Breaking News
Home / বই থেকে / যাকে পেয়েছেন তাকে নিয়েই সন্তুষ্ট থাকুন।

যাকে পেয়েছেন তাকে নিয়েই সন্তুষ্ট থাকুন।

কোনো কোনো স্বামী একথা ভেবে মনে মনে সীমাহীন কষ্ট অনুভব করেন যে,আমার পিতা-মাতা আমার বিয়ের ক্ষেত্রে মারাত্মক ভুল করেছেন। তারা আমার জন্য উপযুক্ত স্ত্রী নির্বাচন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তাদের ভুলের কারণেই যেরূপ সুন্দরী-রূপসী নারী আমার জীবনে আসার কথা ছিল তা আমি পাইনি।
মেয়ে দেখার সময় আমার মা ১১ নম্নর চশমা পড়েছিলেন কিংবা তার
চোখে ছানি পড়েছিল। নইলে আমার মতো যোগত্যা  সম্পন্ন রাজপুত্রের
জীবনে এমন শ্রীহীন নারী আসবে কেন? অথহচ দেখতে অসুন্দর ও কম যোগত্যা সম্পন্ন অমুক ছেলেটি কেনো সুন্দরী মেয়ে পেয়েছে!
দেখলে মনে হয় রাজরানী!

কেউ কেউ আবার ঘটক কিংবা অন্য কাউকে এর জন্য দায়ী করে।
বলে- ওর কারণেই আজ আমাকে এমন অসুন্দরী নারী নিয়ে
ঘর-সংসার করতে হচ্ছে। ও যদি আমার বিয়ের ব্যাপারে নাক
না গলাত তাহলে কখনোই এমনটি হতো না ইত্যাদি।

এ ব্যাপারে আমার কথা হলো, স্ত্রীর ব্যাপারে অন্যকে
দোষারোপ করা মোটেই ঠিক নয়। কেননা কার স্ত্রী কে হবে,
কার সাথে কার জোড়া-সেটা বহু আগেই আল্লাহ পাক নির্ধারণ
করে রেখেছেন। যা কোনোভাবেই পরিবর্তন হওয়ার নয়। মনে
রাখা উচিৎ, আল্লাহ পাকের লেখার বাইরে কিছুই হয় না। তিনি
যা যার জন্য যে স্ত্রী ঠিক করেছেন, সে-ই তার জীবন সঙ্গিনী
হবে, সে-ই তারস স্ত্রী হবে, অন্য কেউ নয়। এখানে পিতা-মাতা,  
ঘটক কিংবা অন্য কারো কোনো হাত নেই। তাই তারা যদি এই
বিয়ের ব্যাপারে কোনো ধরণের কারোর কোনো হাত নেই। তাই
তারা যদি এই বিয়ের ব্যাপারে কোনো ধরণের চেষ্টা তদবীর না-ও
করতেন, কিংবা ঈই বিয়ের ব্যাপারে কিছু না-ও জানতেন তবু
কোনো না কোনোভাবে এই মেয়েটিই তার জীবনে স্ত্রী হিসেবে
আগমন করত। সুতরাং অন্যের উপর দোষ না চাপিয়ে আল্লাহ
পাক যার কিসমতে যা লিখে রেখেছেন তাকে পেয়েই খুশি হওয়া উচিৎ।
তবে  সান্ত্বনার কথা হলো, বেহেশ্তের মধ্যে এই অসুন্দর স্ত্রীকেই
হুরের চেয়ে অধিক সুন্দরী বানিয়ে দেওয়া হবে; যদি সে সবর করতে পারে।

ভাই! দুনিয়াতে এ জিন্দেগী তো মাত্র কয়েক দিনের। তাই সমস্ত
স্বাদ ও মজা এখানেই উপভোগ করতে চাইবেন না। আপনি হয়তো
প্রশ্ন করতে পারেন, অমুককে তাহলে সুন্দরী স্ত্রীর দেওয়া হলো কেন?
আমাকে দেওয়া হলো না কেন? আমি কি দোষ করেছি। হ্যাঁ ভাই,
আপনি কোনো দোষ করেননি। তারপরেও আপনাকে অসুন্দরী স্ত্রী
এজন্যে দেওয়া হয়েছে যে, আপনি এ স্ত্রী পেয়েই সবর করবেন,
ধৈর্যধারণ করবেন,  আর আল্লাহ পাক আপনাকে এই সবরের
বিনিময়ে  ঐ সুন্দরী স্ত্রী প্রাপ্ত লোকটির তুলনায় বেহেশতের
মধ্যে অনেক বেশি নেওয়ামত ও অনেক সুন্দরী হুর দান
করবেন। আর ঐ লোকটি সুন্দরী হুর পেলেও আপনার মতো
সুন্দরী হুর পাবে না। কেননা সে তো সুন্দরী স্ত্রীর নেয়ামত
দুনিয়ায়তেই ভোগ করে এসেছে। মোটকথা, আপনার দুনিয়ার
কমতিটুকু বেহেশতের মধ্যে পুষিয়ে দেওয়া হবে। অবশ্য একথা
শুধু স্ত্রীর বেলায় নয়, দুনিয়াতে আপনি যে কোনো খারাপ
অবস্থায়ই থাকুন না কেন, আপনি যদি এটাকে খোদায়ী
ফয়সালা মনে করে উহার উপর ধৈর্যধারণ করতে পারেন
তাহলে আল্লাহ পাক আখেরাতে আপনাকে অবশ্যই এর
প্রতিদান দিবেন। সুতরাং আপনি কোনো বিষয়ে ঠকে
গিয়েছেন, এমন ভাবার কোনো কারণ নেই।

যা হোক আমি বলছিলাম, দুনিয়ার অল্পদিনের জীবনের কথা।
এ জীবন সুখে কাটুক বা দুঃখে কাটুক একদিন তা শেষ হয়েই যাবে।
দুনিয়ার জীবনটাই একটা রেলষ্টেশনের সাথে তুলনা করা যায়।
সফরের সময় রেলষ্টেশনে ভালো চা পাওয়া  না গেলে লোকে
যেমন বল, আরে ভাই! গরম – ঠান্ডা যা পেয়েছেন্তা-ই পান
করে নাও। সর্দি-কাশি দমনের কাজ তো কিছু করবে।
বাড়িতে গিয়ে ভালো চা পান করো।

ঠিক তদ্রুপ দুনিয়াটা একটা রেল ষ্টেশন । এখানে যেমন স্ত্রী-ই
পেয়েছেন তাকে নিয়েই জীবন কাটিয়ে দিন। এমন যেন অবশ্যই
না হয় যে, স্ত্রী কম সুন্দরী হওয়ার দরুণ সর্বদা তাকে খোঁটা
দিচ্ছেন, তিরস্কার করছেন, বিভিন্নভাবে তাকে নির্যাতন করছেন।
আপনি একটু চিন্তা করে বুকে হাত রেখে বলুন তো, যদি
আপনার মেয়ে কম সুন্দর হতো তবে আপনি কি কামনা
করতেন? আপনি কি তখন এটা পছন্দ করতেন যে, আপনার
মেয়ের উপর জামাতা নির্যাতন করুক? মারধর করুক।
ডান্ডা মারুক বা গালি-গালাজ করুক? এবং এরূপে বলুক,
এটা আমার কপালের লিখন যে, তোর মতো মেয়ে আমার ভাগ্য জুটেছে?

প্রিয় ভাই! আপনি যেমন আপনার মেয়ের বেলায় এমনটি
চান না, তাহলে আপনার স্ত্রীও   তো অন্য কারোর মেয়ে।
যিনি তার মেয়ের ব্যাপারে কখনোই এমনটি কামনা করেন না।
সুতরাং আপনার উচিৎ এসব কথা মনে রেখে যেমন স্ত্রী-ই
পেয়েছেন তাকে নিয়েই সন্তুষ্ট থাকা এবং তার সাথে সদাচরণ
করা; কম সুন্দর কিংবা কম যোগ্যতাসম্পন্ন হওয়ার কারণে
তার সাথে অসদ্ব্যবহার না করা। আল্লাহ পাক আমাদের
সুমতি দিন এবং স্ত্রীর সাথে  ভালো ও সুন্দর আচরণ
করার তাওফীক দান করুণ। আমীন।।

শেয়ার করে আপনার বন্ধুদেরকে পড়ার সুযোগ দিন।

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

মোজার উপর মাসাহ

মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান (হাদিস)

জেনে নিন মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান। রাসূল (সাঃ) ও সাহাবায়ে কেরামগণ চামড়ার মোজা পরিধান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE