Breaking News
Home / বই থেকে / স্ত্রীকে দাবিয়ে রাখার চেষ্টা পরিহার করুণ।

স্ত্রীকে দাবিয়ে রাখার চেষ্টা পরিহার করুণ।

husband-wife-loveআজকাল মানুষের মধ্যে স্ত্রীকে দাবিয়ে রাখার একটি প্রবনতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

তারা এটাকে নিজেদের আত্মসম্মান ও আত্মমর্যাদা বলে মনে করে। তারা ভাবে, স্ত্রীকে যদি ভয়-ভীতি ও হুমকী-ধমকী দিয়ে প্রভাবিত করে রাখতে না পারি, তাহলে কিসের স্বামী হলাম? আমাদের বাহাদুরী তো এখানেই যে, আমাদের ভয়ে আমাদের স্ত্রীরা তটস্থ থাকবে। ভয়ে আমাদের দিকে ভালো করে চোখ তুলে তাকাবার সাহস পাবে  না। আল্লাহ মাফ করুণ, সেদিন এক কিতাবে দেখলাম, কোনো কোনো এলাকায় নাকি এমনও রেওয়াজ আছে যে, প্রথম রাত্রে স্ত্রীকে মারধর করা হয়। যাতে করে সে প্রথম থেকেই স্বামীকে ভয় পায়। কী ঘোর মূর্খতা। কী জঘন্য অত্যাচার! আল্লাহপাক আমাদের কে এ মূর্খতা থেকে হেফাযত করুণ। অথচ নবীজি (সাঃ) আমাদের জন্য কত সুন্দর ও উত্তম নমুনা রেখে গেছেন-  একবার আমাদের আম্মাজান নবীজির সাথে বার্ষিক খরচপাতি নিয়ে কথা বলছিলেন। তাদের আওয়াজের মধ্যে কিছুটা তেজ ভাবও ছিল। ইতোমধ্যে হযরত ওমর (রাঃ) তাশরীফ আনলেন। তাকে দেখে সবাই চুপ হয়ে গেলেন। ওমর (রাঃ) বললেন, হে নবীপত্নীগণ! তোমাদের কি হলো যে, তোমরা ওমরের ভয়ে নিশ্চয় হয়ে গেলে? অথচ তোমরা স্বয়ং আল্লাহর নবীর সঙ্গে গরম ভাষায় কথা বলছিলে? জবাবে আম্মাজানগণ বললেন, হে ওমর! তুমি তো কঠোর প্রকৃতির মানুষ। আর আমরা তো জীবন যাপন করি দয়ার সাগর প্রিয় নবী (সাঃ) এর সঙ্গে। [বুখারী শরীফ, খন্ডঃ ১, পৃষ্ঠাঃ ৫২০]

এ হাদিস থেকে বুঝা গেল, নবী করীম (সাঃ) আমাদের আম্মাজান্দের কে ভয়-ভীতি দেখিয়ে দাবিয়ে রাখার চেষ্টা করতেন।  যদি তা-ই হতো, তাহলে তারা কোনো নবীজির সাথে গরম ভাষায় কথা বলতে পারতেন। তাই আসুন, আমরাও নবীজিকে অনুসরন করি। নিজ নিজ স্ত্রীকে দাবিয়ে রাখার অপচেষ্টা পরিহার করি।

কোনো কোনো স্বামী এমন আছেন যাদের মনের মধ্যে সর্বদা একটা হিরো হিরো ভাব বিরাজ করে। যার কারণে স্ত্রীকে মনে করে জিরো! তাই তিনি সবসময় নিজের ইচ্ছা ও মতামতকে সঠিক এবং স্ত্রীর ইচ্ছা ও মতামতকে অবহেলা ও অবজ্ঞা করে থাকেন। স্ত্রীকে মোটেই তিনি পাত্তা দেন না। তার মতামতকে কোনো মূল্যায়ন করেন না। তিনি সবসময় নিজেকে প্রধান্য দেন। বস্তুতঃ এরূপ মানসিকতার পোষণ করা অর্থহীন ও অনভিপ্রেত।

কেননা একজন আদর্শ স্বামী কখনো এমন করতে পারেন না। তিনি বরং মাঝে মধ্যে স্ত্রীকেও প্রাধান্য দিবেন। প্রাধান্য দিবেন ইচ্ছা-অনিচ্ছা, কামনা-বাসনা, অভিমত-মতামত ও পছন্দ –অপছন্দকে। অন্যথায় স্ত্রীর মনে স্বামীর প্রতি বীতশ্রদ্ধভাব জাগ্রত হবে। সে তখন স্বামীর সাথে মন খুলে কথা বলার সাহস পাবে না। ইচ্ছা-অনিচ্ছা, আবেগ-অনুভূতি, কামনা-বাসনা ইত্যাদি প্রকাশ করবে না। আর এর বিষময় ফল হিসেবে এক সময় হয়তো সে বেপরোয়া হয়ে স্বামীর হিরো হিরো ভাবকে ধুলোয় মিশিয়ে দিতেও কুন্ঠাবোধ করবে না।

অবশ্য এর উল্টো চিত্রও মাঝে মধ্যে চোখে পড়ে। এক্ষেত্রে স্বামী নয়, বরং স্ত্রীই নিজের মতামত ও ইচ্ছা অনিচ্ছাকে প্রাধান্য দেয়। স্বামী কিংবা স্বামীর ইচ্ছা – অনিচ্ছাকে তেমন একটা গুরুত্ব দেয় না। এ অবস্থাটি প্রথম অবস্থার চাইতে আরো বেশি মারাত্মক। কারন এর ফলে স্বামী-স্ত্রীর মধুর সম্পর্কে টানপোড়েন সৃষ্টি হয় এবং পরস্পরের প্রতি মায়া-মমতা ও প্রেম-ভালোবাসায় আশঙ্কাজনকভাবে ভাটা পড়তে থাকে। তাই স্বামী –স্ত্রী উভয়ের উচিৎ- একে অপরকে গুরুত্ব দেওয়া। তার মতামতকে প্রাধান্য দেওয়া। আমিই বেশি বুঝি, আমার মতামতটাই সঠিক – এরূপ মনোভাব না রাখা ।

আল্লাহ পাক আমাদের তাওফীক দিন। আমীন।

শেয়ার করে আপনার বন্ধুদেরকে পড়ার সুযোগ দিন।

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

মোজার উপর মাসাহ

মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান (হাদিস)

জেনে নিন মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান। রাসূল (সাঃ) ও সাহাবায়ে কেরামগণ চামড়ার মোজা পরিধান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE