Breaking News
Home / বই থেকে / বিবাহের দিন ( আদর্শ বিবাহ )

বিবাহের দিন ( আদর্শ বিবাহ )

বিবাহ বন্ধন ও মজলিসের জন্য বর, কনে ও অভিভাবক ছাড়া আর মাত্র দুটি লোকের প্রয়োজন। তাও তো মিনিট কয়েকের ব্যাপার। কিন্তু এতো বিপুল আয়োজন, এত ঘটা কিসের? এগুলো লোক প্রদর্শনের জন্য  নয় কি? ১০/১২ টা ডুলার বিবি, ৮০/১০০

তা বর যাত্রী; তাতে অমুসলিমও থাকবে! এত লোকের রাখা ও খাওয়ানোর দায়িত্ব পাত্রীপক্ষের ঘাড়ে। কোন অধিকারে? এত জন পারব না, বললেও উপায় নেই। সমস্ত কুটুম্বের মান রাখতেই হবে। জোর করে যাবে ১০০ জন বরযাত্রী। পাত্রীপক্ষ বাধ্য হয়েই রাজী হয়। এটা কি যুলুম নয়? যুলুম করে কি কারো বাড়িতে নিমন্ত্রণ খাওয়া চলে?এমন পেটুকেরা  লুটেরা নয়?

কুটুম বুঝাতে নিজে খাওয়াও।পরের ঘাড়ে কেন কুটুমের মান রাখ? নাকি পরের লেজে পা পড়লে তুলোপানা ঠেকে, আর  নিজের লেজে পা পড়লে ক্যাঁক করে ডাকে। তাই না? জোরের বরযাত্রী ভোর থেকেই প্রস্তুত। গতকাল পাত্র- পাত্রী সোঁদা ও আটা মেখে গায়ের হলুদ তুলে ( আমপাতা দেওয়া) পানিতে গোসল করেছে। বর তার দাড়ি গুলোকে বেশ তেল পারা করে চেঁছে  মসৃণ গাল বের করেছে। আজ তাদের নবজীবনের নতুন প্রভাত।  চারিদিক খুশীতে ডগমগ। কিন্তু কার খেয়াল থাকে যে, কারো পৌষমাস , আর কারো বা সর্বনাশ। কারো মোজ হয়,  কেউ আমাশয় যায়।

বর সাজানোর ধুম চলছে বাড়ির এক প্রান্তে। (নিজের অথবা সরকারী) ভাবীরা বরকে ঘিরে পরম আদরে কপালে চুন- কুমকুমের ফোঁটা, মাথায় মুকুট,গলায় ফুলের মালা, আঙ্গুলে সোনার অঙ্গুরীয়, গলায় সোনার হার, জামায় সোনার বোতাম, গায়ে  রেশমের বা হলুদ কিংবা জাফরানি রঙের রুমাল বাঁধা হচ্ছে। যার প্রত্যেকটিই হারাম।

অন্য দিকে শাড়ি দেওয়া হয়নি বলে বড় ভাবী রাগ করেছে; তাই ডুলার বিবি যাবে না।

ছোট বুনুইকে জামা – প্যান্ট দেওয়া হয়নি বলে রাগ করেছে; তাই বরযাত্রী যাবে না। বন্ধুকে বরযাত্রী না নিয়ে গেলে সেজো ভাইও বিয়েতে যাবে না। ও পারার সাজু রাগ করেছে, সেও বরযাত্রী যাবে না। কারন, তার চাচাকে বরযাত্রী বলা হয় নি তাই! ওদের সকলের রাগ মানাবার চেষ্টা চলছে।

বরকে কোলে তুলে পালকি বভা গাড়িতে বসালো তার বুনাই অথবা চাচাতো ভাই। মা এল তেলের ভাঁড় ও পানির বদনা হাতে ছেলের কাছে। কয়জন মেয়ে মা- বেটাকে দিল কাপড় ঢেকে। মা ছেলের পায়ে তেল দিয়ে পামি দ্বারা পা ধুয়ে দিল! সস্নেহে জিজ্ঞাসা  করল কোঁথায় যাচ্ছ বাবা? ছেলে সত্বর জবাব দিল, তোমার জন্য দাসী আনতে যাচ্ছি মা!

এরপর গাড়ি বা পালকি ছুটে পাত্রীর গ্রাম বা শহরের দিকে।  বলাই বাহুল্য যে, পূর্বের ঐ কীর্তি গুলো ইসলামের কিছু নয়। পরন্ত পয়সা নিয়ে দাসী আনার প্রভাব বহু সংসারেই বহু বধূর

উপর পরে থাকে।  বরযাত্রীর গাড়ি পূর্বেই ছুটেছিল । থামল গ্রামের বাইরে। কেউ কোথাও নেই। ব্যাপার কি? এত অসামাজিক পাত্রীপক্ষ!  নিমন্ত্রণ করতে বা আগে বাড়িয়ে ( সংবর্ধনা জানিয়ে) নিতে আসে নি কেউ! দাওয়াত না দিলে কি কারো বাড়ি মেহেমান  যাওয়া হয়। এত নীচ ও ছোঁচা নয় বরপক্ষ। তবে জালেম নিশ্চয় বটে। কারন, জোরপূর্বক তো এত লোক সঙ্গে এনেছে তারা।

জোর করে মেহেমান এসে আবার দাওয়াতের অপেক্ষা কেন? জালেমের মত ঢুকে পড়, আর লুটেরার মত পেটে ভর। দোষ কি তাতে? দেশাচার তো! নির্মম শোষণ হলেই বা ক্ষতি কি?

রাগ নিয়েই প্রবেশ করে বরযাত্রী। কনেপক্ষ ভুল স্বীকার করে কত কষ্টে রাগ মানায়।

তবুও অসংগত মন্তব্য থেকে রেহাই পায়না। আবার এখানে তো বাবু যত বলে, পারিষদ দলে বলে তার শত গুন। কে কার মুখে হাত দেবে?  যদি বিয়ে ঘুরে যায়! 

বরানুগমন হলে সসম্মানে তাকে কোলে করে নামানো হয়। প্রথমে মসজিদে সালাম (?) অথবা দিউ রাকাআত নামায পড়ানো হয়। ( এটি বিদআত, অবশ্য মসজিদে গেলে বা মসজিদে বিয়ে রাখলে সকলকেই তাহিয়্যাতুল মসজিদ দু,রাকাআত পড়তে হয়।

প্রকাশ যে, মসজিদে বিয়ে রেখে বরযাত্রীদের ধূমপান , অসংগত কথাবার্তা প্রভৃতি দ্বারা তার পবিত্রতা হানি করা অবশ্যই হারাম।) এরপর পীরতলায়, ইমাম তলায় সালাম(?) করানো হয়। তারপর ( কোন কোন এলাকায়) শ্বশুর বাড়িতে নিয়ে গিয়ে বরাসন সাত চক্র তওয়াফ করিয়ে বসানো হয়। এই সময় নাকি কনে লুকিয়ে কনে লুকিয়ে কোন ফাঁক থেকে বরকে দেখে( পছন্দ করে) থাকে। কিন্তু এসময় অপছন্দ হলেও কি বিয়ে ফিরিয়ে দিতে পারবে?

অতঃপর বর আসে বিবাহ মজলিসের " আলম তালায়। বড় বিনীত হয়ে রুমাল হাতে নিয়ে ঝুঁকে বিছানায় সালাম (?) করে। কি জানি , আসসালামু আলাইকুম বলে সালাম হয় তো জানেও না। এরপর কেবলা মুখে নামাযে বসার মত ( প্রায় সর্বদাই বসে) এই সময় অনেক জায়গায় প্যান্ডেলের গেটে দাঁড়িয়ে দুই প্রসাধিকা যুবতী কপালে চন্দনের ফোঁটা দিয়ে এবং গলায় ফুলের মালা পরিয়ে বর ও বরযাত্রী বরণ করে!

তারপর শুরু খাওয়া – দাওয়া ও ভুড়িভোজন; অর্ধেক খাওয়া, অর্ধেক ফেলা। মিষ্টি খোরের দল তো গোনা- গাঁথা ৭০/৮০ টা রসগোল্লা খাবেই। না পারলে নিংড়ে- নিচুরে, চুরি করে লঙ্কা কামড়ে বা লেবু চুসেও পেটে ভরবে। পরে বমি হয়ে গেলেও  ছাড়বে কেন? পয়সা তো লাগছে না।

এরপরেও যদি কিছু আনতে বা দিতে একটু বিলম্ব হয় তাহলে প্লেটে উবুর হবে অথবা ফেলা হবে ছুঁড়ে। আরও কত অশালীন  আচরণ এই বরযাত্রীদের!কিসে এত দাপ, কেন এত বাপুত্তি অধিকার ফলানো? কারন, হয়তো পাত্রীর বাপ চোরের দায়ে  ধরা পড়েছে তাই। কন্যাদায় থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য বরপক্ষের এত পায়ে ধরা। খাইয়ে – দাইয়েও যদি তারা গালে চড়ও মারে, তবুও গাল পেটে নীরবে সহ্য করে নিতে হবে। নচেৎ যদি বিয়ে ঘুরে যায়! নিহাতই মজবুত পাত্রীপক্ষ! মহান আল্লাহ বলেন, তোমরা পানাহার কর কিন্তু অপচয় করো না। তিনি অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না।( কুঃ ৭/৩১)

আর তোমরা কিছুতেই অপব্যয় করো না। যারা অপব্যয় করে তারা অবশ্যই শয়তানের ভাই। আর শয়তান তার প্রতিপালকের প্রতি অতিশয় অকৃতজ্ঞ। (কুঃ ১৭/২৬-২৭)

তাদের বিরুদ্ধেই ( শাস্তির ) ব্যবস্থা অবলম্বন করা হবে যারা মানুষের উপর অত্যাচার করে এবং পৃথিবীতে অহেতুক বিদ্রোহাচরণকরে বেড়ায়। ( কুঃ ৪২/৪২) আর তিনি অত্যাচারীদেরকে পছন্দ করেন না।( কুঃ ৪২/৪০)

দয়ার নবী (সাঃ) বলেন, এক মুসলিম অপর মুসলিমের ভাই। কেউ কারো প্রতি যুলুম করবে না এবং কেউ কাউকে অসহায় ছেড়ে দেবে না। তাকওয়া হল হৃদয়ের জিনিস।

আর কন মানুষের মন্দের জন্য এতটুকু যথেষ্ট যে, সে তার মুসলিম ভাইকে ঘৃণা করে।

পরন্ত প্রত্যেক মুসলিমের জান, মাল ও ইজ্জত প্রত্যেক মুসলিমের জন্য হারাম করা হয়েছে।( মুঃ ২৫৬৪ নং)

পাঠক মাত্রেই আশা করি বুঝতে পেরেছেন যে, উপর্যুক্ত কর্মকাণ্ড ও বিভিন্ন আচার- অনুষ্ঠানের স্বপক্ষে কোন সমর্থনই  ইসলামে নেই। তাছাড়া পাত্রী পক্ষের প্রতি এমন অভদ্র আচরণ শুধু ইসলাম বিরোধীই নয়; বরং অমানবিকও।

এখানে পাত্রী পক্ষেরও উচিত নয় কষ্ট স্বীকার করে নাম কিনতে যাওয়া এবং অপব্যয় করে বিভিন্ন খাদ্যের ভ্যারাইটিজ প্রস্তুত করা। কারন, অপব্যয় কারীরা শয়তানের ভাই। (কুঃ ১৭/২৭)

যেমন মেহেমানদের অসম্মান হতে না দেওয়াও তাদের করতব্য। ওদিকে ডুলার (দোলার) বিবিরাও পর্দার ডুলি থেকে বের হয়ে বেগানা পুরুষদের হাতে খাওয়া – দাওয়ার কর্তব্য (?)পালন করছে। আর মনে মনে চিন্তা করছে কে কেমন কাপড় পাবে। কাপড় খারাপ হলে ত রেহাই নেই। আরো পড়ুন

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

মোজার উপর মাসাহ

মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান (হাদিস)

জেনে নিন মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান। রাসূল (সাঃ) ও সাহাবায়ে কেরামগণ চামড়ার মোজা পরিধান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE