Breaking News
Home / বই থেকে / ৩০ স্বামীর শোকে-দুঃখে সান্ত্বনা দাও।

৩০ স্বামীর শোকে-দুঃখে সান্ত্বনা দাও।

পার্থিব এ জীবনের পথ কন্টকহীন  বা কুসুমাস্তীরণ নয়। হরষ-বিষাদে ভরা এ জীবন। অর্থক্ষয়, আত্মীয়-বিয়োগ, মানহানি প্রভৃতির কারণে নানা দুঃখ-তরঙ্গ বক্ষ-সিন্ধুকে আঘাতের পর আঘাত দেয়। সেই সময় যদি পাশে সান্ত্বনা দেওয়ার মত কেউ থাকে, তাহলে সে আঘাত ততটা শক্তিশালী হয় না অথবা আঘাতের অনুভূতি অনেকটা হাল্কা হয়ে যায়।

দুঃখের কথা যাদের কাছে বলে শান্তি ও শান্ত্বনা পাওয়া যায় এবং দুঃখের ভার হাল্কা হয়, তারা হল সুহৃদ বন্ধু, গুণবান ভৃত্য, অনুকূল স্ত্রী এবং মনের স্বামী।

ভালো অভিজ্ঞতা আছে বোনটি আমার! ‘হাতি যখন কাতে পড়ে, চামচিকেতে লাথি মারে। মাতঙ্গে পড়িলে দয়ে, পতঙ্গে প্রহার করে।’ যখন হীন প্রকৃতি মানুষ মানীর মান লুটে নেয়, যখন একান্ত আপন-জন পর হয়ে যায়, যখন প্রাণপ্রিয় বন্ধু শত্রু হয়ে যায়, যখন যার জন্য চুরি করি, সেই চোর বলে, যখন আমি ‘যার জন্য বনবাসী, সেই দেয় গলায় ফাঁসি। যার জন্য বুক ফাটে, সে আমারে এঁকে কাটে।’

যখন যাকে তীর –চালানো শিখাই, সেই আমাকে তীর মারে, যখন যাকে ছাগের মত মানুষ করি, সেই আমার উপর বাঘের মত হামলা করে, যখন পাখীর ছানা মানুষ করার পর দানা হলে উড়ে চলে যায়, যখন ‘শয়নে-স্বপনে মনে যে যারে ধায়, সেজন তাহারে ফিরে নাহি চায়।’ যখন সংসারে অভাব আসে এবং সংসার অচল হয়ে যায়, যখন ছেলে-মেয়েদের করুণ অবস্থা দেখে চোখে পানি আসে, যখন রোগ-যন্ত্রণা দেহ-মনকে নিষ্পিষ্ট করে, যখন বাঁধা ঘর উজাড় হয়ে যায়, তখনকার নিদারুণ ব্যাথা ও ভীষণ বেদনার কথা আর কাকে বলব বোনটি?

সৃষ্টিকর্তা মহান প্রতিপালককে নামাযের মাধ্যমে জানাই সে দুঃখের কথা। জানাই মা-বাপকে। আর তাকে বলে মন হাল্কা করি, যে আমার হৃদয় – মনের রাণী। যে আমার কোন সাহায্য না করতে পারলেও দুটো সান্ত্বনা মূলক কথা বলে আমার হৃদয় ঠান্ডা করে, দুঃখের ভার হাল্কা করে, চোখের পানি মুছে দেয়, ঘায়ে মলম লাগিয়ে দেয় এবং ভুলিয়ে দিতে চেষ্টা করে সকল আঘাতকে।

আমাদের মহানবী (সাঃ) সেই সান্ত্বনা পেয়েছিলেন মা খাদীজার কাছে। হিরা গুহায় জিব্রীল ফিরিশ্তার সাথে সরাসরি সাক্ষাতের মাধ্যমে কুরআনের প্রথম কয়টি আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার ঘটনার পর তিনি ভীত-কম্পিত অবস্থায় খাদীজার নিকট ফিরে আসেন। তাকে সমস্ত খবর খুলে বলে চাদর ঢাকা দিতে বলেন। স্ত্রী খাদীজা তাকে সান্ত্বনা ও সাহস দিয়ে বললেন, ‘আপনি এ ঘটনায় সুসংবাদ গ্রহন করুণ। কক্ষনো না। আল্লাহর কসম! তিনি আপনাকে কোন দিন লাঞ্চিত করবেন না। আপনি তো আত্মীয়তার সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলেন, সত্য কথা বলেন, অভাবগ্রস্তদের অভাব মোচন করেন এবং বিপদগ্রস্তদের সাহায্য করেন।’(বুখারী+মুসলিম)

বলা বাহুল্য, মা খাদীজাই (রাঃ) সর্বপ্রথম তাঁর প্রতি ঈমান আনয়ন করেছিলেন।

মা আয়েশাও তাঁর দুঃখের দিনের দোসর ছিলেন। প্রায় সকল ভাগ্যবান পুরুষই সেই স্ত্রী লাভ করে থাকেন। কত বড় সৌভাগ্য তাঁর, যার এমন স্ত্রী-রত্ম আছে! আর দুঃখ ভাগ করে নিলে অবশ্যই তাঁর ভার অর্ধেক কমে যায়।

কেন নয়? পুণ্যময়ী স্ত্রী যে মহান আল্লাহর মহাদান। পুরুষের জীবনে এর চেয়ে বড় দান আর কিছু নেই। আর তাঁর জন্যই তো সে স্বামীর অর্ধাঙ্গিনী।

আমর বিন আস (রাঃ) একদা মুআবিয়ার নিকট গেলেন। তখন তাঁর নিকট (ছোট) মেয়ে আয়েশা ছিল। আমর জিজ্ঞসা করলেন, ‘আমীরুল মু’মিনীন! এটা কে?

তিনি বললেন, ‘এ আমার হৃদয় আপেল।’ আমর বললেন, ‘ওকে আপনার নিকট থেকে দূর করুণ।’ মুআবিয়া বললেন, ‘তা কেন?’ আমর বললেন, ‘কারণ, এই মেয়েরা দুষমন জন্ম দেয়, দূরকে নিকট করে এবং বিদ্বেষ ও ঘৃণা সৃষ্টি করে।’ মুআবিয়া বললেন, ‘আমর এমনটি বলবেন না। কারণ, আল্লাহর কসম! এদের মত অন্য কেউ পীড়িতের সেবা করতে, মৃতের শোক পালন করতে এবং দুঃখে সহযোগিতা করতে পারে না। আর আপনি দেখে থাকবেন যে, অনেক ভাগ্নে তাঁর মামার উপকারে আসে।’( উয়ূনুল আখবার ১/৩১৪)  আরো পড়ুন

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

মোজার উপর মাসাহ

মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান (হাদিস)

জেনে নিন মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান। রাসূল (সাঃ) ও সাহাবায়ে কেরামগণ চামড়ার মোজা পরিধান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE