৯/১৩)

তাছাড়া – ভালো- মন্দ কোন গোষ্ঠী- বর্ণের মধ্যে নির্দিষ্ট নয়। প্রত্যেক বস্তুর উত্তম, মধ্যম ও অধম আছে। আর কাকের ডিম সাদা হয়, পণ্ডিতের ছেলে গাধাও হয়। সুতরাং বিবেচ্য হল, যে মানুষকে নিয়ে আমার দরকার কেবল তারই চরিত্র ও ব্যবহার।

অবশ্য পারিপার্শ্বিক অবস্থা দেখাও দরকার নিশ্চিতই। কারণ, তাতেও কুপ্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকতে পারে।

অতএব বড়- কনে নির্বাচনের সময়ঃ

– পাত্র বা পাত্রী কোন স্কুলে পড়েছে জানার আগে কোন পরিবেশে মানুষ হয়েছে তা জানার চেষ্টা করুন। কারণ, অনেক সময় বংশ খারাপ হলেও পরিবেশ – গুণে মানুষ সুন্দর ও চরিত্রবান হয়ে গড়ে উঠে।

– পাত্র বা পাত্রীর চরিত্র দেখার আগে তার বাপ- মায়ের চরিত্রও বিচার্য। কারণ, সাধারণতঃ আটা গুণে রুটি আর মা গুণের বেটি

এবমগ দুধ্ন গুণে ঘি ও মা গুণে ঝি হয়ে থাকে। আর বাপকা বেটা সিপাহি কা ঘোড়া, কুছ না হু তো থোড়া।

– বিবাহ একটি সহাবস্থার কোম্পানি প্রতিষ্ঠাকরণের নাম। সুতরাং এমন সঙ্গী নির্বাচন করা উচিত যাতে উভয়ের পানাহার প্রকৃতি ও চরিত্রে মিল খায়। নচেৎ অচলাবস্তায় আশঙ্কাই বেশী। (তুআঃ ৪৯ পৃষ্ঠা)

 অবশ্য কারো বাহ্যিক দ্বীনদারী দেখেও ধোঁকা খাওয়া উচিত নয়। কারণ, সকাল ৭ টায় কাউকে নামায পড়তে দেখলেই যে সে চাশতের নামায পড়ে সে ধারণা ভুলও হতে পারে। কেননা , হতে পারে সে চাশতের নয় বরং ফজরের কাযা আদায় করছিল।

অনুরূপ কারো বাপের দ্বীনদারীর মত কথা শুনে অথবা কেবল কারো ভায়ের বা বুনায়ের দ্বীনদারীর কথা শুনে তার দ্বীনদারী হওয়াতে নিশ্চিত হয়ে ধোঁকা খাওয়াও অনুচিত। খোদ পাত্র বা পাত্রী কেমন তা সর্বপ্রথম ও শেষ বিচার্য।  অনুরূপ মাল – ধন আছে কি না, পাব কি না- তাও বিচার্য নয়। কারণ, তা তো আজ আছে কাল নাও থাকতে পারে।

আবার আজ না থাকলে এসে যেতেও পারে। আমি যেমন ঠিক তেমনি ঘরে বিবাহ করা বা দেওয়াই উচিত। বিশেষ করে ঘুষ (মোটা টাকা পণ) দিয়ে বড় ঘরে ঢুকেতে যাওয়া ঠিক নয়। জ্ঞানীরা বলেন, তোমরা চেয়ে যে নীচে তার সঙ্গতা গ্রহন করো না।কারণ, হয়তো তুমি তার মূর্খতায়  কষ্ট পাবে এবং তোমার চেয়ে যে উচ্চে তারও সাথী হয়ো না। কারণ, সম্ভবতঃ সে তোমার উপর গর্ব ও অহংকার প্রকাশ করবে। তুমি যেমন ঠিক তেমন সমমানের বন্ধু, সঙ্গিনী গ্রহন করো, তাতে তোমার মন কোন প্রকার ব্যথিত হবে না।

হাতি- ওয়ালার সহিত বন্ধুত্ব করলে হাতি রাখার মত ঘর নিজেকে বানাতে হবে। নতুবা বড়র পিরীতি বালির বাঁধা, ক্ষনে হাতে দড়ি ক্ষণে চাঁদ।

এ কথা ভাবা যায় যে, বড় বাড়িতে মেয়ে পড়লে তার খেতে – পরতে কোন কষ্ট হবে না;

সুখে থাকবে। কিন্তু তার নিশ্চয়তা কোঁথায়? বড় গাছের তলায় বাস , ডাল ভাঙ্গলেই সর্বনাশ।

মেয়ের অভিভাবকের উচিত , মেয়ের রুচি ও পছন্দের খেয়াল রাখা। অবশ্য তার হাতে ডোর ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। পরন্ত  দ্বীনের ডোর কোন সময়ই ছাড়ার নয়। কারণ, সাধারণতঃ মেয়েদের কল্পনায় থাকে,

রসের নাগর, রূপের সাগর, যদি ধন পাই, আদর করে করি তারে বাপের জামাই। বাস! এই হল ভোগবাদিনী ও পরলোক সম্বন্ধে অন্ধ নারীদের আশা। এরা কেবল বাহ্যিক দৃষ্টির সৌন্দর্য পছন্দ ও কামনা করে; কিন্তু অন্তদৃষ্টির সৌন্দর্য অপ্রয়োজনীয় ভাবে ! তারা জানেনা যে, কুৎসিত মনের থেকে কুৎসিত মুখ অনেক ভালো।  এতএব একাজে অভিভাবকের তার মেয়ের সহায়ক হওয়া একান্ত ফরয। তাই তো মেয়ের বিবাহে অভিভাবক থাকার শর্তারোপ  করা হয়েছে।

আবু অদাআহ বলেন, আমি সাঈদ বিন মুসাইয়েবের দর্শে বসতাম। কিছু দ্বীন তিনি আমাকে দেখতে না পেয়ে যখন আমি তার নিকট এলাম, তখন আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি ছিলে কোঁথায়? আমি বল্লাম,আমার স্ত্রী মারা গেল; সেই নিয়ে কিছুদিন ব্যস্ত ছিলাম। তিনি বললেন, আমাদের কে খবর দাওনি কেন? তার জানাযা পড়তাম। তারপর উঠে চলে আসার ইচ্ছা করলে তিনি আমাকে বললেন, দ্বিতীয় বিবাহ করলে না কেন? আমি বললাম, আল্লাহ আপনাকে রহম করুন!

কে আমাকে মেয়ে দেবে। আমি তো  দুই কি তিন দিরহামের মালিক মাত্র। তিনি বল্লেন,যদি আমি দিই, তবে তুমি  করবে কি? আমি বললাম, জী হ্যাঁ। সঙ্গে সঙ্গে খোৎবা পাঠ করে ২ কি ৩ দিরহাম মোহরের বিনিময়ে তার মেয়ের সহিত  আমার বিবাহ পড়িয়ে দিলেন। তারপর আমি উঠে এলাম। তখন খুশীতে কিংকর্তব্যবিমূঢ় ।ঘরে এসে লাগ্লাম চিন্তা করতে ; ঋণ করতে হবে, কার নিকট করি?

মাগরিবের নামায পড়লাম। রোযায় ছিলাম সেদিন। ইফতার করে রাতের খানা খেলাম। খানা ছিল রুটি ও তেল। ইত্যবসরে কে দরজায় আঘাত করল। আমি বললাম, কে?

আগন্তক বলল, আমি সাঈদ। ভাবলাম, তিনি কি সাঈদ বিন মুসাঈয়ের? তাকে তো চল্লিশ বছর যাবত ঘর থেকে মসজিদ ছাড়া অন্য কোথাও যেতে দেখা যায় নি। উঠে দরজা খুলতেই দেখি উনিই। ধারণা করলাম, হয়তো বা মত পরিবর্তন হয়েছে।

আমি বললাম, আবু মুহাম্মদ!আপনি নিজে এলেন? আমাকে ডেকে পাঠাতে পারতেন? আমি আপনার নিকট আসতাম। তিনি বললেন, না।এর হকদার তুমি। আমি বললাম, আদেশ করুন। তিনি বললেন, ভাবলাম, বিপত্নীক পুরুষ তুমি, অথচ তোমার  বিবাহ হল । তাই তুমি তুমি একাকী রাত কাটাও এটা অপছন্দ করলাম। এই নাও তোমার স্ত্রী!

দেখলাম , সে তার সোজাসুজি পশ্চাতে সলজ্জ দণ্ডায়মান। অতঃপর তিনি তাকে দরজা পার করে দিয়ে দরজা বন্ধ করে প্রস্থান করলেন। লজ্জায় সে যেন দরজায় সাথে মিশে গেল। আমি বাড়ির ছাদে চড়ে প্রতিবেশীর সকলকে হাক দিলাম। সকলেই বলল, কি ব্যাপার? আমি বললাম, সাঈদ তার মেয়ের সঙ্গে আমার বিবাহ দিয়েছেন। হঠাৎ করে তিনি তার মেয়েকে আমার ঘরে দিয়ে গেলেন।

ঐ ওখানে দাঁড়িয়ে রয়েছে। সকল মহিলা তাকে দেখতে এল।                                                                            

আমার মায়ের কাছে খবর গেলে তিনি এসে বললেন, তিন দিন না সাজানো পর্যন্ত যদি তুমি ওকে স্পর্শ করো তবে আমার চেহারা দেখা তোমার জন্য হারাম। এতএব তিন দ্বীন অপেক্ষার পর তার সহিত বাসর – শয্যায় মিলিত হলাম। দেখলাম সে অন্যতমা সুন্দরী, কুরআনের হাফেজ, আল্লাহর রসূল (সাঃ) ের সুন্নাহ বিষয়ে সুবিজ্ঞা এবং স্বামীর অধিকার বিষয়ে সবজান্তা।

এরপর এক মাস ওস্তাদ সাঈদের নিকট আমার যাওয়া – আসা ছিল না। অতঃপর একদিন তার মসজিদে গিয়ে সালাম দিলে  তিনি উত্তর দিলেন। কিন্তু কোন কথা বললেন না। তৎপর সমস্ত লোক যখন মসজিদ থেকে বের হয়ে গেল, তখন একা পেয়ে  আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন। ঐ লোকটার খবর কি? আমি বললাম, তার খবর এমন; যা বন্ধুতে পছন্দ আর শত্রুতে অপছন্দ করবে। তিনি বললেন, যদি তার কোন বিষয়ে তোমাকে সন্দিহান করে, তবে লাঠি ব্যবহার করো। অতঃপর বাড়ি ফিরে এলাম।

 সাঈদের মেয়ে; যাকে খলীফা আব্দুল মালেক বিন মারওয়ান তার ছেলে অলীদের জন্য পয়গাম দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি রাজপরিবারে মেয়ের বিবাহ দিতে অস্বীকার করেছিলেন। অবশেষ পছন্দ করলেন এক দ্বীনদার গরীবকে!  ( অফিয়াতুল আ,ইয়ান ২/৩৭৭)

মুবারক আবু আব্দুল্লাহর ব্যাপারে কথিত আছে যে, তিনি তার প্রভু ( মনীব) এর বাগানে কাজ করতেন। তার প্রভু বাগান- মালিক হামাযানের বড় ব্যবসায়ী ছিলেন। একদিন বাগানে এসে দাসকে বললেন , মুবারক! একটি মিষ্টি বেদানা চাই।  মুবারক গাছ হতে খুজে খুজে একটি বেদানা প্রভুর হাতে দিলেন। প্রভু তো ভেঙ্গে খেতেই চটে উঠলেন। বললেন, তোমাকে মিষ্টি দেখে আনতে বললাম, অথচ টক বেছেই নিয়ে এলে ? মিষ্টি দেখে নিয়ে এস।

মুবারক অন্য একটি গাছ থেকে আর একটি বেদানা এনে দিলে তিনি খেয়ে দেখলেন সেটাও টক। রেগে তৃতীয় বার পাঠালে একই অবস্থা। প্রভু বললেন, আরে তুমি টক আর মিষ্টি বেদানা কাকে বলে চেন না? বললেন , জী না। আপনার অনুমতি না পেয়ে কি করে খেতাম?

দাসের এই আমানতদারী ও সততা দেখে প্রভু অবাক হলেন। তার চোখে তার কদর ও মর্যাদা বৃদ্ধি পেল।

প্রভুর ছিল এক সুন্দরী কন্যা। বহু বড় বড় পরিবার থেকেই তার বিয়ের সম্বন্ধ আসছিল। একদা প্রভু মুবারককে ডেকে বললেন, আমার মেয়ের সহিত কেওন লোকের বিয়ে হওয়া উচিত বল তো? মুবারক বললেন, জাহেলিয়াত যুগের লোকেরা বংশ ও কুলমান দেখে দিত, ইয়াহুদিরা দেয় ধন দেখে, খ্রীষ্টানরা দেয় রূপ- সৌন্দর্য দেখে। কিন্তু এই উম্মত কেবল দ্বীন দেখেই  বিয়ে দিয়ে থাকে। এ ধরণের জ্ঞানগর্ভ কথা প্রভুর বড় পছন্দ হল। মুবারকের কথা প্রভু তার স্ত্রীর নিকট উল্লেখ করে বললেন,আমি তো মেয়ের জন্য মুবারকের চেয়ে অধিক উপযুক্ত পাত্র আর কাউকে মনে করি না।  হয়েও গেল বিবাহ। পিতা উভয়কে প্রচুর অর্থ দিয়ে তাদের দাম্পত্যে সাহায্য করলেন। এই সেই দম্পতি যাদের ঔরষে জন্ম নিয়েছিলেন প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস, যাহেদ, বীর মুযাহিদ আব্দুল্লাহ বিন মুবারক। ( অফিয়াতুল আ,ইয়ান, ইবনে খাল্লেকান ২/২৩৮)

এই ছিল মেয়ের বাবাদের তাদের মেয়েদের আখেরাত বানানোর প্রতি খেয়াল রেখে পাত্র পছন্দ করার পদ্ধতি। দুনিয়াদারীর  প্রতি খেয়াল রেখে নয়।  এক ব্যক্তি হাসান বাসরী (রঃ) কে জিজ্ঞাসা করল, আমার একটি মেয়ে আছে।বহু জায়গা হতে তার বিয়ের কথা আসছে।

কাকে দেব বলতে পারেন?  হাসান বললেন, সেই পুরুষ দেখে মেয়ে দাও ; যে আল্লাহকে ভয় করে( যে পরহেযগার)। এতে যদি সে তাকে ভালোবাসে তাহলে তার যথার্থ কদর করবে। আর ভালো না বাসলে সে তার উপর অত্যাচার করবে না। ( উয়ুনুল আখবার, ইবনে কুতাইবাহ ৪/১৭)

শুধু অভিভাবকই নয় বরং খোদ মেয়েদেরকেও এ ব্যাপারে সচেতন হওয়া উচিত। আবূ তালহা তখন ইসলাম গ্রহন করেন নি। তিনি উম্মে সুলাইমকে বিবাহের প্রস্তাব দিলে উম্মে সুলাইম বললেন, আপনার মত যুবক স্বামী হওয়ার যোগ্য; রদযোগ্য নন।

কিন্তু আপমি তো কাফের। আর আমি হলাম একজন মুসলিম নারী। তাই আমাদের মধ্যে বিবাহ শুদ্ধ নয়।

আবূ তালহা ধন- দৌলতের লোভ দেখিয়ে বললেন, তুমি কি সোনা- চাঁদি ও অর্থ পেয়ে খুশী হতে পারবে না?

উম্মে সুলাইম বললেন, আমি সোনা চাঁদি কিছুই চাইনা। কিন্তু আপনি এমন মানুষ ; যে শুনতে পায়না, দেখতে পায়না এবং উপকার করতে পারে না এমন কোন হাবশী দাসের গড়া কাঠের (মূর্তি) পূজা করেন। এতে কি আপনার বিবেক বাধে না?

শুনুন, যদি আপনি মুসলমান হন, তাহলে আমি আপনাকে বিয়ে করব। আর ইসলাম হবে আমার মোহর! এছাড়া অন্য  কিছু আমি মোহর রূপে চাইনা! ( তুআঃ ৫২-৫৩ পৃষ্ঠা)

উল্লেখ্য যে, আমার এক ছাত্রী মুখ খুলে কয়েকটি বিবাহ প্রস্তাব রদ করলে তাকে রাজী করাবার জন্য তার অভিভাবক আমাকে দায়িত্ব দেন। রদের কারণ জিজ্ঞাসা করলে সে আমাকে আদবের সাথে জানাল। জী ওরা মাযার পূজা করে। অন্য এক প্রস্তাবের জবাবে বলল, আমি শুনেছি ওদের বাড়িতে টি-ভি আছে। আমার ভয় হয় যে আমি খারাপ হয়ে যাব?

এরূপ দ্বীনদারী জবাব শুনে আমি অবাক না হয়ে এবং তাকে শত ধন্যবাদ ও দুআ না দিয়ে পারিনি।

সউদি আরবের আল- মাজমাআহ শহরে এককালে আমি বিবাহ রেজিস্ট্রীর মুহরী (লেখক) ছিলাম। এক বিবাহ মজলিসে পাত্রীর শর্ত লিখার সময় ১ম শর্ত ছিল, সে কলেজের অধ্যয়ন শেষ করবে। ২য় শর্ত ছিল, পাত্র সিগারেট খায়, তাকে সিগারেট খাওয়া ছাড়তে হবে!

উক্ত শর্ত পালনে বড় সম্মত কি না, তা জানতে তাকে প্রশ্ন করা হলে সে বলল, ছাড়ার চেষ্টা করব। কনের কাছে তা বলা হলে সে বলল, চেষ্টা নয়; শর্তে লিখুন, আজ থেকেই ছাড়বে এবং যেদিন সে পুনরায় সিগারেট খাবে সেদিন আমার এক তালাক  বলে গন্য হবে!

মজলিসে যে বাহবা ও দুআর শোর উঠেছিল তা বলাই বাহুল্য। আজ সমাজে দরকার আছে এমন গুণবতী কন্যার। কিন্তু হায়! নারীর মূল্যমান কমে যাওয়াতে ফলে এবং পণের চাপের মুখে বহু গুণবতী কনে অমত সত্ত্বেও অযোগ্য পাত্রের  প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করতে পারে না। করলে হয়তো অভিভাবকদের কথার জ্বালা সহ্য করাই দায় হয়ে উঠবে।পক্ষান্তরে পাত্রের দাড়ি আছে বলে অথবা মেলা- খেলায় নিয়ে যাবে না বলে পাত্র রদ করলে তখন অভিভাবকের কোন অসুবিধা হয় না।

বরং এখন ছোট মেয়ে, শক – আহ্লাদ থাকতে হবে বৈ কি- বলে দ্বীনদার পাত্র ফিরিয়ে দিতে এতটুকু লজ্জাবোধ হয় না। অথচ দাবী করে , তারা নাকি মুসলমান!

সুতরাং দ্বীনদারী ও চরিত্র ব্যতিত আভিজাত্য , নাম করা বংশ , যশ , সম্পদ, পদ প্রভৃতি বিবেচনা করে বিবাহ  দিলে বা করলে দাম্পত্য- সুখের সুনিশ্চিত আশা করা যায় না। প্রিয় নবী (সাঃ) বলেন, তোমাদের নিকট যখন এমন ব্যক্তি(বিবাহের পয়গাম নিয়ে) আসে; যার দ্বীন ও চরিত্রে তোমরা মুগ্ধ তখন তার সহিত (মেয়ের) বিবাহ দাও। যদি তা না কর তাহলে পৃথিবীতে ফিৎনা ও মহাফাসাদ সৃষ্টি হয়ে যাবে।( সিসঃ ১০২২ নং) তিনি আরও বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তষ্টি  লাভের কথা খেয়াল করে বিবাহ দেয়, তার ঈমান পূর্ণাঙ্গ ঈমান। ( আঃ; হাঃ বাঃ, সতিঃ ২০৪৬ নং)

অতএব দ্বীন ও চরিত্রেই পাত্র- পাত্রীর সমতা জরুরী। কারণ , সকল প্রকার বর্ণ – বৈষম্য, বন্ধন ও উচ্চতা- নিচুতার  প্রাচীর চুরমার করে দেয় দ্বীন ও তাকওয়া। কোন দ্বীনদার পর্দা – প্রেমি পাত্র – পাত্রীর জন্য ফাসেক বেপর্দা – প্রেমী পাত্র- পাত্রী হতে পারে না। কোন তৌহিদবাদ পাত্র- পাত্রীর জন্য কোন বিদআতি বা মাযারী পাত্র- পাত্রী হতে পারে না।  মিঠাপানির মাছের সহিত অনুরূপ মাছের বিবাহ শোভনীয় এবং নোনা পানির মাছের সহিত অনুরূপ মাছের বিবাহই মানানসই।

নতুবা মিঠা পানির মাছের নোনা পানিতে এসে এবং নোনা পানির মাছের মিঠা পানিতে এসে বাস করা কঠিনই হবে। আর  মানানসই তখনই হয়; যখন য্যায়সন কা ত্যায়সন শুকটি কা ব্যায়গন- এর ঘর পড়ে। এতে স্বামী – স্ত্রীর মান- অপমানের  ব্যাপারটা সমান পর্যায়ে থাকে। নচেৎ এই অসমতার কারণেই কারো স্ত্রী প্রভু হয় অথবা দাসী। পক্ষান্তরে সমতার স্ত্রী হয় বন্ধু।

গেঁয়ো পাত্র – পাত্রীর পক্ষে শহরে,শিক্ষিতের পক্ষে অশিক্ষিত, দরিদ্রের পক্ষে ধনী পাত্র- পাত্রীর খুব কমই সুখ আনতে পারে। 

তদনূরূপ বেপর্দা পরিবেশের পাত্রী পর্দা পরিবেশে এলে তার দম বন্ধ হয়ে যায়! কারণ,সে পর্দার পরিবেশকে খাঁচাই মনে করে!

তাই সে নিজেও এমন পরিবেশে শান্তি পায় না এবং ঈর্ষাবান স্বামীও তাকে নিয়ে অশান্তি ভোগ করে। বোন থেকে বাঘ তুলে এনে তার যতই তরবিয়ত দেওয়া হোক এবং পোষ মানানো যাক না কেন, তবুও তার মন থেকে কিন্তু বোন তুলে ফেলা যায় না। তাই সে সদা ফাঁক খোঁজে, ফাঁকি দিতে চেষ্টা করে; এমন কি ধোঁকাও দিয়ে বসে অনেক সময়।

অবশ্য এসব কিছু হয় দ্বীনদারী তরবিয়ত ঢিলে হওয়ার ফলেই। দ্বীন ও তাকওয়া থাকলে স্বামী – স্ত্রী কারোই অসুবিধা হয় না। একটা বিষয় খেয়াল রাখার যে, কোন পাত্র বা পাত্রী সম্পর্কে জানতে তার দ্বীন বিষয়ে প্রথমে প্রশ্ন করা উচিৎ নয়।নচেৎ এরপর সৌন্দর্যাদি পছন্দ না হয়ে তাকে রদ করলে দ্বীনদার রদ করা হয় তাতে মহানবী (সাঃ) এর বিরোধিতা হয়। এতএব কর্তৃপক্ষের উচিৎ যে, অন্যান্য বিষয়ে প্রথমে পছন্দ হয়ে শেষে দ্বীন বিষয়ে প্রশ্ন ( অবশ্যই) করে দ্বীন থাকলে  গ্রহন করবে, নতুবা রদ করে দেবে; যখন শরীয়তের বিপরীত চলা হতে বেঁচে যাবে। কথায় বলে আগে দর্শন ধারি,শেষে গুণ বিচারী। 

প্রকাশ যে, পাত্রী পছন্দের জন্য জোড়া – ভ্রূ , কুপগাল ইত্যাদি শুভ- অশুভের কিছু লক্ষন নয়।

পাত্র বা পাত্রপক্ষ পারিপার্শ্বিক অবস্থা, পরিবেশ ইত্যাদি দেখে ও জিজ্ঞাসাবাদ করে কোন পাত্রী পছন্দ হলে তার অভিভাবককে বিবাহের প্রস্তাব দেবে। তবে তার পূর্বে দেখা উচিৎ যে, সেই পাত্রী এই পাত্রের জন্য গম্যা কি না। অগম্যা বা অবৈধ হলে তাকে বিবাহ প্রস্তাব দেওয়া হারাম। 

অনুরূপ যদি তার পূর্বে অন্য পাণিপ্রার্থী ঐ পাত্রীর জন্য প্রস্তাব দিয়ে থাকে, তাহলে সে জবাব না দেওয়া পর্যন্ত তার প্রস্তাবের উপর প্রস্তাব বা ( দর কষাকষি করে) প্রলোভন বৈধ নয়।

অন্য অধিকারে হস্তক্ষেপ করা এবং এতে বিদ্বেষ গড়ে তোলা মুসলিমের কাজ নয়।

প্রিয় নবী (সাঃ) বলেন, এক মুসলিম অপর মুসলিমের ভাই। সুতরাং তার জন্য তার ভায়ের ক্রয়- বিক্রয়ের উপর ক্রয় – বিক্রয় এবং বিবাহ – প্রস্তাবের উপর বিবাহ প্রস্তাব- তার ছেড়ে না দেওয়া পর্যন্ত – হালাল নয়।( বুঃ, মুঃ, ১৪১৪নং)

পাত্রী যদি কারো তালাক প্রাপ্তা স্ত্রী হয় তবে তার ইদ্দতে তাকে বিবাহ – পয়গাম দেওয়া হারাম। স্বামী – মৃত্যুর ইদ্দতে থাকলে  স্পষ্ট ভাবে প্রস্তাব দেওয়া নিষিদ্ধ। ইঙ্গিতে দেওয়া চলে। মহান আল্লাহ বলেন, আর যদি তোমরা আভাসে- ইঙ্গিতে উক্ত রমণীদের কে বিবাহ – প্রস্তাব দাও অথবা অন্তরে তা গোপন রাখ, তবে তাতে তোমাদের দোষ হবে না। আল্লাহ জানেন যে, তোমরা তাদের সম্বন্ধে আলোচনা করবে। কিন্তু বিধিমত কথা বার্তা ছাড়া গোপনে তাদের নিকট কোন অঙ্গীকার করো না। নির্দিষ্ট সময় অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত বিবাহকার্য সম্পন্ন করার সংকল্প করো না এবং জেনে রাখ, আল্লাহ তোমাদের মনোভাব জানেন। এতএব তাকে ভয়কর। (কুঃ২/২৩৫)

অনুরূপ হজ্জ বা উমরা করতে গিয়ে ইহরাম অবস্তাহ কোন নারীকে বিবাহ প্রস্তাব দেওয়া অবৈধ।( সজাঃ ৭৮০৯ নং)

বিবাহের পূর্বে পাত্র- পাত্রীর রক্ত, বীর্য প্রভৃতি পরীক্ষা করে তারা রোগমুক্ত কি না তা দেখে নেওয়ার সমর্থন রয়েছে ইসলামে। প্রিয় নবী (সাঃ) বলেন, তোমরা কুষ্ঠরোগ হতে দূরে থেকো; যেমন বাঘ হতে দূরে পলায়ন কর। ( বুঃ ৫৭৯৭ নং)

চর্মরোগাক্রান্ত উটের মালিক যেন সুস্থ উট দলে তার উট না নিয়ে যায়। (বুঃ ৫৭৭১ নং)

কারো জন্য অপরের কোন প্রকার ক্ষতি করা বৈধ নয়। কোন দুজনের জন্য প্রতিশোধমূলক পরস্পরকে ক্ষতিগ্রস্ত করাও বৈধ। (আঃ, মাঃ, ইমাঃ ২৩৪০, ২৩৪১ নং) আরো পড়ুন

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

মোজার উপর মাসাহ

মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান (হাদিস)

জেনে নিন মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান। রাসূল (সাঃ) ও সাহাবায়ে কেরামগণ চামড়ার মোজা পরিধান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE