Breaking News
Home / বই থেকে / শুভ বাসর ( আদর্শ বিবাহ )

শুভ বাসর ( আদর্শ বিবাহ )

বাসরশুভ বাসর রজনী। জীবনের মধুরতম রাত্রী। রমাঞ্চকর পুলকময় যামিনী। নব দম্পতির , নব দুই প্রেমিক – প্রেমিকার প্রথম সাক্ষাৎ ও প্রথম মিলনের শুভ সন্ধিক্ষণ। এই বাসর – কক্ষটি হবে মনোরম, সৌরভময় , সুসজ্জিত ও আলোকমন্ডিত। ( অবশ্য এতে অপব্যয় করা উচিত নয়।) কক্ষের একপার্শে থাকবে কিছু ফল, দুধ অথবা মিষ্টান্ন ও পানি।  বর ওযু করে বাসরে নব সাথীর অপেক্ষা করবে। নববধূ কে ওযু করিয়ে সুসজ্জিতা ও সুরভিতা করে ভাবীরা এবং অন্যান্য  মহিলারাও এই দুআ বলবে,

উচ্চারণঃ- আলাল খাইরি অলবারাকাহ, অআলা খাইরিন ত্বা-ইর।

অর্থাৎ, মঙ্গল ও বরকতের উপর এবং সৌভাগ্যের সহিত ( তোমার নবজীবনের সূচনা হোক)। (বুঃ,মুঃ,আযিঃ ১৭৪ পৃষ্ঠা)

অতঃপর তাকে বাসর ঘরে ছেড়ে আসবে। পূর্ব হতেই স্বামী বাসরে থাকলে স্ত্রী সশ্রদ্ধ সালাম করে কক্ষে প্রবেশ করবে। স্বামী  সস্নেহে উত্তর দেবে এবং উঠে মুসাফাহা করে শয্যায় বসাবে। কুশলাদি জিজ্ঞাসাবাদের পর স্বামী – স্ত্রী মিলে ২ রাকাআত নামায পড়বে।

তবে স্ত্রী দাঁড়াবে স্বামীর পশ্চাতে। মুসলিম দম্পতির নব জীবনের শুভারম্ভ হবে আল্লাহর ইবাদত ও আনুগত্য করার প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে। সুতরাং প্রথমতঃ আল্লাহর ইবাদত ও দ্বিতীয়তঃ স্বামীর আনুগত্য ও খিদমত হল নারীর ধর্ম।  অতঃপর স্বামী দুআ করবে,

 উচ্চারণঃ- আল্লা-হুম্মা বা-রিকলী ফী আহলী, অবা-রিক লাহুম ফিইয়্যা, আল্লা-হুম্মাজমা বাইনানা মা জামা,তা বিখাইর, অফার্রিক্ব বাইনানা ইযা ফাররাক্বতা ইলা খাইর।

অর্থাৎ, সে আল্লাহ! আমাকে আমার পরিবারে বরকত ও প্রাচুর্য দান কর এবং ওদের জন্যও আমার মাঝে বরকত ও মঙ্গল দান কর। হে আল্লাহ! আমাকে যতদিন আমাদের কে একত্রিত রাখবে ততদিন মঙ্গলের উপর আমাদের কে অবিছিন্ন রেখো এবং বিছিন্ন করলে মঙ্গলের জন্যই আমাদের কে বিছিন্ন করো। ( ইআশাঃ, আরাঃ, তাবঃ, প্রভৃতি, আযিঃ ৯৪-৯৬ পৃষ্ঠা)

অতঃপর উঠে শয্যায় বসে স্বামী স্ত্রীর ললাটে হাত রেখে ” বিসমিল্লাহ” বলে এই দুআ পাঠ করবে;

উচ্চারণঃ- আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকা মিন খাইরিকা অখাইরি মা জাবালতাহা আলাইহি, অআউযু বিকা মিন শার্রিহা অশার্রি মা জাবালতাহা আলাইহ।

 অর্থাৎ,হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট এর মঙ্গল এবং এর মধ্যে তোমার সৃষ্টি প্রকৃতির মঙ্গল প্রার্থনা করছি! আর তোমার নিকট এর অমঙ্গল এবং এর মসঝে তোমার সৃষ্টি প্রকৃতির অমঙ্গল হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।  ( আদাঃ,ইমাঃ, হাঃ, বাঃ, প্রভৃতি , আযিঃ ৯২-৯৩ পৃষ্ঠা)

অতঃপর সপ্রেমে কোলে টেনে নিয়ে একটা চুম্বন দিয়ে স্বামী স্ত্রীকে বল্বে,আমাকে পেয়ে খুশী হয়েছ তো প্রিয়ে? স্ত্রী লজ্জা ও ভয় কাঁটিয়ে বলবে, আলহামদু লিল্লাহ,খুব খুশী হয়েছি। আপনি খুশী তো? স্বামী বলবে ,আলহামদু লিল্লাহ,শত খুশী। তারপর দুধ,ফল বা মিষ্টি নিয়ে একে অপরকে খাইয়ে দেবে। এই ভাবে নববধূর মন থেকে ভয় ও লজ্জা ধীরে ধীরে দূরীভূত হবে। উদ্বেলিত  হবে প্রেমের তরঙ্গমালা। 

প্রকাশ যে, একজনের পাত্রে হাত রেখে অপরজনের খাওয়া কুপ্রথা।  এই সময় শুধু চিন্তাই নয় বরং ভাবী জীবনের বহু পরিকল্পনার কথাও উভয়ে আলোচনা করবে। একে অপরকে বিশেষ উপদেশ ও পরামর্শ দেবে।

আবু দারদা তার স্ত্রীকে উপদেশ দিয়ে বলেছিলেন, যখন আমাকে দেখবে যে, আমি রেগে গেছি, তখন তুমি রাগ মিটাবার চেষ্টা করবে। আর তোমাকে রেগে যেতে দেখলে আমিও রাগ মিটাব।( ফিসুঃ ২/২০৮)

আবুল আসওয়াদ তার স্ত্রীকে বলেছিলেন, প্রিয়ে আমি ভুল করে ফেললে আমার কাছে বদলা নেবার চেষ্টা না করে আমাকে ক্ষমা করে দিও। আর আমি ক্রোধান্বিত হয়ে কথা বললে তুমি আমার মুখের উপর মুখ দিও না। এতে আমাদের ভালোবাসা চিরস্থায়ী ও  মধুর হবে।

এক স্ত্রী বলেছিল,প্রিয়! মেয়েদের মন ঠুনকো কাচের পাত্র। সামান্য (কথার) আঘাতে তাই ভেঙ্গে যায়। তাই হয়তো স্বামীর উপরেও মুখ চালায়। তাই একটু মানিয়ে চলবেন। স্বামী বলল , তা ঠিক ,তাই কাচের টুকরা স্বামীর মর্যাদায় বিঁধে কষ্ট দেয়। তাছাড়া মেয়েদের মন কাচের হলেও মুখখানা কিন্তু পাকা ইস্পাতের। তাই সব ভেঙ্গে  গেলেও মুখ অক্ষত অবস্থায় সবেগে চলমান থাকে। অথচ মুখখানা কাঁচের ও মনখানা লোহার হলে আগুনে ঘি পড়ে না। দাম্পত্ব মহয় মধুর।

বিবাহের রঙে রাঙা আজ সব, রাঙা মন, রাঙা আভরণ,

বল নারী , এই রক্ত আলোকে আজ মম নব জাগরণ।

পাপে নিয় পতিপুণ্যে সুমতি

থাকে যেন হয়ো পতির সারথি

পতি যদি হয় অন্ধ হে সতী!

বেধোনা নয়নে আবরণ;

অন্ধ পতিরে আখি দেয় যেন তোমার সত্য আচরণ।

সতর্কতার বিষয় যে, এই রাত্রে বা অন্য কোন সময়েও পরস্পরের পূর্বেকার ইতিহাস জানতে না চাওয়াই উভয়ের জন্য উত্তম। নচেৎ মধুরাত্রি বিষরাত্রির পরিণত হবে।

উল্লেখ্য যে, বাসরে বর-কনের কথোপকথনে কানাচি পাতা হারাম। কানাচি পেতে গোপন কথা যে শোনে , কিয়ামতের  তার  কানে গলিত সীসা ঢালা হবে। (বুঃ ৭০৪২ নং)

নব-দম্পতির প্রেমের জোয়ার প্লাবিত করুক তাদের জীবন ও যৌবনের উভয় কুলকে ; এতে অপরের কাজ কি?

বাতি আনে রাতি আনার প্রীতি,

বধূর বুকে গোপন সুখের ভীতি।

বিজন ঘরে এখন যে গায় গীতি।

একলা থাকার গান খানি সে গা,বে

উদাস পথিক ভাবে।

কিন্তু মিলন পিপাসার্ত স্বামী কি ধৈর্য রাখতে চাইবে? মন তার গাইবেঃ-

গুন্ঠন খোল এই নির্জনে আফোটা প্রেমের গুঞ্জ,

এনেছি পরাতে অলকে তোমার আলো করে হৃদিকুঞ্জ।

রত্ন প্রবাহ আনিয়া স্বপনে,

সপিব তোমারে দখিনা পবনে –

মন ফাগুণের ফাগ মেখে সই নাচিবে কামনাপুঞ্জ।

⇒ আরো পড়ুন

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

মোজার উপর মাসাহ

মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান (হাদিস)

জেনে নিন মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান। রাসূল (সাঃ) ও সাহাবায়ে কেরামগণ চামড়ার মোজা পরিধান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE