Breaking News
Home / ব্লগ / ইসলামের আলোকে বহু বিবাহ ও কিছু পুরুষের বহু বিবাহের খায়েশ!

ইসলামের আলোকে বহু বিবাহ ও কিছু পুরুষের বহু বিবাহের খায়েশ!

ইসলামের আলোকে বহু বিবাহ, আর কিছু পুরুষের বহু বিবাহের খায়েশঃ মাসনা, সুলাসা, রুবাআ

আলোচনা যেহেতু দ্বীনী ভাইদের বহুবিবাহ নিয়ে, তাহলে এর আলোচনা শুরু করছি দ্বীনের ভিত্তি কোরআন এই ব্যাপারে কি বলে তা নিয়ে।

আল্লাহ সুবহানাওতায়ালা যেহেতু কোরআন আয়াতের মাধ্যমে মুসলমান পুরুষকে একের অধিক বিয়ের পারমিশান দিয়েছেন, দুই (মাসনা), তিন (সুলাসা), কিংবা চার (রুবাআ) , তাই ইসলামে বহু বিবাহ জায়েজ, এই ব্যাপার নিয়ে কোন বিতর্ক নাই। ইউ গাইজ ক্যান ডু ইট। কিন্তু শর্ত আছে। আপনি শর্ত গুলো না মেনে যদি একের অধিক বিয়ে করেন তাহলে আপনি শরীয়তের ধোয়া তুলে নিজ স্বার্থ চরিতার্থ করার বাসনা করছেন। সেক্ষেত্রে আমি বিতর্কে যাবো না।

কোরআন কোন গল্পের বই না, বরং খুব কমপ্লেক্স কোড অফ লাইফ। কোরআনের প্রতিটি আয়াতের পিছনে শানে নজুল আছে, বিভিন্ন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আয়াত সমূহ নাজিল হয়েছে। কোরআনের কোন আয়াত নাজিল হওয়ার পিছনের ঘটনা না জেনে, সেই আয়াতকে লিটারেল সেন্সে তুলে এনে ইমপ্লিমেন্ট করতে গেলে ভুল করে ফেলার সম্ভাবনা প্রচুর। সেজন্যই ইসলামিক জুরিস্প্রুডেন্স ইজ এ বিগ সায়েন্স। কেন, কিভাবে ব্যাখ্যা জানা অত্যন্ত জরুরী।

কিছু মুসলমান পুরুষ যেমন চার বিয়ে জায়েজ পর্যন্ত জেনেই সুখ অনুভব করে, তেমন কিছু ইসলামোফোব কোরআন বলেছে সব অমুসলিমদের হত্যা করো জেনেই ইসলামকে সন্ত্রাসী ধর্ম বানাতে পেরে সুখ অনুভব করে। এই দুই দলের মাঝে মিলটুকূ হলো নিজ ন্যারেটিভের জন্য আয়াতের শানে নজুল জেনে নিজেদের সুখ নষ্ট করার প্রয়োজন তারা দেখেনা। যা মুসলমান হিসাবে অত্যন্ত দুঃখজনক।

এবার আসি সুরা নিসায়। সুরাটি মাদানী সুরা। অর্থাৎ নবীজি (দঃ) মদিনায় থাকা কালে যখন মুসলমানেরা বদরের যুদ্ধ, খন্ডকের যুদ্ধ, ওহুদের যুদ্ধ, ইত্যাদি যুদ্ধে জড়িত তখন এই সুরা নাজিল হয়েছিল। ইসলামের প্রথম দিকে এসব যুদ্ধের জন্য দরকার ছিল অকুতোভয়, পিছটানহীন যোদ্ধা, যুদ্ধে জাবার প্রস্তুতি হিসাবে মনের শান্তি যে তারা যদি শহিদও হয় তবে তাদের ফেলে যাওয়া স্ত্রী-সন্তানদের ভরণপোষণ, নিরাপত্তা, আর ভবিষ্যৎ নষ্ট হবে না, তাদের দরকার ছিল সম্পূর্ণ বিনা চিন্তায় আল্লাহর নামে জিহাদে ঝাপিয়ে পড়া।

সে সময় সমাজে কেউ মারা গেলে তার সম্পদ অন্যান্য আত্মীয় স্বজন কুক্ষিগত করে ফেলত। । তখন সমাজে এতিমদের খুব তুচ্ছ করে দেখা হতো। সমাজে তাদের গ্রহনযোগ্যতা ছিল না, তাদের কোন স্ট্যাটাস ছিল না, যেহেতু তাদের হাতে কোন সম্পদ থাকতো না, যার কারনে সাধারনত তাদের কেউ বিয়ে করতেও চাই তো না। তখন নাজিল হয় সুরা নিসা।

“وَآتُواْ الْيَتَامَى أَمْوَالَهُمْ وَلاَ تَتَبَدَّلُواْ الْخَبِيثَ بِالطَّيِّبِ وَلاَ تَأْكُلُواْ أَمْوَالَهُمْ إِلَى أَمْوَالِكُمْ إِنَّهُ كَانَ حُوبًا كَبِيرًا “(৪ঃ২)

“এতীমদেরকে তাদের সম্পদ বুঝিয়ে দাও। খারাপ মালামালের সাথে ভালো মালামালের অদল-বদল করো না। আর তাদের ধন-সম্পদ নিজেদের ধন-সম্পদের সাথে সংমিশ্রিত করে তা গ্রাস করো না। নিশ্চয় এটা বড়ই মন্দ কাজ।”

“وَإِنْ خِفْتُمْ أَلاَّ تُقْسِطُواْ فِي الْيَتَامَى فَانكِحُواْ مَا طَابَ لَكُم مِّنَ النِّسَاء مَثْنَى وَثُلاَثَ وَرُبَاعَ فَإِنْ خِفْتُمْ أَلاَّ تَعْدِلُواْ فَوَاحِدَةً أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ ذَلِكَ أَدْنَى أَلاَّ تَعُولُواْ” (৪ঃ৩)

“আর যদি তোমরা ভয় কর যে, এতীম মেয়েদের হক যথাথভাবে পুরণ করতে পারবে না, তবে সেসব মেয়েদের মধ্যে থেকে যাদের ভাল লাগে তাদের বিয়ে করে নাও দুই, তিন, কিংবা চারটি পর্যন্ত। আর যদি এরূপ আশঙ্কা কর যে, তাদের মধ্যে ন্যায় সঙ্গত আচরণ বজায় রাখতে পারবে না, তবে, একটিই অথবা তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসীদেরকে; এতেই পক্ষপাতিত্বে জড়িত না হওয়ার অধিকতর সম্ভাবনা।”

খেয়াল করুন, এখানে এতীমদের উপর জোর দেয়া হয়েছে পুরুষদের অধিকারের উপর নয়। এখানে বলা হয় নাই, তোমরা যদি নিজ নফসকে কনট্রোল করার আশংকা করো (ফর এনি ফিজিক্যাল নিড অর আদার নিডস) তাহলে করো মাসনা, সুলাহা, রুবাআ। এই আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ এতীমদের সমাজে পুনঃ প্রতিষ্ঠার দিক নির্দেশনা দিয়েছেন।

চলুন এবার দেখি সুন্নাহ।

জানা মতে হজরত মুহাম্মদ (দঃ) সর্বমোট ১০ টি বিয়ে করেছিলেন। ২৫ বছর বয়সে, যখন হি অয়াজ এট দ্যা হাইট অফ হিজ ইউথ, বিয়ে করেছিলেন ৪০ বছর বয়স্কা বিবি খাদিজা (রাঃ) কে। যেই সময়ে বহুবিবাহ ভীষণ একটা নর্মাল ব্যাপার মক্কার সমাজে তখন উনি এক স্ত্রী বিবি খাদিজার সাথে বিবাহিত জীবন যাপন করেছিলেম দীর্ঘ ২৪ বছর, বিবি খাদিজার মৃত্যু পর্যন্ত, ততদিনে নবীজির (দঃ) বয়স ৪৯। বিবি খাদিজার মৃত্যুর পর প্রায় ৩-৪ বছর উনি দ্বিতীয় বিয়ে করেন নাই। ওনার বয়স তখন প্রায় ৫৩, যৌবনের সমাপ্তি ঘটেছে ততদিনে।

নবীজি (দঃ) এই ৫৩ বছর বয়স পর্যন্ত অন্য কোন নারীর প্রতি আসক্তি দেখান নাই। এরপর বেচে ছিলেন প্রায় ১০ বছর। আর এই দশ বছরে বিয়ে করেছিলেন ৯ মতভেদে ১১ জন বিবিকে। নবীজির বিবিদের মাঝে বিবি খাদিজা আর বিবি আয়েশা ছাড়া বাকি বিবিদের বেশির ভাগই ছিলেন ওয়ার উইডো বা যুদ্ধের বিধবা। 

ওনার দ্বিতীয় স্ত্রী বিবি সাউদা ছিলেন প্রায় ওনার সমবয়সী, ৬ সন্তানের জননী, এবং বিধবা। বিবি হাফসা, বিবি হিন্দ, বিবি জয়নাব, বিবি সাফিয়া, বিবি জুয়ারিয়া প্রত্যকেই ছিলেন ওহুদ-বদর ইত্যাদি যুদ্ধের বিধবা। বিবি রায়হানা ছিলেন একজন ইহুদি দাসী, আর বিবি জয়নাব বিন্ত জাহাশ ছিলেন তালাকপ্রাপ্ত। এছাড়াও মক্কার সাথে শান্তি চুক্তির পর স্ট্র্যাটেজিক কারনে বিয়ে করেছিলেন মক্কাবাসী বিবি রামলা (বিধবা) কে। এখানে ইসলামিক ঐতিহাসিকদের কিছু মতভেদ আছে, কিন্তু সেসব মতভেদ আমার লেখার উদ্দেশ্য না।

আমার উদ্দেশ্য দেখানো যে এতীম আর বিধবাদের টেইক কেয়ার করার জন্যই মুলত ওনার অনেকগুলো বিয়ে। হজরত আবু বকরের চার স্ত্রীর প্রথমজন ( আবু বকর (রঃ) যাকে পৌত্তলিক ধর্ম থেক ইসলামে না আসার জন্য তালাক দেন) ছাড়া বাকি তিন জনই ছিলেন ওয়ার উইডো উইথ এতিম সন্তান।

হজরত আলি (রাঃ) বিবি ফাতেমা (রাঃ) বেচে থাকা পর্যন্ত দ্বিতীয় বিয়ে করেন নাই। অনেক ঐতিহাসিকের মতে নবীজি (দঃ) হজরত আলীকে (রাঃ) বিবি ফাতেমা (রাঃ) বেচে থাকতে দ্বিতীয় বিয়ে করার পারমিশান দেন নাই।

বাংলাদেশের পুরুষ সমাজ, এবার আপনারাই বলুন আপনারা কোন উদ্দেশ্যে দ্বিতীয়-তৃতীয়-চতুর্থ বিয়ে করতে আগ্রহী? আপনাদের উদ্দেশ্য কি এতীমদের আর বিধবাদের রক্ষা করা না অন্য কিছু? আপনাদের দেশে কি অত্যাচারী শাসকের বিরুদ্ধে জিহাদ চলছে? সেই জিহাদে কি আপনাদের ভাই ব্রাদারেরা কি শহীদ হচ্ছে? দেশে কি এতিম আর বিধবাদের সংখ্যা অত্যাধিক হারে বেড়ে গেছে? নাকি আপনারা রোহিংগা-সিরিয়ান-ইয়েমেনী বিধবা বা এতীমদের টেইক করার জন্য বহু বিবাহের ইচ্ছা প্রকাশ করছেন? নাকি অন্য কোন কারন?

অন্য কোন কারন থাকলে তা আপনারা কেবল ইসলাম নয় বরং রাষ্ট্রীয় কানুনের আওতায় পড়েন। এছাড়া আপনারা যে দেশে বাস করেন, মানে বাংলদেশ, সেখানে যেহেতু আপনারা ইসলামিক কোন দলকে ক্ষমতায় বসিয়ে কেবল মাত্র ইসলামিক আইনে দেশ পরিচালনা করতে পারেন নাই, সেক্ষেত্রে আপনি বর্তমান রাষ্ট্রীয় আইন মেনে চলতে বাধ্য, আর সেই আইন অনুযায়ী দ্বিতীয় ( মাসনা ) বিয়ে করার আগে আপনার প্রথম স্ত্রীর পারমিশান অপরিহার্য।

আর আপনাদের যাদের ধারনা মেয়েরা জেলাস যে আল্লাহ কেবলমাত্র পুরুষদের বহুবিবাহ করার পারমিশান দিয়েছে, আপনারা কতই না ভ্রান্ত!! মেয়েরা বাই নেচার পলিগ্যামাস নয়, বরং এটা পুরুষদের ন্যাচার। এর উপর আল্লাহ পুরুষদের উপর সম্পূর্ণ ভার দিয়েছে পরিবারের রক্ষণাবেক্ষণের, আয় রোজগারের। এক্ষেত্রে একাধিক স্ত্রীওয়ালা পুরুষকে তার সব স্ত্রীর প্রতি সমান আচরণ করতে হবে, ভালো কেবল একজনকেই বাসুন আপত্তি নাই। কিন্তু সেই বলে একজনকে ভালো বেসে কেবল তার সাথে মিষ্টি মধুর কথা বলবেন, তাকে ভালো ভালো শাড়ি গয়না কিনে দিবেন, পান সুপারি খাওয়াবেন, বায়োস্কোপ দেখতে নিয়ে যাবেন, তা চলবে না। যাই করবেন সবার সাথেই করবেন (আনলেস সি স্ত্রী স্বেচ্ছায় তার সেই অধিকার অন্য স্ত্রীকে দিয়ে ফেলে) যা কিনবেন সবার জন্য কিনবেন।

ঘরে এবার স্ত্রীরা চুলাচুলি করুক, কি উনুন না ধরাক সেটা তাদের ব্যাপার। কিন্তু সেই কারনে আপনার আশান্তি হলে কিংবা খায়াদাওয়া বন্ধ হলে সেটার জন্য আপনি কেবল তাদের দোষাতে যাবেন না কিন্তু। তাদেরও মান অপমান আছে, চাওয়া পাওয়া আছে। তারা তখনই জেলাস হবে যখন আপনি সুস্পষ্টত পক্ষপাতিত্ব করবেন।

কিন্তু এসবের আগে বুঝে দেখুন বিধবা আর এতীম কোথায় পাবেন?

লেখিকাঃ সাবিনা আহমেদ

আরও পড়ুন >> বিধবা নারীদের যৌন চাহিদা ও আমাদের সমাজ ব্যবস্থা

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

তবুও বৃষ্টি আসুক” গ্রন্থে সুলতা প্রসঙ্গ

  —ডঃ সৈয়দ এস, আর কাশফি কবি শফিকুল ইসলামের তবুও বৃষ্টি আসুক অনন্য সুন্দর কাব্যগ্রন্থে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE