Breaking News
Home / বই থেকে / বৃদ্ধ স্ত্রীর প্রতিও সদাচরণ করুণ

বৃদ্ধ স্ত্রীর প্রতিও সদাচরণ করুণ

অনেক স্বামীকে দেখা যায়, স্ত্রীর যৌবন কালে তার সাথে খুব মুহাব্বত পূর্ণ আচরণ করে, কিন্তু স্ত্রী যখন বুড়ো হয়ে যায়, চামড়া ঢিলা হয়ে পড়ে, দাঁত দু’একটা পড়তে শুরু করে, উপচেপড়া যৌবনে ভাটা পড়তে থাকে তখন আর স্ত্রীকে আগের মতোভালোবাসে না, আগের মতো তার প্রতি সদাচরণ করে না, বরং সে তখন তার প্রতি ভীষন অমনোযোগী হয়ে পড়ে এবং কথায় কথায় তাকে কষ্ট দিতে থাকে। অথচ পবিত্র কুরআন মাজীদে মহান আল্লাহ বলেছেন, তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের সাথে সদাচরণ করো। এ আয়াতে একথা বলা হয়নি যে, স্ত্রী যখন যুবতী থাকে, যখন সে তোমার খুব কাজে আসে, যখন তার নযর কাড়া সৌন্দর্য তোমার চোখকে শীতল করে তখন তার সাথে সদ্ব্যবহার করো, ভালো ব্যবহার করো, আর সে বুড়ো হয়ে গেলে তার প্রতি বেখেয়াল হয়ে পড়ো, তাকে যেমন পারো কষ্ট দাও। বরং এ আয়াতে- স্ত্রী যুবতী হউক কিংবা বুড়ি হউক, চাই তার দাঁত থাকুক বা না-ই থাকুক-সর্বাবস্থায় তার প্রতি ভালো ব্যবহার করার কথা বলা হয়েছে।

প্রকৃত পক্ষে বুড়ো হয়ে যাওয়ার পর দুটি কারণে স্ত্রীর প্রতি আরো বেশি খেয়াল রাখা উচিৎ। প্রথম কারন এই যে, বৃদ্ধ বয়সে স্ত্রী বার্ধক্যজনিত দুর্বলতায় আক্রান্ত হয় বেশি। আর দুর্বলতার সময়ই মানুষ অন্যের সাহায্য ও সদাচরণের মুখাপেক্ষী হয় বেশি। দ্বিতীয় কারণ হলো, স্বামীর প্রতি স্ত্রীর সীমাহীন অনুগ্রহের বদলা হিসেবে। অর্থাৎ একথা মনে করে বৃদ্ধ স্ত্রীর প্রতি অধিক পরিমাণে সদাচরণ করা উচিৎ যে, আজকের এই বৃদ্ধ স্ত্রীই তো আমার উপর এহসানকারীনি ঐ নারী যার ওসিলায় আমি অসংখ্য খারাপ কাজ থেকে বাঁচতে পেরেছি, হৃদয় ও চোখকে পবিত্র রাখতে পেরেছি, সীমাহীন মানসিক প্রশান্তি লাভ করতে পেরেছি। সেই সাথে যুগ যুগ ধরে তার কাছ থেকে গ্রহন করেছি ভক্তিভরা খেদমত ও ভালোবাসা।

হযরত মাওলানা রশিদ আহমদ গঙ্গোহী (রহঃ) বুখারী শরীফ পড়ানোর সময় তাঁর ছাত্রদেরকে প্রায়ই একটি ঘটনা শুনাতেন। ছাত্ররা যখন পড়তে পড়তে ক্লান্ত হয়ে যেত তখন তিনি বলতেন-আচ্ছা! এবার একটি কিচ্ছা শোন।

কিচ্ছাটি হলো, দিল্লীতে এক বুড়া-বুড়ি দম্পতি বাস করত। তাদের কোনো সন্তান ছিল না। আশি বৎসরের বুড়া, আশি বৎসরের বুড়ি। এই বয়সেও ওরা নিয়মিত একই খাটে একই লেপের নীচে ঘুমাত। একজনকে ছাড়া আরেকজনের ঘুমই আসত না। ওদের মধ্যে প্রেম-ভালোবাসা ও মুহাব্বতের জোয়ার এত বেশি ছিল যে, বুড়া মিয়া অন্য কাজ তো দূরের কথা বুড়িকে জিজ্ঞেস না করে পেশাব পর্যন্ত করতে যেত না। পেশাবের বেগ হলেই বুড়া বলত, বুড়ি গো! আমি পেশাব করব। বুড়ি তখন বলত-হ্যাঁ, হ্যাঁ, পেশাব  করে নাও। হযরত গঙ্গোহী (রহঃ) এতটুকু বলে একদম চুপ হয়ে যেতেন। চেহারায় একটু মুচকি হাসির রেখাও দেখা যেত না। ওদিকে ছাত্ররা হেসে খুন হয়ে যেত! আল্লাহ পাক অনুরূপ মুহাব্বত সকল দম্পতিকে নসীব করুণ। আমীন।

শেয়ার করে আপনার বন্ধুদেরকে পড়ার সুযোগ দিন।

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

মোজার উপর মাসাহ

মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান (হাদিস)

জেনে নিন মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান। রাসূল (সাঃ) ও সাহাবায়ে কেরামগণ চামড়ার মোজা পরিধান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE