Home / বই থেকে / ৫৭ আদর্শ শাশুড়ী

৫৭ আদর্শ শাশুড়ী

মা আমার! তুমি বউয়ের জন্য আদর্শ হও। নচেৎ ‘শাশুড়ী যদি দাঁড়িয়ে মুতে, বউ মুতবে পাক দিয়ে দিয়ে।’

একান্নবর্তী সংসারে কলহ অস্বাভাবিক নয়। তবে অনেক কলহ নিছক ভুল বুঝাবুঝির ফলে সৃষ্টি হয়ে থাকে। এরূপ পরিবেশ সৃষ্টি করা থেকে দূরে থাক।

বাড়িতে অপরজনকে ছেড়ে দু’জনে ফিসফিসিয়ে কথা বলো না। তাতে সন্দেহের বীজ বপন হতে পারে। কথা না হলে তাকে শুনিয়ে দাও এবং তার মনের সন্দেহ দূর করে দাও। আর জেনে রেখো যে, দেওয়ালেরও কান আছে। অর্থাৎ, কোন গোপন কথা তুমি নির্জনে বললেও, কোথা থেকে কে শুনে ফেলছে, তা তুমি লক্ষ্য করতে পারবে না।

হিট মেরে কথা বলো না, ঝিকে মেরে বউকে শিক্ষা দিও না। ছেলেক্ব কটু কথা বলে শ্বশুর, স্বামী বা তার ভাইকে, মেয়েকে কটু কথা বলে শাশুড়ী, জা বা ননদকে হিট মেরো না। এতে মন ভেঙ্গে যায় এবং সরাসরি আঘাত করার চাইতে তাতে আঘাত লাগে বেশী।

আদর্শ মা আমার! বউ নিয়ে মনোমালিন্য হলে ধৈর্য ধর। মেনে ও মানিয়ে নিতে চেষ্টা কর। আমি তো জানি না মা, দোষ কার? তুমিও হয়তো নিজের দোষ নিজে বুঝতে পারবে না। বউমাও নিজের দোষ স্বীকার করবে না। কি জানি তোমার মাঝে বউয়ের প্রতি ঈর্ষা কাজ করছে কি না? আর জানি না, তোমার বউয়ের মাঝে অহংকার আছে কি না?

তোমার নিকট থেকে বউ তোমার বেটা ভাঙ্গিয়ে নিচ্ছে? নিছক সন্দেহের বশে বউমাকে দোষ দিও না। এমনও হতে পারে যে, ‘ভাড় ভাল নয়, মোদ (মধু) গড়াগড়ি।’

বউ-এ মায়ে ঝগড়া হলে বেটার মাথা খাওয়া যায়। আর তখন বেটাকে হিকমত অবলম্বন করতে হয়। বউকে ছোট হতে হয়। শাশুড়ীকে মেনে নিতে হয়, ক্ষমা প্রদর্শন করতে হয়।

আশা করি তুমি সেই মা নও, যে বেটি-জামায়ের প্রেম দেখে খোশ হয়, কিন্তু বেটা-বউয়ের ভালবাসা দেখে রোষ করে, গা জ্বালায় জ্বলে ওঠে!

আশা করি তুমি সে শাশুড়ী নও, যে বঊয়ের জন্য ছেলেকে দিনে ভাশুর বানিয়ে রাখে। অতঃপর রাতে দেরী করে শুতে দিয়ে স্বামী-স্ত্রীতে গল্প করতে করতে রাত পার করে ফজর পর পুনঃ ঘুমিয়ে সকালে উঠতে বউয়ের দেরী হয়ে গেলে চামড়ার বন্ধুক থেকে কথার টোটা ছুড়ে তার কানে মেরে জানে আঘাত দাও।

তুমিও পারনি, এখনও পারবে না। যদি রাত জেগে স্বামী সন্তুষ্ট করে থাক, তাহলে শারীরিক আলস্য, ক্লান্তি ও জড়তার ফলে সকাল সকাল স্ফূর্তি মনে উঠতে পারবে না।

সুতরাং ধৈর্যের সাথে একটু সহ্য করে নাও; বিশেষ করে বিয়ের পর নতুন কয়টা বছর।

বউয়ের নিকট থেকে গায়ে তেল পায়ে তেল পাওয়ার আশা করো না। আশা করলে এবং না পেলেই দুঃখ হবে। আর তা না পেয়ে খবরদার ঘরের কথা, বেটা-বউয়ের কথা পরের কাছে বলো না। তাতে তোমার দুশমন হাসবে এবং তোমার মান যাবে, ওজন হাল্কা হবে তোমার বেটার।

নারী বড় ফিতনা, তুমি হয়তো তোমার বউয়ের কাছেও সে প্রমাণ পেতে পার। জায়ে-জায়ে মনোমালিন্য হলে, তুমি শাশুড়ীমা হিসাবে হিকমত অবলম্বন কর। ভাই বড় ধন, রক্তের বাধন, যদি হয় পর, নারীই কারণ।

একান্ত বনিবনাও না হলে, সময় থাকতে পৃথক করে দাও। ভাই-ভাই ঠাই-ঠাই একদিন না একদিন হতেই হবে।

সুতরাং আগে থেকে হলে ক্ষতি কি? ছোট ছেলে বা মেয়ে থাকলে তাদের ভরণপোষন করতে পিতা অক্ষম হলে পৃথক হয়ে গেলেও ঐ ছেলের তা ওয়াজেব।

তুমি স্মরণ করে দেখ মা! তুমি এককালে যখন তোমার শাশুড়ীর নিকট থেকে পেতে পছন্দ করতে , সেই ব্যবহার তুমি তোমার বউকে প্রদর্শন কর।

মা গো! আপ ভালা তো জগত ভালা। বউয়ের সাথে ভাল ব্যবহার করে দেখ, তুমিও তার নিকট থেকে ভাল ব্যবহার পাবে। তুমি তাকে আপন বেটি মনে কর, সেও তোমাকে আপন মা মনে করবে। আর অহংকারে দুরত্বই বাড়বে, বাড়বে অশান্তির দাবালন।  আরো পড়ুন

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

[পঞ্চম পরিচ্ছেদ] ইসলামী শরী‘য়াহ বাস্তবায়নের হুকুম

আল্লাহর প্রতি ঈমান ও তাঁর একত্ববাদে বিশ্বাস এটাই দাবী যে, আমরা ঈমান আনব যে, তিনি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *