Home / বই থেকে / স্বামীর উপর স্ত্রীর অনস্বীকার্য অধিকার (আদর্শ বিবাহ )

স্বামীর উপর স্ত্রীর অনস্বীকার্য অধিকার (আদর্শ বিবাহ )

স্বামীর উপর স্ত্রীর বহু অধিকার আছে, যা পালন করা স্বামীর পক্ষে ওয়াজেব। সেই সমস্ত অধিকার নিম্মরূপঃ-

১- আর্থিক অধিকারঃ-

ক- স্বামী বিবাহ – বন্ধনের সময় বা পূর্বে যে মোহর স্ত্রীকে প্রদান করবে বলে অঙ্গীকার করেছে তা পূর্ণ ভাবে আদায় করা এবং তা হতে স্ত্রীকে বঞ্চিতা করার জন্য কোন প্রকার টাল – বাহানা না করা। মহান আল্লাহ ব্লেন, সুতরাং তাদের কে ফরয মোহর  অর্পণ কর।( কুঃ ৪/২৪)

খ- আর্থিক অবস্থানুযায়ী স্ত্রীর ভরন – পোষণ করা। নিজে যা খাবে তাকে খাওয়াবে এবং যা পরিধান করবে ঠিক সেই সমমানের লেবাস তাকেও পরিধান করাবে। (আদাঃ , তিঃ ইনাঃ,মামুঃ ১৪৭)

অবশ্য নেকীর নিয়তে এই ব্যয়িত অর্থ স্বামীর জন্য সদকার সমতুল্য হবে। (বুঃ, মুঃ মিঃ ১৯৩০)

অন্যান্য সকল ব্যয়ের চেয়ে স্ত্রীর পশ্চাতে ব্যয়ের নেকীই অধিক।( মুঃ, মিঃ ১৯৩১)

এমন কি তাকে এক গ্লাস পানি পান করালেও তাতে নেকী লাভ হয় স্বামীর। (সিসঃ ২৭৩৬ নং, ইর ৮৯৯নং)

 

২- ব্যবহারিক অধিকারঃ-

 

ক- স্ত্রীর সহিত সদ্ব্যবহার সাথে বাস করা ওয়াজেব। দুই – একটি গুন অপছন্দ হলেও সদাচার ও সদ্ব্যবহার বন্ধ করা মোটেই উচিৎ নয়। মহান আল্লাহ বলেন, আর তাদের সহিত সদ্ব্যবহার জীবন যাপন কর। তোমরা যদি তাদেরকে ঘৃণা কর তবে এমনও  হতে পারে যে, তোমরা যা ঘৃণা করছ, আল্লাহ তার মধ্যেই প্রভুত কল্যান নিহিত রেখছেন।(কুঃ ৪/১৯)

সুতরাং সদ্ভাব ফুটিয়ে তুলতে স্বামী সর্বদা নিজের প্রেমকে স্ত্রীর মনের সিংহাসনে আসীন করে রাখবে। তাকে সুন্দর প্রেমময় নামে  ডাকবে, সে যা চায় তাই তাকে সাধ্যমত প্রদান করে রাখবে। হৃদয়ের বিনিময়ে হৃদয় এবং শক্তি নয় ভক্তি দ্বারাই সাথীর মন জয় করা কর্তব্য। স্ত্রীর মন পেতে হলে আগে প্রেম দিতে হবে। একটি পাখীকে ধরতে হলে তাকে ভয় দেখানো চলে না। তাকে আদর করে ভালোবাসা  দিয়ে কাছে আনতে হয়। অতঃপর একদিন সে আপনিই পোষ মেনে নেয়। কারণ স্নেহ ও ভালোবাসা বড়ই পবিত্র জিনিস।

স্ত্রীর নিকট তার মাতৃলয়ের প্রশংসা করবে। সময় মত তাকে সেখানে নিয়ে যাবে বা যেতে – আস্তে দেবে।

কোন কারণে স্ত্রী রেগে গেলে ধৈর্য ধরবে। মুর্খামি করলে সহ্য করে নেবে। যেহেতু পুরুষ অপেক্ষা নারীর আবেগ ও প্রতিক্রিয়া – প্রবণতা অধিক এবং পুরুষের চেয়ে নারীর ধৈর্য বহুলাংশে কম। সুতরাং দয়া করেই হোক অথবা ভালোবাসার খাতিরেই হোক তার  ভুল ক্ষমা  করবে। যত ভুল হবে ফুল ভালোবাসাতে। তার ছোটখাট ক্রটির প্রতি ভ্রূক্ষেপ করবে না। অনিচ্ছাকৃত ভুলের উপর তাকে  চোখ রাঙ্গাবে না। অন্যায় করলে অবশ্য শাসন করার অধিকার তার আছে। তবে শাসন করা তারই সাজে সোহাগ করে যে, ক্রটির উপর প্রীতির সাথে সহন ধরে সে।

তাছাড়া ভুল হওয়া মানুষের প্রকৃতিগত স্বভাব। ভুল ক্রটি দিয়ে সকলেরই জীবন গড়া।

কিন্তু সেই ভুলকে প্রাধান্য দিয়ে বাকী জীবনে অশান্তি ডেকে আনার কোন যুক্তি নেই।

প্রিয় নবী (সাঃ) বলেন তোমরা নারীদের জন্য হিতাকাঙ্খী হও। কারণ, নারী জাতি বস্কিম পঞ্জরাস্থি হতে সৃষ্টি। ( সুতরাং

তাদের প্রকৃতিই বস্কিম ও টেরা,) কারণ নারী জাতি বস্কিম করতে গেলে হয়তো তা ভেঙ্গেই ফেলবে। আর নিজের অবস্থায় উপেক্ষা করলে বাকা থেকেই যাবে। অতএব তাদের জন্য মঙ্গলকামী হও। ( বুঃ মুঃ মিঃ ৩২৩৮)

সুতরাং স্ত্রীর নিকট থেকে যত বর আদর্শের ব্যবহারই আশা করা যাক না কেন, তার মধ্যে কিছু না কিছু টেরামি থাকবেই। সম্পূর্ণ ভাবে স্বামীর মনে অস্কিত সরল পথে সে চলতে চাইবে না। সোজা করে চালাতে গেলে হাড় ভাঙ্গার মত ভেঙ্গে যাবে; অর্থাৎ মন ভেঙ্গে দাম্পত্য ভেঙ্গে ( তালাক হয়ে) যাবে।৯মুঃ মিঃ ৩২৩৯ নং)  প্রিয় নবী (সাঃ) বলেন, কোন মুমিন পুরুষ যেন কোন মুমিন স্ত্রীকে ঘৃণা না বাসে। কারণ সে তার একটা গুন অপছন্দ করলেও অপর আর একটা গুনে মুগ্ধ হবে। ( মুঃ, মিঃ ৩২৪০ নং)

সুতরাং পূর্ণিমার সুদর্শন চন্দ্রিমারও কলঙ্ক আছে। সুদর্শন সৌরভময় গোলাপের সহিতও কন্টক আছে। গুনবতীর মধ্যেও কিছু  ক্রটি থেকে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়।  কথিত আছে যে, একদা এক ব্যক্তি তার ঠোঁটকাটা স্ত্রীর অভিযোগ নিয়ে হযরত উমারের নিকট উপস্থিত হয়ে বাড়ি দরজায়  তাকে ডাক দিয়ে অপেক্ষা করতেই শুনতে পেল হযরত ওমরের স্ত্রীও তার সহিত কথা কাটাকাটি করছেন এবং তিনি নীরব থেকে যাচ্ছেন। লোকটি আর কোন কথা না বলে প্রস্থান করতে করতে মনে মনে বলতে পাগ্ল, আমীরুল মুমিনীনের যদি এই অবস্থা হয় অথচ তিনি খলীফা, কত কড়া মানুষ , তাহলে আমার আর কি হতে পারে? হরযত উমার দরজায় এসে লোকটিকে যেতে  দেখে ডেকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার প্রয়োজন না বলেই চলে যাচ্ছ কেন? লোকটি বলল , যার জন্য এসেছিলাম তার জবাব আমি পেয়ে গেছি হুজুর। আমার স্ত্রী আমার সহিত লম্বা জিবে কথা বলে। তারই অভিযোগ নিয়ে আপনার কাছে  এসেছিলাম।কিন্তু দেখছি আপনারও আমার মতই অবস্থা? উমার বল্লেন,আমি সহ্য করে নিই ভাই! কারণ আমার উপর তার

অনেক অধিকার আছে; সে আমার খানা পাক করে, রুটি তৈরি করে, কাপড় ধুয়ে দেয়, আমার সন্তাকে স্তনদুগ্ধ পান করিয়ে  লালন – পালন করে , আমার হৃদয়ে শান্তি আনে, ইত্যাদি। তাই একটু সহ্য করে নিই। তবে সহ্য করে নাও গে ভাই! সে তো সামান্য ক্ষণই রাগান্বিতা থাকে।

সুতরাং সুন্দর সৌরভময় গোলাপ তুলে তার সুঘ্রাণ নিতে হলে দু-একটা কাঁটা হাতে – গায়ে ফুঁড়বে বৈ কি? কাঁটার জন্য  কেউ কি প্রস্ফুটিতে গোলাপ কে ঘৃণা করে? নারী গোলাপের মত সুন্দর ও কোমল বলেই কাঁটার ন্যায় কথা দ্বারা নিজেকে রক্ষা  করতে চায়। (হুমা ৫২)

যেমন তার সাথে হাসি-তামাসা করা, সব সময় পৌরুষ মেজাজ না রেখে কোন কোন সময় তার সহিত বৈধ খেলা কড়া , শরীর  চর্চা বা ব্যায়ামাদি কড়া ইত্যাদিও স্বামীর কর্তব্য। প্রিয় নবী (সাঃ) বিবি আয়েশার সহিত দৌড় প্রতিযোগিতা করে একবার  হেরেছিলেন ও পরে আর একবার তিনি জিতেছিলেন। (আঃ , মামুঃ ১০৫)

তদনুরূপ স্ত্রীকে কোন বৈধ খেলা দেখতে সুযোগ দেওয়াও দূষণীয় নয়। (বু;, নাঃ,আযিঃ ২৭৫) তবে এসব কিছু হবে একান্ত নির্জনে, পর্দা- সীমার ভিতরে।

স্ত্রী ভালো খাবার তৈরি করলে, সাজগোজ করলে বা কোন ভালো কাজ ক্রলে তার প্রশ্নগসা করবে স্বামী। এমনকি স্ত্রীর হৃদয়কে লুটে নেওয়ার জন্য ইসলাম মিথ্যা বলাকেও বৈধ করেছে।(বুঃ, মুঃ, সিসঃ ৫৪৫ নং)

তবে যে মিথ্যা তার অধিকার হরণ করে ও তাকে ধোকা দেয়, সে মিথ্যা নয়। সদ্ভাবে বাস করতে চাইলে স্বামী স্ত্রীর গৃহস্থালি কর্মেও সহায়তা করবে। এতে স্ত্রীর মন স্বামীর প্রতি শ্রদ্ধা ও প্রেমে আরো পরিপূর্ণ  হয়ে উঠবে। প্রিয় নবী (সা:) যিনি দুজাহানের বাদশাহ তিনিও সংসারের কাজ করতেন। স্ত্রীদের সহায়তা করতেন, অতঃপর  নামযের সময় হলেই মসজিদের দিকে রওনা হতেন। (বুঃ, তিঃ, আযিঃ ২৯০)

তিনি অন্যান্য মানুষের মত একজন মানুষ ছিলেন; স্বহস্তে কাপড় পরিস্কার করতেন, দুধ দোয়াতেন এবং নিজের খিদমত  নিজেই করতেন। ৯সিসঃ ৬৭০ নং, আযিঃ ২৯১ )

স্বামী সেমন স্ত্রীকে সুন্দরী দেখতে পছন্দ করে তেমনি স্ত্রীও স্বামীকে সুন্দর ও সুসজ্জিত দেখতে ভালোবাসে। এটাই হল মানুষের  প্রকৃতি। সুতরাং স্বামীরও উচিৎ স্ত্রীকে খোশ করার জন্য সাজগোজ করা। যাতে তারও নজর অন্য পুরুষের (স্বামীর কোন পরিচ্ছন্ন  আত্নীয়ের) প্রতি আকৃষ্ট না হয়। ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, আমি আমার স্ত্রীর জন্য সাজসজ্জা করি, যেমন সে আমার  জন্য সাজসজ্জা করে। আর আল্লাহ তাআলা বলেন, নারীদের তেমনি ন্যায়সঙ্গত অধিকার আছে, যেমন তাদের উপর আছে পুরুষদের। (কুঃ ২/২২৮)

বলাই বাহুল্য যে, এই অবহেলার ফলেই বহু আধুনিকা স্বামী ত্যাগ করে অথবা অন্যাসক্ত হয়ে পড়ে। 

খলীফা উমার (সাঃ) এর নিকট একটি লোক উস্কখুক ও লেলাখেপা বেশে উপস্থিত হল। সঙ্গে ছিল তার স্ত্রী। স্বামীর বিরুদ্ধে  অভিযোগ করে তার নিকট থেকে বিবাহ বিচ্ছেদ প্রার্থনা করল।

দূরদর্শী খলীফা সব কিছু বুঝতে পারলেন। তিনি তার স্বামীকে পরিচ্ছন্নতা গ্রহন করার উদ্দেশ্যে পাঠিয়ে দিলেন। অতঃপর সে তার চুল, নিখ ইত্যাদি কেটে পরিস্কার – পরিচ্ছন্ন হয়ে ফিরে এলে তিনি তার স্ত্রীর নিকট যেতে আদেশ করলেন। স্ত্রী পরপুরুষ ভেবে তাকে দেখে সরে যাচ্ছিল। পরক্ষণে তাকে চিনতে পারে তালাকের আবেদন প্রত্যাহার করে নিল! এ ঘটনার পর খলীফা উমার (রাঃ) বললেন, তোমরা তোমাদের স্ত্রীর জন্য সাহসজ্জা কর। আল্লাহর কসম! তোমরা যেমন তোমাদের স্ত্রীগণের সাজসজ্জা পছন্দ কর; অনুরূপ তারাও তোমাদের সাজসজ্জা পছন্দ করে। ( তুআঃ ১০৩-১০৪)

স্ত্রীর এঁটো খাওয়া অনেক স্বামীর নিকট অপছন্দনীয়। কিন্তু শরীয়তে তা স্বীকৃত। রসূল (সাঃ) পান- পাত্রের ঠিক সেই স্থানে  মুখ রেখে পানি পান করতেন, যে স্থানে আয়েশা গোস্ত ছাড়িয়ে খেতেন, সেই হাড় নিয়েই ঠিক জায়গাতেই মুখ রেখে  আল্লাহর নবী (সাঃ) গোস্ত ছাড়িয়ে খেতেন। (মুঃ, আঃ, প্রভৃতি , আযিঃ ২৭৭ )

তাছাড়া স্ত্রীর রসনা ও ওষ্ঠাধর চোষণের ইঙ্গিতও শরীয়তে বরতমান।(বুঃ৫০৮০ নং, সিসঃ ৬২৩ নং)

এমন প্রেমের প্রতিমার এঁটো এবং চুম্বন তারাই খেতে চায়না , যারা একান্ত প্রেমহীন নীরস পুরুষ অথবা যাদের স্ত্রী অপরিচ্ছন্ন ও  নোংরা থাকে তারা অথবা যাদের নিকট কেবল লৈঙ্গিক যৌন সম্ভোগই মূল তৃপ্তি।

স্ত্রীকে বিভিন্ন উপলক্ষে ( যেমন ঈদ, কুরবানী প্রভৃতিতে ) ছোট খাট উপহার দেওয়াও সদ্ভাবে বাস করার পর্যায়ভুক্ত। এতেও স্ত্রীর হৃদয় চিরবন্দি হয় স্বামীর হৃদয় জেলে।  মোট কথা স্ত্রীর সহিত বাস তো প্রেমিকার সহিত বাস। সর্বতোভাবে তাকে খোশ রাখা মানুষের  প্রকৃতিগত। প্রেমিককে কষ্ট দেওয়া কোন মুসলিম, কোন মানুষের , বরং কোন পশুরও কাজ নয়।  

 

প্রিয় নবী (সাঃ) বলেন, তোমাদের মধ্যে উত্তম ব্যক্তি সেই, যে তার স্ত্রীর নিকট উত্তম।

আর আমি নিজ স্ত্রীর নিকট তোমাদের সর্বোত্তম ব্যক্তি।( তাঃ, হাঃ, দাঃ, আযিঃ ২৬৯)

সবার চেয়ে পূর্ণ ঈমানদার ব্যক্তি সে, যার চরিত্র সবার চেয়ে সুন্দর এবং ওদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা উত্তম ব্যক্তি সেই , সে তার  স্ত্রীর নিকট উত্তম। সাবধান! তোমরা নারী (স্ত্রী)দের জন্য মঙ্গল কামী হও। যেহেতু তারা তোমাদের হাতে বন্দিনী। (তিঃ ইমাঃ আযিঃ ২৭০)

তাদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় কর। যেহেতু তাদেরকে তোমরা আল্লাহর অঙ্গীকারে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়ে বরণ করেছ এবং আল্লাহর  বাণীর মাধ্যমে তাদের লজ্জাস্থান ও হালাল করে নিয়েছ।(মুঃ০

অবশ্যই স্ত্রীর যথার্থ মর্যাদা ও  অধিকার প্রদান করার নাম আচল ধরা , বা বউ পাগলামী নয়। 

 

 

খ- স্বামীর উপর স্ত্রীর অনুতম অধিকার এই যে, বিপদ আপদ থেকে স্বামী তাকে রক্ষা করবে। স্ত্রীকে রক্ষা করতে গিয়ে যদি  শত্রুর হাতে মারা পরে, তবে শহীদের দরজা পায়। ( তিঃ, আদাঃ, নাঃ মিঃ ৩৫২৯)

অনুরূপ স্ত্রীকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করাও তার বড় দায়িত্ব। তাকে দ্বীন ম আকীদা , পবিত্রতা, ইবাদত, হারাম, হালাল, অধিকার ও ব্যবহার প্রভৃতি শিক্ষা দিয়ে সৎকাজ করতে আদেশ ও অসৎকাজে বাঁধা দিয়ে আল্লাহর আযাব থেকে রেহাই দেবে। মহান আল্লাহ বলেন, হে ঈমানদার গণ! তোমরা নিজেদেরকে এবং পরিবারকে জাহান্নাম থেকেও বাচাও; যার ইন্ধন মানুষ ও পাথর—।(কুঃ ৬৬/৬)

গ- স্ত্রীর ধর্ম, দেহ, যৌবন ও মর্যাদায় ঈর্ষাবান হওয়া এবং সবে কোন প্রকার কলঙ্ক লাগতে না দেওয়া স্বামীর উপর তার এক  অধিকার। সুতরাং এক উত্তম সংরক্ষণীয় ও হিফাজতের জিনিস। লোকের মুখে মুখে পরপুরুষদের চোখে চোখে ও যুবকদের মনে  বিচরণ করতে না দেওয়া ;যাকে দেখা দেওয়া তার স্ত্রীর পক্ষে হারাম তাকে সাধারণ অনুমতি দিয়ে বাড়ি আস্তে-যেতে না দেওয়া  সুপুরুষের কর্ম।

আর এর নাম রক্ষনশীলতা বা গোঁড়ামি নয়। বরং এটা হল সুপুরুষের রুচিশীলতা ও পবিত্রতা। নারী – স্বাধীনতার নামে এই বল্গাহীনতা ও নগ্নতাকে প্রগতি মনে করে আল্লাহ-ভক্তদের গোঁড়া বলে থাকে, শরীয়ত তাদেরকেই ভেড়া বলে আখ্যায়ন করে।  আর ভেড়া বা স্ত্রী – কন্যার ব্যাপারে ঈর্ষাহীন পুরুষ জান্নাতে যাবে না। (নাঃ, দাঃ, মামুঃ ১৫৫)  নিজের ইচ্ছামত এঘর – ওঘর , এপাড়-ওপাড়, এ মার্কেট সে মার্কেট যেতে স্বামী তার স্ত্রীকে বাঁধা দেবে। কোন প্রকার নোংরামি, অশ্লীলতা  , গান-বাজনা, সিনেমা – থিয়েটারে নিজে যাবে না, স্ত্রীকেও যেতে দেবা না। নোংরা টেলিভিশন ও ভিডিও বাড়িতে  রাখবে না।

রেডিওতে গান-বাজনা শুনতে দেবে না। পর্যাপ্ত কারণ বিনা এবং আপোষে চুক্তি ও সম্মত ছাড়া চার মাসের অধিক স্ত্রী ছেড়ে বাইরে থাকবে না। যেহেতু পুরুষের যৌন প্রভৃতি যেমন, ঠিক তেমনি নারীও। পুরুষের যেমন নারীদেহ সংসর্গ লাভে পরম তৃপ্তি, অনুরূপ  নারীও পুরুষের সংসর্গ পেয়ে চরম তৃপ্তি উপভোগ করে থাকে। অতএব প্রেমে অনাবিলতা বজায় রাখতে নারীকে হিফাযত করা  পুরুষের জন্য ফরয এবং তা এক সুরুচিপূর্ণ কর্ম।  পানি বা শরবতে সামান্য একটা পোকা বা মাছি পড়লে তা পান করতে কারো রুচি হয় না;

আর নিজ স্ত্রীর সৌন্দর্য ও প্রেমে অপরের কাম বা কুদৃষ্টি , মন্তব্যের মুখ ও কামনার মন পড়লে তাতে কি করে রুচি হয় সুপুরুষের।

 

সুতরাং যে পুরুষের অনুরূপ সুরুচি নেই সে কাপুরুষ বৈ কি?

হিজরী ২৮৬সনে রাই এর কাযীর নিকট এক মহিলা মুকাদ্দামা দায়ের করল। তার অভিভাবকের সাথে মিলে স্বামীর বিরুদ্ধে সে তার  মোহরানা বাবদ ৫০০ দিরহাম আদায় না দেওয়ার অভিযোগ করল। কাযী সাক্ষী তলব করলে সাক্ষি উপস্থিত করা হল। কিন্তু সাক্ষিদাতারা মহিলাটিকে চেনার জন্য তার চেহারা দেখাতে অনুরোধ জানালো। এ খবর স্বামীর কানে গেলেকাযির সামনে বলল, আমি  স্বীকার করছি যে, ৫০০ দিরহাম স্ত্রীর পাওনা। আমি যথাসময়ে তাকে তা আদায় করে দেব। সাক্ষীর দরকার নেই। ও যেন  চেহারা না খোলে! এ খবর স্ত্রীর নিকট গেলে সেও আল্লাহ অতঃপর কাযীকে সাক্ষী রেখে বলল, আমিও আমার স্বামীর নিকট থেকে প্রাপ্য উক্ত মোহরানার দাবী প্রত্যাহার করে নিচ্ছি এবং দুনিয়া ও আখেরাতের জন্য ওকে ক্ষমা করে দিচ্ছি।   এ শুধু এজন্য যে, পর্দার মান ও মুল্য আছে নারীর কাছে, আর স্বামীর আছে যথাযথ ঈর্ষা। তাই চেহারা খুলে বেআবরু করতে সকলেই নারাজ। এটাই তো সুরুচিপূর্ণ মুসলিম দম্পতির পরিচয়।

স্ত্রী কে খামাখা সন্দেহ করাও স্বামীর উচিৎ নয়। বৈধ কর্মে, চিকিৎসার জন্য বা অন্যান্য জরুরী কাজের জন্য পর্দার সাথে যেতে না  দিয়ে তাকে অরগলদ্ধ  করে রাখাই হ্ল অতিরঞ্জন ও গোঁড়ামি। তাছাড়া এমন অবরোধ প্রথায় ইসলামের কোন সমর্থন নেই।  পক্ষান্তরে স্ত্রীকে সন্দেহ করলে দাম্পত্য জীবন তিক্ত হয়ে ওঠে। কারণ দাম্পত্য সুখের জন্য জরুরী স্বামী- স্ত্রীর উভয়ের আমানত দারী, হিতৈষিতা, সত্যবাদিতা, অন্তরঙ্গতা, অনাবিল প্রেম, বিশ্বস্ততা , নম্রতা, সুম্মিত ব্যবহার ও বাক্যলাপ, একে অপরের গুন স্বীকার। আর সন্দেহ এসব কিছুকে ধ্বংস করে ফেলে। কারণ সন্দেহ এমন জিনিস যার সূক্ষতম শিকড় একবার মনের মাটিতে সঞ্চালিত  হয়ে গেলে তাকে যতক্ষণ পর্যন্ত না টেনে- ছিড়ে ফেলা হয়, ততক্ষণ সে প্রবল প্রতাপে রাজত্ব করতে থাকে এবং সম্প্রীতি ও সুখের কথা ভাবতেই দেয় না।

এই সন্দেহের ফলশ্রুতিতেই বহু হতভাগা স্বামী তাদের স্ত্রীদেরকে ভাতেই চাল পর্যন্ত তালাবদ্ধ রেখে রান্নার সময় মেপে রাধতে দেয়! বলাই বাহুল্য যে, কথায় কথায় এবং কাজে কাজে স্ত্রীকে সন্দেহ করলে সে স্বামীর সংসার নিশ্চয় এক প্রকার জাহান্নাম।  পরিশেষ , মহান আল্লাহর এই বাণী প্রত্যেক স্বামীর মনে রাখা উচিৎ; তিনি বলেন, হে মুমিঙ্গণ!নিশ্চয় তোমাদের স্ত্রী ও  সন্তান – সন্ততির মধ্যে কেউ কেউ তোমাদের ( পার্থিব ও পারলৌকিক বিষয়ের) শত্রু। এতএব তাদের ব্যাপারে তোমরা সতর্ক থেকো। অবশ্য ( দ্বীনী বিষয়ে অন্যায় থেকে তওবা করলে ও পার্থিব বিষয়ক অন্যায়ে) তোমরা যদি ওদেরকে মার্জনা কর, ওদের দোষ – ক্রটি উপেক্ষা কর এবং ওদেরকে ক্ষমা করে দাও তাহলে জেনে রাখ যে, আল্লাহ ক্ষমাশিল, পরম দয়ালু।

(সূরা তাগাবুন ১৪ আয়াত)  আরো পড়ুন

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

মোজার উপর মাসাহ

মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান (হাদিস)

জেনে নিন মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান। রাসূল (সাঃ) ও সাহাবায়ে কেরামগণ চামড়ার মোজা পরিধান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *