Breaking News
Home / বই থেকে / গর্ভ ও জন্মনিয়ন্ত্রণ

গর্ভ ও জন্মনিয়ন্ত্রণ

সন্তান এক সম্পদ। নিঃস্ব হলেও সন্তানের আকাঙ্খা প্রত্যেক মা- বাপের। তাই তো নিঃসন্তান পিতা-মাতা চিকিৎসার্থে  কিনা না খায়, কোথা না যায়? অবশ্য বৈধ ভাবে চিকিৎসা – বিজ্ঞানের সাহায্য নেওয়া দূষণীয় নয়।  দূষণীয় হল  সন্তানলোভে কোন পীর – ঠাকুর- মাযারের নিকট গেয়ে নযরাদি মেনে সন্তান – কামনা; বরং এ হল খাটি শিরক।

আল্লাহই যাকে ইচ্ছা সন্তান দেন এবং যাকে ইচ্ছা বন্ধ্যা রাখেন। সুতরাং মুসলিমের  উচিত তারই  নিকট এই বলে চাওয়াঃ_   অর্থাৎ হেপ্রভু! আমাকে নেক সন্তান দান কর। ( কুঃ ৩৭/১০০)

অর্থাৎ ,হে আমার  প্রতিপালক ! তুমি তোমার তরফ থেকে সৎ বংশধর দান কর,নিশ্চয় তুমি অত্যাধিক প্রার্থনা শ্রবণকারী। ( কুঃ ৩/৩৮)

চিকিৎসা – বিজ্ঞানের সাহায্যে কৃত্রিম উপায়ে গর্ভসঞ্চারণ পদ্ধতির মাধ্যমে সন্তান লাভ করতে হলে যদি স্বামীরই বীর্য নিয়ে স্ত্রীর গর্ভাশয়ে কৃত্রিম উপায়ে রেখে প্রজনন সম্ভব হয়, তাহলে এমন সন্তানভাগ্য লাভ করা বৈধ। পক্ষান্তরে স্বামী ব্যতিত অন্য কারো বীর্য দ্বারা এমন প্রজনন হারাম। সে সন্তান নিজের বৈধ হবেনা;বরং সে জারজ গন্য হবে।

সন্তান – পিপাসা দূরীকরণারথে অপরের সন্তান নিয়ে ( পালিত পুত্র হিসাবে) লালল- পালন করায় ইসলামের  সমর্থন নেই। (কুঃ ৩৩/৪)

কোন পদ্ধতিতে আল্লাহর ইচ্ছা ব্যতিত কারো নিজ ইচ্ছামত পুত্র বা কন্যা জন্ম দেওয়া সম্ভব নয়।  মহান আল্লাহ বলেন, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর  সার্বভৌমত্ব আল্লাহর। তিনি যা ইচ্ছা , তাই সৃষ্টি করেন।  তিনি যাকে ইচ্ছা কন্যা সন্তান এবং যাকে ইচ্ছা পুত্র সন্তান দান করেন। অথবা দান করেন পুত্র- কন্যা উভয়ই এবং যাকে ইচ্ছা তাকে বন্ধ্যা রাখেন।  নিশ্চিয়ই তিনি সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান। (কুঃ ৪২/৪৯-৫০)

তোমরা প্রতিপালক যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন এবং যাকে ইচ্ছা মনোনীত করেন। এতে ওদের কোন হাত নেই।আল্লাহ  মহান এবং ওরা যাকে তার অংশী করে তা হতে তিনি ঊর্ধ্বে। (কুঃ ২৮/৬৮)

সুতরাং পুত্র – কন্যা জন্মদানের ব্যাপারে স্ত্রীরও কোন হাত বা ক্রূটি নেই। তাই কেবল কন্যাসন্তান প্রসব করার ফলে  যারা নিজেদের স্ত্রীর প্রতি ক্ষুদ্ধ হয়,তারা নিছক মূর্খ বৈ কি?

সবই তো আল্লাহর হাতে। তাছাড়া বীজ তো স্বামীর।স্ত্রী উর্বর শস্যক্ষেত্রে। যেমন বীজ তেমনি ফসল।  সুতরাং দোষ হলে বীজ ও বীজ ওয়ালাদের দোষ হওয়া উচিত,জমির কেন?  পক্ষান্তরে ২/৩ টি  কন্যা বা বোনের যথার্থ প্রতিপালন করলে পরকালে মহানবী (সাঃ) এর পাশাপাশি বাসস্থান লাভ হবে।( সিসঃ  ২৯৬ নং) 

পরন্ত যে ছেলের আশা  করা যায় তা ব্যাটা না হয় ব্যথা, ল্যাঠা বা কাটা ও তো হতে পারে। তবে সব কিছুই ভাগ্যের  ব্যাপার  নয় কি? তকদীরে বিশ্বাস ও সন্তুষ্টি এবং আল্লাহর উপর  যথার্থ ভরসা থাকলে পরম শান্তি লাভ করা যায়  সংসারে।

মিলনে যার বীর্যপাত আগে হবে তার বা তার বংশের কারো মতই সন্তানের রূপ – আকৃতি হবে। স্বামীর বীর্যস্খলন  আগে হলে তার পিতৃকুলের কারো মোট এবং স্ত্রীর বীর্যস্খলন আগে ঘটলে সন্তান তার মাতৃকুলের কারো মত হয়ে জন্ম নেবে। (বুঃ ৩৩২৯ নং, মুঃ ৩১৫ নং)

সুতরাং মাতা -পিতা গৌরবর্ণ হলেও সন্তান কৃষ্ণ বা শ্যামবর্ণ অথবা এর বিপরীতও হতে পারে। (বুঃ৬৮৪৭, মুঃ১৫০০)

কারন ,ঐ সন্তানের পিতৃকুল  বাআ মাতৃকুলে ঐ বর্ণের কোন পুরুষ বা নারী উবশ্যই ছিল যার আকৃতি – ছায়া নিয়ে জন্মে হয়েছে।

মিলনের ৬ মাস পর সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়া সম্ভব । এতে স্ত্রীর প্রতি সন্দেহ পোষণ বৈধ নয়। কারন সন্তানের  গর্ভাশয়ে  অবস্থান এবং তার দুধপানের সর্বমোট সময় ত্রিশ মাস। (কুঃ ৪৬/১৫) আর তার দুধ পানের সময় হল ২ বছর ( ২৪ মাস) । (কুঃ ৩১/১৪)

এতএব অবশিষ্ট ৬ মাস গর্ভের নুন্যতম সময় নির্ধারণ করতে কোন সন্দেহ নেই।

২/৩ বছর পূর্বে স্বামী – মিলনে সতী – সাধ্বীর সন্তান অবৈধ নয়। যেহেতু বহু মহিলার গর্ভকাল স্বাভাবিক সময় হতেও অধিক হয়ে থাকে। গর্ভের সময় সাধভাত , পাচভাজা ইত্যাদির উৎসব ও অনুষ্ঠান বিজাতীয় প্রথা। ইসলামে এসব বৈধ নয়।

অনুরূপ পোঁত পাঠানো ইত্যাদি প্রথাও।  গর্ভকালে গর্ভিণী নিজের অথবা তা ভ্রূণের কোন ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে রোযা  কাযা করতে পারে। ( মবঃ ১৪/১১০)

দাই ও সাহায্য কারিণী ব্যতিত অন্যান্য মহিলাদের সন্তান ভূমিষ্ঠ করা দেখা ( গর্ভিণীর গুপ্তাঙ্গ দর্শন ) বৈধ নয়। ( মুঃ ৩৩৮ নং) প্রসূতিগৃহে লোহা, ছেড়াজাল, মুড়ো ঝাঁটা প্রভৃতি রাখা শিরিক।  প্রসবযন্ত্রণা যতই দীর্ঘ হোক না কেন ( খুন না ভাঙলে ) নামাযের সময় মাফ নেই।  যেভাবে  সম্ভব সেই ভাবেই নামায পড়তে হবে। (ফমঃ ৩৫ পৃষ্ঠা)

সন্তান – কাঙালি দম্পতির বিপরীত আর এক দম্পতি রয়েছে যাআ সুখী পরিবার গড়ার স্বপ্নে পরিবার – পরিকল্পনা  তথা  জন্মনিয়ন্ত্রণের সাহায্য নিয়ে থাকে। তাদের শ্লোগান হল আমরা দুই আমাদের দুই, ইত্যাদি। কিন্তু এইভাবে নির্দিষ্ট – সংখ্যক সন্তান নিয়ে জন্মনিয়ন্ত্রণ করা ইসলাম পরিপন্থী কর্ম। যেহেতু ইসলাম অধিক সন্তানদাত্রী নারীকে বিবাহ করতে উদ্ধুদ্ধ করে।  সংখ্যাগরিষ্ঠাতা ইসলামের কাম্য।

পরন্ত কেন এ জন্মনিয়ন্ত্রণ ? খাওয়াতে – পরাতে পারবে না এই ভয়ে অথবা এই ভয়ে মানুষ করতে পারবে না এই ভয়ে? প্রথম ভয় যাদের হয় তারা আল্লাহর প্রতি কুধারণা রাখে।

আলাহ যাকে সৃষ্টি  করেন, তাকে তার রুযীও নির্দিষ্ট করে দেন। আল্লাহ বলেন, পৃথিবীর প্রত্যেক জীবের জীবিকার  দায়িত্ব আল্লাহরই । (কুঃ ১১/৬) এমন বহু জীব আছে যারা নিজেদের খাদ্য জমা রাখে না ( সংগ্রহ করতে অক্ষম) ,  আল্লাহই ওদেরকে এবং তোমাদের কে জীবনোপকরণ দান করে থাকেন। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। (কুঃ ২৯/৬০)

সুতরাং ভয় কিসের ? বহু জাতক তো জনককেই যথা সময়ে সুখসামগ্রী দান করে থাকে, তবে জনকের উল্টো ভয় কেন? বরং এইভাবে আল্লাহ উভয়কেই রুজি দিয়ে থাকেন, তবে হত্যা কি জন্য?  আল্লাহ বলেন, তোমাদের সন্তানকে দারিদ্র্য – ভয়ে হত্যা করো না, ওদেরকে এবং তোমাদের কে আমিই রুজি দিয়ে থাকি।  নিশ্চয়ই ওদের কে হত্যা করা মহা পাপ।(কুঃ ১৭/৩১)

আর মানুষ করার কোন ভয় নয়। মানুষ করে গড়ে তুলতে চেষ্টা করলে আল্লাহ সাহায্য করবেন। আল্লাহকে যে ভয় করে  আল্লাহ তার জন্য সমাধান সহজ করে দেন। (কুঃ ৬৫/৪) তাছাড়া কত সন্তান অমানুষের ঘরেও মানুষ রূপে গড়ে উঠে।

কোন অসীলায় কে মানুষ হয়ে যায়,কে বলতে পারে? আবার কত বাপের একমাত্র ছেলেও অমানুষ হয়েই থেকে যায়।  বাস্তবই তার প্রমাণ।

সুতরাং টিউবেক্ট্যামি বা ভ্যাসেক্ট্যামির মাধ্যমে বা গর্ভাশয় তুলে ফেলে জন্মের পথ একেবারে বন্ধ করে দেওয়া বৈধ নয়। অবশ্য যই মহিলার প্রসবের সময় দমবন্ধ হওয়ার ( প্রাণ যাওয়ার) ভয় থাকে অথবা সীজ্যার ছাড়া তার প্রসবই না হয়, তবে এমন

সঙ্কটের ক্ষেত্রে অগত্যায় জন্ম – উপায় নির্মূল করা বৈধ হবে। কিন্তু একেবারে নির্মূল না করে কিছু সময়ের জন্য বন্ধ রাখা যায় কি না? স্ত্রী যদি প্রত্যেক বৎসর সন্তান দিয়ে দিয়ে দুর্বল ও রোগা হয়ে যায় বা ঘন – ঘন সন্তান দানের ফলে কোন স্ত্রীরোগ তাকে পীড়িতা করে তুলে , তাহলে ট্যাবলেট আদি  ব্যবহার করে দুই সন্তানের মাঝের সময়কে  কিছু লম্বা করা বৈধ। এর বৈধতা রসূল (সাঃ) এর যুগের কিছু সাহাবীর আযল (সঙ্গমে বীর্যস্খলনের অময় যৌনী পথের বাইরে বীর্যপাত করা) থেকে প্রমাণিত হয়। ( যিঃ ৩১-৩৩ পৃষ্ঠা, দিতঃ ৪৪, ফমঃ ৫২,৯৩ পৃষ্ঠা, লিবামাঃ ২৬/১৮,২১) 

গর্ভবতীর জীবন যাওয়ার আশঙ্কা না হলে গর্ভের ৪/৫ মাস পর ভ্রূণ নষ্ট করা বা গর্ভপাত করা হারাম। কারণ, তা জীবিত এক প্রানহত্যার শামিল। ৪ মাস পূর্বে কোন রোগ বা ক্ষতির আশঙ্কায় একান্ত প্রয়োজনে বৈধ।

সিজ্যার করে সন্তান প্রসবও বৈধ। মায়ের জান বাঁচাতে মৃত ভ্রূণ অপারেশন করে বের করা ওয়াজেব। যেমন মৃতগর্ভিণীর গর্ভে যদি জীবিত ভ্রূণ থাকে এবং সিজ্যার করে বের  করলে তার বাঁচার আশা থাকে তবে মৃতার সিজ্যার বৈধ; নচেৎ নয়। ( দিতঃ ৪৬, তামুঃ ৫৩-৫৭ পৃষ্ঠা)

ভ্রূণের বয়স ৪ মাস পূর্ণ হয়ে নষ্ট হলে বা করলে তার আকীকা করা উত্তম। ( লিবামাঃ ২৬/৩৪)

পরিশেষ, আল্লাহ সকল দম্পতিকে চিরসুখী করুন। পরিবার হোক সুখের। পিতা মাতা হোক আদর্শের। সন্তান হোক বাধ্য।

সংখ্যায় শুধু নয়, বরং জ্ঞান-বিজ্ঞান, দ্বীন ও চরিত্রে এক কথায় সর্বকল্যাণে উন্মতের শ্রীবৃদ্ধি হোক।

<——————————————->

হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের স্ত্রী ও সন্তানদেরকে আমাদের জন্য নয়নপ্রীতিকর এবং পরহেযগারদের জন্য আমাদেরকে আদর্শ স্বরূপ বানাও।

 

 সমাপ্ত

 —

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

[পঞ্চম পরিচ্ছেদ] ইসলামী শরী‘য়াহ বাস্তবায়নের হুকুম

আল্লাহর প্রতি ঈমান ও তাঁর একত্ববাদে বিশ্বাস এটাই দাবী যে, আমরা ঈমান আনব যে, তিনি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *