Breaking News
Home / বই থেকে / স্ত্রীকে ভালোবাসুন, সেই সঙ্গে শাসনও করুণ।

স্ত্রীকে ভালোবাসুন, সেই সঙ্গে শাসনও করুণ।

large (12)আপনি স্বামী। স্বামী হিসেবে স্ত্রীকে তো অবশ্যই ভালোবাসবেন। তবে লক্ষ্য রাখবেন, আপনার এই সীমাহীন ভালোবাসা যেন, স্ত্রীকে শাসন করার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করে। বাধা হয়ে না দাঁড়ায়।  কেননা ইসলামী শরীয়তে স্ত্রীকে ভালোবাসার সাথে সাথে তার আমল আখলাক সংশোধনের জন্য শাসন করতেও বলা হয়েছে। তাই স্ত্রীকে শাসন করাও আপনার দায়িত্ব। যাতে শ্রী লাইনচ্যুত না হয়ে যায়। বে-আদব না হয়ে যায়। তবে স্ত্রীকে নিজের মনমত শাসন করা যাবে না। বরং তাকে শাসন করতে হবে শরীয়ত কর্তৃত্ব নির্ধারিত গন্ডির মধ্যে থেকেই। স্ত্রীকে কীভাবে শাসন করতে হবে তার সুন্দর ও উত্তম পদ্ধিত পবিত্র কুরআনে বর্ণনা করা হয়েছে। বলা হয়েছে- তোমরা যখন নারীদের অবাধ্য হওয়ার এবং মাথায় চড়ে বসার আশঙ্কা করো, তখন তোমরা তাদেরকে শাসন করো।

অতঃপর এ আয়াতে শাসন করার তিনটি পদ্ধতি বর্ণনা করা হয়েছে। প্রথমটি হলো, তাদেরকে উপদেশ দিয়ে বুঝাও। এর দ্বারা বুঝা গেল, একটু অন্যায় করলেই সাথে সাথে মারপিট শুরু করা যাবে না। বরং প্রথমে তাকে ভালো কথা বলে, উপদেশ দিয়ে, নসীহত করে ভালো বানানোর চেষ্টা করতে হবে।

দ্বিতীয়টি হলো, উপদেশ-নসীহতে কাজ না হলে তার বিছানা পৃথক করে দাও। অর্থাৎ তার সাথে মেলামেশা বন্ধ করে দাও এবং এক বিছানায় থাকলে অন্যদিকে পিঠ ফিরিয়ে, অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে শুয়ে থাকো। তাহলে তার আত্মমর্যাদা বোধ থাকলে তাতে আঘাত লাগবে। যার ফলে সংশোধন হয়ে তোমার কাছে আসবে।

যদি এই শাসনের দ্বারা কাজ হয়ে যায় তবে তো হলোই। আর যদি দেখা যায় যে, এভাবেও তার সংশোধন হচ্ছে না, তাহলে তৃতীয় নম্বরে বলা হয়েছে তাকে কিছুটা মারধর করে সংশোধন করো।

মুফাসসিরীনে কেরাম বলেছেন, এই আয়াতে স্ত্রীকে সংশোধনের যে ধারাবাহিকতা বলা হয়েছে, সে ধারাবাহিকতা রক্ষা করেই স্ত্রীকে সংশোধন করতে হবে। তবে মারধর করার সময় অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে, যেন তা পরিমাণে বেশী না হয়ে যায় এবং কোনো ভাবেই শরীরের কোথাও দাগ না পড়ে। আমি যদি আল্লাহর এই বান্দীর উপর জুলুম করি, জিদ মেটানোর জন্য বেশি শাস্তি দেই, তাহলে অবশ্যই আল্লাহ পাকও আমার থেকে প্রতিশোধ  নিবেন। আর আমি যদি তার উপর রহম করি, তাহলে আল্লাহ পাকও আমার উপর রহম করবেন। মোটকথা, স্ত্রীকে মার দিতে হলে চড়-থাপ্পর বা হালকা কিছু দিয়ে সামান্য আঘাত করলেই যথেষ্ট। কারন, স্ত্রীকে মারার উদ্দেশ্য হলো, তার আত্মমর্যাদা বোধ জাগিয়ে তোলা, তাকে কষ্ট দেওয়া নয়। যাতে তার মনে এই অনুশোচনা তো আসবেই না, বরং উল্টো জিদ পয়দা হবে। ফলে উপকারের চেয়ে ক্ষতি অনেক বেশি হয়ে যাবে। আসলে শরীয়তের প্রত্যেকটা আমল যেভাবে করতে বলা হয়েছে সেভাবে করলেই ফায়েদা হয়, অন্যথায় ফায়েদা না হয়ে ক্ষতি হয়ে যায়। আল্লাহ পাক আমাদের সকলেই সহীহ বুঝ দান করুণ। আমীন!!

শেয়ার করে আপনার বন্ধুদেরকে পড়ার সুযোগ দিন।

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

মোজার উপর মাসাহ

মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান (হাদিস)

জেনে নিন মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান। রাসূল (সাঃ) ও সাহাবায়ে কেরামগণ চামড়ার মোজা পরিধান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE