Breaking News
Home / সাহিত্য / কিছু গল্প / একটি মিষ্টি রাতের গল্প-বাসর রাতের গল্প ২০১৮

একটি মিষ্টি রাতের গল্প-বাসর রাতের গল্প ২০১৮

মিষ্টি রাতের গল্পগল্পের বর্ণনাঃ একটি মিষ্টি রাতের গল্প টি হচ্ছে মেগা সিরিজ গল্প। গল্প পাঠক-পাঠিকাদের মধ্যে যাদের বড় গল্প পড়তে ভালো লাগে মূলত তাদের জন্য এই গল্পের সিরিজ। একটি মিষ্টি রাতের গল্প টি ২০ পর্বের গল্প। আমরা এই সুন্দর গল্পটি ৪ খন্ডে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। প্রতি খন্ডে ৫ টি করে পর্ব আছে। আপনি বিরতিহীন ভাবে পড়ে যেতে রেটিং অপশনের নিচের বেগুনী রঙের আরো পড়ুন বাটনে ক্লিক করুন।

শিরোনামঃ একটি মিষ্টি রাতের গল্প

লেখকঃ নিলয়

গল্পের ধরণ : রোমান্টিক

গল্পের টপিকস : বাসর রাত

পর্ব ১

বাসর ঘরে বসে বসে হাই তুলছে অরণী।আর নাফিস সেই তখন থেকে মোবাইল ফোনে কথা বলেই যাচ্ছে জেনি নামের কারো সাথে।
অরণী ভেবে পাচ্ছে না এখন সে কি করবে? ভীষণ ঘুম পাচ্ছে কিন্তু এভাবে অচেনা এক পুরুষকে সামনে বসিয়ে রেখে ঘুমিয়ে পরাটাও অনিরাপদ মনে হচ্ছে তার কাছে।
অরণী উঠে গিয়ে বারান্দায় কয়েকবার পায়চারি করল।
বারান্দার পাশেই বিশাল এক তেঁতুল গাছ।
তেঁতুলগাছে ভূত থাকে;এটা ভেবে তার গা ছম ছম করে উঠল।সে বেশিক্ষণ বারান্দায় বসে থাকতে পারলো না। আবার রুমের ভেতর এসে বসলো। মাথা ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে সে মাঝারি আকারের রুমটা লক্ষ্য করলো।
অদ্ভুত একটা রুম।
এখানে ঐশ্বর্যের কোন চিহ্ন নেই।
ফ্লোরে একটা বিছানা পাতা দক্ষিণের জানালা ঘেঁষে।
তার পাশে ছোট একটা চেয়ার-টেবিল,একটা কাবার্ড।
আর বাকি জায়গা জুড়ে বইয়ের তিনটা সেল্ফ। সেল্ফ গুলোতে রাজ্যের বই আর ম্যাগাজিন।
বেশিরভাগ বই-ই ইংরেজিতে লেখা।
অরণী ভেবে পাচ্ছে না,এই ছেলের ভেতর এত ইংরেজি প্রেম কেন? পরক্ষনেই তার মনে পরে গেল,সে শুনেছে নাফিস ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশুনা করেছে।
তার মানে “হেই ড্যুড,হোয়াটস আপ বাডি” কালচারের ছেলে সে!
অরণীর ঠোঁটের কোণে তাচ্ছিল্যের হাসি ফুটে উঠলো।
শেল্ফ থেকে দু’একটা বই নিয়ে কিছুক্ষণ নাড়াচাড়া করে সে রেখে দিল। ছোটবেলা থেকেই ইংরেজিতে তার ভয়াবহ দূর্বলতা।
এই মুহূর্তে বসে বসে নাফিসের প্যান প্যানে প্রেমালাপ শোনা ছাড়া অরণীর আর কিছুই করার নেই।
নাফিস এখনো ফোনটা কানে ধরে আছে।আলাপ শুনে বোঝা যাচ্ছে, নাফিসের প্রেমিকা জেনি হঠাৎ নাফিসের এই বিয়েটা কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না। তাই বাসররাতটা এভাবেই সে ফোনে কথা বলে কাটিয়ে দিতে চাচ্ছে। অরণী বুঝতে পারছে না,এভাবে কয়টা রাত জেনি তার প্রেমিককে নববিবাহিতা স্ত্রীর সান্নিধ্য থেকে দূরে রাখতে পারবে?
বেচারা জেনি!!বেচারা প্রেম!! জেনি নামের অচেনা মেয়েটার জন্য অরণীর মায়া হচ্ছে।
অরণী ইশারায় কয়েকবার নাফিসকে ফোন রেখে দিতে বলেছিল।কিন্তু নাফিস আগুনচোখে তার দিকে তাকিয়েছে। তখন অরণীর আর কিছু বলার সাহস হয়নি। তবে নাফিসের এভাবে সারারাত প্রেমিকার সাথে ফোনে কথা বলে কাটিয়ে দেবার প্ল্যানটাতে অরণী ভীষণ খুশি।এভাবে মেঘ না
চাইতেই যে বৃষ্টির দেখা মিলবে– তা সে স্বপ্নেও ভাবেনি।অরণী হাসছে মিটি মিটি।ওর চোখে-মুখে এক ধরনের প্রশান্তি।
এদিকে নাফিস ফোনে কথা বলছে আর কৌতুহলী চোখে অরণীকে দেখছে।প্রথম থেকেই ওর কাছে সবকিছু কেমন যেন খটকা লাগছে। গ্রামের একটা মেয়ে বউ সেজে তার রুমে বসে আছে।কতই আর বয়স হবে! দেখে তো মনে হচ্ছে সুইট সিক্সটিন।
কিন্তু সুইট সিক্সটিনই বা হয় কি করে?একটা ধনী পরিবারের মা-বাবা তাদের ষোলো বছর বয়সী মেয়েকে বিয়ে দেবেন কোন দুঃখে?
তবে এ মেয়েকে সে কোনদিন বউ হিসেবে মেনে নিতে পারবে না। এরকম একটা মেয়েকে বাবা-মা শেষ পর্যন্ত তার গলায় ঝুলিয়ে দেবে জানলে সে ফাঁসির দড়ি নিয়ে ঠিকই কলাগাছে ঝুলে পরতো। তাকে মিথ্যা বলে গ্রামে নিয়ে গিয়ে ফাঁসানো হয়েছে।বন্ধু-বান্ধবকে সে কিভাবে মুখ দেখাবে?
নাফিসও এত সহজে হার মানবে না।বাবা-মায়ের এই নোংরা চাল সে কিছুতেই সফল হতে দেবে না।
এই বিয়ে সে মেনে নেয় নি আর নেবেও না।
কোনদিন। আর এই মেয়েকে মেনে নেবার তো
প্রশ্নই আসে না।
কিন্তু মেয়েটাকে তার কাছে একটু অন্যরকম মনে হচ্ছে।বাসররাতে বর তার চোখের সামনে বসে প্রেমিকার সাথে কথা বলে যাচ্ছে অথচ মেয়েটার কোন বিকার নেই বরং সে হাসছে। পাগল-টাগল না তো!

পর্ব ২

মেয়েটার মনোভাব বুঝতে হলে ওর সাথে কিছু কথা বলা দরকার। কিন্তু জেনি যেভাবে জোঁকের মত লেগে আছে!জেনি মার্শাল ল’ জারি করেছে– এ মেয়ের সাথে কথা বলা দূরে থাক এর দিকে তাকানোই যাবে না। তাকালেই সে নাফিসের চোখ তুলে ফেলবে। জেনির ধারণা সুযোগ পেলেই নাফিস বউ সেজে বসে থাকা মেয়েটার ওপর ঝাঁপিয়ে পরবে। ব্যাপারটা নাফিসের জন্য ভীষন অপমানজনক। এত সহজে কেন সে নিজের ভার্জিনিটি হারাবে? সে কি পার্ভাট নাকি?তাছাড়া তার কি ব্যক্তিত্ব বলে কিছু নেই?
একটা অচেনা মেয়ে বউ সেযে নাফিসের রুমে বসে আছে আর ওর ফোনালাপ শুনে মিটি মিটি হাসছে,এটা যে নাফিসের মনে কি পরিমাণ অস্বস্তি এনে দিচ্ছে তা সে জেনিকে কিভাবে বোঝাবে? এভাবে ঘন্টার পর ঘন্টা ফোন কানে ধরে থাকতেও তার কষ্ট হচ্ছে। নাফিস লক্ষ্য করলো অরণী তার টেবিল থেকে কাগজ কলম নিয়ে কিছু একটা লিখছে।
লেখা শেষ করে সে কাগজটা নাফিসের সামনে মেলে ধরল।নাফিস কাগজটা পড়ল–” ফুলের ঘ্রাণে আমার এলার্জির সমস্যা হয়।একটু পর আমার
হাঁচি শুরু হয়ে যাবে।একবার হাঁচি শুরু হলে তা আর সহজে থামে না।আমি এখন কি করবো?”
নাফিস বিরক্তি নিয়ে অরণীর চোখের দিকে তাকালো। ওর এই তাকানোর অর্থ হচ্ছে, “তোমার এলার্জি হলে আমার কি?”
অরণী হতাশ হলো।
কথা বলতে বলতে নাফিসের ফোনটা হঠাৎ কেটে গেল।নাফিসের ফোনের চার্জ শেষ।সে একটু যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচল।
অরণী দু’হাত নেড়ে মাথা ঝুঁকে বলল–ফিনিসড? মানে আপনার ফোনের চার্জ শেষ?এরকম ঝিম মেরে বসে আছেন কেন?আবার চার্জ করে কথা
বলা আরম্ভ করে দিন।
মেয়েটার কন্ঠে বা আচরণে কোনো জড়তা নেই। নাফিস অবাক হলো।
অরণী বলল–সেই প্রথম থেকে এরকম বেকুবের মত তাকিয়ে আছেন কেন? কিছু বলবেন?
–এই মেয়ে,অচেনা মানুষের সাথে কিভাবে কথা বলতে হয় জানো না!
অরণী ভয় পাওয়া ভঙ্গি করে বলল–না তো!
–আশ্চর্য!তুমি হাসছ কেন?ফাজলামো করার চেষ্টা করছ?
অরণী মাথা দু’দিকে নাড়িয়ে বলল–উঁহু।
নাফিস উত্তেজিত হয়ে বলল–তাহলে হাসছ কেন?আনসার মি….
–এত ওভার রিয়াক্ট করছেন কেন?আমি কি হাসতেও পারবো না?আচ্ছা আর হাসবো না।শুনুন,জেনিকে এত বেশি মাথায় ওঠাবেন না।মেয়েদের এত বেশি মাথায় ওঠালে পরে পস্তাতে
হয়।তাছাড়া আজকালকার শহুরে মেয়ে……
নাফিস অবাক হয়ে বলল–জেনি কে?
–ওমা,জেনিকে ভুলে গেলেন! জেনি আপনার গার্লফ্রেন্ড, যার সাথে এতক্ষণ প্ল্যান করছিলেন যে কাল সকালে তাকে নিয়ে পালিয়ে কুমিল্লায় চলে যাবেন এবং কোনো এক ফ্রেন্ডের বাসায় উঠবেন।
নাফিস একটু লজ্জা পেল।মনে মনে বলল–এ মেয়ে তো সাংঘাতিক।!এরকম অচেনা পরিবেশে এসে উটকো পরিস্থিতিতে পরেও তার মধ্যে
কোনো ভাবাবেগ নেই,টেনশন নেই।
নাফিস গলার স্বর গম্ভীর করে বলল–লুক!আমি তোমাকে চিনি না। আর এই মুহূর্তে তোমার কাছ থেকে কোনো উপদেশও আমি নিতে চাচ্ছি না।
–আমাকে চেনেন না মানে?আমি অরণী।আজ আপনার সাথে আমার বিয়ে হয়েছে। দিস ইজ ট্রু ট্রু এন্ড ট্রু।

পর্ব ৩

–এই রুমে এত গরম কেন?
আজ বোধহয় বৃষ্টি হবে।
কেমন ভ্যাপসা একটা গরম পরেছে!
–এসিটা আজ নষ্ট হয়েছে,কাজ করছে না।
অরণী হেসে বলল–আমি এ বাড়িতে আসাতে এসিটা হয়তো রাগ করেছে। আমাকে সহ্য করতে পারছে না।
সে হয়তো জেনিকে এক্সপেক্ট করছিল।
নাফিস অবাক হয়ে বলল– এরকম পরিস্থিতিতে তুমি এত স্বাভাবিক আচরণ করছ কিভাবে?
–গোলক ধাঁধায় পরে গেলেন?
–এরকম ক্রিটিকাল মুহূর্তে কারোরই স্বাভাবিক থাকার কথা না।
–যা ঘটে গেছে তা মেনে নেয়াটাই কি ভালো না!
নাফিস সরু চোখে অরণীর দিকে তাকিয়ে বলল–মানে?
অরণী বাঁকা হাসি দিয়ে বলল –আপনি কী আশা করেছেন?
বাংলা সিনেমার নায়িকাদের মত আমি কেঁদে কেঁদে বালিশ ভেজাবো অথবা আপনার পাঞ্জাবি খামচে ধরে বলব “ওগো আমি তোমার বিয়ে করা স্ত্রী, তোমাকে ছাড়া আমি বাঁঁচবো না। আমি তোমার পায়ে পরি,প্লিজ,তোমার ঐ পরকিয়া প্রেম বন্ধ কর।”
নাফিস ফাটা বেলুনের মত চুপসে গেল। ওর চেহারা দ্রুত অস্ট্রেলিয়ার ম্যাপ থেকে আফ্রিকার ম্যাপ হয়ে গেল। সে নিজেকে সামলে বলল–হ্যাঁ,সেরকম কিছু করাই তো লজিকাল ছিল।
–পৃথিবীর বেশিরভাগ পুরুষই আপনার মত স্যাডিস্ট। ওরা মেয়েদের কান্না দেখতে ভালোবাসে। যাই হোক,আপনি স্মোক করেন না? এ ঘরে সিগারেটের প্যাকেট বা অ্যাসট্রে কিছুই যে দেখছি না! ব্যাপারটা কি?
–কেন তোমার লাগবে?
–আজ সারাদিনে একটাও খাওয়া হয়নি।
নাফিস আরেকটা ছোট খাট ধাক্কা খেল। মনে মনে ভাবল “এ মেয়ে এলেবেলে টাইপ কোনো মেয়ে না। এ যে দেখছি কঠিন চিজ! ”
নাফিস শান্তস্বরে বলল–ওভার স্মার্ট সাজার চেষ্টা করছো?
ক্যারি অন।
–মোটেই না।
আমি সাথে করে সিগারেট নিয়ে আসার সুযোগ পাই নি।
–শাবাশ! ভেরি স্মার্ট।
কিন্তু আমার কাছে সিগারেট নেই।
–বিড়ি আছে?
বিড়ি হলেও চলবে।
নাফিস অবিশ্বাসের সুরে বলল–বিড়িও খাও নাকি?
অরণী নির্লিপ্ত গলায় বলল–যখন সিগারেট না পাই বিড়িতেই কাজ চালিয়ে নিতে হয়।
–সস্তা জিনিস খাও কেন?
শরীরের ক্ষতি হবে। খেলে দামিটাই খাবে।
–আপনার কি ধারণা যে আমার বাবার সিগারেটের ফ্যাক্টরি আছে?
ফ্যাক্টরি থেকে সিগারেট নেব আর টানব।
–আরে আজব!
তোমার বাবার সিগারেটের ফ্যাক্টরি আছে না গোডাউন আছে তা নিয়ে তো আমরা কথা বলছি না।
–আমার কাছে বিড়ি যা সিগারেটও তা। ধোঁয়া হলেই চলে।
–কিন্তু আমি কোন নেশা টেশার মধ্যে নেই।
অরণী চোখ কপালে তুলে বলল –এ যে দেখছি সিরিয়াস গাই! শহরের ছেলেদের মধ্যে ওরকম গুডি গুডি ভাব থাকেনা বলেই আমি জানি।
কিন্তু আমার এখন কি হবে?

পর্ব ৪

 ————–
অরণী বলল–আমার সিগারেট?
–চকোলেট আছে,খাবে?
অরণী ফিক করে হেসে বলল–এখনো চকোলেটেই আছেন? আপনি আসলে রিয়েল গুড বয়। ড্রিংক ট্রিংকও করেন না বোধহয়। আই মিন,জমিদার সুলভ কোন বদঅভ্যাসই কি আপনার ভেতর নেই?
–মানে?
–শুনেছি জমিদারদের অনেক রকমের বদ অভ্যাস ছিল। আপনার বাবা তো একজন বিশিষ্ট শিল্পপতি, যাকে বলে আধুনিক জমিদার। তিনি তো নিয়মিত ড্রিংক করেন।
–তুমি জানলে কি করে?
–নিয়মিত ড্রিংক করার কারনে তার চোখের তলায় ব্যাগ তৈরি হয়েছে।
নাফিস তাচ্ছিল্যের সুরে বলল–টু মাচ ইন্টেলিজেন্ট!!
–আমাকে বলছেন?
–বোধহয়।
–আমার দাদার বাবা কিন্তু জমিদার ছিলেন এবং যথারীতি তার অনেক বদঅভ্যাসও ছিল। উত্তরাধিকার সূত্রে আমার বাবা সে বদ অভ্যাসগুলো পেয়েছেন এবং আমার ভেতরেও কিছু ঢুকে গেছে। আমি মাঝে মাঝে ড্রিংক করি। ড্রিংক করতে আমার খারাপ লাগে না।
–অনেস্ট কনফেশন। আমার চেয়ে অনেক এগিয়ে আছো তুমি। নারী স্বাধীনতার বিমূর্ত প্রতীক তুমি। দেখে ভালো লাগছে।
–বাবার আলমারিতে ডুপ্লিকেট চাবি বানানো আছে আমার কাছে। আলমারিতে সবসময় ভদকার দু’টো বোতল থাকে। আমি গ্লাসে ভদকা ঢেলে বরফ নিয়ে অল্প অল্প করে খাই,যখন বাবা দু’দিনের জন্য তার বাগানবাড়িতে চলে যান।
এই প্রথম অরণীর কথায় নাফিস মজা পেল। সে হেসে ফেলল। বলল–জটিল!! দেখে তো ভেবেছিলেন প্লেইন গ্রাম্য বালিকা।
–চোখে সমস্যা আছে নাকি! আমি বালিকা হতে যাব কেন? আমি হচ্ছি সদ্য তরুণী,অনার্স ফার্স্ট ইয়ার।
নাফিস আবারো হেসে ফেলে।
–আসলে তোমাকে বাচ্চা মেয়ে ভেবে ভুল করেছি। সরি,তোমার সামনে বসে ওভাবে ফোনে কথা বলাটা আমার একদম ঠিক হয় নি।
কোনো ক্যাচাল করবে না তো! মানে ঝামেলা -টামেলা পাকাবে না তো!
–আরে নাহ ব্রাদার,চালিয়ে যান। আপনাদের প্রেমের গল্পে আমি অনিচ্ছাকৃতভাবে ঢুকে পরেছি বলে ক্ষমা চাচ্ছি। তবে আপনাদের মিষ্টি মিষ্টি প্রেমের সংলাপ শুনতে খারাপ লাগছিল না। বলতে পারেন এটা আমার নতুন অভিজ্ঞতা।
নাফিস মুচকি হেসে বলে–তোমার সাথে মিসবিহেভ করে ফেলেছি। আসলে মাথা ঠিক নেই। এরকম পরিস্থিতিতে আগে কখনো পরিনি তো!
–আপনার কি ধারণা,এরকম পরিস্থিতিতে আমি আগে অনেকবার পরেছি?
–না,তা বলছি না। আচ্ছা একটা কথা বলি তোমাকে? ওসব ড্রিংক ট্রিংক ছেড়ে দাও। ওসব বাজে অভ্যাস।
–ডেফিনিটলি ওসব বাজে অভ্যাস। মার্কিন সাময়িকী “নিউ ইয়ার্কার ” এ দেয়া এক সাক্ষাতকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তরুণ বয়সে নিজের গাঁজা সেবনের কথা স্বীকার করেন। তবে তিনি একে বদঅভ্যাস এবং পাপ বলে মনে করেন।
নাফিস শব্দ করে হেসে উঠল। বলল–তুমিও কি একে পাপ বা বদ অভ্যাস বলে মনে করছ?
–আমি হচ্ছি অতি সাধারণ দেশের সাধারণ এক নাগরিক। আমি কী মনে করছি সেটা বড় কথা না। তাই ওইসব ভাবাভাবির মধ্যে আমি নেই। আচ্ছা বাদ দিন। আমার আসলে বসে বসে আপনার প্রেমালাপ শোনা ছাড়া কিছু করারও ছিল না। আপনি রাগ করেন নি তো!
–আই ডোন্ট মাইন্ড। ফর ইয়োর ইনফরমেশন, আমি হচ্ছি ডোন্ট মাইন্ড টাইপের ছেলে।
–তা আমি সেই প্রথম থেকেই বুঝতে পারছি।
নাফিস কৌতুহলী হয়ে বলল–কিভাবে বুঝলে?
–ডোন্ট মাইন্ড টাইপের ছেলে না হলে এত নির্দ্বিধায় বয়সে চার বছরের বড় কারো সাথে প্রেম করতে পারতেন না।
কথাটা শুনে নাফিসের মুড অফ হয়ে গেল। চোখ মুখ গম্ভীর করে সে বলল –ব্যাপারটা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত। আই ডোন্ট লাইক ইন্টারফেয়ারেন্স।
কথাটা বলে নাফিস অরণীর দিকে তাকালো। নাফিসের ধারালো চাহনির কাছে অরণী যেন একটু মিইয়ে গেল। অরণী প্রসঙ্গ পাল্টাল।
বলল–আপনাকে কিন্তু আমার ইন্টারেস্টিং মনে হচ্ছে। মানুষ হিসেবে যে আপনি ভালো হবেন তা আমি বুঝতে পারছি। এট লিস্ট আপনি কামুক না। কামুক পুরুষদের আমি সবচেয়ে বেশিঘৃণা করি।
–থ্যাংক ইউ ফর দ্য কমপ্লিমেন্ট।
অরণী দুষ্টুমির হাসি দিয়ে বলল– মনে হচ্ছে খুশি হয়ে গেলেন!
–খুশি তো হবারই কথা।একটা ছেলের জন্য এর চেয়ে বড় কমপ্লিমেন্ট আর হয় না।
–আপনি কি জানেন যে আপনি দেখতে ভালো?
–হ্যাঁ জানি। আয়নায় নিজেকে আমি দেখতে পাই।
–আপনি দেখতে অনেকটা নোবেল লরিয়েট পোয়েট রবীন্দ্রনাথ টেগোরের মত। ইয়াং রবি ঠাকুর। তবে ফ্রেঞ্চকাট দাড়িটা আপনার চেহারায় কঠোরতা এনে দিয়েছে। ওটা না থাকলেই ভালো হতো।
নাফিস শব্দ করে হেসে উঠতে গিয়েও নিজেকে সামলে নিল। ভাবল,এ মেয়েকে বেশি পাত্তা দেয়া ঠিক হবে না,মাথায় চড়ে বসতে পারে।

পর্ব ৫

–হ্যালো, জেনি!
আমার ফোনের চার্জ শেষ হয়ে গিয়েছিল।
–তা তো বুঝতেই পারছি।
এই দশ মিনিট কি করলে?
নিশ্চয়ই মেয়েটার সাথে বসে গল্প করোনি।
নাফিস গলার স্বর নামিয়ে বলল–মাথা খারাপ!
ওরকম একটা গ্রাম্য মেয়ের সাথে গল্প? ভাবাই যায় না।
–মেয়েটা দেখতে কেমন?
–কে জানে?
পার্লার থেকে সাজিয়ে আনলে পেত্নীকেও অপ্সরীরর মত লাগে।
–তোমার রুমটা কি ফুল দিয়ে সাজানো?
–শুধু বিছানাটা সাজানো হয়েছে।
জেনি আর্তনাদ করে উঠলো।
বলল–ওহ গড! আমার এখন কি হবে?
–এত অস্থির হচ্ছ কেন?
হাইব্রীড ফুল।
ঘ্রাণ ট্রান কিছু নেই।
–শাট আপ।
–তুমি চাইলে আমি এক্ষুণি ফুলগুলো খুলে জানালা দিয়ে বাইরে ছুঁড়ে ফেলে দেব।
–আচ্ছা,মেয়েটা নিশ্চয়ই বসে বসে আমাদের কথা শুনছে?
–হু কেয়ার্স?
–কিন্তু কেন? কেন সে আমাদের কথা শুনবে?
–কুল বেবি।এত টেনশন কেন করছো? আর আমারই বা কি করার আছে? আমি কি ওর কানে তুলা গুঁজে রাখবো?
–আই কান্ট বিলিভ দিস।
এখনো মেয়েটা তোমার সামনে?
–না,বারান্দায় চলে গেছে।
বসে বসে ঝিমাচ্ছে।
–ওর বয়স কত হবে?
–শি ইজ এরাউন্ড নাইন্টিন।
–তোমার বাবা তোমার জন্য ওরকম একটা টিনএজার কোত্থেকে আমদানী করল?
–বাবার ধারণা বয়সে বড় মেয়েদের সাথে সংসার করতে গেলে সে সংসার বেশিদিন টেকে না। তুমি আমার চেয়ে বয়সে বড় এটা মা-বাবা কেউই মেনে নিতে পারছে না।
–ওরকম প্রাগৈতিহাসিক ধারণা নিয়ে তারা বসে থাকলে কিছুই করার নেই,তাই না?
–হ্যাঁ,তাতো ঠিকই।
–কিন্তু তুমি এ বিয়েতে রাজি হলে কি মনে করে?
–দেখ,এই প্রশ্নটা বার বার শুনতে আমার অস্বস্তি হয়। তোমাকে কতবার বলব যে,বিয়েটা আমি করিনি,আমাকে করতে বাধ্য করা হয়েছে। আমার সমস্ত পরিবার এ বিয়েতে রাজি।
পরিবারের বিরুদ্ধে আমি বিদ্রোহ করতে পারিনি,গোত্তা খেয়ে পরে গেছি।
–ডিসগাস্টিং।
–অফকোর্স ডিসগাস্টিং।
জেনি শীতল গলায় বলল–নাফিস! ফাজলামো করছো?
–কাম অন, জেনি।
কেন ফাজলামো করবো?
তোমার এই মুহূর্তে মাথা ঠিক নেই। অল্পতেই উত্তেজিত হচ্ছো।
–তুমি ভালো করেই জানো যে,অল্পতে উত্তেজিত হওয়া টাইপ মেয়ে আমি না কিন্তু আজ আমার উত্তেজিত হবার যথেষ্ট কারন রয়েছে।
নাফিস নীরিহ গলায় বলল–তা তো আছেই।
জেনি রাগে ফেটে পরতে পরতে বলল-দেখ,মিন মিন করবে না।
তোমার এই মিন মিন করার স্বভাবটা না ভীষণ এনোয়িং। এত বড় একটা ছেলে তুমি! অনার্স ফাইনাল দিয়েছো।
হাজারটা মেয়ের মাথা চিবিয়ে খেয়েছো।
সেই তোমাকেই কিনা ভুজুং ভাজুং দিয়ে গ্রামে নিয়ে বিয়ে দিয়ে দিল!
আর তুমি চুপচাপ সব মেনে নিলে? ইট’স জাস্ট ইন্টলারেবল।
ব্যাপারটা আমি একদম মেনে নিতে পারছি না।
জেনি কয়েক মুহূর্ত চুপ করে থেকে কাঁদো কাঁদো গলায় বলল–এসব কিছুর জন্য তুমিই দায়ী। তুমি ইচ্ছা করে বিয়েটা করেছ। আমি বুঝতে পারছি,কম বয়সী মেয়েটাকে দেখে তুমি হুকড হয়ে গেছ। আসলে তোমার স্বাদ বদলের ইচ্ছা হয়েছে,তাই তুমি আর আমাদের রিলেশনটা কন্টিনিউ করতে চাচ্ছ না।
–ছিঃ! জানু, তুমি কি বলছ?এত কঠিন কথা তুমি কেন বলছ?
–দেখো ঢং করবে না।তোমাকে আমি কঠিন,তরল,বায়বীয় সব ধরণের কথাই বলব। আই জাস্ট হেট ইউ।
–বাট আই লাভ ইউ।প্লিজ মাথাটা একটু ঠান্ডা করো।
–ঐ ডাইনীটা আমার জীবন তছনছ করে দিল।
–কোন ডাইনীটা?
–তোমার গলায় যাকে আজ ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে। কি যেন নাম ওর?
–অরণী।
–যেই না দু’পয়সার মেয়ে,তার আবার কাব্যিক নাম! অরণ্য…..
–অরণ্য না অরণী। আর তোমার ছোট্ট একটা ভুল হচ্ছে। সে মোটেও দু’পয়সার মেয়ে না। জমিদার বংশের মেয়ে। ওর বাবার হিউজ প্রপার্টি। ওদের পরিবার জামালপুর জেলার মধ্যে সবচেয়ে প্রভাবশালী। ওর বাবা এবার এম.পি ইলেকশনে দাঁড়িয়েছেন কিন্ত কি কারণে যেন নমিনেশন পাননি।
জেনি রাগে চিৎকার করে বলল
–অবাক কান্ড! তুমি ঐ গ্রাম্যটার পক্ষে ওকালতি করছ?
–ওকে গ্রাম্য বলাটাও আমাদের ভুল হচ্ছে। শুনেছি জামালপুর জেলা শহরেই ওর জন্ম আর বেড়ে ওঠা।
জেলা শহরের ছেলেমেয়েরা ঢাকার ছেলেমেয়েদের চেয়ে অনেক বেশি স্মার্ট হয়।
–হাউ স্ট্রেঞ্জ! তুমি ওর জন্য পিটি ফিল করছ? সত্যি করে বল তো,তোমার কি মেয়েটার প্রতি কোন ধরনের মেন্টাল এটাচমেন্ট তৈরি হয়েছে?
–আই এম নট কনসারনড।
জেনি বিভৎস চিৎকার দিয়ে উঠল–কি বললে?
–সরি ডিয়ার। ইট ওয়াজ আ স্লিপ অফ টাং,প্লিজ লিভ ইট।
–তোমার সাথে কথা বলার কোন রুচি হচ্ছে না এই মুহূর্তে।
আমি এখন ফোন রাখবো।
আমাকে তুমি আর একটাও কল করবে না। ডোন্ট বদার মি।
জেনি ফোন কেটে দিল।
নাফিস অনেকক্ষণ পর আবারো যেন একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল।
মাথাটা চেপে ধরে বসে রইলো।
ক্লান্তি আর হতাশা তাকে গ্রাস করে ফেলছে। জেনি আজকাল তাকে এত পেইন দেয় কেন?
ভালোবাসাও কখনো কখনো বোধহয় বোঝা হয়ে দাঁড়ায়! এই মুহূর্তে তার কিছু ভালো লাগছে না।
দম বন্ধ হয়ে আসছে।

আরও পড়ুন >> একটি মিষ্টি রাতের গল্প-পর্ব ৬-১০ থেকে।

রেটিং দিন

User Rating: 3.86 ( 5 votes)

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

স্ত্রীর পরশে

স্ত্রীর পরশে বদলে গেলো স্বামী (ছোট্ট গল্প)

এক স্ত্রী গভীর রাতে প্রতিদিন স্বামীর পাশ থেকে ঘুম থেকে উঠে আধা ঘন্টা এক ঘন্টার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE