Home / বই থেকে / ১৩ স্বামীর আনুগত্য

১৩ স্বামীর আনুগত্য

বিবাহের পর স্বামী – গৃহে এলে। যার সাথে তোমার বিবাহ বন্ধন সেই মানুষটির সাথে তোমার প্রথম পরিচয় হওয়া উচিত। যে যেমনই হোক, যাকে নিয়ে তোমার সংসার সে যখন আনন্দের সাথে বলে,

                     ‘সমাদরে বুকে তারে লইলাম টানি,

                     সেই সে ফুলের তোড়া আমি ফুলদানী।’

তখন আনন্দের সাথে তুমিও বল, ‘যে হও সে হও তুমি, তুমি আমার আমি তোমার।’

                    ‘তোমার চরণে আমার পরাণে বাঁধিল প্রেমের ফাঁসি,

                     সব সমর্পিয়া একমন হইয়া তোমার হইলাম দাসী।’

তোমার প্রথম ও প্রধান কর্তব্য সেই লোকটিকে তোমার প্রণয়-ডোরে বাঁধা,

তোমার হৃদয় – গৃহে আবদ্ধ করা, তোমার প্রেম – বারির সিঞ্চন দিয়ে তার পতিত

রিদয়-জমিকে আবাদ করা। এটাই তোমার শ্রেষ্ঠ কাজ।

                       ‘ধূসর মরুর উপর বুকে

                        বিশাল যদি পাহাড় গড়,

                        একটি জীবন সফল করা

                        তার চাইতে অনেক বড়।

                        একটি উদাস হৃদয় সাথে

                        বাঁধতে পারো প্রেমের ডোরে,

                        বন্দী শতেক মুক্তি দানের

                        চাইতে যেন শ্রেষ্ঠতর’।

যদিও নির্দিষ্ট সওয়াবের কথা ঠিক নয়, তবুও এ কাজের মাহাত্ম্য অবিদিত নয়।

যা পেয়েছে, তা নিয়ে সন্তুষ্ট হও। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জানাও এবং জেনে রেখো,

আল্লাহ যা করেন, তা বান্দার মঙ্গলের জন্যই করেন।

বাসর রাতে দুই রাকাআত নামায পড়ে আল্লাহর কাছে দুআ কর। আল্লাহ যেন তোমাদেরকে দাম্পত্য – জীবনে সুখী করেন। তারপর মিশে যাও তার সাথে শরবতে চিনির মত, ফুলে

সুবাসের মত, গাছের পাতায় সবুজতার মত। দ্বীনদার স্বামীর কাছে তুমি পানির মত হও,

যে পানির নিজস্ব নির্ধারিত কোন অবয়ব থাকে না; বরং যে পাত্রে ঢালা হয়, সেই পাত্রেরই অবয়ব ধারণ করে। পাত্র চৌকর হলে চৌকর, গোল হলে গোল, লম্বা হলে লম্বা ইত্যাদি।

স্বামীর শয্যা – সঙ্গিনী বোনটি আমার! স্বামীর কথামত তোমাকে চলতে হবে, সে যা বলে তা শুনতে হবে, তার আদেশমত কাজ করতে হবে, তার খিদমত ও সেবা করতে হবে এবং তার কথার অন্যথা করা হবে না।

কেন মানবে তাকে? কেন শুনবে তার কথা? কেন করবে তার আনুগত্য? সে কে তোমার?

সে তোমার সিজদা-যোগ্য মান্যবর। অবশ্য আল্লাহ ছাড়া সিজদা বৈধ নয়।

সে তোমার হর্তাকর্তা, নেতা।

সে তোমার জান্নাত অথবা জাহান্নাম।

সে তোমার লেবাস-পোশাক।

সে তোমার ড্রাইভার, পরিচালক।

সে তোমার জীবন-প্রান।

সে তোমার আশা-কামনা।

সে তোমার রূপ-সৌন্দর্য্য।

সে তোমার ইহ-পরকালে চির-সাথী।

বৈধ বিষয়ে তার অনুসরণ কর ছায়ার ন্যায়। তার মত হোক তোমার মত, তার

পথ হোক তোমার পথ। তুমি তার ছন্দানুবর্তিনী হও। তার বড় অধিকার রয়েছে তোমার উপরে। মহান আল্লাহ বলেন,

অর্থাৎ, তারা তোমাদের পোশাক এবং তোমরা তাদের পোশাক।[সূরা-বাক্বারাহ-আয়াত ১৮৭]

অর্থাৎ, নারীদের তেমনি ন্যায়-সঙ্গত অধিকার আছে যেমন আছে তাদের উপর পুরুষদের।

কিন্তু নারীদের উপর পুরুষদের কিছুটা মর্যাদা আছে। আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।[সূরা-বাক্বারাহ-আয়াত ২৮৮]

স্কুল-কলেজে, অফিসে হেড আছে, ম্যানেজার আছে, যাকে মানতে হয়। যে শহরে ট্রাফিক আইন মানা হয় না, সে শহরে দুর্ঘটনা ঘটে অনেক বেশী। অনুরূপ সংসারের কর্তা হল স্বামী। সংসারের ঐ আইন না মানলে সংঘাত সৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক।

স্বামীর কর্তা হওয়ার কারণ হলঃ

ক। স্ত্রী সাধারণতঃ বয়সে ছোট হয়। মা-বাপের আদেশ যেমন মানতে হয়, তেমনি স্বামীর আদেশ মানতে হয়। এতেই আছে স্ত্রীর পরম আনন্দ, তা ছেড়ে ডিম ঘোলা হয়ে যায়। সুতো ছিঁড়ে ঘুড়ি ধ্বংস হয়ে যায়। অনুরূপ স্ত্রী যদি স্বামীর আনুগত্য ছেড়ে দেয়, তাহলে অবশ্যই সে ধ্বংস হয়ে যাবে।

খ। পুরুষরা মহিলাদের তুলনায় বেশী জ্ঞানী। আর এটি শরীয়তের সাক্ষী।

 

গ। নারীর তুলনায় পুরুষ অধিক সুন্দর।

 

ঘ। পুরুষদের ধৈর্য বেশী।

 

ঙ। নারীর সৌন্দর্য ও কমনীয়তা নারীর দুশমন, পুরুষের তা নয়।

 

চ। নারী দুর্বল।

 

ছ। পুরুষরা নারীর ভরণ-পোষণ করে।

এ অধিকার খোদ সৃষ্টিকর্তা দিয়েছেন,

অর্থাৎ, পুরুষ নারীর কর্তা। কারণ, আল্লাহ তাদের এককে অপরের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন এবং এ জন্য যে পুরুষ(তাদের জন্য) ধন ব্যয় করে।[সূরা-নিসা-আয়াত-৩৪]

উভয়ের মধ্যে স্বামীই হবে নেতা। স্ত্রী হাফেয হলেও নামাযের ইমামতি করবে স্বামী।

মোট কথা আদর্শ স্ত্রী স্বামীর আদেশ পালন কারিণী ও অনুগতা হবে,যে স্বামীর মনের ও যৌবনের চাহিদা মিটাতে গড়িমসি অথবা বাহানা করবে না। কথায় বলে,

‘পতি সেবায় থাকেমতি, তবেই তাকে বলি সতী।’

স্ত্রী অনুগতা হলে অথবা অবাধ্য হলে তার ভাগ্যে কি জোটে, তা মহানবীর পবিত্র জবান থেকে শোন,

মহানবী (সাঃ) বলেন, “মহিলা যখন তার পাচ-অক্তের নামায পড়ে, রমযানের রোযা রাখে,নিজের ইজ্জতের হিফাযত করে এবং স্বামীর কথা মত চলে, তখন জান্নাতের যে কোন দরজা দিয়ে ইচ্ছামত প্রবেশ করতে পারবে।”[আহমাদ, আবূ নাঈম]

এক মহিলা নবী(সাঃ) এর নিকট কোন প্রয়োজনে এলে তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন,

“তমার কি স্বামী আছে?” মহিলাটি বলল, ‘জী হ্যাঁ’। তিনি বললেন, “তার কাছে তোমার অবস্থান কি?” সে বলল, ‘যথাসাধ্য আমি তার সেবা করি।’ তিনি বললেন, “কেয়াল করো,

তার কাছে তোমার অবস্থান কোথায়। যেহেতু সে তোমার জান্নাত অথবা জাহান্নাম।”[আহমাদ, নাসাঈ,হাকেম,বাইহাক্বী)

স্বামীর বিশাল মর্যাদা বর্ণনায় তিনি বলেন, “যে মহিলা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস  রাখে তার জন্য তিন দিনের বেশি কোন মৃত্যুর উপর শোকপালন করা বৈধ নয়, কেবল স্বামী ছাড়া। সে ক্ষেত্রে সে ৪ মাস ১০ দিন শোক পালন করবে।”(বুখারী, মুসলিম)

মহান আল্লাহ বলেন,

অর্থাৎ, তোমাদের মধ্যে যারা স্ত্রী রেখে মারা যায়, তাদের স্ত্রীগণ চার মাস দশ দিন অপেক্ষা করবে।(সূরা-বাক্বারাহ-আয়াত-২৩৪)

ক্বাইস বিন সা’দ নবী(সাঃ) কে বললেন, (ইরাকের) হীরাহ শহরে গিয়ে দেখলাম,

সেখানকার লোকেরা তাদের প্রাদেশিক শাসককে সিজদা করছে। আওনি আল্লাহর রসূল!

আপনি সিজদা সিজদার বেশী যোগ্য। এ কথা শুনে তিনি বললেন, “আমি যদি কাউকে

কারো জন্য সিজদা করার আদেশ করতাম, তাহলে স্ত্রিদের কে আদেশ করতাম, তারা যেন তাদের স্বামীদের কে সিজদা করে। যেহেতু আল্লাহ তাদের উপর তাদের স্বামীদের বহু হক নির্ধারিত করেছেন।”(আবূ দাঊদ প্রমুখ)

এক ব্যক্তি তার মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে আল্লাহর রসূল (সাঃ) এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমার এই মেয়েটি বিয়ে করতে অস্বীকার করছে।(কি করা যায়?)

আল্লাহর রসূল (সাঃ) তাকে বললেন, “তুমি তোমার আব্বার কথা মেনে নাও।”

মেয়েটি বলল, আপনি বলুন, স্ত্রীর উপর তার স্বামীর হক কি? তিনি বললেন, “স্বামীর এত বড় হক আছে যে, যদি তার নাকের দুই ছিদ্র থেকে রক্ত-পুজ বের হয় এবং স্ত্রী তা নিজের জিভ দ্বারা চেটে (পরিস্কার করে), তবুও সে তার যথার্থ হক আদায় করতে পারবে না! যদি মানুষের জন্য মানুষকে সিজদা করা সঙ্গত হত, তাহলে আমি স্ত্রীকে আদেশ করতাম, সে যেন তার স্বামী কাছে এলে তাকে সিজদা করে। যেহেতু আল্লাহ স্বামীকে স্ত্রীর উপর এত বড় মর্যাদা দান করেছন।” মেয়েটি বলল, সেই সত্তার কসম, যিনি আপনাকে সত্য সহ প্রেরণ করেছেন! দুনিয়ায় বেঁচে থাকতে আমি বিয়েই করব না। নবী (সাঃ) বললেন, “তোমরা ওদের অনুমতি ছাড়া ওদের বিবাহ দিও না।”(হাকেম,বাইহাক্বী,বাযযার)

অনেক মহিলা বলে, ‘স্বামীকে এত মানতে হবে? স্বামী পীর নাকি?

আমি বলি, ‘না, স্বামী পীর নয়, সে পির থেকেও বড়। পীর তো সিজদাযোগ্য নয়, যেমন রসূলও নন। কিন্তু তোমার স্বামী তো সিজদা যোগ্য। তবে আল্লাহ ছাড়া কাউকে সিজদা হারাম তাই।”

স্বামীকে না মানলে স্ত্রীর নামায কবুল হয় না।। মহানবী (সাঃ) বলেন, “তিন ব্যক্তির নামায তাদের কান অরিক্রম করে না; পলাতক ক্রীতদাস, যতক্ষণ না সে ফিরে এসেছে, এমন স্ত্রী যার স্বামী তার উপর রাগান্বিত অবস্থায় রাত্রিযাপন করেছে, (যতক্ষণ না সে রাজি হয়েছে), (অথবা যে স্ত্রী তার স্বামীর অবাধ্যচারণ করেছে, সে তার বাধ্য না হওয়া পর্যন্ত) এবং সেই সম্প্রদায়ের ইমাম, যাকে লোকে অপছন্দ করে।”(তিরমিযী, ত্বাবারানি, হাকেম, সিলসিলাহ সহীহায় ২৮৮-৬৫০ নং)

এমনিতে প্রত্যেক মু’মিন মানুষের গুণ হল, কুরআন – হাদিসের কথা মেনে নেওয়া,

নেতা ও কর্তার আনুগত্য। মহানবী (সাঃ) বললে, “মু,মিন গণ সরল – বিনম্র হয়।

ঠিক লাগাম দেওয়া উটের মত; তাকে টানা হলে চলতে লাগে এবং পাথরের উপরে বসতে অঙ্গিত করলে বসে যায়।” (সহীহুল জামে ৬৬৬৯ নং)

তবে আনুগত্য হবে বৈধ বিষয়ে, হারাম বিষয়ে নয়। স্বামী পর্দা করতে নিষেধ করলে, নামায-রোযা করতে নিষেধ করলে, তা মানা যাবে না। যেহেতু “স্রষ্ঠার অবাধ্যতা ক’রে কোন সৃষ্টির আনুগত্য বৈধ নয়।” ( আহমাদ, হাকেম)

কিন্তু হতভাগিনী অনেক মহিলা অজ্ঞতা অথবা অহংকার বশতঃ স্বামীর এই মর্যাদা মানতে চায় না। ফলে স্বামীর আদেশ পালনে গড়িমসি করে। আর ‘জানি না পারি না নেইকো ঘরে, এই এই তিনকে দেবতা হারে।’ তখন স্বামী নারাজ হয়, চাপ প্রয়োগ করে, কখনো বা ভীতি- প্রদর্শন করে। ভয়ে তার উপস্থিতিতে আনুগত্য করে এবং অনুপস্থিতিতে অবাধচারণ করে। সামনা সামনি লাঠির ভয়ে বাঁদর নাচে। অথচ ‘যে লাঠির আনুগত্য করে, আসলে সে কিন্তু অবাধ্য।’

সরলা বোনটি আমার! আশা করি তুমি তোমার স্বামীর বশ্যতা স্বীকার ক’রে তার হৃদয় কে শিকার করবে। আর যদি কোন সময় কোন আদেশ – আনুগত্যের ব্যাপারে কড়া কথা শুনিয়েই থাকে, তাহলে জেনে রেখো যে, ‘শাসন করা তারই সাজে সোহাগ করে যে।’আরো পড়ুন

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

মোজার উপর মাসাহ

মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান (হাদিস)

জেনে নিন মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান। রাসূল (সাঃ) ও সাহাবায়ে কেরামগণ চামড়ার মোজা পরিধান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE