Breaking News
Home / বই থেকে / স্ত্রীর উপর স্বামীরও অনস্বীকার্য অধিকার রয়েছে(আদর্শ বিবাহ )

স্ত্রীর উপর স্বামীরও অনস্বীকার্য অধিকার রয়েছে(আদর্শ বিবাহ )

প্রথম অধিকার হল বৈধ কর্মে ও আদেশে স্বামীর আনুগত্য

স্বামী সংসারের দায়িত্বশীল ব্যক্তি। সংসার ও দাম্পত্য বিষয়ে তার আনুগত্য স্ত্রীর জন্য  জরুরী। যেমন কোন স্কুল- কলেজের প্রধান শিক্ষক, অফিসের ম্যানেজার বা ডিরেক্টর প্রভৃতির আনুগত্য অন্যান্য সকলকে  করতে হয়।

স্ত্রী সাধারনতঃ স্বামীর চেয়ে বয়সে ছোট হয়। মাতৃলয়ে মা-বাপের ( বৈধ বিষয়ে) আদেশ যেমন মেনে চলতে ছেলে- মেয়ে বাধ্য তেমনি শশুরালয়ে স্বামীর আদেশ ও নির্দেশ মেনে চলাও স্ত্রীর প্রকৃতিগত আচরণ। তাছাড়া ধর্মেও রয়েছে স্বামীর জন্য অতিরিক্ত  মর্যাদা। অতএব প্রেম, সম্প্রীতি ও শৃঙ্খলতা বজায় রাখতে বড়কে নেতা মান্তেই হয়। প্রত্যেক কোম্পানি ও উদ্যোগে পার্থিব এই  নিয়মই অনুসরনীয়। এতএব স্বামী – স্ত্রীর ক্ষেত্রে তা নারী পরাধীনতা হবে কেন। তবে অন্যায় ও অবৈধ বিষয়ে অবশ্যই স্বামীর আনুগত্য অবৈধ। কারণ যাদেরকে আল্লাহ কর্তৃত্ব দিয়েছেন তাদেরকে অবৈধ ও অন্যায় কর্তৃত্ব দেননি। কেউই তার কর্তৃত্ব ও পদকে  অবৈধ ভাবে ব্যবহার করতে পারে না। তাছাড়া কর্তা হওয়ার অর্থ কেবল মাত্র শাসন চালানোই নয়; বরং দায়িত্বশীলতার বোঝা সুষ্ঠভাবে বহন করাও কর্তার মহান কর্তব্য। যে নারী স্বামীর একান্ত অনুগতা ও পতিব্রতা সে নারীর বড় মর্যাদা রয়েছে ইসলামে। প্রিয় নবী (সাঃ) বলেন, রমণী তার পাচ  ওয়াক্তের নামায পড়লে , রমযানের রোযা পালন করলে, ইজ্জতের হিফাযত করলে ও স্বামীর তাবেদারী করলে জান্নাতের

যে কোন দরজা দিয়ে ইচ্ছামত প্রবেশ করতে পারবে। ( তাবঃ, ইহিঃ, আঃ, প্রভৃতি , মিঃ ৩২৫৪ নং)

 

শ্রেষ্ঠা রমণী সেই, যা প্রতি তার স্বামী দৃকপাত করলে সে তাকে খোশ করে দেয়, কোন আদেশ করলে তা পালন করে এবং তার জীবন ও সনপদে স্বামীর অপছন্দনীয় বিরুদ্ধাচরণ করে না।( সিসঃ ১৮৩৮ নং)

স্ত্রীর নিকট স্বামীর মর্যাদা বিরাট। এই মর্যাদার কথা ইসলাম নিজে ঘোষণা করেছে। প্রিয় নবী (সাঃ) বলেন, স্ত্রীর জন্য স্বামী তার জান্নাত  অথবা জাহান্নাম।( ইআশাঃ, নাঃ, তাবঃ, হাঃ, প্রভ্রিতি,আযিঃ ২৮৫)

 

যদি আমি কাউকে কারো জন্য সিজদা করতে আদেশ করতাম,তাহলে নারীকে আদেশ করতাম সে যেন তার স্বামীকে সিজদা  করে।( তিঃ,মিঃ ৩২৫৫)  স্ত্রীর কাছে স্বামীর এমন অধিকার আছে যে, স্ত্রী যদি স্বামীর দেহের ঘা চেটেও থাকে তবুও সে তার যথার্থ হক আদায় করতে পারবে না। (হাঃ, ইহিঃ, ইআশাঃ, সঃজাঃ ৩১৪৮ নং) মহিলা যদি নিজ স্বামীর হক ( যথার্থ রূপে ) জানতো , তাহলে তার দুপুর অথবা রাতের খাবার খেয়ে শেষ না করার পর্যন্ত সে (তার পাশে) দাঁড়িয়ে থাকতো।  ( ত্বাব,সজাঃ ৫২৫৯)

তার শপথ যার হাতে মুহাম্মদের প্রাণ আছে! নারী তার প্রতিপালকের হক ততক্ষণ পর্যন্ত আদায় করতে পারে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না সে তার স্বামীর হক আদায় করেছে। সওয়ারীর পিঠে থাকলেও যদি স্বামী তার মিলন চায় তবে সে বাঁধা দিতে পারবে না। (ইমাঃ আঃ, সিসঃ ২৮৮ নং)

 

তিন ব্যক্তির নামায কবুল হয় না, আআকাশের দিকে উঠে না; মাথার উপরে যায় না; এমন ইমাম যার ইমামতি (অধিকাংশ) লোকে অপছন্দ করে, বিনা আদেশে যে কারো জানাযা পরায়, এবং রাত্রে সঙ্গমের উদ্দেশ্যে স্বামী ডাকলে যে স্ত্রী তাতে অসম্মত হয়। (সিসঃ ৬৫০ নং)

স্বামী যখন তার স্ত্রীকে নিজ বিছানায় দিকে ( সঙ্গম করতে ) আহবান করে তখন যদি স্ত্রী না আসে, অতঃপর সে তার উপর  রাগান্বিত অবস্থায় রাত্রি কাটায়, তবে সকাল পর্যন্ত ফিরিস্তাবর্গ তার উপর অভিশাপ করতে থাকেন। অন্য এক বর্ণনায় যতক্ষণ  পর্যন্ত না স্বামী তার প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে, ততক্ষণ পর্যন্ত ফিরিস্তা তার উপর অভিশাপ করতে থাকেন।( বুঃ, মুঃ, আদাঃ, আঃ, প্রভ্রিতি,আযি; ২৮৩)

স্বামীর আনুগত্য স্ত্রীর জন্য আল্লাহ ও তদীয় রসূলেরানুগত্য। সুতরাং স্বামীকে সন্তুষ্ট করলে আল্লাহ সন্তুষ্ট হন। বলাই বাহুল্য যে,  অধিকাংশ তালাক ও দ্বিতীয় বিবাহের কারণ হল স্বামীর আহ্বানে যথাসময়ে সাড়া না দেওয়া। উক্ত অধিকার পালনেই স্বামী – স্ত্রীর বন্ধন মজবুত ও মধুর হয়ে গড়ে উঠে, নচেৎ না।

২- স্বামীর মান- মর্যাদা ও চাহিদার খেয়াল রাখা স্ত্রীর জন্য জরুরী

স্বামী বাইরে থেকে এসে যেন অপ্রীতিকর কিছু দেখতে, শুনতে, শুকতে বা অনুভব করতে না পারে। পুরুষ বাইরে কর্মব্যস্ততায় জ্বলে -পুড়ে বাড়িতে এসে যদি স্ত্রীর স্নিতমুখ ও দেহ-  সংসারের পারিপাট্য না পেল, তাহলে তার আর সুখ কোথায়? সংসারে তার মোট দুর্ভাগা ব্যক্তি আর কেউ নেই, যাকে বাইরে মেহনতে জ্বলে এসে বাড়িতে স্ত্রীর কাছেও জ্বলতে হয়।  সে নারী কত আদর্শ পতিভক্তা যে তার স্বামীকে মিলন দিয়ে খুশি ও সন্তুষ্ট করার জন্য কারো মৃত্যুতেও শোক প্রকাশ করে না। অতি ধৈর্য ও সহনশীলতার সাথে এমন টি করা অনুপম পতিভক্তির পরিচয়। পরন্ত এরূপ করার পশ্চাতে প্রভূত কল্যাণের আশা করা যায়।যেমন, ঘটেছিল উম্মে সুলাইম রুমাইসা  বিবি রমিসা) ও তার স্বামী আবু তালহা (রাঃ) এর সাংসারিক জীবনে

তাদের একমাত্র সন্তান ব্যাধিগ্রস্ত ছিল। আবু তালহা প্রায় সময় নবী (সাঃ) এর নিকট কাটাতেন। এক দিন সন্ধ্যায় তিনি তার  নিকট গেলেন। এদিকে বাড়িতে তার ছেলে মারা গেল। উম্মে সুলাইম সকলকে নিষেধ করলেন ,যাতে আবু তালহার নিকট খবর  না যায়। তিনি ছেলেটিকে ঘরের এক কোণে ঢেকে রেখে দিলেন।

অতঃপর স্বামী আবু তালহা রসুল (সাঃ) এর নিকট থেকে বাড়ি ফিরলে বল্লেন,আমার বেটা কেমন আছে? রুমাইসা বললেন, যখন থেকে ও পীড়িত তখন থেকে যে কষ্ট পাচ্ছিল তার চেয়ে এখন খুব শান্ত । আর আশা করি সে আরাম লাভ করেছে! অতঃপর পতিপ্রানা স্ত্রী স্বামী এবং তার সহিত আসা আর অন্যান্য মেহমানদের জন্য রাত্রের খাবার পেশ করলেন। সকলে খেয়ে উঠে গেল। আবু তালহা উঠে নিজের বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়লেন। (স্ত্রীর কথায় ভাব্লেন,ছেলে আরাম পেয়ে ঘুমাচ্ছে।)ওদিকে পরিব্রত রুমাইসা সব কাজ সেরে উত্তমরূপে সাজ- সজ্জা করলেন, সুগন্ধি মাখলেন। অতঃপর স্বামীর বিছানায় এলেন। স্বামী স্ত্রীর নিকট থেকে সৌন্দর্য , সৌরভ এবং নির্জনতা পেলে উভয়ের মধ্যে যা ঘটে  তা তাদের স্বামী – স্ত্রীর (মিলন) ঘটল। তারপর রাত্রির শেষ দিকে রুমাইসা স্বামীকে বললেন, হে আবু তালহা! যদি কেউ  কাউকে কোন জিনিস ধার স্বরূপ ব্যবহার করতে দেয়, অতঃপর সেই জিনিসের মালিক যদি তা ফেরত নেয় তবে ব্যবহারকারির

কি বাঁধা দেওয়া বা কিছু বলার থাকতে পারে? আবু তালহা বললেন, অবশ্যই না। স্ত্রী বললেন, তাহলে শুনুন, আল্লাহ আযযা অজাল্ল আপনাকে যে ছেলে ধার দিয়েছিলেন তা ফেরত নিয়েছেন। অতএব আপনি ধৈর্য ধরে নেকীর আশা করুন! একথায় স্বামী রেগে  উঠলেন; বললেন এতক্ষণ পর্যন্ত কিছু না বলে চুপ থেকে ,এত কিছু হওয়ার পর তুমি আমাকে ছেলে মরার খবর দিচ্ছ?!  

অতঃপর তিনি ইন্না লিল্লাহি—-, পড়লেন ও আল্লাহর প্রশংসা কলেন। তারপর আল্লাহর রসূল (সাঃ) এর নিকট ঘটনা খুলে বললে তিনি তাকে বললেন, তোমাদের উভয়ের ঐ গত রাত্রে আল্লাহ বরকত দান করুন। সুতরাং ঐ রাত্রের রুমাইসা তার গর্ভে আবার একটি সন্তান ধারণ করেন।( ত্বায়ালিসী ২০৫৬, বাঃ ৪/৬৫-৬৬,ইহিঃ ৭২৫ নং, আঃ ৩/১০৫-১০৬ প্রভৃতি। দেখুন,আহকামুল জানায়েয ২৪-২৬ পৃষ্ঠা)

 

৩- স্বামীর দ্বীন ও ইজ্জতের খেয়াল করা ওয়াজেব

বেপর্দা , টো – টো কোম্পানি হয়ে,পাড়াকুদুলী হয়ে, দরজা, জানালা বা ছাদ হতে উকি ঝুকি মেরে, স্বামীর অবর্তমানে কোন বেগানার সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করে অথবা কোথাও গেয়ে -এসে নিজের  তথা স্বামীর বদনাম করা এবং আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করা মোটেই বৈধ নয়। স্বামী – গৃহে হিফাযতের সাথে থেকে তার মনমত চলা এক আমানত। এই আমানতের খেয়ানত স্বামীর অবর্তমানে করলে নিশ্চয়ই সে সাধ্বী নারী নয়।

মহান আল্লাহ বলেন, সুতরাং সাধ্বী নারীরা অনুগতা এবং পুরুষের অনুপস্থিতিতে লোকচক্ষুর অন্তরালে নিজেদের ইজ্জত রক্ষাকারিণী। আল্লাহর হিফাযতে তারা তা হিফাজত করে। ( কুঃ ৪/৩৪)

স্বামীর নিকট স্বামীর ভয়ে বা তাকে প্রদর্শন করে পর্দাবিবি বা হিফাযত কারিণী সেজে তার অবর্তমানে গোপনে আল্লাহকে ভয় না  করে কুটুম বাড়ি, বিয়েবাড়ি প্রভৃতি গিয়ে অথবা শ্বশুর বাড়িতে পর্দানশীন সেজে এবং বাপের বাড়িতে বেপর্দা হয়ে নিজের মন ও খেয়াল- খুশীর তাবেদারী করে থাকলে সে নারী নিশ্চয় বড় ধোঁকাবাজ।  প্রিয় নবী (সাঃ) বলেন, তিন ব্যক্তি সম্পর্কে কোন প্রশ্নই করো না; যে জামাআত ত্যাগ করে ইমামের অবাধ্য হয়ে মারা যায়, যে ক্রীতদাস বা দাসী প্রভু থেকে পলায়ন  করে মারা যায়, এবং সেই নারী যার স্বামী অনুপস্থিত থাকলে = তার সাংসারিক সমস্ত প্রয়োজনীয় জিনিস বন্দোবস্ত করে  দেওয়া সত্ত্বেও – তার অনুপস্থিতিতে বেপর্দায় বাইরে যায়।( সিসঃ ৫৪২ নং)

শ্রেষ্ঠা রমণী টো সেই যে কোন পরপুরুষকে নিজের মুখ দেখায় না এবং বেগানার মুখ নিজেও দেখে না।

স্বামী বাড়িতে না থাকলে গান- বাজনা শুনে নয়, বরং কুরআন ও দ্বীনী বৈ প্রস্তুক পড়ে নিজের মন কে ফ্রি করে। কারণ গান শুনে মন আরো খারাপ হয়। স্বামী কে কাছে পেতে ইচ্ছা হয়। যৌন ক্ষুধা বেড়ে উঠে। তাইতো সফল গণ বলেন, গান হল ব্যভিচারের মন্ত্র।( তামুঃ ১৬২ পৃষ্ঠা) পক্ষান্তরে , আল্লাহর যিকিরেই মুমিনদের চিত্ত প্রশান্ত হয়। (কুঃ ১৩/২৮)

৪- স্বামীর বৈয়াক্তিক ও সামাজিক জীবনের প্রতিও বিশেষ খেয়াল রাখা স্ত্রীর ক্রতব্য

সুতরাং তার ব্যক্তিগত কাজ- কারবার, পড়াশুনা প্রভৃতিতে ডিস্টার্ব করা বা বাঁধা দেওয়া  হিতাকাঙ্খিনী স্ত্রী অভ্যাস হতে  পারে না।  স্বামীর নিকট এমন বিষয় , বস্ত বা বিলাস – সামগ্রী স্ত্রী চাইবে না, যার ফলে সে বাধ্য হয়ে অবৈধ অর্থো পারজনের পথ অবলম্বন করে ফেলে।  হারাম উপার্জন ও অসৎ ব্যবসায় মোটেই তার সহায়তা করবে না। সাধ্বী স্ত্রী টো সেই;  যে তার স্বামীকে ব্যবসায় বের হলে এই বলে সলফের স্ত্রীর মত অসিয়ত করে, আল্লাহকে ভয় করবে, হারাম উপার্জন থেকে বিরত থাকবেন। কারণ আমরা না খেয়ে ক্ষুধার ধৈর্য ধরতে পারব; কিন্তু জাহান্নামের ধৈর্য ধরতে পারব না। (মামুঃ ১৬৯ , সিমুসাঃ ৫০-৫১ পৃষ্ঠা)

পতি যদি হয় অন্ধ হে সতী বেধোনা নয়নে আবরণ, অন্ধ পতিরে আখি দেয় যেন তোমার সত্য আচরণ।

 

৫- স্বামীর ঘর সংসার পরিস্কার

পরিচ্ছন্ন এবং সাজিয়ে গুছিয়ে পরিপাটি করে রাখা স্ত্রীর কর্তব্য। স্বামীর যাবতীয় খিদমত করা, ছেলে – মেয়েদের কে পরিস্কার ও সভ্য করে রাখাও তার দায়িত্ব। একান্ত চাপ ও প্রয়োজন না হলে দাসী ব্যবহার  আলসে মেয়ের কাজ। সাহাবী মহিলাগণ স্বহস্তে ক্ষেতেরও কাজ করতেন। একদা হরযত ফাতেমা (রাঃ) কাজের চাপের এবং  নিজের মেহনত ও কষ্টের কথা আব্বার নিকট উল্লেখ করে কোন খাদেম চাইলে প্রিয় নবী (সাঃ)তাকে স্বহস্তে কর্ম সম্পাদন করতে নির্দেশ দিলেন এবং অলসতা কাটিয়ে উঠার  ঔষধও বলে দিলেন; বললেন যখন তোমরা শয়ন করবে তখন ৩৪ বার আল্লা-হু আকবর, ৩৩ বার সুবহা-নাল্লা-হ এবং ৩৩ বার আলহামদু-লিল্লা-হ পড়বে। এটা তোমাদের জন্য খাদেম থেকেও

উত্তম হবে! (মুঃ ২৭২৭ নং)

তাইতো একজন বাদশাহর কন্যা হয়েও তিনি স্বহস্তে চাকি ঘুরিয়ে আটা পিষতেন।তার হাতে ফোস্কা পড়ে যেত, তবুও আব্বার কথা মত কোন দা- দাসী ব্যবহার না করেই সংসার করেছেন।

আত্নাহারা না হইয়া সৌভাগ্য সোহাগে

পরন্ত যে করে কাম স্বকরে যতনে,

পরিজন প্রীতি হেতু প্রেম অনুরাগে

আদর্শ রমণী সেই যথার্থ ভূবনে।

পক্ষান্তরে দাস- দাসী ব্যবহার বিপত্তি আছে। এদের মাধ্যমে ঘরের রহস্য বাইরে যায়, বাড়ির কোন সদস্যের সহিত অবৈধ  প্রণয় গড়ে উঠতে পারে। তাদের ব্যবহার , চরিত্র , বিশ্বাস প্রভৃতি শিশুদের মনে প্রভাব বিস্তার করে ইত্যাদি। বিলাসের আতিশয্যে নিজের স্বামী ও সন্তানের সেবা যত্ন ত্যাগ করে সব কিছু  দাস- দাসীর উপর নির্ভর করলে সংসারে ইচ্ছাসুখমিলে না।

বিলাসিনী যে রমনী গৃহস্থালি কারয

সম্পাদন আপন ভাবিয়া না করে

হউক তাহার পতি রাজ- অধিরাজ

অধমা সে নারী এ সংসার ভিতরে।

 

৬- স্বামী তার স্ত্রীকে মন -প্রাণ দিয়ে ভালোবেসে থাকে

যথা সাধ্য উত্তম আহার – বসনের ব্যবস্থা করে থাকে। তবুও ক্রটি স্বাভাবিক । কিন্তু সামান্য ক্রটি দেখে সমস্ত উপকার উপহার ও প্রীতি – ভালোবাসাকে ভুলে যাওয়া নারীর সহজাত প্রকৃতি। কিছু শিক্ষা বা শাসনের কথা বললে মনে করে, স্বামী তাকে কোন দ্বীন ভালোবাসেনা। স্বামীর অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তার  মনে নিদারুণ ব্যথা দিয়ে থাকে। এটি এমন একটি কর্ম যার জন্যও মেয়েরা পুরুষদের চেয়ে অধিক সংখ্যায় জাহান্নাম বাসিনী হবে।( বুঃ, মুঃ, মিঃ ১৯ নং)

প্রিয় নবী (সাঃ) বলেন,আল্লাহ সেই রমণীর দিকে তাকিয়েও দেখেন না। ( দেখবেন না) যে তার স্বামীর কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে না, অথচ সে স্বামীর মুখাপেক্ষিনী। (নাঃ সিসঃ ২৮৯ নং)

আসলেই মেয়ে লোকের এমনি স্বভাব , হাজার দিলেও যায় না অভাব।

 

৭- স্ত্রী হয় সংসারের রাণী

স্বামীর ধন – সম্পদ সর্বসংসার হয় তার রাজত্ব এবং স্বামীর আমানতও। তাই তার যথার্থ হিফাযত করা এবং যথাস্থানে সঠিক ভাবে তা ব্যয় করা আত্নীয় – স্বজন কে উপঢৌকন দেওয়া আমানতের খেয়ানত। এমন স্ত্রী পুণ্যময়ী নয়; বরং খেয়ানত – কারিণী। অবশ্য  স্বামী ব্যয়কুন্ঠ কৃপণ হলে এবং স্ত্রী ও সন্তানের জন্য যথার্থ খরচাদি না দিলে, স্ত্রী গোপনে শুধু ততটুকুই নিতে পারবে যতটুকু নিলে তার ও তার সন্তানের প্রয়োজন মিটানোর জন্য যথেষ্ট হবে। এর চেয়ে বেশী নিলে অবৈধ মাল নেওয়া হবে।( ইরঃ ২৬৪৬ নং, ফমঃ ৯২ পৃষ্ঠা)

অবশ্য স্বামী দানশীল হলে এবং দানের জন্য সাধারণ অনুমতি থাকলে স্ত্রী যদি তার অনুপস্থিতিতে দান করে, তাহলে উভয়েই  সমান সওয়াবের অধিকারী হবে।( বুঃ মুঃ আদাঃ তিঃ ইমাঃ প্রভৃতি, সতাঃ ৯২৬-৯৩০ নং)

  

৮- স্বামীর বিনা অনুমতিতে বাইরে , মার্কেট, বিয়ে বাড়ি , মরাবাড়ি ইত্যাদি না যাওয়া পতিভক্তির পরিচয়

এমন কি  মসজিদে (ইমামের পশ্চাতে মহিলা জামাআতে ) নামায পড়তে গেলেও স্বামীর অনুমতি চাই।(আনিঃ ১/২৭৫- ২৭৬)

এই  পরাধীনতায় আছে মুক্তির পরম স্বাদ। মাতৃক্রোড় উপেক্ষা করে ঝড় – বৃষ্টি , শীত – গ্রীম্মে যেমন শিশু নিজেকে বিপদে ফেলে, তা- এর কোল ছেড়ে ডিম যেমন ঘোলা হয়ে যায়, ঠিক তেমনি নারীও স্বামীর এই স্নেহ – সীমাকে উল্লংঘন করে দ্বীন ও দুনিয়া নষ্ট করে। রুচিতে যা রুচে তাই যদি খাওয়া পরা,বলা, চলা হয় এবং রুচিতে যা বাঁধে তাই যদি না খাওয়া,না পরা,না বলা, না চলা  হয় তাহলে নৈতিকতাই বা কি? মানবিকতাই বা কি? তাও মানুষের রুচির ব্যাপারে নয় কি? তাহলে থাকল আর কি?

বন্ধন, শৃঙ্খলা ও সীমাবদ্ধতা ছাড়া কি কোন নৈতিকতা, কোন শান্তি ও সুখ আছে?

পক্ষান্তরে ইসলামী নৈতিকতা ও গন্ডী- সীমার ভিতরে থেকেও নারী কর্ম, চাকুরী ও উপার্জন করতে পারে। যেখানে দ্বীনের  কোন বাঁধা নেই, নারীত্ব ও সতীত্বের কোন আঁচড় নেই, সেখানে স্বামীর ও কোন বাঁধা থাকতে পারে না। মহিলা কেবল মহিলা কর্মক্ষেত্রে, শিশু ও মহিলা শিক্ষাঙ্গনে অফিস বা শিক্ষকতার কাজ, বাড়িতে বসে শিশু ও মহিলা পোশাকের দর্জিকাজ অথবা কোন হাতের শিল্পকাজ বা ম্যাকানিকেল কাজ দিব্যি করতে পারে; যাতে পরপুরুষের সাথে কোন সংস্রবই নেই।  অন্যথা পর পুরুষের পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে অবাধ ভেবে মিলেমিশে কর্ম করা নারী স্বাধীনতা নয়, বরং নারীর হীনতা এবং স্বামীর দীনতা।( ফমঃ ১০৩ , তামুঃ ১৩১-১৩৩ পৃষ্ঠা)

অবশ্য যারা স্বামীর পরম সুখ ও ভালোবাসা পেয়ে ধন্য হয়েছে তারা কোন দ্বীন ঐ সকল চাকুরী মরীচিকার পশ্চাতে ছুটে না।  যেখানে জলভ্রম প্রদর্শন করে নারীকে পুরুষদের কর্মক্ষেত্রে আকর্ষণ করে এনে তারা নারীকেই জলখাবার বানিয়ে থাকে। ঘরের  ও  বাইরের  উভয় কাজ উভয়কেই করতে হলে সুখ কোঁথায়? এই অবস্থায় সিন্তান – সন্ততির লালন পালন ও তরবিয়ত কোঁথকে কেমন করে হবে।

বলাই বাহুল্য যে, ধর্ম ও নৈতিকতাকে কবর দিয়ে উচ্চ শিক্ষিতা হয়ে ,প্রতিষ্ঠিতা হয়ে, চাকুরী করে মোটা উপার্জন করে, স্বামীর তোয়াক্কা না করে, পার্থিব সুখ লুটা ভোগবাদী বস্তুবাদী এবং পরকালে অবিশ্বাসীনীদের লক্ষ্য। পক্ষান্তরে ধর্ম ও নীতি- নৈতিকতা বজায় রেখে পার্থিব বিষয়াদি পরকালে বিশ্বাসিনী মুসলিম নারীর উপলক্ষ্য মাত্র।  মুসলমানের মূল লক্ষ্য হল পরকাল। মুসলিম দু,দিনের সুখ স্বপ্নে সন্তুষ্ট নয়। সে চায় চিরস্থায়ী উপভোগ্য অনন্ত সুখ। এ জন্যই  প্রিয় নবী (সাঃ) দুআ করতেন,দুনিয়াকে আমাদের বৃহত্তম চিন্তার বিষয় এবং আমাদের জ্ঞানের শেষ সীমা (মূল লক্ষ্য) করে দিও না। ( তিঃ ৩৪৯৭ নং)

 

৯- স্বামীর অনুমতি না হলে তার উপস্থিতিতে স্ত্রী নফল রোযা রাখতে পারে না

যেহেতু তার সাংসারিক কর্মে বা যৌন- সুখে বাঁধা পড়লে আল্লাহ সে রোযায় রাজী নন। (বুঃ, মুঃ, সতাঃ ৯২৭ নং)

 

১০- কোন বিষয়ে স্বামী রাগান্বিত হলে স্ত্রী বিনিতা হয়ে নীরব থাকবে

নচেৎ ইটের বদলে পাটকেল ছুড়লে আগুনে পেট্রল পড়বে। যে সোহাগ করে, তার শাসন করার অধিকার আছে। আর এ শাসন স্ত্রী ঘাড় পেতে মেনে নিতে বাধ্য হবে। ভুল হলে ক্ষমা চাইবে। যেহেতু স্বামী বয়সে ও মর্যাদায় বড়। ক্ষমা প্রার্থনায় অপমান নয়; বরং মানুষের মান বর্ধমান হয়; ইহকালে এবং পরকালেও। তাছাড়া অহংকার ও ঔদ্ধত্যের সাথে বেশ করেছি,অত পারিনা, ইত্যাদি বলে অনমনীয়তা প্রকাশ সতী নারীর ধর্ম  নয়। সুতরাং স্বামীর রাগের আগুনকে অহংকার ও ঔদ্ধত্যের পেট্রল দ্বারা নয় বরং বিনয়ের পানি দ্বারা নির্বাপিত করা উচিৎ।

প্রিয় নবী (সাঃ) বলেন, তোমাদের স্ত্রীরাও জান্নাতী হবে; যে স্ত্রী অধিক প্রণয়িনী, সন্তান দাত্রী, বার- বার ভুল করে  বার বার স্বামীর নিকট আত্নসমর্পণকারিণী, যার স্বামী রাগ করলে সে তার নিকট এসে তার হাতে হাত রেখে বলে, আপনি রাজি  (ঠাণ্ডা) না হওয়া পর্যন্ত আমি ঘুমাবই না।( সিসঃ ২৮৭ নং)

নারী হয়ে একজন পুরুষের মন জয় করতে না পারা বর  আর্শ্চযেরব্যাপার! তুফানে হাল ধরতে নারে সেইবা কেওন নেয়ে, আর মরদের মন যোগাতে নারে সেই বা কেমন মেয়ে?  খেয়াল রাখার বিষয় যে, স্বামী স্ত্রীর মাঝে বিচ্ছেদ ঘটাতে শয়তান বড় তৎপর। সমুদ্রের উপর নিজ সিংহাসন পেতে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে তার স্পেশাল ফোর্স পাঠিয়ে দেয়। সবচেয়ে যে বড় ফিতনা সৃষ্টি করতে পারে সেই হয় তার অধিক নৈকট্যপ্রাপ্ত।

কে কি করেছে তার হিসাব নেয় ইবলিস । প্রত্যেকে এসে বলে আমি অমুক করেছি, আমি অমুক করেছি। (চুড়ি, ব্যভিচার, হত্যা প্রভৃতি সংঘটন করেছি) । কিন্তু ইবলিশ বলে, কিছুই করনি তুমি। অতঃপর যখন একজন বলে আমি স্বামী – স্ত্রীর  মাঝে রাগারাগি সৃষ্টি করে উভয়ের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে ছেড়েছি, তখন শয়তান উঠে এসে তাকে আলিঙ্গন করে বলে, হ্যাঁ, তুমিই কাজের ব্যাটা কাজ করেছ!(মুঃ ২৮১৩  নং) সুতরাং রাগের সময় শয়তানকে সহায়তা ও খোশ করা অবশ্যই  কোন মুসলিম দম্পতির কাজ নয়।

 

১১-মপ্তিপ্রাণা নারীর সদা চিন্তা স্বামীর মনোসুখ, তার পরম আনন্দ ও খুশী

যেহেতু তার আনন্দেই পরমানন্দ। স্বামীর আনন্দ  না হলে নিজের আনন্দ কল্পনাই করতে পারে না। বাইরে থেকে রোদে – গরমে এলে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে তার সামনে পানি পেশ  করা, হাওয়া করে দেওয়া ইত্যাদি সতীনারীর ধর্ম। তাছাড়া স্বামী সালাম দিয়ে যখন বাড়ি প্রবেশ করে,তখন উত্তর দিয়ে হাসিমাখা ওষ্ঠাধরের স্পশ উপহার যদি উভয়ে বিনিময় করে, তবে এর মত দাম্পত্য সুখ আর আছে কোঁথায়?

সংসার সুখের হয় রমণীর গুণে,

রমণী সুন্দর হয় সতীত্ব রক্ষণে।

এমনিতেই স্ত্রী স্বামীর জন্য হয়ে থাকবে ফুটন্ত গোলাপ। পরিস্কার – পরিচ্ছন্নতায় , অঙ্গসজা এবং বেশভূষায় স্বামীর চক্ষুশীতল করবে। সৌন্দর্য ও সৌরভে ভরা গোলাপের দিকে একবার তাকিয়ে যেমন মন- প্রান আকৃষমাণ হয়, ঠিক তেমনি হবে স্বামীর মন তার স্ত্রীকে দেখে । স্বামী – স্ত্রীর ে পরম সুখ থাকলে, কোন নারী সংঘটন বা নারী স্বাধীনতা ও নারী – মুক্তির আন্দোলনের প্রয়োজন নেই। নারী – পুরুষের মধুর সহাবস্থান ও মধুর মিলনে পরম সুখ, এই শান্তিই পরম। কিন্তু এমন স্বর্গীয় সংসার আছে কয়টা?

কোঁথায় গেলে  তারে পাই? যার লাগি এ বিশাল বিশ্বে নাই মোর কোন শান্তি।

বলাই বাহুল্য যে, যে স্বামী তার স্ত্রীর প্রগাঢ় ভালোবাসা পায়, বিপদে সান্তনা ,কষ্টে সেবাযত্ন, যৌবনে পরম মিলন পায়,  রাগ -অনুরাগ বা অভিমান করলে যাকে তার স্ত্রী মানিয়ে নেয় এমন স্বামীর সৌভাগ্যবান স্বামী আর কে হতে পারে?  পিতা – মাতার দুআ ও স্ত্রীর প্রেমেই তো রয়েছে স্বামীর প্রকৃত পুরুষ। এমন নারী না হলে পুরুষের জীবন বৃথা ।

প্রেমের প্রতিমা স্নেহের সাগর

করুণা – নির্ঝর দয়ায় নদী,

হত মরুময় সব চরাচর

জগতে নারী না থাকিত যদি স্বামীকে সন্তুষ্ট ও রাজি করাবার জন্য ইসলাম এক প্রকার মিথ্যা বলাকেও স্ত্রীর জন্য বৈধ করেছে। স্ত্রীর মনে যতটুকু পরিমাণ স্বামীর ভালবাসা বর্তমান , স্বামীকে অধিক খুশী করার জন্য তারব দ্বিগুণ ভালোবাসা মুখে প্রকাশ করা, বরং স্বামীর কোন কুস্বভাবের কারণে ভালবাসায় আবিলতা এলেও তা গোপন করে স্বামীকে যদি তার প্রাণঢালা  ভালোবাসার কথা মিথ্যা করে বলে জানায় তাহলে তা দোষের নয়। তবে তার কর্ম যেন এ কথার অসত্যতা প্রমান না করে।

খুব কম সংখ্যক পরিবারই এমন আছে যাদের দাম্পত্য অনাবিল প্রেমের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত। নচেৎ অধিকাংশ সংসারই তাসের  ঘর। প্রায় সব সংসারের গাড়িই চলে তানে, নচেৎ ঠেলায়। বেশীর ভাগ দাম্পত্যই সন্তান, ইসলাম অথবা সামাজিক, নৈতিক নতুবা কোন অন্য চাপের ফলে টিকে থাকতে বাধ্য হয়। সুতরাং এ ক্ষেত্রে যদি স্বামী স্ত্রী উভয়ে উভয়কে মোটেই ভালো না বাসলেও যদি খুব ভালবাসি বলে এক অপরকে রাজী করে সংসার টিকিয়ে রাখতে চায়, তবে তা মিথ্যা নয়।( ফিসুঃ/১৮৫)

তবে হ্যাঁ, এ মিথ্যা যেন অন্য উদ্দেশ্যে , ধোঁকা প্রদান বা অধিকার নষ্ট করার উদ্দেশ্যে       স্বামীকে বলা না হয়। নচেৎ  সে মিথ্যা প্রমাণিত হলে সামান্য প্রেমের ও শিশমহলটুকু ভেঙ্গে চুরমার হয়ে  যাবে।                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                   ১২- স্বামীর সংসারে তার পিতামাতাও বোনদের সহিত সদ্ব্যবহার করা স্ত্রীর অন্যতম কর্তব্য

স্বামীর মা- বাপ ও বোনকে   নিজের মা- বাবা,-বোন ধারনা করে সংসারের প্রত্যেক কাজ তাদের পরামর্শ নিয়ে করা, যথাসাধ্য তাদের খিদমত করা  এবং তাদের ( বৈধ) আদেশ – নিষেধ মেনে চলা পুণ্যময়ী সাধ্বী নারীর কর্তব্য।

১৩- নিজের এবং অনুরূপ স্বামীর সন্তান- সন্ততির লালন- পালন , তরবিয়ত ও শিক্ষা দেওয়া স্ত্রীর শিরোধার্য কর্তব্য

এর জন্য তাকে ধৈর্য, স্হৈর্য  , করুণা ও স্নেহের পথ অবলম্বন করা একান্ত উচিৎ। বিশেষ করে স্বামীর সামনে সন্তানের উপর রাগ না ঝাড়া, গাল মন্দ , বদ্দুয়া ও মারধর না করা স্ত্রীর আদবের পরিচয়। তাছাড়া বদ্দুআ করা হারাম। আর তা কবুল হলে  নিজের ছেলেরই ক্ষতি ।( আদাঃ ,মামুঃ ১৭৬ )

স্ত্রীর উচিৎ ,সন্তান – সন্ততিকে পবিত্রতা, পরিচ্ছন্নতা ,সচ্চরিত্রতা ,বীরত্ব সংযমশীলতা , বিষয় – বিতৃষ্ণা, দ্বীন – প্রেম, ন্যায় – নিষ্ঠা, আল্লাহ – ভীরুতা , প্রভৃতি মহৎগুণের উপর প্রতি পালিত ও প্রতিষ্ঠিত করা। কারণ, মায়ের হাতেই গড়বে মানুষ মা যদি সে সত্য হয় মা-ই তো এ জাহানে প্রকৃত বিশ্ববিদ্যালয়।

এই মা-ই তো পরমা,সত্তমা। এই মায়ের পদতলেই জান্নাতের আশা করা যায়। এই মা তার সন্তানকে এমন মানুষ করে তুলবে; যাতে তারা বাঁচবে ইসলাম নিয়ে ও ইসলামের জন্য এবং মরবে তো তারই পথে। যাদের মাধ্যমে সমাজে সাধিত হবে প্রভূত কল্যান। এরা হবে তারাই, যাদেরকে নিয়ে রসূল (সাঃ) কিয়ামতে গর্ব করবেন। আরো পড়ুন

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

মোজার উপর মাসাহ

মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান (হাদিস)

জেনে নিন মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান। রাসূল (সাঃ) ও সাহাবায়ে কেরামগণ চামড়ার মোজা পরিধান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE