Home / বই থেকে / ২৩ অতি বিলাসিনী হয়ো না ।

২৩ অতি বিলাসিনী হয়ো না ।

বাংলায় একটা প্রবাদ আছে, ‘মাগারামের বউ, শুধু ভাত খায় না।’ অর্থাৎ যাদের চেয়ে খাওয়া অভ্যাস, তারা ভালো না খেলে তাদের দিন যায় না। কারণ, তাদের তো আর ফুরিয়ে যাওয়ার বা অভাব পড়ার কোন আশঙ্কা নেই। হাত পাতলেই তো আবার সে আসবে। আশা করি তুমি সেই দলের নও।

তোমার ও তোমার স্বামীর যে হাল, সেই হাল অনুযায়ী বিলাস কর। খরবদার!

‘যাবজ্জীবং সুখং জীবেদ, ঋণং কৃত্বা ঘৃতং পিবেং’ অর্থাৎ, যতদিন বাঁচব সুখে বাঁচবে, ঋণ করে হলেও ঘি খেতে থাকবে-এর নীতি অবলম্বন করো না।

কারণ তুমি পাঁচ আঙ্গুলের গল্প জানো তো। কনিষ্ঠা বলল, খাব খাব, অনামিকা বলল, পাবি কোথা? মধ্যমা বলল, ধার করগা। তর্জনী বলল, শুধবি কিসে? পরিশেষে বৃদ্ধা বলল, লবডঙ্কা!

হোটেলের খাবার শুনলে এবং একদিন রাঁধতে না হলে তোমাকে বড় খুশী লাগে।

কিন্তু আভ্যাসে পরিণত করলে স্বামী তথা তোমার ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যৎ কি হবে, তা ভেবে দেখেছ কি?

অনেক মহিলা আছে, যারা ;খেতে পায় না পচা পুটি, হাতে পরে হীরের আংটি।’

অনেকের পেটে আভত নেই, কিন্তু মুখে পান থাকে। তাদের ‘কলাই বাটা ভাত, কিন্তু বড়লোকি ঠাট’ থাকে। স্বামীকে ‘জমি বেঁচে শোবার খাট’ কিনতে বাধ্য করে।

অনেকে আয় বাইরে ব্যয় করার জন্য ব্যস্তত্রস্ত থাকে। হোটেলে খেতে ইত্যাদি দাবী করে। ফলে স্বামীর সামান্য আয় ‘বারে পড়ে ঢোঁড়ে খায়’।

অতিরিক্ত বিলাস সুখের জন্য  অতিরিক্ত বিলাস – সামগ্রী বা এমন কিছু চাওয়া উচিত নয়, যাতে তা যোগাড় করতে স্বামীর কষ্ট ও লজ্জা হয়। যেমন খাট, পালঙ্ক, ডেসিং টেবিল, ফ্রিজ, আলমারী, ওয়াশিং মেশিন, কারেন্ট বা গ্যাসের চুলা, ওভেন, মেঝেয় কার্পেট ইত্যাদি ইত্যাদি। অনেকে তাদের লেপের বাইরে পা বাড়ায়, কাপড় বাইরে বড় আকারে কোর্ট কাটে। ব্যাঙ্গ হয়ে হাতি মত লাদতে যায়।

বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে দেখাদেখী প্রতিযোগিতা, আমার বোনের আছে, আমার ভাবীর আছে, আমার সখীর আছে, আমার হবে না কেন? আমার ভাগ্য কি এতই খারাপ?

টিভি, টিভির পর ডিস, ভিডিও, সিডি-প্লেয়ার ইত্যাদির জন্য স্বামীর কাছে ঝোঁক করা কি আদর্শ মুসলিম রমণীর আচরণ বলছ? স্বামী না থাকলে মন ফ্রি করবে? আনন্দ করবে?

আর শরয়ী কারণে তা না পেলে মন  খারাপ করবে?

সুখ-বিলাসিনী বোনটি আমার! অসৎ আনন্দের চেয়ে পবিত্র বেদনা অনেক ভাল।

তুমি তোমার ভাগ্য ও ভাগ নিয়ে, যা আছে তা নিয়ে সন্তুষ্ট হও, সুখী হবে। আর অতিরিক্ত পাওয়ার লোভ করলে মনে দুঃখ পাবে।

মহানবী (সাঃ) বলেন, “তোমাদের উপরে যারা তাদের দিকে দেখো না; বরং তোমরা নিচে যারা তাদের দিকে দেখ। যাতে তোমাদের প্রতি আল্লাহর দেওয়া নিয়ামত কে তুচ্ছজ্ঞান না কর”।(বুখারী ৬৪৯০, মুসলিম ২৯৬৩ নং)

মহানবী (সাঃ) আরো বলেন, “আল্লাহ তোমার ভাগে যা ভাগ করে দিয়েছেন তা নিয়ে তুষ্ট হও, তুমি সবার চাইতে বড় ধনী হয়ে যাবে—।”(সহীহুল জামে ৪৫৮০, ৭৮৩৩ নং)

তিনি আরো বলেন, “সে ব্যক্তি ধনী সফল মানুষ, যে মুসলিম এবং তাঁর অবস্থা সচ্ছল।

আর আল্লাহ তাকে যা দিয়েছেন, তাতেই তাকে তুষ্ট রেখেছেন।”(মুসলিম)

হ্যাঁ, আর স্বামীর কাছে নাছোড় বান্দার মত কোন অপ্রয়োজনীয় জিনিস বারবার চেয়ো না। তাতে তাঁর মন হারাবে। পরন্ত এমন চাওয়াকে আল্লাহ পছন্দ করেন না। আরো পড়ুন

 

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

[পঞ্চম পরিচ্ছেদ] ইসলামী শরী‘য়াহ বাস্তবায়নের হুকুম

আল্লাহর প্রতি ঈমান ও তাঁর একত্ববাদে বিশ্বাস এটাই দাবী যে, আমরা ঈমান আনব যে, তিনি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *