Breaking News
Home / বই থেকে / কোন মহিলাকে শাদী করা হালাল এবং কোন মহিলাকে শাদী করা হারাম?

কোন মহিলাকে শাদী করা হালাল এবং কোন মহিলাকে শাদী করা হারাম?

২৪৫০ অনুচ্ছেদঃ কোন কোন মহিলাকে শাদী করা হালাল এবং কোন কোন মহিলাকে শাদী করা হারাম?

আল্লাহ তাআলা বলেন, “তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে তোমাদের মা, কন্যা বোন, ফুফু, খালা-ভাতিজী-ভাগ্নী এবং ঐ সমস্ত মা, যারা তোমাদের দুধ পান করিয়েছেন এবং তোমাদের দুধবোন, তোমাদের শাশুড়ি এবং তোমাদের স্ত্রীদের কন্যা যারা তোমাদের ঘরে লালিত—পালিত হয়েছেন, আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়”।

আনাস (রাঃ) বলেছেন, (আরবী)এই কথা দ্বারা সধবা স্বাধীনা মহিলাদেরকে শাদী করা হারাম বোঝানো হয়েছে; কিন্তু ক্রীতদাসীকে ব্যবহার করা হারাম নয়। যদি কোন ব্যক্তি বাঁদীকে তাঁর স্বামী থেকে তালাক নিয়ে পরে ব্যবহার করে, তাহলে দোষ নেই। এ প্রসঙ্গে আল্লাহর বাণীঃ “কোন মুশরিক মহিলাকে শাদী বন্ধনে আবদ্ধ করো না, যতক্ষণ না তারা পূর্ণ ঈমান আনে”। ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেন, চারজনের বেশি শাদী ঐরূপ হারাম বা অবৈধ যেরূপ তাঁর গর্ভধারিণী মা, কন্যা এবং ভগিনীকে শাদী করা হারাম। রাবী বলেন, আহমাদ ইবনে হাম্বল (র)………ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রক্তের সম্পর্কের সাতজন ও বৈবাহিক সম্পর্কের সাতজন নারীকে শাদী করা হারাম। এরপর তিনি এই আয়াত পাঠ করলেন, “তোমাদের জন্যে তোমাদের মায়েদের শাদী করা হারাম করা হয়েছে”। আবদুল্লাহ ইবন জা’ফর (র) একসাথে হযরত আলী (রা)—এর স্ত্রী[1] ও কন্যাকে শাদী বন্ধনে আবদ্ধ করেন (তারা উভয়েই সৎ–মা ও সৎ কন্যা ছিল) ইবন শিরীন বলেন, এতে দোষের কিছুই নেই। কিন্তু হাসান বসরী (র) প্রথমত এই মত পছন্দ করেননি; কিন্তু পরে বলেন, এতে দোষের কিছু নেই। কিন্তু হাসান ইবন হাসান আলী একই রাতে দুই চাচাত বোনকে একই সাথে শাদী করেন। জাবির ইবন যায়দ সম্পর্কছেদের আশংকায় এটা মাকরূহ মনে করেছেন; কিন্তু এটা হারাম নয়। যেমন আল্লাহ তা’আলা বলেন, এসব ছাড়া আর যত মেয়ে লোক রয়েছে তা তোমাদের জন্য হালাল করে দেওয়া হয়েছে। ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেন, যদি কেউ তাঁর শালীর সঙ্গে অবৈধ যৌন মিলন করে তবে তাঁর স্ত্রী তাঁর জন্য হারাম হয়ে যায় না। শা’বী (রা) এবং আবু জা’ফর (রা) বলেন, যদি কেউ কোনো বালকের সঙ্গে সমকামে লিপ্ত হয়, তবে তাঁর মা তাঁর জন্য শাদী করা হারাম হয়ে যাবে। ইকরামা (রা)……….ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কেউ যদি শাশুড়ির সঙ্গে যৌন মিলনে লিপ্ত হয়, তবে তাঁর স্ত্রী হারাম হয় না। আবু নসর (রা) ইবন আব্বাস (রা)থেকে বর্ণনা করেন যে, হারাম হয়ে যাবে।  ইমরান ইবন হুসায়ন (রা) জাবির ইবন যায়দ (রা) আল হাসান (র) এবং কতিপয় ইরাকবাসী থেকে বর্ণনা করেন যে, তাঁর স্ত্রীর সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক হারাম হয়ে যাবে। উপরোক্ত ব্যাপারে আবু হুরায়রা (রা) বলেছেন যে, স্ত্রীর সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক ততক্ষণ হারাম হয় না, যতক্ষণ না কেউব তাঁর শাহসড়ির সাথে অবৈধ যৌন মিলনে লিপ্ত হয়। ইবন মুসাইয়িব, উরওয়া (রা) এবং যুহরী এমতাবস্থায় স্ত্রীর সাথে সম্পর্ক রাখা বৈধ বলেছেন। যুহরী বলেন, আলী (রা) বলেছেন, হারাম হয় না। ঐখানে যুহরীর কথা মুরসাল অর্থাৎ এই কথা যুহুরী হযরত আলী (রা) থেকে শোনেননি।

২৪৫১. অনুচ্ছেদ: আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ “এবং (তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে) তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যার সাথে সংগত হয়েছে তাঁর পূর্ব স্বামির ঔরসে তাঁর গর্ভজাত কন্যা, যারা তোমাদের অভিভাবকত্বে আছে”। এ প্রসঙ্গে হযরত ইবন আব্বাস (রা) বলেন যে, ‘দুখুল’ ‘মাসীস’ ও ‘লিমাস’ শব্দত্রয়ের অর্থ হচ্ছে, যৌন মিলন। যে ব্যক্তি বলে যে, স্ত্রীর কন্যা কিংবা তাঁর সন্তানের কন্যা হারামের ব্যাপারে নিজ কন্যার সমান, সে দলীল হিসাবে নবী (সা)—এর হাদীস খানা পেশ করে। আর তা হচ্ছেঃ নবী (সা) উম্মে হাবীবা (রা)-কে বলেন, তোমরা তোমাদের কন্যাদের ও বোনদের আমার সঙ্গে শাদীর প্রস্তাব করো না। একইভাবে নাতবৌ এবং পুত্রবধু শাদী করা হারাম। যদি কোন সৎ-কন্যা কারো অভিভাবকের আওতাধীন না থাকে তবে তাকে কি সৎ-কন্যা বলা যাবে? নবী (সা) তাঁর একটি সৎ কন্যাকে কারো অভিভাবকত্বে দিয়ে দিলেন। নবী (সাঃ) স্বীয় দৌহিত্রকে পুত্র সম্বোধন করেছেন।

৪৭৩৪. হুমায়দী (র)……উম্মে হাবীবা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনি কি আবু সুফিয়ানের কন্যার ব্যাপারে আগ্রহী? নবী (সা) উত্তর দিলেন, তাকে দিয়ে আমার কি হবে? আমি তাকে বললাম, তাকে আপনি শাদী করবেন। তিনি প্রশ্ন করলেন, তুমি কি তা পছন্দ করবে? আমি বললাম, হাঁ। এখন তো আমি একাই আপনার স্ত্রী নই। সুতরাং আই চাই, আমার বোনও আমার সাথে কল্যাণে অংশীদার হোক। তিনি বললেন, তাকে শাদী করা আমার জন্য হালাল নয়। আমি বললাম, আমরা শুনেছি যে, আপনি আবু সালামার কন্যা—দুররাকে শাদী করার জন্য পয়গাম পাঠিয়েছেন। তিনি প্রশ্ন করলেন, উম্মে সালামার কন্যা? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, যেদিন আমার প্রতিপালিতা সৎ কন্যা যদি নাও হতো তবুও তাকে শাদী করা আমার জন্য হালাল হতো না। কেননা সুয়াইবিয়া আমাকে ও তাঁর পিতাকে দুধ পান করিয়েছিল। সুতরাং শাদীর জন্য তোমাদের কন্যা বা বোন কাউকে পেশ করো না। লাইছ বলেন, হিশাম দুরবা বিনতে আবী সালামার নাম বলেছেন। (সহীহ বুখারী শরীফ-খন্ড ৮/ বিয়ে—শাদী অধ্যায় থেকে)

 


[1] . হযরত ফাতিমা (রা)—এর জীবদ্দশায় হযরত আলী (রা) কাউকে শাদী করেননি। পরে তিনি শাদী করেন। আলোচ্য মহিলার নাম লায়লা মাসউদ। 

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

[পঞ্চম পরিচ্ছেদ] ইসলামী শরী‘য়াহ বাস্তবায়নের হুকুম

আল্লাহর প্রতি ঈমান ও তাঁর একত্ববাদে বিশ্বাস এটাই দাবী যে, আমরা ঈমান আনব যে, তিনি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *