Breaking News
Home / বই থেকে / ইদ্দত ( আদর্শ বিবাহ )

ইদ্দত ( আদর্শ বিবাহ )

স্বামী তালাক দিলে স্ত্রী ইদ্দত পালন না করে দ্বিতীয় স্বামী গ্রহন করতে পারে না। এতে স্বামী – স্ত্রীকে বিবাহ – বিচ্ছেদের ব্যাপারে পুনর্বিবেচনা করতে সুযোগ দেওয়া হয়। ফলে সেই সুযোগে স্ত্রী প্রত্যানীতা করতে পারে। তাছাড়া ইদ্দত বিধিবদ্ধ করায় এ কথার ইঙ্গিত রয়েছে যে কোন ছেলে খেলার বিষয় নয়। এর আগে পিছে রয়েছে বিভিন্ন নিয়ম-নীতি ও সীমা-সময়। পরন্ত ইদ্দতের মাঝে নারীর গর্ভাশয় পরীক্ষা হয়। যাতে দুই স্বামীর তরফ থেকে বংশের সংমিশ্রণ না ঘটে। তালাকপ্রাপ্তা নারী যদি অরমিতা হয় বা তার বাসরই না হয়ে থাকে, তবে তার কোন ইদ্দত নেই। (কুঃ ৩৩/৪৯)

রমিতা মহিলা যদি ঋতুমতী হয়, তবে তার ইদ্দত তিন মাসিক; তিন মাস নয়। সুতরাং সন্তানকে দুধ পান করাবার সময় যদি ২/৩ বছরেও মাসিক না হয়, তবে তিন মাসিক না হওয়া পর্যন্ত সে ইদ্দতেই থাকবে। ( কুঃ ২/২২৮, ফউঃ ২/ ৭৯৯)

ঋতুহীনা কিশোরী বা বৃদ্ধা হলে তার ইদ্দত তিন মাস। (কুঃ ৬৫/৪) কিন্তু ইদ্দত শুরু করে কিছু দিন পরে তার ঋতু শুরু হলে,ঋতু হিসাবেই তাকে তিন ইদ্দত পালন করতে হবে। (ফিসুঃ ২/২৯৭)

কোন জানা কারণে মাসিক বন্ধ থাকলে বা হবার সম্ভবনা না থাকলে তার ইদ্দতও তিন মাস। কিন্তু হবার সম্ভবনা থাকলে  ফিরে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করে তিন মাসিক ইদ্দত পালন করবে। অবশ্য যদি অজানা কারণে মাসিক বন্ধ থাকে তাহলে ১ বছর অর্থাৎ গর্ভের ৯ মাস এবং ইদ্দতের তিন মাস অপেক্ষা করে তবে দ্বিতীয় স্বামী গ্রহন করতে পারবে।( ফউঃ ২/৭৯৯) গর্ভবতীর ইদ্দত প্রসবকাল পর্যন্ত। ( কুঃ ৬৫/৪) মাস অথবা মাসিক হিসাবে ইদ্দত শুরু করার কিছু দিন পর গর্ভ প্রকাশ পেলে প্রসবকাল পর্যন্তই অপেক্ষা করতে হবে। তালাকপ্রাপ্তা মহিলা তার তালাকের খবর তিন মাসিক পর পেলে তার ইদ্দত শেষ। আর নতুন করে ইদ্দত নেই। (ফউঃ ২/৮০৪)

খোলা তালাকের ইদ্দত এক মাসিক। মাসিকের পর দ্বিতীয় স্বামী গ্রহন করতে পারে। (ফউঃ ২/৭৯৯)

অনুরূপ স্বামী মারা গেলে বিরহবিধুরা বিধবা স্ত্রীকেও ইদ্দত ও শোকপালন করতে হবে। (কুঃ ২/২৩৪)

এতে স্ত্রীর গর্ভাশয় গর্ভ থেকে খালি কি না তা পরীক্ষা হবে; যাতে বংশের সংমিশ্রণ না ঘটে। তাছাড়া এতে স্ত্রীর নিকট স্বামীর যে মর্যাদা ও অধিকার তার অভিব্যক্তি ঘটে। সুতরাং বিধবা গর্ভবতী হলে প্রসবকাল পর্যন্ত ইদ্দত পালন করবে। ( আর তা ২/১

ঘন্টাও হতে পারে।) অতঃপর সে ভিন্ন স্বামী গ্রহন করতে পার। তবে গর্ভবতী না হলে ৪ মাস ১০ দিন অপেক্ষা করে ইদ্দত  পালন করবে।( কুঃ ২/২৩৪) 

বিধবার বিবাহের পর বাসর না হয়ে থাকলেও ঐ ইদ্দত পালন করবে। যেমন,নাবালিকা কিশোরী অথবা অতিবৃদ্ধা হলেও ইদ্দত পালন করতে হবে। (মবঃ ১৬/১১৪, ১২০-১৩২)

রজয়ী তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রী  ( ইদ্দতে থাকলে ; যাকে স্বামী ফিরিয়ে নিতে পারে।  ) তার স্বামী মারা গেলে নতুন করে স্বামী – মৃত্যুর  ইদ্দত পালন করবে। (ফউঃ ২/৮২০)

কনোও কারণে ইদ্দতের সময় পিছিয়ে দেওয়া যায় না। স্বামীর মৃত্যুর পর পর থেকেই ইদ্দত পালন শুরু করতে হবে।( মবঃ ২/৮১৫, ফমঃ ৬৫ পৃষ্ঠা)

স্বামীর মৃত্যুর খবর ৪ মাস পর জানলে তার ইদ্দত মাত্র ঐ বাকী ১০ দিন। ৪ মাস দশ দিন পর জানলে আর কোন ইদ্দত  নেই।( ফউঃ ২/৮০৪) 

ইদ্দতের ভিতরে বিধবার শোকপালন ওয়াজেব এই শোক পালনে বিধবা ত্যাগ করবেঃ-

১- প্রত্যেক সুন্দর পোশাক। তবে এর জন্য কোন নির্দিষ্ট ধরণের বা রঙের কাপড় নেই।

যে কাপড়ে সৌন্দর্য নেই সে কাপড় পরিধান করবে। সাদা কাপড়ে সৌন্দর্য থাকলে তাও ব্যবহার নিষিদ্ধ। (মবঃ১৯/১৫৮)  নির্দিষ্ট ভাবে কালো পোশাক ব্যবহারও বিধিসম্মত নয়। (ফমঃ ৬৫ পৃষ্ঠা)    

 

২- সর্বপ্রকার অলংকার । অবশ্য সময় দেখার জন্য হাতে ঘড়ি বাঁধায় দোষ নেই। (মবঃ ১৯/১৫৮)

হ্যাঁ, তবে বাইরে গেলে টাইম দেখার জন্য প্রয়োজন না হলে বা রাখার মত পকেট বা ব্যাগ থাকলে হায়ে বাঁধবে না।  কারণ, ঘড়িতেও সৌন্দর্য আনে।

৩- সর্বপ্রকার প্রসাধন ও অঙ্গরাগ; সুরমা, কাজল,যে কোন রং ইত্যাদি। 

৪- সর্বপ্রকার সুগন্ধি; সুবাসিত সাবান বা তৈলাদি ব্যবহার নিষিদ্ধ। (ফউঃ ২/৮১৩)

এমন কি নিজের ছেলে মেয়ে বা অন্য কাউকে সেন্ট জাতীয় কিছু লাগিয়ে দিতেও পারে না।

যেহেতু সুগন্ধি হাতে এসে যাবে তাই।(কিদাঃ ২/১৪৩) অবশ্য মাসিক থেকে পবিত্রতার সময় দুর্গন্ধ দুরীকরণার্থে কিছু সেন্ট লজ্জাস্থানে ব্যবহার করতে পারে। (লিবামাঃ ২৪/১৩)

৫= স্বামী গৃহের বাইরে যাওয়া। যেহেতু স্বামী গৃহেই ইদ্দত পালন ওয়াজেব। তবে একান্ত প্রয়োজন বা অগত্যায়  ( পর্দায় সাথে) বাইরে যাওয়া বৈধ ।যেমন ,ছাত্রী বা শিক্ষিকা হলে স্কুল – কলেজ যেতে পারে। (মবঃ ১৬-১৩১)

কেউ না থাকলে গরু – ছাগল, ফসলাদির দেখা শোনা করতে পারে ইত্যাদি।

অনুরূপ স্বামীর বাসস্থানে কোন আত্নীয় না থাকলে ভয়ের কারণে কোন অন্য আত্নীয়র বাড়িতে ইদ্দত পালন করা যায়।(মবঃ ১৯/১৬৮)

এ ছাড়া কুটুমবাড়ি , সখীর বাড়ি বা আর কারো বাড়ি বেড়াতে যাওয়া নিষিদ্ধ। (তামু; ১৫৪ পৃষ্ঠা)

ইদ্দতের সময় অতিবাহিত হলে এসব বিধি – নিষেধ শেষ হয়ে যাবে। এর পর রীতিমত সব কিছু ব্যবহার করতে পারেএবং বিবাহও করতে পারে। বরং যারা ধৈর্যহারা হয়ে ব্যভিচারের পথে পা বাড়িয়ে  রাঁড়ের ঘরে ষাঁড়ের বাসা করে তাদের পক্ষে বিবাহ ফরয।

ইদ্দতের মাঝে বোগল ও গুপ্তাঙ্গরে লোম এবং নখাদি কেটে পরিস্কার – পরিচ্ছন্ন থাকা, মাছ – মাংস, ফল ইত্যাদি উত্তম খাদ্য দূষণীয় নয়। যেমন চাঁদের মুখ দেখতে নেই, বিয়ের কনে স্পর্শ করতে নেই প্রভৃতি ধারণা ও আচার  কুসংস্কার। ( তামুঃ ১৫৪-১৫৫ পৃষ্ঠা)

এই বিধমা স্বামীর ওয়ারেস হবে। রজয়ী তালাকপ্রাপ্তা হলে এবং ইদতের ভিতরে বিধবা হলে ওয়ারেস হবে। বাতিল বিবাহ খোলা তালাক প্রভৃতির ইদ্দতে ওয়ারেস হবে না। 

এদের শোক পালনের ইদ্দতও নেই। অনুরূপ তালাকপ্রাপ্তা তার ইদ্দত অতিবাহিত হওয়ার পর স্বামী মারা গেলে ওয়ারেস হবে না। হ্যাঁ যদি স্বামী মরণ – রোগে স্ত্রীকে মীরাস থেকে বঞ্চিত করার উদ্দেশ্যে তালাক দিয়েছে বলে জানা যায়, তবে  তার ইদ্দত পার হয়ে গেলেও ( ১ বা ২ তালাকের পর; যাতে পুনঃবিবাহ সম্ভব) ঐ স্ত্রী দ্বিতীয় বিবাহ না করে থাকলেওয়ারেস হবে। যথা নিয়মে তিন তালাকপ্রাপ্ত হলে অথবা ইদ্দতের পর বিবাহ করে সে আর ওয়ারেস হবে না। (ফউঃ২/৮২০, কিদাঃ ২/২০৫, ফমঃ ৯৭-৯৮)

মিলন না হলে স্বামী মারা গেলেও স্ত্রী ওয়ারেস হবে।( ফউঃ ২/৮২১) আরো পড়ুন

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

মোজার উপর মাসাহ

মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান (হাদিস)

জেনে নিন মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান। রাসূল (সাঃ) ও সাহাবায়ে কেরামগণ চামড়ার মোজা পরিধান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *