Breaking News
Home / বই থেকে / সুখময় দাম্পত্য জীবন রচনায় স্বামীকে যা করতে হবে

সুখময় দাম্পত্য জীবন রচনায় স্বামীকে যা করতে হবে

স্ত্রীর আকাঙ্খা ও প্রয়োজন পূর্ণ করুণঃ

large (5)কতিপয় স্বামীর ব্যাপারে এরূপ অভিযোগ শুনা যায় যে, তারা ঘরে এসেই স্ত্রীর সাথে কোনো কথাবার্তা না বলে তাসবীহ হাতে নিয়ে এককোণে বসে জিকির জপতে শুরু করে। তাদের এ অবস্থা দেখে বাবা বায়েজীদ বোস্তামী এবং বাবা ফরীদুদ্দীন আত্তারও হয়তো মাথা নিচু করবেন! তদুপরি তারা ঘরেও প্রবেশ করেন এমন ভাবে যে, চোখ দু’টি গভীর মনোযোগ সহকারে তাসবীহ পাঠে রত, যেন খাজা মঈনুদ্দীন চিশতী (রহঃ) আজমীর শরীফে তাশরীফ আনছেন।

অথচ সাধারন ভাবে প্রতিটি স্ত্রীরই কামনা- স্বামী ঘরে আসার পর তাঁর সাথে একান্তে কিছু সময় কাটাবে, কিছু হাসি-আনন্দ করবে, খোশগল্প করবে। স্বামী যখন কোনো কাজে বাইরে যায় তখন স্ত্রী ব্যথাভরা প্রাণে দিনভর একথা ভেবে অপেক্ষার প্রহর গুণতে থাকে যে, কখন আসবে আমার প্রান প্রিয় স্বামী! কখন আমি তাঁকে কাছে পেয়ে মনের আশা পূরণ করব! কখন তাঁর চেহারা দেখে চোখ দু’টিকে শীতল করব! অথচ স্বামী বেচারা গম্ভীর প্রকৃতির চেহারা নিয়ে বুজুর্গ সেজে ঘরে প্রবেশ করছেন!!!

প্রিয় ভাইটি আমার!! একটু চিন্তা করে বলুন তো, উপরোক্ত অবস্থা যেসব স্বামীর, তাদের দ্বারা কি স্ত্রীর হক আদায় হচ্ছে? তারা কি এই জিকির-তাসবীহ দ্বারা পার পেয়ে যাবেন? আমার তো মনে হয় না। কারণ ইসলামই

 শরীয়ত এটাকে সমর্থন করে না। এর প্রমাণ হলো, আম্মাজান হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রাযি:) বলেন, হুজুর (সাঃ) যখন ঘরে তাশরীফ আনতেন তখন তিনি মুচকি হেসে তাশরীফ আনতেন। চোখ দুটি বন্ধ করে আরশে আজীমের উপর থাকতেন না। যমীনের অধিবাসিদের হকও আদায় করতেন। অথচ সবসময় তিনি উম্মতের জন্য কত চিন্তামগ্ন থাকতেন। সব সময় তাঁকে কাফেরদের মোকাবেলা করতে হতো। একটি জিহাদ শেষ হওয়ার পর অস্ত্রশস্ত্র রাখার মওকা এখনও হয়নি; এরই মধ্যে আরেকটি জিহাদের ঘোষণা হয়ে গেল। কিন্তু এতদসত্বেও কখনো এমন হয়নি যে, তিনি ঘরে প্রবেশ করেছেন, অথচ তাঁর চেহারা মোবারকে মুচকী হাসি ছিল না।

স্ত্রী যে ঘরে থাকে সে  মুচকি হেসে প্রবেশ করা, স্ত্রীর সাথে হাসিমুখে সাক্ষাত করার সুন্নত।

বলতে দ্বিধা নেই, বদদীন এবং দ্বীনদার উভয় শ্রেণী থেকেই এই সুন্নত আজ ছুটে যেতে শুরু করেছে। যারা বদদীন তারা বড় বড় মোচের মধ্যে তাও  দিয়ে চোখ লাল করে মুখ ভার করে ফেরাউন সেজে ঘরে আসে, যেন তাঁর ভয়ে স্ত্রী ভীত থাকে। যেন তাঁকে কোনো কিছু বলতে সাহস না পায়। পক্ষান্তরে যারা দীনদার তারা ঘরে প্রবেশ করেন বাবা বায়েজিদ বোস্তামী, বাবা ফরীদউদ্দীন আত্তার ও খাজা মঈনুদ্দীন চিশতী (রহঃ) এর ছুরতে। মোরাকাবার সাথে ধ্যানমগ্ন হয়ে চক্ষু বন্ধ করে এমন ভাবে ঘরে আসেন, যেম তিনি আরশে মোয়াল্লায় আছেন! মাটির পৃথিবীর সাথে কোনো সম্পর্কই যেন তাঁর নেই।

মনে রাখবেন, এই উভয় শ্রেণীর লোকের জীবন ধারাই সুন্নত পরিপন্থী। তাই আজ থেকে এই ধারা বাদ দিন। স্বীয় স্ত্রীর কাছে যাওয়ার সময় মুখে মুচকি হাসি রাখুন। তাঁকে সময় দিন। আদর-সোহাগ দিয়ে তাঁর প্রাণের জ্বালা নির্বাপিত করুণ। তাঁর মনের কামনা-বাসনা পূরণ করুণ। সাধ্যমত সবকিছু দিয়ে তাঁর কলিজাকে ঠান্ডা করুণ। তাঁর সাথে হাস্য-রসিকতায় মেতে উঠুন। কারণ, এসময়টা তো এমন সময় যখন স্ত্রীর হক আদায়ের মধ্যে, তাঁকে হৃদয় উজার করে ভালোবাসা বিলিয়ে দেওয়ার মধ্যেই সাওয়াব। সুন্নত পালনের নিয়তে আপনি আপনার স্ত্রীকে যত আদর-সোহাগ দিবেন, যত ভালোবাসার বিনিময় করবেন, যত তাঁকে কাছে টানবেন ততই আপনার আমলনামায় সাওয়াব লিখা হতে থাকবে।

আরেকটি কথা। আপনি যদি আদর্শ স্বামী হতে চান তাহলে আপনাকে স্মরণ রাখতে হবে যে, আপনি আপনার স্ত্রীর অভিভাবক। স্ত্রী তাঁর পিতা-মাতার সংসার ও উহার মায়া-মুহাব্বত ছেড়ে আপনার সংসার ও পরিবারকে আপন করে মিয়েছে। তাই আপনাকে অবশ্যই তাঁর মৌলিক চাহিদা পূরণে যত্নবান হতে হবে। সাধ্যনুযায়ী তাঁর খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। নবী করীম (সাঃ) বলেছেন, তুমি যখন আহার করবে তাকেও আহার করাবে। তুমি যখন কাপড় পরিধান করবে তাকেও পরাবে।

আর্থিক অবস্থা অস্বচ্ছল হওয়ার কারণে অপারগতা হেতু স্ত্রীর মৌলিক চাহিদা গুলো পুরোপুরি পূরণ করতে সক্ষম না হলে অবশ্যই সান্ত্বনা দিতে হবে। তাঁকে বুঝিয়ে বলতে হবে। যাতে সে ধৈর্যধারণ করতে পারে। অনেক স্বামীর মধ্যে এটুকুও পাওয়া যায় না। এমনটি হওয়া মোটেও উচিত নয়। বাসস্থান ও মনোরঞ্জনের বিষয়ে যত্নবান হওয়া একজন আদর্শ স্বামীর একান্ত কর্তব্য। আল্লাহ পাক আমাদের সকলকে ইসলামী শরীয়তের মূল মেজাজ বুঝে তদানুযায়ী আমল করার তাওফীক দান করুণ । আমীন!!

শেয়ার করে আপনার বন্ধুদেরকে পড়ার সুযোগ দিন।

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

মোজার উপর মাসাহ

মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান (হাদিস)

জেনে নিন মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান। রাসূল (সাঃ) ও সাহাবায়ে কেরামগণ চামড়ার মোজা পরিধান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE