Breaking News
Home / বই থেকে / ৫৯ পরচর্চা” গীবত

৫৯ পরচর্চা” গীবত

মহিলা-মজলিসে যেমন ঘরচর্চা হয়, তেমনি পরচর্চাও বাদ যায় না। পরচর্চা বা গীবত হল এ মজলিসের ফলফ্রুট অথবা চা-বিস্কুট। অথচ পরচর্চা বা পরের গীবত করা অথবা তাতে অংশগ্রহন করা আদর্শ মহিলার পরিচয় নয়।

মহান আল্লাহ বলেন, হে বিশ্বাসিগণ! তোমরা বহুবিধ ধারণা হতে দূরে থাক; কারণ কোন কোন ধারণা পাপ। আর তোমরা অপরের গোপনীয় বিষয় অনুসন্ধান করো না এবং একে অপরের পশ্চাতে নিন্দা (গীবত) করো না। তোমাদের মধ্যে কি কেউ তার মৃত ভ্রাতার গোশ্ত ভক্ষণ করতে চাইবে? বস্তুতঃ তোমরা তো এটাকে ঘৃণাই মনে কর। তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। আল্লাহ তাওবা গ্রহনকারী, পরম দয়ালু।(সূরা-হুজুরাত-আয়াত ১২)

মা আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একদা নবী (সাঃ) কে বললাম, ‘সফিয়ার ক্রটির জন্য তো এতটুকুই যথেষ্ট যে সে এইটুকু।’

অর্থাৎ, বেটে। তা শুনে নবী (সাঃ) বললেন, ‘তুমি এমন একটি কথা বললে যে, তা যদি সমুদ্রের পানিতে ঘুলে দেওয়া হত, তাহলে (সে অথৈ) পানিকেও ঘোলা (নোংরা) করে দিত!” (আবু দাঊদ, তিরমিযী)

প্রিয় নবী (সাঃ) বলেন, “যখন আমি মি’রাজে গেলাম তখন এক সম্প্রদায়কে দেখলাম তারা তামার নখ দ্বারা নিজেদের মুখমন্ডল এবং বক্ষ বিক্ষত করছে। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ‘হে জিব্রাঈল! ওরা কারা? তিনি বললেন, ‘ওরা তারা, যারা মানুষের মাংস ভক্ষন করে এবং তাদের সম্ভ্রম লুটে বেড়ায়।’ ঈয়াহপমাদ, আবূ দাঊদ)

আবূ হাতেম বলেন, সবচেয়ে লাভবান ব্যবসা আল্লাহর যিকর এবং সবচেয়ে ক্ষতিকর ব্যবসা মানুষের যিকর।

ফুযাইল বিন ইয়ায বলেন, মানুষের যিকর ব্যাধি, আর আল্লাহর যিকর আরোগ্য।

সাধারনতঃ গীবত করে হিংসুটে লোকেরা। হিংসুক ব্যক্তি পেরে না উঠলে গীবত শুরু করে দেয়। পক্ষান্তরে একজন ‘আদর্শ রমনী’ হিংসুটে হয় না।

আর ও কথা জেনে রেখো যে, যে তোমার কাছে পরচর্চা করে, সে তোমার চর্চা পরের কাছে করবে। অতএব এমন চর্চায় অংশগ্রহন থেকে দূরে থাক।

শান্তি প্রিয় বোনটি আমার! লোকের গীবত করো না, শুনোও না। আর পারলে যার গীবত করা হচ্ছে তার তরফ থেকে মুখ নিও, তার জন্য কোন ওজর খুজো, তাতে তুমি নেক বদলা পাবে। তোমার নবী (সাঃ) বলেন, “যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের সম্ভ্রমের সপক্ষে অপরের প্রতিবাদ ও খন্ডন করে আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার উপর থেকে জাহান্নামকে ফিরিয়ে দেবেন ।”(আহমাদ, তিরমিযী)

“যে ব্যক্তি তার (মুসলিম) ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে (তার গীবত করা ও ইজ্জত লুটার সময় প্রতিবাদ ) তার সম্ভ্রম রক্ষা করে, সেই ব্যক্তি আল্লাহর নিকট এই অধিকার পায় যে, তিনি তাকে দোযখ থেকে মুক্ত করে দেন।” (আহমাদ, ত্বাবারানী, সহীহুল জামে’ ৬২৪০ নং)

আর প্রতিবাদ বা রদ করার ক্ষমতা না থাকলে গীবতকে অন্তর দ্বারা ঘৃণা করবে এবং কর্ণপাত না করে মজলিস ত্যাগ করে প্রস্থান করবে। নচেৎ জেনে রেখো, পরের দোষকীর্তন করতে থাকলে, আল্লাহ কারেন্ট শাস্তি স্বরূপ তোমার দোষ প্রকাশ করে তোমাকে লাঞ্ছিত করবেন।

আল্লাহর রসূল (সাঃ) বলেন, “হে সেই মানুষের দল; যারা মুখে ঈমান এনেছে এবং যাএর হৃদয়ে ঈমান স্থান পায়নি (তারা শোন)! তোমরা মুসলিমদের গীবত করো না এবং তাদের দোষ খুজে বেড়ায়ো না। কারণ, যে ব্যক্তি তাদের দোষ খুজবে, আল্লাহ তার দোষ ধরবেন। আর আল্লাহ যার দোষ ধরবেন তাকে তার ঘরের ভিতরেও লাঞ্ছিত করবেন।” (আহমাদ ৪/৪২০, আবূ দাঊদ ৪৮৮০, আবূ য়্যা’লা, সহীহুল জামে, ৭৯৮৪নং)

পরচর্চা করা মৃত মানুষের মাংস খাওয়ার সমান। আল্লাহ তাআলা বলেন,

মহান আল্লাহ বলেন, হে বিশ্বাসিগণ! তোমরা বহুবিধ ধারণা হতে দূরে থাক; কারণ কোন কোন ধারণা পাপ। আর তোমরা অপরের গোপনীয় বিষয় অনুসন্ধান করো না এবং একে অপরের পশ্চাতে নিন্দা (গীবত) করো না। তোমাদের মধ্যে কি কেউ তার মৃত ভ্রাতার গোশ্ত ভক্ষণ করতে চাইবে? বস্তুতঃ তোমরা তো এটাকে ঘৃণাই মনে কর। তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। আল্লাহ তাওবা গ্রহনকারী, পরম দয়ালু।(সূরা-হুজুরাত-আয়াত ১২)

তোমাদের এই মজলিসে কত মহিলা কত মহিলার নামে মিথ্যা কলঙ্ক দেয়। যে অপরাধ কেউ করেনি, তার ঘাড়ে সেই অপবাদ চাপানো হয়। অথচ তা সমাজে অশান্তি সৃষ্টিকারী একটি মহাপাপ। মহান আল্লাহ বলেন,

যারা সাধ্বী নিরীহ ও বিশ্বাসিনী নারীর প্রতি অপরাধ আরোপ করে তারা ইহলোক ও পরলোকে  অভিশপ্ত এবং তাদের জন্য আছে মহাশাস্তি। (সূরা নূর-আয়াত ২৩)

তিনি আরো বলেন,

যারা বিনা অপরাধে মু’মিন পুরুষ ও মু’মিন নারীদের কে কষ্ট দেয় তারা মিথ্যা অপবাদ ও প্রকাশ্য পাপের বোঝা বহন করে। (সূরা আহযাব-আয়াত ৫৮)

গীবত ও অপবাদের মাধ্যমে কত মুসলিম নরনারীর ইজ্জত লুটা যায়, তার ইয়ত্তা নেই। অথচ তা কত বড় মহাপাপ!

মহানবী (সাঃ) বলেন, “সুদ (খাওয়ার পাপ হল) ৭২ প্রকার। যার মধ্যে সবচেয়ে ছোট পাপ হল নিজের মায়ের সাথে ব্যভিচার করার মত! আর সবচেয়ে বড় (পাপের) সূদ হল নিজ (মুসলিম) ভায়ের সম্ভ্রম নষ্ট করা।” (ত্বাবারানী আউসাত্ব, সিলসিলাহ সহীহাহ ১৮৭১ নং)

অঙ্গচালনার সাথে বিভিন্ন ভঙ্গিতে কত মানুষের কাপ দেখানো হয়। অথচ তাও কাবীরা গোনাহ। মা আয়েশা (রাঃ) বলেন, একদা তার নিকট এক ব্যক্তির কথা অভিনয় করে) নকল করলাম। এর ফলে তিনি বললেন, “আমাকে যদি এত এত (প্রচুর অর্থ) দেওয়া হয় তবুও আমি কারো নকল করাকে পছন করব না।”(আহমাদ ৩/২২৪, আবূ দাঊদ ৪৮৭৮, সহীহ আবূ দাঊদ ৪০৮২ নং)

শান্তি কামী বোনটি আমার! তুমি আপ্রলে মানুষের ইজ্জত রক্ষা করো। প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করো। তাতে তোমার লাভ আছে। রসূল (সাঃ) বলেন, “যে কোনও ব্যক্তি কোন মুসলিম ব্যক্তিকে সেই জায়গায় সাহায্য না করে বর্জন করবে, যেখানে তার সম্ভ্রম লুটা হয় এবং তার ইজ্জত নষ্ট করা হয়, সে ব্যক্তিকে আল্লাহ সেই জায়গায় সাহায্য না করে বর্জন করবেন, যেখানে সে তার সাহায্য পেতে পছন্দ করে। আর যে কোনও ব্যক্তি কোন মুসলিম ব্যক্তিকে সেই জায়গায় সাহায্য করবে যেখানে তার সম্ভ্রম লুটা হয় এবং  তার ইজ্জত নষ্ট করা হয়, সে ব্যক্তিকে আল্লাহ সেই জায়গায় সাহায্য করবেন, যেখানে সে তার সাহায্য পেতে পছন্দ করেন।” (আবূ দাঊদ ৪৪৮৪, সহীহুল জামে’ ৫৬৯০নং) আরো পড়ুন

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

মোজার উপর মাসাহ

মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান (হাদিস)

জেনে নিন মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান। রাসূল (সাঃ) ও সাহাবায়ে কেরামগণ চামড়ার মোজা পরিধান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE