Breaking News
Home / ইসলাম / শিক্ষামূলক গল্প / কাজী আয়ায (রহ.) এর বিচক্ষণতা

কাজী আয়ায (রহ.) এর বিচক্ষণতা

বুদ্ধিমত্তা ও বিচক্ষণতায় কাযী আয়ায (রহ.) ছিলেন অতুলনীয় ব্যক্তিত্ব। তাঁর বুদ্ধিমত্তা ও বিচক্ষণতাকে ঘিরে রচিত হয়েছে বহু ঘটনা ও ইতিহাস। একবার জনৈক ব্যক্তি তাঁর নিকট এসে বলল-আমি অমুকের কাছে কিছু টাকা আমানত রেখেছিলাম । কিন্তু সে এখন আমার সঙ্গে প্রতারণা করছে। কাযী আয়ায (রহ.) বিবাদীকে ডেকে জিজ্ঞাসা করলে সে অস্বীকার করে বলল-বাদী লোকটি আমার নিকট কোন প্রকার আমানত রাখেনি।

কাযী আয়ায (রহ.) বাদীকে বললেন-তুমি কোথায় তাঁর কাছে আমনত রেখেছ? লোকটি উত্তর করলঃ জঙ্গলের একটি জায়গায়। কাযী সাহেব (রহ.) বললেন-সে জায়গায় কোন আলামত আছে কি? বাদী বলল-জী হ্যাঁ, সেখানে একটি গাছ আছে। গাছটির নিচেই আমি তাঁর কাছে আমানত রেখেছি। কাযী সাহেব (রহ.) তাকে বললেন- তুমি গাছটির নিচে গিয়ে দেখ, হতে পারে তুমি মাল আমানত রাখার স্থলে সেখানে পুতে রেখেছ, এখন ভুলে গেছ। বাদী সে স্থানে রওয়ানা হল। এদিকে কাযী সাহেব বিবাদীকে বললেন – সে আসা পর্যন্ত তুমি এখানে বসে থাক। অতঃপর কাযী সাহেব অন্যান্য বিচারাচারে মগ্ন হয়ে গেলেন। কিছুক্ষণ পর কাযী সাহেব বিবাদীকে বললেন, কি মনে হয়, বাদী এতক্ষণে সেখানে পৌঁছাতে পেরেছে? বিবাদী সহসা বলে উঠল না, এখনো পৌঁছায়নি। ব্যাস কাযী সাহেব তৎক্ষনাত সেখানে অপরাধীকে চিহ্নিত করে পাকড়াও করে ফেললেন। কেননা, বিবাদী উক্ত গাছ ও তাঁর দূরত্ব সম্পর্ক সুস্পষ্ট ভাবে জানতে পারাটাই প্রমাণ করে যে, আসলেই গাছের নিচে সে বাদীর সঙ্গে কোন লেনদেন করেছে।

এতেই তাঁর প্রতারণা ফাঁশ হয়ে গেল। ফলে নিজেই নিজের আত্মসাতের কথা স্বীকার করতে বাধ্য হল। অনুরূপভাবে আরেক ব্যক্তি কাযী আয়ায (রহ.)-এর খেদমতে এসে অভিযোগ করলঃ অমুক ব্যক্তি আমার আমানত আত্মসাত করে বসে আছে। কাযী সাহেব বললেনঃ তুমি এখন চলে যাও, বিবাদী যেন টের না পায় যে, তুমি আমার নিকট তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছ। দুই দিন পর পুনরায় আমার সঙ্গে দেখা করবে। লোকটি চলে যাওয়ার পর কাযী সাহেব বিবাদীকে ডেকে বললেনঃ আমার নিকট বেশ কিছু সম্পদ এসেছে। তোমার কাছে রাখার ভাল ব্যবস্থা হবে কি? সে বলল” জী হাঁ আমার ঘরটি এর জন্য অত্যন্ত নিরাপদ। কাযী সাহেব বললেনঃ ঠিক আছে তুমি এখন গিয়ে এর জন্য জায়গা তৈরি কর এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ কর। লোকটি আনন্দচিত্তে চলে গেল। এদিকে তাঁর পর পরই বাদী এসে হাজির । কাযী সাহেব তাকে বললেন-যাও, এখন তাঁর কাছে গিয়ে তোমার আমানত চাও, যদি ফেরৎ দেয় তবে তো ভাল কথা, অন্যথায় তুমি বল্বে-আমার আমানত হস্তান্তর কর। নতুবা আমি কাযীর নিকট মামলা দায়ের করব।

বাদী কাযী সাহেবের শেখানো নিয়মে তাঁর কাছে গিয়ে আমানত চাইতেই সে দিয়ে দিল। অতঃপর বিবাদী কাযীর নিকট সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করে চলে আসল। কাযী সাহেব (রহ.) তাকে রাগ ধমক দিয়ে বিদায় দিয়ে দিলেন।-আত-তুরুকুল হিকামিয়্যা আস সিয়াছিয়্যাহ-২২-২৩

বিভাগঃ ইসলাম / মূল বিভাগ দেখুন

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

জার্জিস কন্যা

অভিভূত জার্জিস কন্যা (যুদ্ধ ও প্রেমের গল্প)

বর্ণনাঃ যুদ্ধের ময়দানে আফ্রিকার খৃষ্টান রাজা ঘোষণা দিয়েছিলেন, যে বীরপুরুষ মুসলিম সেনাপতি আব্দুল্লাহ ছিন্নমস্তক নিয়ে আসতে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *