Breaking News
Home / বই থেকে / রাগে পাগল হয়ে যাই- কথাটি ঠিক নয়ঃ

রাগে পাগল হয়ে যাই- কথাটি ঠিক নয়ঃ

অনেকে বলে – হুজুর! আমার রাগ খুব বেশী। রাগে আমি পাগল হয়ে যাই। বিবেক-বুদ্ধি হারিয়ে ফেলি। আর তখনই স্ত্রীর উপর জুলুম করে বসি। তাকে মারধর করি, মুখে যা আসে তা-ই বলি’।

আসলে তাদের একথাটা ঠিক নয়। এর প্রমাণ হলও- মনে করুণ, কোনো এক শক্তিশালী লোক মামুন নামক এক দুর্বল ব্যক্তির উপর রাগ করল এবং বলল, তুমি এক্ষুণি আমার সামনে থেকে সরে যাও। কারণ এখন আমার হুঁশ –জ্ঞান ঠিক নেই। ঠিক এই মুহূর্তেই যদি সেরের উপর সোয়া সের পড়ে অর্থাৎ তার চেয়ে আরো শক্তিশালী কোনো লোক তার মোকাবেলায় এসে দাঁড়ায় তখন  সে অধিক শক্তিশালী লোকটির সামনে হাত জোড় করে বলতে থাকে- সাহেব! দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দিন। আমার ভুল হয়ে গেছে। আমি আর কখনো এমন করব না।

পাঠক! বলুন তো, লোকটি যদি সত্যিকার অর্থেই হুঁশ-জ্ঞান হারিয়ে ফেলত তাহলে কেন সে দ্বিতীয় লোকটির কাছে করজোড়ে ক্ষমা চাইছে।

সুতরাং বুঝা গেল, রাগে মানুষ হুঁশ-জ্ঞান হারায় না, পাগলও হয় না। যদি হতো তাহলে দুর্বল – সবল সবার সাথেই একই আচরণ করত। মোটকথা, নারী জাতি স্ত্রীরা সৃষ্টিগত ভাবে পুরুষের তুলনায় কম শক্তিশালী বলেই স্বামীরা তাদের উপর জুলুম করে এবং হুঁশ-জ্ঞান হারিয়ে ফেলার অজু হাত দেখিয়ে নিজকে বিচারের হাত থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করে। যদি নারীরাও পুরুষের মতো শক্তিশালী হতো তাহলে কোনোদিন কোনো পুরুষ বলত না যে, আমি রাগে হুঁশ-জ্ঞান হারিয়ে স্ত্রীকে মারপিট করি।

রাগের চিকিৎসাঃ  একবার জেদ্দা থেকে এক ব্যক্তি হযরত হাকীম আখতার সাহেব দামাত বারাকাতুহুম এর কাছে এই মর্মে চিঠি পাঠাল যে, হযরত! আমার ঘরে সর্বদা ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকে। আর ঝগড়ার মূল কারণ হলো, রাগ। অর্থাৎ আমরা স্বামী-স্ত্রী, সন্তানাদি- সকলের মধ্যে রাগ খুব বেশী। যার ফলে কেউ কাউকে ছাড় দিতে চায় না। তাই কী কাজ করলে আমাদের রাগ কমবে তা বলে দিলে চিরদিন আমরা আপনার কাছে কৃতজ্ঞ থাকব।

উত্তরে তিনি লিখলেন-রাগ কমানোর জন্য আপনাদেরকে নিম্নলিখিত কাজ গুলো করতে হবে।

১। খানা খাওয়ার সময় যখন দস্তরখান  বিছানো হয় এবং খানা সম্মুখে রাখা হয় তখন সাতবার বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম পড়ে খাদ্যের উপর দম করে তারপর খাবেন। বাচ্ছাদের খাবারের উপরও দম করে নিবেন।

অনুরূপ ভাবে খাবার তৈরী এবং রুটি বানানোর জন্য যে পানি ব্যবস্থার করা হয় তাতেও উল্লেখিত নিয়মে দম করুণ এবং ঐ পানির স্বারা খানা পাকান ও খামীর বানিয়ে রুটি তৈরী করুণ। এতে ইনশা আল্লাহ ঘরের লোকদের মধ্যে মায়া-মুহাব্বত ও কোমল স্বভাব সৃষ্টি হবে।

২। চলতে – ফিরতে ইয়া আল্লাহ, ইয়া রাহমান, ইয়া রাহীম যথা সম্ভব বেশী বেশী করে পড়বেন।

৩। প্রতিদিন ঠাণ্ডা পানির সাথে একটি লেবুর রস, সামান্য দলুকোজ ও তিন চামচ ইছুবগুলের ভূষি মিশিয়ে তা পান করবেন।

প্রত্যহ এরূপ করলে রক্ত ও মেজাজ থেকে রুক্ষতা, কঠোরতা ও গরম ভাব চলে যাবে।

একমাস পর জেদ্দা থেকে হযরতের কাছে আরেকটি চিঠি এল। তাতে লেখা ছিল, হুজুর! আলহামদুলিল্লাহ্‌! আপনার কথা অনুযায়ী আমল করার পর আমার ঘরে এখন শান্তির সুবাতাস বইছে । সকলের মধ্যে কোমলতা ও মমত্ব দেখা দিয়েছে। ক্রোধ চলে গেছে। আমাদের সকলের মেজাজ এখন খুব নরম। সত্যি আল্লাহর নাম অনেক বরকত ময়।

শেয়ার করে আপনার বন্ধুদেরকে পড়ার সুযোগ দিন।

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

মোজার উপর মাসাহ

মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান (হাদিস)

জেনে নিন মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান। রাসূল (সাঃ) ও সাহাবায়ে কেরামগণ চামড়ার মোজা পরিধান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE