Home / বই থেকে / এই গুরুত্বপূর্ণ কথা গুলো স্মরণ রাখুন।

এই গুরুত্বপূর্ণ কথা গুলো স্মরণ রাখুন।

Wedding_Photographউপরে বর্ণিত বিষয়গুলো ছাড়াও সুখময় দাম্পত্য জীবন গঠনের জন্য আপনাকে আরো কিছু কাজ করতে হবে। যথাঃ আপনার মনোরঞ্জনের জন্য আপানার স্ত্রী যেমন আপনার সামনে পরিপাটি হয়ে থাকবে, বিশেষ বিশেষ সময়ে বিশেষ সাজ গ্রহন করবে, ঠিক তদ্রূপ আপনিও স্ত্রীর মনোরঞ্জনের জন্য পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন হয়ে ভালো ভালো কাপড়-চোপড় পরিধান করে থাকবেন। নিয়মিত নখ ও অবাঞ্ছিত পশম কাটবেন। চুল, দাড়ি আঁচড়িয়ে সুন্দর রাখবেন। সাবান, শ্যাম্পু, সুগন্ধ-, স্নো পাউডার ইত্যাদি প্রসাধনী ব্যবহার করবেন। যাতে আপনার প্রতি স্ত্রীর আকর্ষণ সৃষ্টি হয় এবং আপনাকে কাছে পেতে অত্যধিক আগ্রহী হয়ে উঠে।

স্ত্রীকে পর্দায় রাখা এবং তাকে বেপর্দায় চিলাফেরা থেকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য আপনাকে সম্ভাব্য সবকিছু অবশ্যই করতে হবে। এব্যাপারে যে কোনো প্রকার অবহেলা আপনার দীন-দুনিয়া বিনষ্ট হওয়ার প্রধান কারন হতে পারে।

পারিবারিক বিষয়ে খুব কঠোর যেমন হবেন নাতেমনি একেবারে নরমও হবেন না। বরং মধ্যেপন্থা অবলম্বন করবেন।

স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে কিংবা মাসিকে অনিয়মতান্ত্রিকতা থাকলে অবহেলা না করে দ্রুত তার চিকিৎসার ব্যাপারে যত্নবান হবেন। মাঝে মধ্যে তাকে পিতা-মাতা ও আত্মীয় স্বজনদের বাসায় বেড়াতে নিয়ে যাবেন। যাতে তার একঘেঁইয়েমী ভাব চলে যায়। স্ত্রীর সাথে পরিবারের অন্য কারোর ঝগড়া বা মনোমালিন্য হলে আপনি কারোর পক্ষ না নিয়ে নিরপেক্ষ ভাবে উভয়ের হক ও অধিকারের প্রতি দৃষ্টি রেখে তা মিমাংসা করে দিবেন।

কখনো স্ত্রীর সাথে কোনো বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য হলে সাথে সাথে নিজেরাই তা মিটিয়ে ফেলবেন।  একান্ত অপারগ না হলে বাইরের কাউকে অবশ্যই তা জানতে দিবেন না।

স্ত্রী যদি শিক্ষিতা হয় তবে তাকে ভালো ভালো লেখকের ভালো ভালো ধর্মীয় বই ও পত্রিকা কিনে এনে পড়তে দিবেন। এতে মোটেও পয়সার চিন্তা করবেন না। কেননা এসব বই ও পত্রিকা আপনার পরিবারের দ্বীনি পরিবেশকে সুন্দর, সতেজ ও উন্নত করবে। আপনার পরিবারের প্রতিটি সদস্যকে ধর্মীয় মেজাজে গড়ে তুলতে যথেষ্ট ভূমিকা পালন করবে। কস্মিন কালেও অশ্লীল নভেল-নাটক, উপন্যাস বা চরিত্র-বিধ্বংসী বই-পুস্তুক ও পত্র-পত্রিকা বাসায় আনবেন না।

আপনার স্ত্রী যদি উত্তম কাপড়-চোপড় এবং অলাঙ্কারাদির ব্যাপারে আগ্রহী হয় তবে সাধ্যনুপাতে তার সেই আগ্রহ পূরণ করতে  চেষ্টা করবেন। কিন্তু সে যদি অতিরিক্ত বিলাস প্রবণ ও আয়েশী হয় তবে কঠোরতা ও কর্কশ ভাষা ব্যবহার করতঃ তার মন খারাপ না করে যথেষ্ট হিকমত ও বুদ্ধিমত্তার সাথে আল্লাহ ওয়ালাদের সাধাসিদে জিন্দেগীর চিত্র তার সামনে তুলে ধরবেন। সেই সাথে আখেরাতের জিন্দেগীর স্থায়িত্ব ও দুনিউয়ার জিন্দেগীর অস্থায়িত্বের  কথা এবং পরকালীন ভাবনা জাগ্রত করে এমন কথা তার সামনে বেশি বেশি আলোচনা করবেন। যাতে অপ্রয়োজনীয় বস্তু এবং অতিরিক্ত আসবাবপত্রের প্রতি তার আগ্রহ কমে যেতে থাকে। মনে রাখবেন, আপনি যদি স্ত্রীর মাত্রাতিরিক্ত বিলাসী মনোভাব ও লাগামহীন সৌখিনতাকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম না হন, তাহলে আল্লাহ না করুক, সেদিন হয়তো বেশি দূরে নয় যেদিন তার এই মনোভাবের কারণে গোটা পরিবার বরবাদ হয়ে যাবে।

নিজের ছেলে-মেয়েদের সামনে স্ত্রীকে কখনোই শাসন বা গালমন্দ করবেন না। এমনটি করা হলে সংসারের অনাবিল শান্তিময় পরিবেশ নষ্ট হবে এবনহ সন্তানরা তাদের মায়ের ব্যাপারে নির্ভীক হয়ে পড়বে। তখন তারা তাদের মায়ের কথাকে তেমন মূল্যায়ন করতে চাইবে না।

স্ত্রীর সামনে অন্য কোনো বেগানা মহিলার প্রশংসা করবেন না। বিশেষ করে তার রুপ-সৌন্দর্যের আলোচনা মোটেই করবেন না। কেননা এতে স্ত্রীর মন ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাবে এবং স্বামীর ব্যাপারে তার অহেতুক সন্দেহ সৃষ্টি হবে।

সর্বোপরি স্ত্রীর সারাদিনের খুঁটিনাটি কাজ এবং সংসার ও সন্তানদি সামলানো সহ তিক্ত হবার মতো ঝুট-ঝামেলার কথাটা মনে রেখে তাকে গভীর ভাবে ভালোবাসুন। সেই সাথে তার ভালো ও প্রশংসনীয় কাজের প্রশংসা করুণ। যাতে সে কাজ করতে আরো বেশি উদ্যোমী ও উৎসাহিত হয় এবং মন প্রফুল্ল হয়ে ওঠে।

শেয়ার করে আপনার বন্ধুদেরকে পড়ার সুযোগ দিন।

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

[পঞ্চম পরিচ্ছেদ] ইসলামী শরী‘য়াহ বাস্তবায়নের হুকুম

আল্লাহর প্রতি ঈমান ও তাঁর একত্ববাদে বিশ্বাস এটাই দাবী যে, আমরা ঈমান আনব যে, তিনি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *