Breaking News
Home / বই থেকে / পাত্রী দর্শন ( আদর্শ বিবাহ )

পাত্রী দর্শন ( আদর্শ বিবাহ )

পাত্রী সৌন্দর্যে যতই প্রসিদ্ধ হোক তবুও তাকে বিবাহের পূর্বে এক ঝলক দেখে নেওয়া উত্তম। ঘটকের চটকদার কথায় সম্পূর্ণবিশ্বাস ও আস্থা না রেখে জীবন – সঙ্গিনীকে জীবন তরীতে চড়াবার পূর্বে স্বচক্ষে যাচাই করে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। এতে বিবাহের পর স্বামী – স্ত্রীর মাঝে বন্ধনে মধুরতা আসে, অধিক ভালোবাসা সৃষ্টি হয়। একে অপরকে দোষারোপ করা থেকে বাঁচা যায় এবং বিবাহের পর পস্তাতে হয় না।

পাত্রী দেখতে গিয়ে পাত্র যা দেখবে তা হল, পাত্রীর কেবল চেহারা ও কব্জি পর্যন্ত হস্তদয়।অন্যান্য অঙ্গ দেখা বা দেখানো বৈধ নয়। কারণ , এমনিতে কোন গম্যা নারীর প্রতি দৃকপাত করাই অবৈধ। তাই প্রয়োজনে যা বৈধ, তা হল পাত্রীর ঐ  দুই অঙ্গ।

এই দর্শনের সময় পাত্রীর সাথে যেন তার বাপ বা ভাই বা কোন মাহরাম থাকে। তাকে পাত্রের সহিত একাকিনী কোন রুমে ছেড়ে দেওয়া বৈধ নয়। যদিও বিয়ের কথা পাক্কা হয়। পাত্র যেন পাত্রীর প্রতি কাম নজরে না দেখে।( মুগনী ৬/৫৫৩)

আর দর্শনের সময় তাকে বিবাহ করার যেন পাক্কা ইরাদা থাকে। পাত্রীকে পরিচয় জিজ্ঞাসা বৈধ। তবে লম্বা  সময় ধরে বসিয়ে রাখা বৈধ নয় এবং বারবার বহুবার অথবা অনিমেষনেত্রে দীর্ঘক্ষণ তার প্রতি দৃষ্টি রাখাও অবৈধ। অনুরূপ একবার দেখার পর পুনরায় দেখা বা দেখতে চাওয়া বৈধ নয়। (দতাঃ ২৮ পৃষ্ঠা)

পাত্রীর সহিত মুসাফাহা করা, রসালাপ ও রহস্য করাও অবৈধ। কিছুক্ষণ তাদের মাঝে হৃদয়ের আদান- প্রদান হোক, এই বলে সুযোগ দেওয়া অভিভাবকদের জন্য হারাম।  এই সময় পাত্রীর মন বড় করার জন্য কিছু উপহার দেওয়া উত্তম। কারণ,সাতি দিয়ে বাঁধা থাকে প্রীতি , প্রীতি দিয়ে বাঁধা থাকে মন,

উপহারে বাঁধা থাকে সৃতি , তাই দেওয়া প্রয়োজন। অবশ্য পাত্রির গলে হার পরানো বা হাত দ্গরে ঘড়ি অথবা আংটি পরানো হারাম।  পরন্ত পয়গামের আংটি বলে কিছু নেই। এমন অঙ্গুরীয়কে শুভাশুভ কিছু ধারণা করা বিদআত ও শিরক। যা পাশ্চাত্য – সভ্যতার তীতি।( আফঃ১০, আজিঃ ২১২ পৃষ্ঠা)

এরপর পছন্দ – অপছন্দের কথা ভাবনা- চিন্তা করে পরে জানাবো। অনুষ্ঠান করে ক্ষণেকের দেখায় পাত্রী আচমকা  সুন্দরী মনে হতে পারে অথবা প্রসাধন ও সাজসজ্জায় ধোঁকা ও হতে পার। তাই যদি কেউ বিবাহ করার পাক্কা নিয়তে নিজ পাত্রীকে তার ও তার অভিভাবকের অজান্তে গোপনে থেকে লুকিয়ে দেখে , তাহলে তাও বৈধ। তবে এমন স্থান থেকে লুকিয়ে দেখা বৈধ নয়, যেখানে সে তার একান্ত গোপনীয় অঙ্গ প্রকাশ করতে পারে। এতএব স্কুলের পথে বা কোন আত্নীয়র বাড়িতে থেকেও দেখা যায়।

প্রিয় নবী (সাঃ) বলেন,যখন তোমাদের কেউ কোন রমণীকে বিবাহ প্রস্তাব দেয়, তখন যদি প্রস্তাবের জন্যই তাকে দেখে তবে তা দূষনীয় নয়; যদিও ঐ রমণী তা জানতে না পারে। ( সিসঃ ৯৭ ইং)

সাহাবী জাবের বিন আব্দুল্লাহ বলেন, আমি এক তরুণীকে বিবাহের প্রস্তাব দিলে তাকে দেখার জন্য লুকিয়ে থাকতাম। শেষ পর্যন্ত আমি তার সেই সৌন্দর্য দেখলাম যা আমাকে বিবাহ করতে উৎসাহিত করল। অতঃপর আমি তাকে বিবাহ করলাম। ( সিসঃ ৯৯ নং)

পাত্রী দেখার সময় কালো কলফে যুবক সেজে তাকে ধোঁকা দেওয়া হারাম। যেমন পাত্রী পক্ষের জন্য হারাম,একজন কে দেখিয়ে অপরজনের সহিত পাত্রের বিয়ে দেওয়া। প্রিয় নবী (সাঃ) বলেন, যে, ( কাউকে) ধোঁকা দেয় সে আমাদের দল ভুক্ত নয়।( ইরঃ ১৩১৯ নং)

পক্ষান্তরে একজনের সাথে বিবাহের কথাবার্তা হয়ে বিবাহ – বন্ধনের সময় অন্যের সাথে ধোঁকা দিয়ে বিয়ে দিলে সে  বিবাহ শুদ্ধ নয়। এমন করলে মেয়েকে ব্যভিচার করতে হবে।(হাশিয়াতু রওযিল মুরাব্বা ৬/ ২৫৪)

পাত্রের বাড়িতে যে কোন মহিলা বউ দেখতে পারে। তবে পাত্র ছাড়া কোন অন্য পুরুষ দেখতে পারে না; পাত্রের বাপ- চাচাও নয়।

সুতরাং বুনাই বা বন্ধু সহ পাত্রের পাত্রী দেখা ঈর্ষাহীনতা ও দ্বীন- বিরোধিতা। পাত্রী ও পাত্রীর পক্ষের উচিৎ , একমাত্র পাত্র ছাড়া অন্য কোন পুরুষকে পাত্রীর চেহারা না দেখানো। নচেৎ এতে সকলেই সমান গোনাহগার হবে। কিন্তু যে নারীকে না চাইলেও দেখা যায়,সে ( টো -টো কোম্পানি) নারী ও তার অভিভাবকের অবস্থা কি তা অনুমেয়।   পাত্রী দেখার আগে অথবা পরে বাড়িতে লোককে দেখানোর জন্য পাত্রীর ছবি নেওয়া এবং পাত্রী পক্ষের তা দেওয়া  ইসলামে নিষিদ্ধ। বিশেষ করে বিবাহ না হলে সে ছবি রয়ে যাবে এ বেগানার কাছে। তাছাড়া ঈর্ষাহীন পুরুষ হলে সেই ছবি তার বন্ধু- বান্ধব ও অন্যান্য পুরুষ তৃপ্তির সাথে দর্শন করবে। যাতে ও তার অভিভাবকের লজ্জা হওয়া উচিৎ।

অবশ্য প্রগতিশীল ( দুর্গতিশীল) অভিভাবকের কাছে এসব ধর্মীয় বাণী হাস্যকর। কিন্তু আল্লাহর আযাব তার ভয়ংকর।সুতরাং যারা তার আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে তারা সতর্ক হোক যে, বিপর্যয় অথবা কঠিন শাস্তি তাদের কে গ্রাস করবে।  (কুঃ ২৪/৬৩)

পক্ষান্তরে পাত্রীকে সরাসরি না দেখে তার ছবি দেখে পছন্দ সঠিক নাও হতে পারে। কারণ, ছবিতে সৌন্দর্য বর্ধন ক্রটি গোপন করা যায় সে কথা হয়তো প্রায় সকলেই জানে।

পাত্রীরও পছন্দ – অপছন্দের অধিকার আছে। সুতরাং পাত্রকে ঐ সময় দেখে নেবে।

(বিবাহের দ্বীন বিবাহ বন্ধনের পূর্বে বাড়িতে দেখায় বিশেষ লাভ হয় না।) তার পছন্দ না হলে সেও রদ করতে পারে।( দতাঃ ৩৫ পৃষ্ঠা) বিশেষ করে অপাত্র, বিদআতী, মাযারী, বেনামাযী, ফাসেক, ধুম্পায়ী,মদ্যপায়ী, বদমেজাজী প্রভৃতি দেখে ও শুনে তাকে বিয়ে করতে রাজী না হওয়াই ওয়াজেব।কিন্তু হায়! সে সুপাত্র আর কয়জন সুশীলার ভাগ্যে জোটে। আর সে সুশীলাই বা আছে ক জন?

পক্ষান্তরে দ্বীন ও চরিত্রের অনুকুল কোন বিষয় অপছন্দ করে অমত প্রকাশ করা আধুনিকাদের নতুন ফ্যাশন তাই তো কেউ পাত্র অপছন্দ করে এই জন্যই যে , পাত্রের দাড়ি আছে! অথবা বোরকা পরতে হবে। বাইরে যেতে পাবে না! সিনেমা ও মেলা-খেলা দেখতে পাবে না। পাত্র প্যান্ট পরে না, পাত্রের হিপ্পি নেই , সোজা  টাইপের তাই – যদি সে খোজা নয়।! তাইতো যুবকেরা আল্লাহ ও তদীয় রসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে করে তাদের প্রিয়তমা ও প্রণয়িনীদের একান্ত অনুগত হতে শুরু করেছে। নচেৎ হয় তো বিয়েই হবে না অথবা প্রেয়সীর মনসঙ্গ পাবে না। পণের গরম বাজারেও এরূপ উদাহরণ যথেষ্ট পরিদৃষ্ট হয়!  কানা বেগুনের ডোগলা খদ্দেরের অভাব নেই কোথাও! বরং এই বেগুন ও তার খদ্দের দিয়েই হাটের প্রায় সমস্ত স্থান পূর্ণ।

সুতরাং আল্লাহর পানাহ।

একশ্রেণীর সভ্য(?) মানুষ যারা বউ দেখতে গিয়ে দ্বীন বিষয়ে কোন প্রশ্ন করে না। নামায পড়ে কি না,কুরআন পড়তে  জানে কি না, -এসব বিষয় জানার কোন প্রয়োজনই মনে করে না। পক্ষান্তরে নাচ- গান জানে কি না, সেতারা- বেহালা বাজাতে পারে কি না- সে সব বিষয়ে প্রধান প্রশ্ন থাকে! আহা! পাঁচ জনকে খোশ করতে পারলে তবেই তো বউ নিয়ে  গর্ভ হবে!

পাত্রী পছন্দ না হলেও পাত্র বা পাত্রপক্ষ ইঙ্গিতে জানিয়ে দেবে যে, এ বিয়ে গড়া তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছেনা। স্পষ্টরূপে পাত্রীর  কোন দোষ – ক্রটি তার অভিভাবক বা অন্য লোকের সামনে বর্ণনা করবে না। যে উপহার দিয়ে পাত্রীর মুখ দেখেছিল তা আর  ফেরৎ নেওয়া বৈধ নয়, উচিৎ ও নয়। তবে বিয়ে হবেই মনে করে যদি অগ্রিম কিছু মোহরানা ( বলে উল্লেখ করে) দিয়ে  থাকে তবে তা ফেরৎ নেওয়া বৈধ এবং পাত্রী পক্ষের তা ফেরৎ দেওয়া কর্তব্য।( ই,লামুল মুআক্কিঈন ২/৫০)

পরন্ত সামান্য ক্রটির কারণে বিবাহে জবাব দিয়ে অঙ্গীকার ভঙ্গ করা বৈধ নয়। কারণ অঙ্গীকারবদ্ধ হয়ে তা ভঙ্গ করা মুনাফিকের লক্ষণ। ( মিঃ ৫৬ নং)

যেমন কোন থার্ড পার্টির কথায় কান দিয়ে অথবা কোন হিংসুকের কান- ভাঙ্গানি শুনে বিয়ে ভেঙ্গে পাত্রীর মন ভাঙ্গার উচিৎ নয়।  অনুরূপ মনে পছন্দ হলেও পণে পছন্দ না হয়ে পাত্রীর কোন খুত বের করে বিয়েতে জবাব দেওয়া নির্ঘাত ডবল অন্যায়। নও – সম্বদ্ধের ভোজের ডালে লবণ কম হয়েছিল বলে ওরা মানুষের মান জানে না , দুর্নাম দিয়ে দ্বীনদার পাত্রী রদ করাও  বুদ্ধিমানের কাজ নয়।

পেটুকের মত খেয়ে বেড়ানো অভ্যাস হ্লে, বিয়ের পাক্কা ইরাদা না নিয়ে ( যে মেয়ে হারাম সে) পাত্রী দেখে বেড়ালে , নিশ্চয় তা সচ্চরিত্রবান মানুষের রীতি নয়।

বৈবাহিক সম্পর্ক কায়েম করার ব্যাপারে কোন দ্বীনদার মানুষ যদি কারো কাছে পরামর্শ নেয় তবে পাত্র বা পাত্রীর দোষ – গুণ খুলে বলা অবশ্যই উচিৎ। ( মিঃ ৩৩২৪) যেহেতু মুসলিম ভাই যদি তার সমক্ষে , তার জানতে – শুনতে কোন বেদ্বীন বা বিদআতি ও নোংরা পরিবেশে প্রেম সূত্র স্থাপন করে বিপদে পড়ে তবে নিশ্চয় এর দায়িত্ব সে বহন করবে।  যেহেতু সঠিক পরামরশ দেওয়া এক আমানত। অবশ্য অহেতুক নিছক কপ্ন ব্যক্তিগত স্বার্থে বা হিংসায় অতিরঞ্জিত করে বা যা  নয় তা বলে বিয়ে ভাঙ্গানো ও মহাপাপ। তাছাড়া পরহিতৈষিতা দ্বীনের এক প্রধান লক্ষ্য। ( মুঃ মিঃ ৪৯৬৬ নং)

এ লক্ষ্যে পৌঁছানো সকল মুসলিমের কর্তব্য। পরন্ত , যে ব্যক্তি কোন মুসলিম ভায়ের কোন বিপদ বা কষ্ট দূর করে আল্লাহ কিয়ামতে তার বিপদ ও কষ্ট দূর করবেন। এ বিপদেও মুসলিম ভাইকে সাহায্য করা মুসলিমের কর্তব্য। অর্থ, সুপরামর্শ ও সুপাত্রের সন্ধান দিয়ে উপকার , বড় উপকার। অবশ্য এমন উপকারের নিজের ক্ষতি এবং বদনাম ও হতে  পারে। কারণ, পাত্র দেখে মেয়ের সুখ হলে তার মা- বাবা বলবে ,আল্লাহ দুয়েছে। পক্ষান্তরে দুখ বা জ্বালা- জ্বলন হলে বলবে, অমুক দিলে বা বিপদে ফেললে। অথচ দুখ- দুঃখ উভয়েই আল্লাহরই দান; ভাগ্যের ব্যাপার। তাছাড়া জেনে- শুনে কেউ কষ্টে গেলে দেয় না। কিন্তু অবুঝ মানুষ অনিচ্ছাকৃত এসব বিষয়ে উপকারীকেও অপকারিরূপে দোষারোপ করে থাকে; যা নির্ঘাত অন্যায়।  আর এ অন্যায়ে সবর করায় উপকারীর অতিরিক্ত সওয়াব লাভ হয়।

দ্বীনদার সুপাত্র পেলে অভিভাবকের উচিৎ বিলম্ব ন করা। বাড়িতে নিজেদের খিদমত নেওয়ার উদ্দেশ্যে, আরও উঁচু শিক্ষিতা করার উদ্দেশ্যে (যেহেতু বিয়ের পরও পড়তে পারে) অথবা তার চাকুরির অর্থ খওয়ার স্বার্থে অথবা গাফলতির কারণে মেয়ে বা বোনের বিয়ে পিছিয়ে দেওয়া বা দিচ্ছি- দিব করা তার জন্য বৈধ নয়। ( রাফানিঃ ৫৫ পৃষ্ঠা, হাহাঃ ২৩৬ পৃষ্ঠা)

প্রিয় নবী (সাঃ) বলেন, তোমাদের নিকট যদি এমন ব্যক্তি ( বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে) আসে যার দ্বীন ও চরিত্রে তোমরা সন্তুষ্ট তবে তার ( সহিত কন্যার) বিবাহ দাও।যদি তা না কর তবে পৃথিবীতে ফিৎনা ও বড় ফাসাদ সৃষ্টি হয়ে যাবে।( তিঃ মিঃ ৩০৯০নং)

তখন ঐ মেয়ের পদস্খলন ঘটলে কোর্টকাছারি বা দাঙ্গা – কলহও হতে পারে।

প্রকাশ যে, যুবতীর বয়স হলে উপযুক্ত মোহর, সুপাত্র ও দ্বীনদার বর থাকা সত্ত্বেও অভিভাবক নিজস্ব স্বার্থের খাতিরে অন্যায়  ভাবে তার বিবাহে  বাঁধা দিলে সে নিজে কাজীর নিকট অভিযোগ করে বিবাহ করতে পারে। ( ফিসু ২/ ১২৮) নচেৎ কেবল  মাত্র কারো প্রেমে পড়ে,কোন অপাত্রের সহিত অবৈধ প্রণয়ে ফেঁসে বের হয়ে গিয়ে কোর্টে ,লাভ ম্যারেজ করা এবং  অভিভাবককে জানতেও না দেওয়া অথবা তার অনুমতি না নিয়ে বিবাহ করা হারাম ও বাতিল।

সাধারণতঃ ব্যভিচারিণীরাই এরূপ বিবাহ করে চির জীবন ব্যভিচার করে থগাকে। (আদাঃ তিঃ ইমাঃ আঃ, ইরঃ ১৮৪০ নং, মিঃ ৩১৩১) পরন্ত প্রেম হল ধূপের মত; যাতে সুবাসের আমেজ থাকলেও তার সূত্রপাত হয় জ্বলন্ত আগুন দিয়ে , আর শেষ পরিণতি হয় ছায় দিয়ে। তাই প্রেমে পড়ে আগা- পিছা চিন্তা না করে স্বামী বা স্ত্রী নির্বাচনে করায় ঠকতে হয় অধিকাংশে।

ছেলের বয়স হলেও সত্বর বিবাহ দেওয়া অভিভাবকের কর্তব্য। এক্সহেলেকে ছোট ভেবে অবজ্ঞা করা উচিৎ নয়। ছেলে , বিয়ে  করব না, বললেও তারা কর্তব্যে পিছপা হবে না।

কারণ, পুরুষের একটা বয়স আছে; যখন নারী – নেশা গোপনে মনকে পেয়ে বসে। অবস্থার চাপে সে বিয়ে করবে না বললেও সত্যি সত্যি না করলেও ঘুরিয়ে ফিরিয়ে নারী -সান্নিধ্যের কথা পরের মিখ দিয়ে শুনতে ও মন্দ লাগে না। মন বলে, চাই চাই ,মুখ বলে চাই না। অবস্থা এই হলে তার বন্ধু – বান্ধবের নিকট থেকেও সে রহস্য উদঘাটিত হতে পারে।

পক্ষান্তরে অভিভাবক যদি যুবককে বিয়েতে বাঁধা দেয় অথবা দ্বীনদার সুপাত্রীকে বিয়ে করতে না দিয়ে তার কোন আত্নীয়  অপাত্রীকে বউ করে আনতে চায় অথবা পণে পছন্দ না হয়ে বিয়েতে অস্বাভাবিক বিলম্ব করেই যায় সে ক্ষেত্রে মা- বাপের  অবাধ্য হওয়া পাপ নয়। ব্যভিচারের ভয় হলে আল্লাহ ও তার রসূলের বাধ্য হওয়াই মুসলিম যুবকের উচিৎ।

তবে নিছক কারো প্রেমে পড়ে সুপাত্রী দ্বীনদার যুবতী ছেড়ে মা- বাপের কথা না মেনে নিজের ইচ্ছামত অপাত্রী বিবাহ করা বা লাভ ম্যারেজ করায় পিতামাতার তথা আল্লাহ ও রসূলের অবাধ্যাতা  হয়। আল্লাহ যাতে রাজী , তাতে মা- বাপ বা সাত গুষ্ঠি  রাজী না হলেও কোন ক্ষতি হয় না। পক্ষান্তরে যাতে আল্লাহ রাজী নন, তাতে মা- বাপ ও চৌদ্দ গুষ্ঠিকে রাজী করা যুবকের আত্নীয় ও মাতৃপিতৃ ভক্তি নয় বরং প্রবৃত্তি ও আত্নতৃপ্তির পরিচয়।

কোন পাত্রের ব্যাপারে পাত্রি বা পাত্রী পক্ষের অথবা কোন পাত্রীর ব্যাপারে পাত্র বা পাত্রপক্ষের সন্দেহ হলে এবং সম্পর্ক গড়তে সংশয় ও দ্বিধা  হলে ইস্তিখারা করলে ফল লাভ হয়। আল্লাহ তার দ্বীনদার বান্দা- বান্দীকে সঠিক পথ নির্দেশ করেন।(সনাঃ ৩০৫০ নং)

সুপাত্রে কন্যা পড়লে সত্যিই সৌভাগ্যের বিষয়। দশ পুত্রসম কন্যা; যদি সুপাত্রে পড়ে। পাত্র- পাত্রী পছন্দ এবং বাগদানের  পর তাদের আপোষের মধ্যে আসা- যাওয়া , পত্রালাপ , টেলিফোনে দূরলাপ, একান্তে ভ্রমন, একে অপরেকে বিশেষ  ভাবে পরীক্ষা করার জন্য অবাধ মিলামেশা, কোর্টশিপ বা ইউরোপীয় প্রথায় তাদের আপোষের মধ্যে মন দেওয়া- নেওয়া   প্রভৃতি ইসলামে বৈধ নয়।

বিয়ে তো হবেই, মনে করে বিবাহ – বন্ধনের পূর্বে বাগদত্তার সহিত স্ত্রী রূপ ব্যবহার , নির্জনতা অবলম্বন, একাকী কুরআন শিক্ষা দেওয়া প্রভৃতিও হারাম। ( মবঃ ২৬/১৩৬) অবশ্য বিবাহ আকদ সম্পন্ন হয়ে থাকলে তার সহিত ( সারার পূর্বেও) স্ত্রীর মত ব্যবহার করতে এবং কুরআন ও দ্বীন শিক্ষা ইত্যাদি দিতে পারে।

সমাজে তা নিন্দনীয় হলেও শরীয়তে নিন্দনীয় নয়। ( ফউঃ ২/৭৪৮) 

বিবাহের পূর্বে ভালোরূপে ভেবে নিনঃ-

আপনি কি ভালোবাসার মর্মার্থ জানেন? কেবল যৌন – সুখ লুটাই প্রকৃত সুখ নয়- তা জানেন তো? আপনি কি আপনার  তাকে সুখী ও খুশী করতে পারবেন?

আপনি তাকে চিরদিনের জন্য নিজের অর্ধেক অঙ্গ মনে করতে পারবেন? আপনার স্বাস্থ্যরক্ষার  চেয়ে দাম্পত্য – সুখ রক্ষা করতে কি অধিক সচেষ্ট হতে পারবেন?

আপনাদের উভয়ের মাঝে কোন ভুল বুঝাবুঝির সময় সন্ধির উদ্দেশ্যে একটুও নমনীয়তা স্বীকার করতে পারবেন তো?  

বিবাহ আপনার বহু স্বাধীনতা হরণ করে নেবে, সে কথা জানেন তো?

বলা বাহুল্য, বিবাহ কোন মজার খেলা নয়। বিবাহ কাঁধের জোয়াল। বিবাহ 'দিল্লী কা লাড্ডু; যো খায়েগা ওহ ভী পছতায়েগা আওর যো নেহী খায়েগা ওহ ভী পছতায়েগা! আরো পড়ুন

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

মোজার উপর মাসাহ

মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান (হাদিস)

জেনে নিন মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান। রাসূল (সাঃ) ও সাহাবায়ে কেরামগণ চামড়ার মোজা পরিধান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE