Breaking News
Home / বই থেকে / বিবাহের পূর্বে দেশাচর ( আদর্শ বিবাহ )

বিবাহের পূর্বে দেশাচর ( আদর্শ বিবাহ )

কথা পাকাপাকি হলে বিবাহের দ্বীন হবে। তবে কেবল দ্বীন করার জন্য ঘটা ও আড়ম্বরপূর্ণ মজলিস করা এবং রাজকীয় পান- ভোজনের বিপুল আয়োজন ও ব্যবস্থা করা অপব্যয়ের পর্যায়েভুক্ত। বর পক্ষের উচিৎ , তা খেয়াল রাখা এবং সর্বোত্তম খাওয়ার ব্যবস্থা না হলে দুর্নাম না করা।

কেবল মাত্র একজন লোক গিয়ে অথবা না গিয়ে টেলিফোনের মাধ্যমেও বিবাহের দ্বীন ঠিক করা যায়। নিজেদের সুবিধামত যে কোন মাসে দ্বীন স্থির করতে কোন বাঁধা নেই। আল্লাহর দিন সবই সমান। পঞ্জিকা দেখে শুভাশুভ দিন নির্বাচন বিদআত এবং বিজাতির অনুকরণ। 

নিমন্ত্রণ করার সময় নিমন্ত্রণ পত্রের কোণে হলুদ লাগিয়ে দেওয়া বিদআত। এতে কোন শুভ লক্ষণ আছে বলে মনে করা শিরক।

এরপর পৃথক করতে হলুদ মাখার কাপড় পাঠানো এবং বিবাহ – বন্ধনের ৫/৭ দিন পূর্বে কনের বাড়ি "লগন" প্রথা ইসলামী  প্রথা নয়। 

তারপর এর সঙ্গে বরের ভাই- বন্ধু ও বুনাইরা। সাজ – পোশাক, প্রসাধন- সামগ্রীর সাথে পুতুল জরুরী, অনেকে পাথায় লুডু এবং তাসও! তার সাথে চিনি,পান- সুপারি, মাছ, মুদ্রা, হলুদ মাখার শাড়ি থাকবেই। এই লগন- ধরা, ও  মুখ দেখার অনুষ্ঠান এক ব্যয়বহুল ব্যাপার। এতে যা খরচ হয় তা একটা ইসলামী বিবাহ মজলিসের জন্য যথেষ্ট।

কিন্তু হায় রে!পরের কান খোলানকুচি দিয়ে মললেও তাতে নিজের ব্যথা কোথায়?

দিনের শেষে অনুষ্ঠিত হয় মুখ দর্শনের অনুষ্ঠান। পাত্রীকে সুসজ্জিতা করে, আলম তালার ( পাত্র- পাত্রীর বসার জন্য বিশেষ সুসজ্জিত বিছানা বা) আসনে বসানো হয়।

এরপর অঙ্গরাগে সজ্জিত সেই চেহারা দেখে পাত্রের ঐ ভাই- বন্ধুরা। আঙ্গুলে বা টাকায় চিনি নিয়ে পাত্রীর অধরে স্পর্শ করে! অঙ্গুরীয়র উপহার সুসজ্জিত আঙ্গুলে পরিয়ে দেয়, ঘড়ি পরিয়ে দেয় সুদর্শন হাতখানি টেনে! এর ফাকে দ,চারটি ঠাট্টা- উপহাস তো চলেই। কারণ, এরা দেওর, নন্দাই, বন্ধু, উপহাসের অয়াত্র তাই!

অতঃপর সুগোল কব্জিখানিতে সুতো বাঁধে, ললাটে লাগায় হলুদ বাঁটা এবং হাতে দেয় জাতি বা কাজল লতা।

অথচ এদেরকে চেহারা দেখানোও হারাম। প্রিয় নবী (সাঃ) সত্যই বলেছেন, লজ্জা না থাকলে যা মন তাই কর। (বুখারীঃ ৩৪৮৪ নং) অর্থাৎ নির্লজ্জ বেহায়ারাই ইচ্ছামত ধৃষ্টতা প্রদর্শন করতে পারে। পক্ষান্তরে কোন মু,মিন নির্লজ্জ হয় না। কারণ, লজ্জা ঈমানের অংশ বিশেষ। (বুঃ মুঃ মিঃ ৫ নং)

প্রকাশ যে, এরপর থেকে হাতে বা কপালে সুতো বেঁধে রাখা ও কাজল লতা বা জাতি সর্বদা সাথে রাখা বিদআত। বরং এর  মাধ্যমে যদি কোন মঙ্গলের আশা করা হয় তবে তা শিরক।

পাত্র- পাত্রিকে এরপর দিন গুলিতে বাড়ির বাইরে যেতে না দেওয়া। এই দিনে মসজিদ বা পীরের থানে সিন্নি বিতরণ করা প্রভৃতি বিদআত ও শিরক।  এবার রইল গায়ে হলুদ,তেল চাপানো ,সাতুশী ও নাপিতের নখ কাটা প্রভৃতি প্রথা। তেল চাপানোতে সধবা নারী হতে হবে। বিধবা আসতে পারবে না। নির্দিষ্ট কাপড়ে কাবা- মুখে বসিয়ে হলুদ মাখাবে। কাপড়ে লিখা পাত্র- পাত্রীর নাম।

পাত্রকে এমন মহিলারা হলুদ মাখাবে যাদের ঐ পাত্রকে দেখা দেওয়া হারাম। পাত্রের এমন অঙ্গে ( জাঙ্গে, নাভীর নীচে) হলুদ মাখাবে যে অঙ্গ পুরুষকে দেখানোও হারাম। সুতরাং এমন প্রথা ইসলামের কি হতে পারে? পক্ষান্তরে পুরুষ রঙ্গ ব্যবহার করতে পারে না। তাই হাতে – পায়ে নেহেন্দি লাগাতে পারে না। হলুদ ব্যবহার করাও তার জন্য শোভনীয়  নয়। বিশেষ করে হলুদ রঙের পোশাক তার জন্য নিষিদ্ধ।( মুঃ মিঃ ৪৩২৭ নং)

একদা সাহাবীর গায়ে হলুদ রঙ দেখে নবী (সাঃ) বুঝেছিলেন, তিনি নব-বিবাহিত। (বুঃ,মুঃ ,মিঃ ৩২১০ নং)

সেটা হলুদের রঙের নয়। বরং স্ত্রীর দেহের ( মহিলাদের ব্যবহার্য এক প্রকার সুগন্ধি) খালুক এর রঙে; যা তার কাপড়ে লেগে গিয়েছিল।( ফাতহুল বারী ৯/১৪৪)

সুতরাং এটাকে পাত্র- পাত্রীর জন্য হলুদ মাখার বৈধতার দলীল মানা যায় না। হ্যাঁ, তবে যদি কেউ দেহের রঙ " কাঁচা  সোনার মত উজ্জ্বল" করার উদ্দেশ্যে নিজ হাতে মেখে ধুয়ে ফেলে, তবে সে কথা ভিন্ন। তাছাড়া বিয়ের পাত্র- পাত্রীর জন্য  এই দিয়ে লগ্ন শুরু করা বিদআত। অবশ্য পাত্রী হাতে- পায়ে মেহেন্দি ব্যবহার করতে পারে। বরং মহিলাদের হাতে সর্বদা মেহেন্দি লাগিয়ে রাখাই বিধি সম্মত। ( মিঃ ৪৪৬৭ নং)

এরপর রাত্রে ক্ষীর মুখে দেওয়ার দেশাচার। সাধারণতঃ এ প্রথা পার্শ্ববর্তী পরিবেশ থেকে ধার করা বা অনুপ্রবেশ করা প্রথা। প্রিয়  নবী (সাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি যে জাতির অনুকরণ করে , সে তাদেরই দল ভুক্ত।( মিঃ ৪৩৪৭ নং)

তাছাড়া এমন মহিলারা পাত্রের ওষ্ঠাধর স্পর্শ করে তার মুখে ক্ষীর- মিষ্টি দেয়, যাদের জন্য ঐ পাত্রকে দেখা দেওয়াও হারাম। অনেক সময় উপহাসের পাত্রী(?) ভাবী, নানী হলে হাতে কামড়েও দেওয়া হয়! বরং পাত্রও  ভাবীর মুখে তুলে দেয় প্রতিদানের  ক্ষীর!

অথচ এই স্পর্শ থেকে তার মাথায় সূচ গেঁথে যাওয়াও উত্তম ছিল। (সিসঃ ২২৬ নং)

অনুরূপ করে পাত্রীর সাথেও তার উপহাসের পাত্ররা! বরং যে ক্ষীর খাওয়াতে যায় তার সাথেও চলে বিভিন্ন মস্করা।  আর তার সাথে চলে " গীত- পার্টি, যুবতীদের গীত। শুধু গীতই নয় বরং অশ্লীল গীত ও হাততালি সহ ঢোল – বাদ্য বাজিয়ে গীত। এর সঙ্গে থাকে মেয়েদের নাচ। আর শেষে বিভিন্ন অশ্লীল ও অবৈধ অভিনয় বা কাপ।  এমন পরিস্থিতি দেখে – শুনে প্রত্যেক রুচিবান মুসলিম তা ঘৃণা করতে বাধ্য। কিন্তু বহু রুচিহীন গৃহকর্তা এসব দেখে – শুনেও শুধু এই বলে ভ্রূক্ষেপ করে না যে, আম কালে ডোম রাজা, বিয়ে কালে মেয়ে রাজা। ফলে ইচ্ছা করেই অনুগত প্রজা হয়ে তাদেরকে নিজ অবস্থান ছেড়ে দেয় অথবা মেয়েদের ধমকে বাধ্য হয়েই চুপ থাকে। তাই নিজ পরিবারকে নির্লজ্জতায় ছেড়ে দিয়ে বাড়ির বাইরে রাত কাটাতেও লজ্জা করে না। অথচ গৃহের সমস্ত দায়িত্ব সম্পর্কে কিয়ামতে গৃহকর্তার নিকট কৈফিয়ত তলব করা হবে। ( মিঃ ৩৬৮৫ নং)

এই ধরণের অসার ও অশ্লীল মজলিসে কোন মুসলিম নারীর উপস্থিত হওয়া এবং ক্ষীর খাওয়ানো নিঃসন্দেহে হারাম। যেমন  মহিলাদের এই কীর্তিকলাপ দর্শন করা বা নাচে ফেরি দেওয়া পুরুষদের জন্য বিশেষ ভাবে হারাম। এমন নাচিয়েকে ফেরি দেওয়ার বদলে তার কোমর ভেঙ্গে দেওয়া উচিৎ মুসলিমের – বিশেষ করে তার অভিভাবকের। কিন্তু হায়! শাশুড়ি যদি দাড়িয়ে মুতে, তাহলে বউ তো পাক দিয়ে দিয়ে মুতবেই! আইবুড়ো বা থুবড়া ভাতেই ( অবিবাহিত অবস্থায় শেষ অন্নগ্রহণের) অনুষ্ঠানও  বিজাতীয় প্রথা। এই দিনের ক্ষীর – সিন্নি বিতরণও বিদআত। বরং পীরতলায় বিতরণ শিরক। আর এই দিন সাধারণতঃ পাকান বা বাতাসা বিতরণ ( বিক্রয়ের ) দিন। যাদেরকে এই পাকান বা মিষ্টি দেওয়া হবে তাদেরকে পরিমাণ মত টাকা দিয়ে "ভাত" খাওয়াতেই হবে। না দিলে নিয়। এই লৌকিকতায় মান রাখতে গিয়েও অনেকে লজ্জিত হয়। সুতরাং এসব দেশাচার ইসলামের কিছু নয়।

তারপর আসে তেল নামানোর পালা। ঝোমর ডালা হয় পাত্র বা পাত্রীকে কেন্দ্র করে হাত তালি দিয়ে গীত গেয়ে ও প্রদক্ষিণ করে! এ ছাড়া আছে শিরতেল ঢালার অনুষ্ঠান। সধবাদের হাতের উপরে হাত, সবার উপর নোড়া , তার উপরে তেল ঢালা হয় এবং তা পাত্রীর মাথায় গড়িয়ে পড়ে। এই সঙ্গে আরও কত কি মেয়েলি কীর্তি। তাছাড়া এ প্রথা সম্ভবতঃ শিবলিঙ্গ পূজারীদের। কারণ, অনেকেই এই প্রথাকে " শিবতেল ঢালা" বলে থাকে। তাছাড়া এর প্রমাণ হল শিবলিঙ্গের মত ঐ নোড়া।

সুতরাং যে মুসলিম নারীরা মূর্তিপূজকদের অনুরূপ করে তারা রসুলের বাণীমতে ওদেরই দলভুক্ত। আর এদের সঙ্গে দায়ী হবে তাদের অভিবাবক ও স্বামীরাও।

এই দিন গুলিতে " আলমতালায়" বসার আগে পাত্র- পাত্রীর কপালে  ঠেকিয়ে আসনে বা বিছানায় সালাম

বিদআত। কোন বেগান (যেমন বুনাই প্রভৃতির ) কোলে চেপে আলম- তালায় বসা হারাম। নারী – পুরুষের ( কুটুম্বদের) অবাধ মিলামিশা, কথোপকথন মজাক -ঠাট্টা, পর্দাহীনতা প্রভৃতি ইসলাম বিরোধী আচরন্ব অভ্যাস।যেমন রঙ ছড়াছড়ি করে হোলী (?) ও কাদা খেলা প্রভৃতি বিজাতীর প্রধা। এমন আরম্বনা ও অনুষ্ঠান ইসলামে অনুমোদিত নয়।

সুতরাং মুসলিম সাবধান! তুলে দিন আলমতালা নামক ঐ রথতালা কে পরিবেশ হতে।

পাত্র – পাত্রিও সচেতন হও। বসবেন না ঐ রথতালা তে। ক্ষীর খাবে না এর – ওর হাতে।

কে জানে ওদের হাতের অবস্থা কি? ছিঃ! আরো পড়ুন

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

মোজার উপর মাসাহ

মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান (হাদিস)

জেনে নিন মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান। রাসূল (সাঃ) ও সাহাবায়ে কেরামগণ চামড়ার মোজা পরিধান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE