Breaking News
Home / বই থেকে / ৪৫ স্বামীর আত্মীয়র সাথে সদ্ব্যবহার কর

৪৫ স্বামীর আত্মীয়র সাথে সদ্ব্যবহার কর

মানুষ যাকে ভালবাসে, তার ভালবাসাকেও সে ভালবাসে। বন্ধুর বন্ধু, বন্ধু হয়।

এটাই প্রকৃতির নিয়ম। স্বামী যাকে ভালবাসে, তোমারও উচিত, তাকে ভালবাসা; যদিও সে তোমার সতীন হয়।

তার মা-বাপকে নিজের মা-বাপ মনে কর, যথাসাধ্য তাদের খিদমত কর। আর তাতে সওয়াবের আশা রাখ।

অধিক স্বাধীনতা ও সুখ নেওয়ার জন্য স্বামীর মা-বাপ অথবা ছোট ছোট ভাই-বোনকে বর্জন করো না, তাদের থেকে পৃথক হয়ে যেয়ো না। শহরের বাড়িতে মা-বাপ অথবা তাদের একজনকে রাখতে তোমার বড় অসুবিধা হচ্ছে। তুমি কায়দা করে বললে অথবা বলতে বাধ্য করলে, ‘আব্বা! শহরের পরিবেশ স্বাস্থ্যের জন্য ভাল নয়। আপনি বরং গ্রামের বাড়িতেই গিয়ে থাকুন। গ্রামের পরিবেশ স্বাস্থ্যের অনুকূল। শহরের কল-কারখানা ও গাড়ির ধুয়া ইত্যাদিতে শরীর খারাপ হয়।’ এ কথায় তোমার অত্যন্ত স্নেহ প্রকাশ পেলেও আসলে কিন্তু স্বার্থভেজা কথা। তুমিও হয়তো জানো যে, তার দেশের বাড়িতে কষ্ট হবে। তার দেখাশোনা করার মত সে রকম কেউ নেই। কিন্তু তবুও তুমি টালতে চাচ্ছ। মাথা থেকে বোঝা নামাতে চাচ্ছ। এটা কি আদর্শ বধুর আচরণ হতে পারে? শ্বশুর মশায় হয়তো প্রকাশ্য অথবা মনে মনে বলবেন, ‘তোমরাও তো রয়েছ মা শহরেই।’

তাছাড়া ভেবে দেখ বিলাসিনী! সে যদি তোমার আব্বা হত এবং তাকে দেখার মত কেউ না থাকত, তাহলে তুমি কি ঐ কথা বলতে অথবা তোমার স্বামী দ্বারা বলাতে পারতে? ইনস্ফ কোথায় তোমার? আদর্শ রমণীর ভিতরে তো ইনসাফ থাকবে।

বুড়াবুড়ির সংসারে থাকলে সর্বদা খচখচানি শুনতে হয়। ঠিকমত নামায না পড়লে বকুনি, ফরজরের সময়ে ঘুম জেগে নামায না পড়লে বকুনি শুনতে হয়। তা তোমাকে ভাল লাগে না। কিন্তু নামাযী মহিলার জন্য এমন বকুনি কি নিয়ামত নয়? সে নিয়ামতকে কিয়ামত মনে করে অন্য কোথাও ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখ অথবা ঘর খালি কররা চেষ্টা কর?

তোমার বেহেশ্ত হল স্বামী, আর তোমার স্বামীর বেহেশ্ত হল তার মা- বাপ। তোমার ছলাকলা ও কূট কৌশল দ্বারা তাকে তার বেহেশ্ত থেকে টেনে বের করে আনলে, তোমার বেহেশ্ত ঠিক থাকবে কি?

একা সুখের বোনটি আমার! পপারের মুসাফির তোমার শ্বশুর-শাশুড়ীর খিদমত কর ওবং তাদের জানভরা দুআ নাও। হয়তো সেই দুআ কাজে দেবে তোমার শেষ জীবনে অথবা পরকালে। আর তাদের বুকের ম্নিক কেড়ে নিয়ে তাদের বদ্দুআ নিয়ো না। নচেৎ, তোমার সুখের সাগরে সর্বনাশী তুফান আসতে পারে।

স্বামীর আত্মীয়র সাথে না পটলে, দোষ যদি তোমার হয়, তাহলে তার জন্য তোমাকে হিসাব লাগবে। অহংকার ইত্যাদি প্রদর্শন করে স্বামীর আত্মীয়-স্বজনকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করো না। স্বামী যদি তোমার দোষ বলে, তাহলে তা সংশোধন করে নাও। আর বেশী লাগান-ভাজান করে, মিথ্যা অভিযোগ করে, কুধারণার বশবর্তী হয়ে সন্দেহ পোষণ করে কোন কথা স্বামীর কানে দিও না।

কান-ভাঙ্গানিই দিয়ে পৃথক হতে বলা স্বার্থপর স্ত্রীর কাজ । অধিক সুখের লালাসায় তুমি হয়তো বলবে, ‘একলা ঘরের গিন্নী হব, চাবিকাঠি ঝুলিয়ে নাইতে যাব।’

‘একলা থাকি একলা খাই, ধরতে ছুতে কেউ নাই।’ কিন্তু অপরের প্রতি কর্তব্য- বিমুখ হওয়া কি বৈধ হবে বলছ?

বউ হয়ে তুমি যদি কর্তৃত্ব চাও, তাহলে তো সমস্যা বাড়বেই। ‘বউ গিন্নী হলে তার বড় ফরফরানি, মেঘ ভাঙ্গা রোদ হলে তার বড় চরচরানি’। সে সংসারে সুখের সূর্য উদয় হয় না, যে সংসারে ছোট ও বড় কর্তৃত্ব নিয়ে টানাটানি করে।

সে সংসারে শাশুড়ী আক্ষেপের সাথে বলে, ‘হাতের শাখা বিচে আমি কিনে এনেছি বাদী, সে হয়েছে গিন্নী এখন আমি হলাম বাদী।’ সে সংসারে ‘গিন্নীর হাতে রাঙ্গা পলা, বউ-এর হাতে সোনার বালা’ হয়। সে সংসারের ‘মেগের কুটুম হারমানা, ভাতারের কুটুম আসতে মানা, হয়। সে সংসারে পুরুষ বড় অসহায় হয়।

স্ত্রীর পক্ষ অবলম্বন করে ‘মার গলায় দিয়ে দড়ি, বউকে পরায় ঢাকাই শাড়ি!’

বউ-শাসিত সে সংসারে ‘মা পায় না কাথা সিলায়ের সুতো, বেটার পায়ে চৌদ্দ সিকের জুতো’ হয়। ‘মা খায় ধান ভেনে, বেটা খায় এলাচ কিনে।’ তখন সেই ছেলে ‘মার পুত নয়, শাশুড়ীর জামাই’ হয়। সেই পুরুষের ‘বাপের বেটি মুড়কি পায় না মোন্ডা শালীর পাতে, সহোদরের মুখ দেখে না সখ্য শালার সাথে!’

জেনে রেখো বোনটি আমার! এর জন্য দায়ী কিন্তু অনেকটা তুমিই। কি জবাব দেবে তুমি সমাজকে এবং তোমার সৃষ্টিকর্তাকে?

হয়তো বা তোমার এই দবদবানির পশ্চাতে তোমার কোন আত্মীয় আছে, পাড়ার কোন শাঁকচুন্নি আছে। কিন্তু জেনে রেখো যে, গাছে তুলতে সবাই আছে, নামাতে কেউ নেই। ফাছে তুলে মই কেড়ে নেওয়ার লোক আছে। আর এ কথাও জেনে রেখো যে, ‘আমে-দুধে এক হয় , আদাড়ের আটি আদাড়ে যায়।’ হয়তো মা- বেটায় মিলবে আবার, খারাপ হবে তুমি আর তোমার পরামর্শদাত্রী।

নববধূর বেশে নবীনা বোনটি আমার! হয়তো বা তোমার বয়স কম, সাংসারিক অভিজ্ঞতা কম। আর তার দরুণ তুমি সকলকে মেনে ও মানিয়ে চলতে পারছ না।

কিন্তু ছোট হিসাবে তুম্মি নিজেকে দোষ দেবে। বড়দের সাথে সর্বদা আদব বজায় রেখে চলবে। কেবল স্বামীকে চিনবে, আর কাউ কে নয়, তা তোমার আদর্শ হতে পারে না। সকলেই তোমার আপন, সকলের মাঝেই তোমাকে নিরূপমা হতে হবে। পক্ষান্তরে জলে বস করে কুমীরের সঙ্গে বাদ করলে নিজের বসার জায়গা কাদা করা ও খাওয়ার পাত ছেঁদা করা হবে।

উল্ট দিকে আর সবারই ভালবাসা বজায় রাখতে গিয়ে স্বামীর ভালবাসা হারিয়ে ফেলো না। অবশ্যই চেষ্টা করবে, যাতে সাপও মরে এবং ছিপও না ভাঙ্গে। নচেৎ  একদিন বলতে বাধ্য হবে, ‘যাদের চাহিয়ে তোমারে ভুলেছি, তারা তো চাহে না আমারে।’

তুমি চাইবে, সকলেই তোমার প্রতি সন্তুষ্ট থাক, তাও বড় কঠিন কাজ। মানুষের মনস্তষ্টির নাগাল মোটেই সহজসাধ্য নয়। সবাইকে খুশী রাখা পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় দুরূহ কাজ। তবুও চেষ্টা করতে হবে তোমাকে।

যে সয়, তার পিঠেই সবাই চাপায়। অবুঝ সংসারে বিবেক কাজ করে না। অনেক সংসারে বউকে দাসীই মনে করা হয়। কাজে মন যোগাতে না পারলে পাড়ায় পাড়ায় কথা হয়। ‘বউ ভাঙ্গলে শরা, যায় পাড়া পাড়া। গিন্নী ভাঙ্গলে নাদা, ও কিছু নয় দাদ।’ সে ক্ষেত্রে তুমি কেলেঙ্কারিকে ভয় করবে।

সংসারে স্বামীর কর্তৃত্ব সহ্য হয়, তার শাসানিও শোনা বড় দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে। কোন কোন সংসার এরূপই । কোন কাজে স্বামী নিশ্চুপ। কিন্তু তাতে তার মা, বোন অথবা ভাই বড় হুকুম চালায়। সেখানে ‘রাজা যত না বলে পারিষদ দলে বলে তার শতগুণ।’ অথচ ‘রোদের তাপ সয়, বালির তাপ সয় না।’

                        ‘তেজস্বীর তেজ সয় তত দুঃখ হয় না,

                         তার তেজে যার তেজ তার তেজ সয় না।

                           প্রহর রবির কর শিরে সহ্য হয় যে,

                          তার তেজে বালি তাতে পদে নাহি সয় হে।’

যেখানে ‘সতিনী বাঘিনী শাশুড়ী রাগিনী ননদী নাগিনী বিষের ভরা’ হয়, সেখানে একজনের কম বয়সী তরুণীর সংসার করা বড় কঠিন হয়ে পড়ে। সেখানেই স্ত্রী বড় কষ্ট পায়, যেখানে শাশুড়ী-ননদের জ্বলা স্বামীর জ্বলার চাইতে বেশী যন্ত্রণাময় হয়।

আর সম্ভবতঃ এই জন্যই বলে, ;হলুদ জব্দ শিলে, ঝি(চোর) জব্দ কিলে, আর দুষ্টু মেয়ে জব্দ হয় শ্বশুর বাড়ি গেলে।’

ধৈর্য ধারণ কর বোনটি আমার! স্বামী সুখের আশায় সকল কষ্ট ও আঘাতকে উপেক্ষা কর। রঙ্গিন ভবিষ্যতের আশায় বর্তমানের অন্ধকার ভেদ করে অগ্রসর হও সুখ সন্ধানের পথে।

স্নেহময়ী বোনটি আমার! স্বামীর ছোট ভাইদের কে ছোট ভাই জ্ঞান করে স্নেহ করো এবং বড় ভাইদের কে নিজের বড় ভাই মনে করে শ্রদ্ধা করো। এ ক্ষেত্রে ছোটদেরকে রহস্যের পাত্র এবং বড়দের কে ভাশুর মনে করে আলাপ-ব্যবহার বর্জিত মনে করো না।

তার ছোট ভাইরা তোমার দেওর বা দেবর (দ্বিতীয় বর) নয়; তারা তোমার ভাই।তা বলে ভাই মনে করে পরদা উঠে যাবে না। বরং মৃত্যুর মত ভয় কর ঐ ভাইদের কে, যারা উপহাসের পাত্র সেজে এসে ভাবীদের সর্বনাশ ঘটায়।

মহানবী (সাঃ) বলেন, “তোমরা মহিলাদের নিকট প্রবেশ করা হতে সাবধান থেকো।” এ কথা শুনে আনসার গোত্রের এক ব্যক্তি বলল, ‘কিন্তু দেওর সম্বন্ধে আপনার মত কি?’ তিনি বললেন, “দেওর তো মৃত্যুস্বরূপ।” (বুখারী ৫২৩২, মুসলিম ২১৭২, তিরমিযী ১১৭১)

কোন সময়ে তাদের কারো সাথে নির্জনতা অবলম্বন করবে না, যাদের সাথে তোমার কোনও কালে বিবাহ বৈধ। নির্জনতা হয়ে গেলে অথবা হওয়ার আশঙ্কা হলে তা কাটাবার চেষ্টা কর। বাড়িতে কেউ না থাকলে অনুরূপ কোন পুরুষকে বাড়িতে প্রবেশে অনুমতি দেবে না। বদনামের ভয় করে তুলনামূলক বড় বদনাম গায়ে মেখে নিও না।

মহানবী (সাঃ) বলেন, “তোমরা এমন মহিলাদের নিকট গমন করো না যাদের স্বামী বর্তমানে উপস্থিত নেই। কারণ শয়তান তোমাদের প্রত্যেকের রক্ত- শিরায় প্রবাহিত হয়।”(তিরমিযী, ইবনে মাজাহ ১৭৭৯, সহীহ তিরমিযী ৯৩৫ নং)

সাবধান বোনটি আমার! তুমি সুন্দরী হলে, তোমার ব্যবহার সুন্দর হলের, তুমি গুণবতী হলে সবাই তোমাকে ভালবাসবে। এই ভালবাসা পেয়ে তুমি নিজেকে ধন্য মনে করে অবৈধ ভালবাসায় মন দিয়ে ফেলো না। কেউ অবৈধ ভালবাসায় তোমাকে মন দিয়ে ফেললেও, তুমি জ্ঞানী মেয়ে, এড়িয়ে চল। খবরদার তাকে প্রশ্রয় দিও না; নচেৎ কুল-মান সব হারাবে।

সতীর বেশে কূলটা ও ভ্রষ্টা হয়ে যেয়ো না। তোমার স্বামী উদাসীন বলে তাকে প্রতারিত করো না। খবরদার আসলের সাথে সূদের আশা করো না। নচেৎ পুজিও হারাবে। তখন শ্যাম রাখি, না কুল রাখি দ্বন্ধে পড়ে এ কুল- ও কুল উভয় কুলই হারিয়ে বসবে। পরকীয় প্রেম বড় ভ্রষ্টতা, তাতে দুনিয়া-আখেরাত উভয়ই বরবাদ হয়। সারা জীবন কলঙ্ক মাথায় নিয়ে কালাতিপাত করতে হয়। পস্তাতে হয় এমন সময়, যখন পস্তানি কোন কাজে দেয় না।

সুতরাং শত সাবধান ;দেওর’ নামক পরিবেশের ঐ দ্বিতীয় বর হতে। যেহেতু মুসলিম কনের বর একটাই। দুনিয়া ও আখেরাতে তার দু,টি বর হতে অয়ারে না। আর যদি ঐ বরকে পর ভাবতে না পার, তাহলে দেখবে, আজ যাকে তুমি ঘর ভেবে প্রশ্রয় দিচ্ছ, সেই ঘরের বাতি থেকে আগুন লেগে তোমার ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যাবে।

সাবধান থেকো পাতানো বাপ-ভাই, মেয়ে-ঘেঁষা গাঁয়ের ইমাম, প্রাইভেট মাষ্টার, ড্রাইভার, চাকর ও মজুর-মনিষ হতে। হয়তো বা তারা তোমার রূপে-গুণে মুগ্ধ হবে, কিন্তু তুমি কেন হবে। হয়তো তারা তোমার স্বামী অপেক্ষা ভাল হবে, কিন্তু তোমার এ দৃষ্টি ও প্রশ্রয় দান তো ভাল হবে না। খবরদার তাদের সাথে লেনদেনে বেপর্দা হবে না এবং আকর্ষণীয় কথা বলবে না। যেহেতু তোমার প্রতিপালকের আদেশ হল,

তোমরা তাদের নিকট হতে কিছু চাইলে পর্দার অন্তরাল হতে চাও। এ বিধান তোমাদের এবং তাদের হৃদয়ের জন্য অধিকতর পবিত্র। (সূরাঃ আহযাব-আয়াত ৫৩)

চেহারা দেখানো জায়েযের ফতোয়া নিয়ে যদি তাদের সামনা-সামনি লেনদেন কর, তাহলে মন লেনদেন তথা দেহ লেনদেন হতে বেশী দেরী থাকবে না।

তুমি বড় শক্ত, বড় পরহেজগার বলছ? কিন্তু মানুষের মন বড় দুর্বল। আল-কুরআনে বর্ণিত ইউসুফ-যুলাইখার কাহিনী তুমি নিশ্চয় শুনে থাকবে, মহান আল্লাহ বলেন,

“মিসরের যে ব্যক্তি তাকে ক্রয় করেছিল, সে তার স্ত্রীকে বলল, সম্মানজনক ভাবে এর থাকবার ব্যবস্থা কর, সম্ভবতঃ এ আমাদের উপকারে আসবে অথবা আমরা একে পুত্ররূপে গ্রহন করব। আর এভাবে আমি ইউসুফকে সেই দেশে প্রতিষ্ঠিত করলাম, তাকে স্বপ্নের ব্যাখ্যা শিক্ষা দেওয়ার জন্য। আল্লাহ তার কারয সম্পাদনে অপ্রতিহত; কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা অবগত নয়।

সে যখন পূর্ণ যৌবনে উপনীত হল, তখন আমি তাকে প্রজ্ঞা ও জ্ঞান দান করলাম। আর এভাবেই আমি সৎকর্মপরায়ণদেরকে পুরস্কৃত করে থাকি।

সে যে স্ত্রীলোকের গৃহে ছিল, সে তার কাছে (উপযাচিকা হয়ে) যৌন-মিলন কামনা করল এবং দরজাগুলি বন্ধ করে দিয়ে বলল, এস! (আমরা কাম-প্রবৃত্তি চরিতার্থ করি।) সে বলল, আমি আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। তিনি (আযীয) আমার প্রভু! তিনি আমাকে সম্মানজনকভাবে স্থান দিয়েছেন। নিশ্চয় সীমালংঘনকারীরা সফলকাম হয় না।

নিশ্চয় সেই মহিলা তার প্রতি আসক্তা হয়েছিল এবং সেও তার প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ত; যদি না সে বিরত রাখার জন্য এই নিদর্শন প্রত্যক্ষ করত। তাকে মন্দ কর্ম ও অশ্লীলতা হতে বিরত রাখবার জন্য এইভাবে নিদর্শন দেখিয়েছিলাম। অবশ্যই সে ছিল আমার নির্বাচিত বান্দাদের একজন।

তারা উভয়ে দৌড়ে দরজার দিকে গেল এবং মহিলাটি পিছন হতে (তাকে টেনে রুখতে গিয়ে) তার জামা ছিঁড়ে ফেলল। তারা মহিলাটির স্বামীকে দরজার কাছে পেল। মহিলাটি বলল, যে তোমার পরিবারের সাথে কুকর্ম কামনা করে তার জন্য কারাগারে প্রেরণ অথবা অন্য কোন বেদনাদায়ক শাস্তি ব্যতীত কি দন্ড হতে পারে?

সে (ইউসুফ) বলল, সেই আমার কাছে যৌন-মিলন কামনা করেছিল।

মহিলাটির পরিবারের একজন সাক্ষী সাক্ষ্য দিল, যদি তার জামার সম্মুখ দিক ছিন্ন করা হয়ে থাকে, তাহলে মহিলাটি সত্য কথা বলেছে এবং সে মিথ্যাবাদী।

আর যদি তার জামা পিছন দিক হতে ছিন্ন করা হয়ে থাকে, তাহলে মহিলাটি মিথ্যা কথা বলেছে এবং সে সত্যবাদী।

সুতরাং গৃহস্বামী যখন দেখল, তার জামা পিছন দিক থেকে ছিন্ন করা হয়েছে, তখন সে বলল, এটা তোমাদের (নারীদের) ছলনা; নিশ্চয় তোমাদের ছলনা বিরাট!

হে ইউসুফ! তুমি এ বিষয়কে উপেক্ষা কর এবং হে নারী! তুমি তোমার অপরাধের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর, নিশ্চয় তুমিই অপরাধিনী।

নগরে কতিপয় মহিলা বলল, আযীযের স্ত্রী তার যুবক দাসের কাছে যৌন-মিলন কাম্মনা করে; প্রেম তাকে উন্মক্ত করে ফেলেছে। আমরা তো তাকে দেখছি স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে।

মহিলাটি যখন তাদের চক্রান্তের কথা শুনল, তখন সে তাদের কে ডেকে পাঠাল এবং একটি বৈঠকের আয়োজন করল। তাদের প্রত্যেককে একটি করে ছুরি দিল এবং তাকে বলল, তাদের সামনে বের হও। অতঃপর তারা তাকে দেখল তখন তারা তার (রূপ-মাধুর্যে) অভিভূত হল এবং নিজেদের হাত কেটে ফেলল।

তারা বলল, আল্লাহ পবিত্র! এ তো মানুষ নয়। এ তো এক মহিমান্বিত ফিরিশ্তা!

সে বলল, এই সে যার সম্বন্ধে তোমরা আমাকে মন্দ করেছ। আম তো তার কাছে যৌন –মিলন কামনা করেছি; কিন্তু সে নিজেকে পবিত্র রেখেছে। আমি তাকে যা আদেশ করি, সে যদি তা না করে, তাহলে অবশ্যই সে কারারুদ্ধ হবে এবং লাঞ্ছিতদের অন্তর্ভুক্ত হবে।

ইউসুফ বলল, হে আমার প্রতিপালক! এই মহিলারা আমাকে যার প্রতি আহ্বান করছে তা অপেক্ষা কারাগার আমার কাছে অধিক প্রিয়। তুমি যদি তাদের ছলনা হতে আমাকে রক্ষা না কর, তাহলে আমি তাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ব এবং অজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হব।

অতঃপর তার প্রতিপালক তার আহ্বানে সাড়া দিলেন এবং তাকে তাদের ছলনা হতে রক্ষা করলেন। তিনি তো সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।”( সূরা ইউসুফ_ আয়াত ২১-৩৪)

“রাজা মহিলাদের কে বললেন, কি ব্যাপার তোমাদের? যখপন তোমরা ইউসুফের কাছে যৌন-মিলন কামনা করেছিলে,(তখন কি সে সম্মত হয়েছিল?) তারা বলল, আল্লাহ পবিত্র! আমরা তার মধ্যে কোন দোষ দেখিনি। আযীযের স্ত্রী বলল, এক্ষণে সত্য প্রকাশ পেয়ে গেল। আমিই তার কাছে যৌন-মিলন কামনা করেছিলাম, আর সে অবশ্যই সত্যবাদী।

এটা এ জন্য যে, যাতে সে জানতে পারে যে, তার অনুপস্থিতিতে আমি তার প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করিনি এবং আল্লাহ বিশ্বাসঘাতকদের ষড়যন্ত্র সফল করেন না।

আমি নিজেকে নির্দোষ মনে করি না, মানুষের মন অবশ্যই মন্দকর্ম প্রবণ, কিন্তু সে নয় যার প্রতি আমার আমার প্রতিপালক দয়া করেন। নিশ্চয় আমার প্রতিপালক অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” (ঐ ৫১-৫৩)

খারাপ মেয়ে পতির নুন খায়, আর উপপতির গুণ গায়। এই জন্য ভুক্তভোগী অভিজ্ঞরা বলেছেন, ‘নদী নারী শৃঙ্গধারী, এ তিনে না বিশ্বাস করি।’ ‘জ; জঙ্গল নারী, এ তিনে বিশ্বাস নেই বড় মন্দকারী।’

এমন মেয়ে স্বামীর জন্য বড় ফিতনা স্বরূপ।

এমনও ফিতনাবাজ মহিলা আছে, সে স্বামীকে তার মা-বাপ বা ভাইদের সাথে লড়িয়ে দেয়।

এমন মহিলা অসময়ে ভাই-ভাই ঠাই ঠাই হওয়ার কারণ হয়। আর তার ব্যাপারেই প্রবাদ আছে, ‘ভাই বড় ধন, রক্তের বাঁধন। যদি হয় পর নারীই কারন।’

ফিতনার মহিলা স্বামীকে তার অবশ্য-কর্তব্যে বাধাদান করে। স্বামী সে বাধা মেনে নিতে বাধ্য হয়। অনেক মহিলা ছলে-কলে-কৌশলে স্বামীকে নিজের বশ করে নেয়। ফলে স্বামী তাই করে, যা স্ত্রী বলে। তখন যার পদতলে তার বেহেশ্ত, তার কথা অমান্য করে, যার বেহেশ্ত তার পদসেবায় তার কথা গ্রহন করে! স্ত্রীকে মা-বোনের উপর প্রাধান্য দেয়।

অনেক স্ত্রী স্বামীকে দ্বীন মানতে বাধা দেয়। স্বামী তাতেও তার আনুগত্য করে!

এরাই হল স্বামীর জন্য ফিতনা। হাদীসে এসেছে, মহানবী (সাঃ) বলেছেন, “পুরুষের জন্য মহিলা অপেক্ষা বড় ক্ষতিকর ফিতনা আর অন্য কিছু ছেড়ে যাচ্ছি না।”(বুখারী,মুসলিম)

সবচেয়ে বড় ফিতনা হল, মহিলা ছাড়া পুরুষের জীবনই অচল। নারী ইত্যাদির আসক্তি মানুষের নিকট লোভনীয় করা হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন,

নারী—-র প্রতি আসক্তি মানুষের নিকট লোভনীয় করা হয়েছে।(সূরা-আলে ইমরান-আয়াত ১৪)

নারী মোহিনী, মনোহারিণী ও কামিনী বলেই তার দ্বারা ফিতনা সবার চেয়ে বড় ফিতনা। আর সে জন্যই মহানবী (সাঃ০ সতর্ক করে বলেছেন, “তোমরা নারী ও দুনিয়াকে ভয় করো। কারন, বণী-ইস্রাঈলের মধ্যে সর্বপ্রথম ফিতনা সংঘটিত হয় নারীকে কেন্দ্র করে।”(মুসলিম)

মহান আল্লাহও পুরুষকে সতর্ক করে বলেন,

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّ مِنْ أَزْوَاجِكُمْ وَأَوْلَادِكُمْ عَدُوًّا لَّكُمْ فَاحْذَرُوهُمْ وَإِن تَعْفُوا وَتَصْفَحُوا وَتَغْفِرُوا فَإِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ\

অর্থাৎ,

হে মুমিনগণ, তোমাদের কোন কোন স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততি তোমাদের দুশমন। অতএব তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাক। যদি মার্জনা কর, উপেক্ষা কর, এবং ক্ষমা কর, তবে আল্লাহ ক্ষমাশীল, করুনাময়।(সূরা-তাগাবুন-আয়াত ১৪)

অনুরূপ বিবিধ কারণে মহিলাকে কুলক্ষণাও বলা হয়েছে। মহানবী (সাঃ) বলেন, .যদি কোন কিছুতে কুলক্ষণ থাকে, তাহলে তা আছে নারী, বাড়ি ও সওয়ারী (গাড়ি)তে।”(বুখারী)

পক্ষান্তরে আদর্শ স্ত্রী স্বামীর সৌভাগ্য। ‘স্ত্রী-ভাগ্যে ধন, আর পুরুষভাগ্যে জন।’

স্ত্রী হিসাবী হলে ধন হয়। সুলক্ষণা মেয়ে সুবুদ্ধি দিয়ে সংসারের উন্নতি ঘটায়, পড়াশোনা ও বিদ্যা-বুদ্ধিতে স্বামীর সহায়িকা হয়। ব্যবসা ও চাকরির ব্যাপারে কোন ক্ষতি করে না।

আর বেহিসাবী হলে স্বামীকে ফকীর হতে হয়। কুবুদ্ধি দিয়ে স্বামীর অর্থের অপচয় ঘটায়, কুপরামর্শ দিয়ে পড়াশোনা নষ্ট করে, ব্যবসা বা চাকরির ক্ষতি করে।

সত্যিই তো ছ্যাদা ঘটি চোরা গাই, চোর পড়শী ধূর্ত ভাই। মূর্খ ছেলে স্ত্রী নষ্ট, এ কয়টি বড় কষ্ট।’ ‘রাজার দোষে রাজ্য নষ্ট, স্ত্রীর দোষে স্বামীর কষ্ট।’

                   ‘রাজার দোষে রাজ্য নষ্ট প্রজা কষ্ট পায়,

                    নারীর দোষে সংসার নষ্ট শান্তি চলে যায়।’

প্রিয় নবী (সাঃ) বলেন, “পুরুষের জন্য সুখ ও সৌভাগ্যের বিষয় হল চারটি; স্বাধ্বী নারী, প্রশস্ত বাড়ি, সৎ প্রতিবেশী এবং সচল সওয়ারী (গাড়ী)। আর দুঃখ ও দুর্ভাগ্যের বিষয়ও চারটি; অসৎ প্রতিবেশী, অসতী স্ত্রী, অচল সওয়ারী (গাড়ী) এবং সংকীর্ণ বাড়ি।(সুলসিলাহ সহীহাহ ২৮২ নং) আরো পড়ুন

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

মোজার উপর মাসাহ

মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান (হাদিস)

জেনে নিন মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান। রাসূল (সাঃ) ও সাহাবায়ে কেরামগণ চামড়ার মোজা পরিধান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE