Breaking News
Home / ব্লগ / বিজনেস প্লান গঠনের নিয়ম, মার্কেটিং, বিজনেস প্লান, সবকিছু একসাথে!

বিজনেস প্লান গঠনের নিয়ম, মার্কেটিং, বিজনেস প্লান, সবকিছু একসাথে!

সাকসেসফুল বিজনেস প্লান গঠনের নিয়ম

ব্যবসায়ে  হতে হলে সব থেকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে বিজনেস প্লানের উপর, প্লান যাকে বাংলায় বলা হয় পরিকল্পনা ৷

কোন কাজ করার আগে চিন্তা করা, কাজটা কেমন হবে, কতটুকু সময় যাবে, কিভাবে করতে হবে, কাজটি করলে কি লাভ,

অথবা ক্ষতির কি আশঙ্কা এবং কিভাবে তা প্রতিরোধ করতে হবে?

এরকম সব বিষয় নিয়ে আগে থেকে পরিকল্পনা সে অনুযায়ী আগালে অনেক সহজ হয়, তাছাড়া সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা যায়,

কাজটি কতদূর আগালো, কতটুকু বাকি আছে ৷

ম্যাপের মাধ্যমে যে-কোন সমস্যা চিহ্নিত করে প্রতিকার করা সহজ ৷ প্লান অনেক ক্ষেত্রেই হতে পারে, আবার কিছু ক্ষেত্রে না হলেই নয় ৷

প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিরা সবসময় বলেন নিজের সময়কে ভাগ করে নেয়া উচিত,

এবং প্রতিদিন নিজের থেকে কাজ বুঝে নিতে হবে সারাদিন কি কি কার্যাবলী সম্পাদিত হয়েছে,

এবং কি বাকি আছে? সকালে আমার কি কাজ রয়েছে, কার কাছে যেতে হবে,

কার সাথে কথা বলতে হবে, কাউকে টাকা দিতে হবে,

আমি কি সব কাজগুলো করেছি? নাকি আগামীকাল সকালেই সব করতে হবে!

বস্তুত সময় নিয়ে যারা অসচেতন, জীবনে তারা কিছুই করতে পারেনি ৷

বিজনেস প্লানের গুরুত্ব
কম্পানি গঠনে, বিজনেস প্লানের গুরুত্ব অপরিসীম ৷
ব্যবসা নিয়ে এগোতে হলে সঠিক পরিকল্পনা ছাড়া আগানো সম্ভব না ৷

যে কোম্পানি, যত দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে মনে করতে হবে তাদের বিজনেস প্লানটা ততই নিখুঁত ও শক্তিশালী ৷
ব্যবসা তো ব্যবসা’ই সেটা ছোট হোক বা বড় ৷ আপনার পুঁজি কম হোক সেটা সমস্যা নয়,

আপনি বিনিয়োগ করেছেন লাভের উদ্দেশ্যে, কাজেই ব্যবসার সকল নীতিমালা অনুসরণ করা উচিত,

কারণ আপনার উদ্দেশ্য এই নয় যে, কাঙ্খিত লক্ষে পৌছানো মাত্র ব্যবসা বন্ধ করে দিবেন,

তাছাড়া লক্ষ অর্জনের জন্য নিদৃষ্ট নীতিমালা মান্য করা জরুরী ৷

বিজনেস প্লান কি?
সহজভাবে বল্লে আপনার পুঁজি হলো পঞ্চাশ হাজার টাকা ৷
আপনি এই টাকা দিয়ে ব্যবসা করতে চান, এখানে আপনার অনেক কিছুর প্রয়োজন হবে ৷

যেমনঃ সঠিক ও নির্ভুল বিজনেস প্লান, সেখানে থাকে মার্কেটিং সিস্টেম,

উৎপাদনের কাচামাল সংগ্রহ, বিভিন্ন লাইসেন্স ও ছাড়পত্র ৷ স্থান নির্বাচন ও উন্নতমানের নেটওয়ার্ক ৷

ব্যবসায়ে দক্ষতা ও বিস্তর জ্ঞান ৷ এবং একটু অতিরিক্ত বা অ্যাডভান্স চিন্তা ৷

চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করার মনমানসিকতা,

এবং অন্যদের সাথে প্রতিযোগীতা করে টিকে থাকার লড়াইয়ে অংশগ্রহণ করার প্রবল ইচ্ছা ও শক্তি ৷

তাছাড়া আরো অনেক বিষয় জানা লাগে যা একজন সফল উদ্যোক্তা হতে সাহায্য করে ৷

বিজনেস প্লান গঠন
আপনার কাছে বিশ হাজার টাকা আছে, যা দিয়ে ব্যবসা করার কথা ভাবছেন ৷

পণ্য উৎপাদনের প্রথম মাস থেকে দীর্ঘ ৬ মাস টার্গেট থাকলো প্রতি মাসে অফিস,

কর্মচারী, স্থায়ী যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল, প্রচার বিভাগ সবার খরচ দিয়ে প্রতি মাসে গড়ে ৫ (পাঁচ) হাজার টাকা আপনার লাভ থাকবে ৷

বিশ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে, যদি কেউ মাত্র চার মাসেই মূলধন উঠাতে পারলে,

তাহলে বাংলাদেশের অর্থনীতি আরো অনেক দূর এগিয়ে যেতো,

এখন হচ্ছে তার ব্যতিক্রম, বিশ হাজার দূরে থাক, পঞ্চাশ হাজার টাকা বিনিয়োগ করলেও,

কয়েকমাসের মধ্য সবকিছু গুটিয়ে ফেলতে হয়, আর এটাই সত্য কথা ৷

কিন্তু কেন এমনটি হচ্ছে?
আমরা একটি উদাহরণের মাধ্যমে দেখবো কিভাবে বিশ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে,

গড়ে চার মাসে মূলধন উঠানো যায়, উদাহরণের ক্ষেত্রে পনিরকে বেছে নিলাম ৷

দুধের পনির
পনির একশ্রেণীর খাদ্যদ্রব্য, যা কাঁচা দুধ দিয়ে তৈরি হয় ৷ অনেকটা শুকনো রসগোল্লা বা জমাট ছানার মতো,

পনির খেতে বেশ নোনতা, ও স্বাস্থ্যকর ৷

ভেড়া, ও ছাগলের দুধ দিয়ে পনির তৈরি করা গেলেও আমাদের দেশে গাভী ও মহিষের দুধের পনির বেশি চাহিদাসীল ৷

শহরের প্রায় সব মানুষই পনিরের সাথে পরিচিত, আবার অনেক মানুষ আছে,

যারা পনির তেমন সম্পর্কে কিছুই জানে না, হয়তো দেখেনি কোনদিন ৷

দেশীয় বাজারে পনিরের ব্যবসা লাভজনক হবে ৷ তাছাড়া উন্নতমানের মানের পনির উৎপাদণ করতে পারলে,

আন্তর্জাতিক বাজারেও রপ্তানি করার সুয়োগ রয়েছে ৷

ব্যবসা উদ্যোগে স্থিরতা
প্রয়োজনে মানুষ মানুষকে খুঁজে নেয়, আজকে আপনার পাশে কেউ নেই! কিন্তু কিছু একটা করুন,

দেখবেন অনেক মানুষ আপনার পাশে আসবে, সুযোগের অভাব হবে না ৷
অনেকে অনেক পরামর্শ দিবে, এটা করো, এটাতে প্রচুর লাভ,
অথবা কোথাও বিনিয়োগ করো, মাস শেষে এত টাকা আসবে মূল কথা,

চারদিক থেকে সুযোগসুবিধার বর্ণনা শুনবেন, সে জন্য স্থিরতা জরুরী,

আমি এটা করছি, এটা করবোই! এর থেকে ভালো সুযোগ আসুক তাতে আমার কি?

আমার যা আছে তার থেকেই সুযোগ বের করে নেবো ৷ লোভে পরে লক্ষ ভ্রষ্ট হলেই হেরে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে ৷

ব্যবসার জন্য স্থান নির্বাচন
প্রতিটি ব্যবসার ক্ষেত্রে স্থান নির্বাচন করা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, সামান্য চিন্তিত না হলে, মাসের পর মাস টাকা গুনতে হবে,
সময়তে প্রতিবেশীদের অভিযোগের অভাব হবে না, তাই এমন একটি জায়গা নির্ধারণ করা উচিত,

যেটা আপনার পুঁজির মধ্য কোন প্রভাব ফেলবে না, সহজেই প্রয়োজনীয় কাঁচামাল পাওয়া ও দ্রুত পণ্য সরবরাহ করা যায় ৷
ক্ষুদ্র ব্যবসার ক্ষেত্রে, আলাদা রুম বা দোকানের প্রয়োজন নেই, বাড়ির ভেতরে ফেলে রাখা রুমটি ব্যবহার করুন,

রুম কম থাকলে দু’তিন জন এক রুমে ঘুমান, এবং সেখানেই আপনার ব্যবসায়িক সকল কার্যক্রম পরিচালনা করুন ৷

পনির তৈরির সরঞ্জাম
পনির তৈরীর জন্য দুধ, বাঁশের ঝুড়ি, বড় গামলা, গ্লাভস, বাঁশের চটা, ভিনেগার বা টক, লবণ, ইত্যাদি প্রয়োজন হয় ৷

পনির তৈরি
বিজনেস প্লানে আমরা প্রশিক্ষণ সিস্টেমটা যুক্ত করছি না, কারণ সবকিছুই সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরা হয়েছে ৷

তবে আলাদা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা আছে, আমরা মনে করছি পনির তৈরি করা হয়েছে ৷

বিপনন প্রকৃয়া
পনির উৎপাদনের পর বেশিদিন রাখা যায় না, তাছাড়া পনিরের দাম একটু বেশি হওয়ায়, সচরাচর ক্রেতা পাওয়া কষ্টকর ৷

যারা পনির সম্পর্কে জানে, তারাই বেশি কিনে থাকে ৷ অনেক পণ্য আছে উৎপাদনের পর যে-কোন জায়গায় বিক্রি করা যায় ৷

বিশেষ করে স্থানীয় দোকান, বাজার ও মানুষের কাছে ৷

পনিরের ক্ষেত্রে ঢাকা শহর ছাড়া অন্যান্য জেলা সদরে কাষ্টমার পেতে একটু ধৈর্য ধরতে হবে,

কারণ পনির সম্পর্কে মানুষ ততটা জানে না ৷

তবে মার্কেটিং সিস্টেমটা সুন্দরভাবে পরিচালনা করা গেলে পনিরের ব্যবসায় দ্রুত এগিয়ে যাওয়া সম্ভব ৷

বায়ার রিক্লুট
ব্যবসার ক্ষেত্রে পরিচিতরাই বেশি সমস্যা করে, তবুও প্রথম আবস্থায় ঢাকা শহরে পরিচিত,

বন্ধুবান্ধব, আত্বীয়-স্বজনদের সাথে কথা বলা যেতে পারে,

যারা পনির নিয়ে কাজ করবে, ফিল্ড পর্যায়ে সময় দিবে ৷

আর একান্ত কেউ না থাকলে বিভিন্ন স্যোসাল নেটওয়ার্ক যেমনঃ ফেসবুক, লিংকিং,

গুগোল প্লাসের বন্ধুবান্ধদের সাথে শেয়ার করা যায় ৷
স্যোসাল নেটওয়ার্কে অনেক বেকার ও সামান্য পুঁজির ব্যবসায়িরা আছে,

যারা কমিশন ভিত্তিক কাজ করে থাকে ৷
কারো সাথে বেতন নিয়ে বাড়াবাড়ি নয়, পণ্য বিক্রি করে টাকা নিবে, কাজ ভালো করলে আকর্ষণীয় কমিশন পাবে ৷

পণ্য সরবরাহ
সারাদেশে পণ্য সরবরাহের জন্য কুরিয়ার সার্ভিস সবার সেরা ৷

প্রথম অবস্থায় শুধু ঢাকা শহর নিয়ে ভাবলে সুন্দর হবে,

কারণ মানুষের চাহিদা না বুঝে এলোমেলো করলে, সামলানো কষ্টকর ৷

সব জেলাতেই সুন্দরবন ও কন্টিনেন্টাল কুরিয়ারের অফিস আছে ৷

দু’টি নিয়মে সেবা নেয়া যায়: পণ্যের সাথে সার্ভিস বিল সংযুক্ত করা ও প্রাপককে বিল পরিশোধের সুযোগ দেয়া ৷

নতুন অবস্থায় দ্বিতীয় নিয়ম নাও মানতে পারে,

সে জন্য সরাসরি এড়িয়া ম্যানেজারের সাথে কথা বলে বিষয়টি মিমাংসা করতে হবে যে,

আমরা নিয়মিত পণ্য পাঠাবো এই নিয়মে যাতে সার্টিফাইড করা হয় ৷

পনির ব্যবসার আয়-ব্যয়
সাধারণত ১০-১২ কেজি দুধে ১ কেজি পনির হয়,

ফিল্ড সার্ভে করে দেখা গেছে ১ কেজি পনির খুচরা বিক্রি ৮০০ টাকা,

পাইকারি ৬৫০ টাকা দেয়া হলে ২০০ টাকা লাভ ৷
যেমনঃ
১০ টাকা ঝুরি, বাঁশের চটা, গ্লাভস, লবণ ইত্যাদি খরচ ৷
৩০ টাকা ফিল্ড কর্মীর কমিশন ভিত্তিক খরচ ৷
০৫ টাকা কাঁচামাল সংগ্রহ ও কুরিয়ার অফিসে খরচ ৷
০৫ টাকা কাঁচামাল অপচয়, ক্ষতি ও যাতায়ত বাবদ, মোট =৫০ টাকা, এক কেজি পনির তৈরিতে লাভ ২০০ টাকা ৷
(বাঁশের ঝুড়ি নিজেরা তৈরী করলে অনেক টাকা বেচে যাবে) ৷

পনিরের ব্যবসা সম্পর্কে
এখানে এক কেজি পনিরের হিসেব ধরা হয়েছে, ফিল্ড কর্মী এক কেজি পনির বিক্রি করলে পাচ্ছে ৩০ টাকা ৷

কাজ হলো, বিভিন্ন জায়গায় পাইকারি দেয়া, চেষ্টা করলে প্রতিদিন ৮-১০ জন পাইকারকে দেয়া কোন ব্যপার না ৷

গড়ে প্রতি ১০ জন পাইকারকে ৫ কেজি করে দিলে, ৩০০ টাকা, মাসে ৯,০০০ টাকা,

এই কাজটি ২ থেকে সর্বচ্চ ৩ ঘন্টায় করা যায় ৷ সময় নিদৃষ্ট করা নেই, পাইকারকে রাতেও দেয়া যায়,

কারণ ঢাকা শহরের খুচরা পনির বিক্রেতারা রাত ১০-১১ টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখে ৷

চেষ্টা করলে নিদৃষ্ট এড়িয়ার ফাস্টফুড ও স্টেশনারি দোকানগুলোকে আয়ত্বে আনা সম্ভব ৷

লাইসেন্স নেয়ার পদ্ধতি
লাইসেন্স নেয়াটা যতটা ঝামেলা, না নেয়াটা তার চেয়ে বেশি ঝামেলা, কারণ সবসময় চিন্তায় থাকতে হয়,

তাছাড়া লাইসেন্সের জন্য বেশি টাকা খরচ করতে হয় না, লাইসেন্স একটি নিরাপত্তার সনদ,

লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা চলছে, এটা জানলে সবাই সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করে,

কাজেই একটু কষ্ট হলেও লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা করা উচিত,

লাইসেন্সের কারণে অনেক ব্যবসায়ী সরকারি সুযোগসুবিধা পেতে পারে ৷
পনিরের ব্যবসার জন্য স্থানীয় ওয়ার্ড কমিশনার অথবা ইউনিয়ন অফিসে যোগাযোগ করলে,

২ বছর মেয়াদি ছাড়পত্র পাওয়া যাবে ৷

মার্কেটিং ম্যানেজমেন্ট
ব্যবসা ছোটবড় যেমন হোক পণ্যই হলো প্রধান, এক প্যাকেট চানাচুর যেমন মাল্টিন্যাশনাল কম্পানি তৈরী করে,

আবার স্বল্প পুঁজির ব্যবসায়িরাও তৈরি করে ব্যবসার ক্ষেত্রে মার্কেটিং বা প্রচারের বিকল্প নেই,

পণ্য সম্পর্কে মানুষ যত জানবে, ততই আগ্রহী হবে, ততই বিক্রির মান বাড়বে,

প্রচার ছাড়া বিক্রি অসম্ভব৷ পণ্য উৎপাদনের পর-পরই মার্কেটিংয়ের প্রতি সবথেকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে ৷

এ জন্য একটি টিম গঠন করা যেতে পারে, যারা শুধু নতুন নতুন মার্কেটিং ধারা তৈরি করবে ৷

একটি উৎপাদনে, একটি ফিল্ডে, আরেকটি মার্কেটিংয়ে এভাবে ৩-৪ জন লোক করে টিম গঠন করা যেতে পারে ৷

দক্ষ লোক হলে, ফিল্ড ও মার্কেটিং সামলাতে পারবে ৷

নিজস্ব নেটওয়ার্ক তৈরি
প্রথম অবস্থায় শুধু পাইকারকে একটি আইটেম দিলেও, কয়েকদিনের মধ্য (বাজারের চাহিদা বুঝে) বড় বড় শপ,

ফাস্টফুড, স্টেশনারি, খাবার দোকান, হোটেল ও রেষ্টুরেন্ট আলাপ করা যেতে পারে,

পনিরের অনেকগুলো আইটেম আছে, যেমনঃ কেএফসি, পিৎজা হাট, বার্গার শপ আলাদা আলাদা ব্রেড আইটেম বিক্রি করে,

তাদের চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদণ করে দিতে পারলে খুব দ্রুত এগিয়ে যাওয়া সম্ভব ৷

নেটওয়ার্ক মার্কেটিং
বিশেষ করে সপ্তাহের খাবারে আয়োজন, পুডিং ও অন্যান্য অনুষ্ঠানে রকমারি পনিরের চাহিদা আছে,

যেগুলো বাসা বাড়িতেও সরবরাহ করা যায়, এ জন্য ফিল্ড পর্যায়ে দক্ষ কর্মী নিয়োগ দিতে পারলে,

ভালো একটি পরিচিতি তৈরি হবে ৷

ব্রান্ড অ্যাম্বাসেডিং
ঢাকা শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তিরা পনির নিয়ে বসে,

আকর্ষণিয় একটি নামে ব্রান্ড তৈরি করতে পারলে,

প্যাকেটজাত করে উন্নত শপ গুলোতে সাপ্লাই দিলে ভালো চলবে, পরবর্তীতে ব্রান্ডে অনুযায়ী মার্কেট ধরা সম্ভব ৷

মার্কেটিং সিস্টেম
আপনি মার্কেটিং সিস্টেমকে কিভাবে সাজাতে চান?

কতজন লোক মার্কেটিং বিভাগে নিয়োগ দিবেন, আপনার পণ্য;

একজন নিম্নমানের ভোক্তার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিতে তাদের কেমন কার্যক্রম থাকা উচিত?

আপনার বিজনেস প্লানে সেটির বিস্তারিত বর্ণনা থাকবে ৷ যাতে সে অনুযায়ী মার্কেটিং বিভাগ সাজাতে পারেন,

যা পরিকল্পনা ছাড়া কখনোই সম্ভব না ৷

স্যোসাল নেটওয়ার্ক মার্কেটিং
এই ব্যবসায় স্যোসাল নেটওয়ার্ক পরিচিতি সবার সেরা কারণ গরীব বা মধ্যবিত্তরা এটার চাহিদা একটু কম করে,
এ জন্য ভালো মানের কাষ্টমার পেতে, ফেসবুক, টুইটার গুগোল প্লাস ও লিংকিংয়ে নেটওয়ার্ক না থাকলেই নয় ৷

গুগোল ও বোম্বার্স নেটওয়ার্ক
প্রাথমিক অবস্থায় ই-কমার্স ওয়েবসাইট না হলেও ভালো মানের কিছু ফ্রি ডোমেইন হোস্টিং প্রোভাইডার আছে,

যাদের সেবা অনলাইন স্টোর ভিত্তিক ৷ এর মধ্য আছে গুগোল স্মল বিজনেস, ও বোম্বার্স ওয়েব সার্ভার ৷
গুগোলের সবকিছু অটোমেটিক এসইও করা, বোম্বার্সেরও হয়, তবে কয়েকজন মিলে কাজ করা লাগে,

এ জন্য ফিল্ড কর্মী সহ অন্যান্য শাখার কর্মীরা একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করলে, বোম্বার্সে ভালো কিছু করা যাবে ৷
(অনেক সাইট থাকলেও এই দুটি মোবাইলে দ্রুত কাজ করে,

ফ্রি টেম্পলেট ও ইচ্ছেমতো ডিজাইনের সুযোগ বিধায়, এগুলোর কথা বলা হয়েছে) ৷

ব্লগ ও ওয়েব মার্কেটিং
বর্তমানে অনেক ওয়েবসাইট ও কমিউনিটি ফোরাম আছে,

যাদের প্রচুর ইউনিক ভিজিটর হয়,

ব্রান্ড পাবলিশিংয়ের ইচ্ছে থাকলে সারা মাসে ১ থেকে দের হাজার টাকা দিয়ে বিজ্ঞাপন দেয়া যায় ৷

বিজ্ঞাপন এজেন্সি
বাংলাদেশে অনেকগুলো অনলাইন মার্কেটপ্লেস রয়েছে, যেখানে বিনামূল্যে বিজ্ঞাপন দিয়ে ক্রেতা পাওয়া যায় ৷
যেমনঃ বিক্রয়ডটকম, এখানেইডটকম সহ আরো কিছু সাইট দেখতে পারেন ৷

ই-কমার্স মার্কেটিং
পর্যায়ক্রমে ব্যবসা ভালো অবস্থানে গেলে, ব্রান্ডের জন্য একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরি করা যেতে পারে ৷

যারা পনির সম্পর্কে জানে না, পনির কি,

স্বাস্থ্যের জন্য কিকি উপকার বিস্তারিত দেয়া থাকলে সবাই মোটামুটি একটি ধারণা পাবে,

তাছাড়া নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকেও ভালো মানের ক্রেতা পাওয়া সম্ভব ৷

পণ্যের বৈচিত্র
একই মোরক সবসময় বাজার ধরে রাখতে পারে না, নতুন নুতন আইটেম তৈরি করতে হবে ও মোরকে বৈচিত্র আনতে হবে ৷

অফার ও সুযোগসুবিধা একটি মেরুদণ্ড ভাঙ্গা কম্পানি দারাতে পারে, একমাত্র অফারকে কেন্দ্র করে,

এ জন্য মার্কেটিং সাইটটি শক্ত থাকতে হবে ৷

নির্ধারত টার্গেট
আপনার লক্ষ থাকবে, ছয় মাসে কত টাকা লাভ আনতে চান?
এবং আপনার লক্ষ পুরনে কতটুকু পরিশ্রম বা কিভাবে কাজ করতে হবে?

তাছাড়া একটি কোম্পানির টার্গেট পুরনে কর্মীদের কিকি ভূমিকা থাকা উচিত,

সুন্দর করে বিভাগ অনুযায়ী কার্যপ্রণালী বন্টন করতে হবে, যাতে যে যার দায়িত্ব সহজেই বুঝতে পারে ৷

সময়ের সাথে প্রতিযোগীতা
প্রতিযোগীতা ছাড়া কোনকিছুকেই সহজভাবে গ্রহণ করা সম্ভব না,

তাছাড়া প্রতিযোগীতা মানুষকে অনেক নতুন কিছুর সন্ধান দেয় ৷

আপনি প্রথমে ভাবতে পারেন, আপনি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা,

আপনার দিকে কে তাকাবে? কে আপনার প্রতিদ্বন্দি হবে? কিন্তু না!

বিষয়টা একদম আলাদা ৷ কেউ না কেউ না আপনাকে দেখছে,

হয়তো আপনি তাকে নাও দেখতে পারেন ৷

কাজেই শুরু থেকে আলাদা মনোভাব নিয়ে আগাতে হবে,

যাতে যে-কোনো প্রতিযোগীর সাথে মোকাবেলা করা সম্ভব হয় ৷

ব্যবসায়ে চেতনতা বৃদ্ধি
সবসময় সচেতন থাকতে হবে, আপনার মতো অন্যরাও পণ্য উৎপাদন করে, বাজারযাত করছে ৷

হতে পারে আপনার পণ্যের বাজার চাহিদা কমে গেছে ৷

তাছাড়া একটি পণ্য সবসময় মার্কেট খাবে, বিষয়টা এমন নয় ৷

তারপরও কতৃপক্ষকে সর্বদা সচেতন থাকতে হবে, যাতে মার্কেট ধরে রাখা যায় ৷

এই যে চাহিদা কমার কারণ এবং সঠিক সময়ে সুকৌশলে প্রতিকার ৷

অথবা ব্যবসাটি ড্যামেজের পথে গেলে কি করণীয় ৷

পেছনে ঠেক দেয়ার জন্য আগে থেকেই প্রস্তুতি ইত্যাদি ৷

প্রতিষ্ঠানের জরুরি সভা
ব্যবসা হলো একটি সংগঠন, আমি অনেক দেখেছি,

কম্পানির মেরুদণ্ড ভেঙ্গে পরা সত্বেও আবারও মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার পেছনে ছিলো কর্মীরা ৷

তাছাড়া কর্মীরা অমনোযোগিতা বা ক্রধের কারণে তার বিপরিত হয়েছে ৷

কাজেই যথেষ্ট সময়ে কর্মীদের মনমানসিকতার গুরুত্ব দেয়া উচিত ৷

সম্ভব হয়, সপ্তাহে বা মাসে তাদেরকে একতাবদ্ধ করে,

নতুন ঘোষণা/সিন্ধান্ত/কর্মপরিকল্পনা/নোটিসের পাশাপাশি তাদের কথাগুলো শোনা ৷

বাজার যাচাইয়ের গুরুত্ব
উৎপাদক হিসেবে নয়, একজন নিম্ন পর্যায়ের ভোক্তা হিসেবে নিজেকে দেখুন ৷

বাজারদর ওঠানামার দিকে লক্ষ রেখে পণ্যের গুনাগুন নিশ্চিত করবেন না ৷

বাজার দরের দোহাই দিয়ে হুট করে পণ্যের দর বাড়ালে সাধারণ ভোক্তার আস্থা হারাতে হতে পারে ৷

তাছাড়া পণ্যের দরের সিদ্ধান্তের জন্য বিভিন্ন কোম্পানির নিদৃষ্ট নীতিমালা আছে,

এতে বাজারদর অন্তর্ভুক্ত নয় ৷ যেটা আগে থেকেই সতর্ক বলা যেতে পারে ৷

তাছাড়া প্রতিদ্বন্দির দিকে লক্ষ রেখে পথ চলা উচিত ৷

ব্যবসায়িক প্রয়োজনে আত্বরক্ষা
সবার টাকার প্রয়োজন, কিন্তু অনেকে আছে যারা শ্রম দিতে রাজি না ৷

সেকারণে বন্ধুদের মধ্য যার টাকা আছে, সবসময় তাকে সময় দেয়, এবং ফুসলাতে থাকে ৷

না পেরে উঠলেই তারা আপনার ভালো চাবে না ৷

শুধু লাইসেন্স সবসময় নিরাপত্তা দিতে পারে না ৷

এজন্য দরকার উন্নত নেটওয়ার্ক ৷ যদিও প্রাথমিক অবস্থায় কিছু চোখে দেখবেন না,

কিন্তু সময়ে দেখবেন কারা আপনাকে গোপনে অবলোকন করছে ৷

কাজেই আগে থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্ত করতে হবে ৷

সব বিষয়ে ইতিবাচক দৃষ্টি
এটাকে সদালাপ বল্লেও ভুল হবে না ৷

আপনি পণ্য উৎপাদন করছেন বিক্রির জন্য, উদ্দেশ্য মুনাফা অর্জন ৷

বিষয়টা এমন নয়, সবার কাছে সবসময় একই পণ্যের চাহিদা সমান থেকে,

কাজেই সবসময় ভোক্তার দিকে তাকাতে হবে, সময়ে পণ্যের মোড়কে বৈচিত্র আনতে হবে ইত্যাদি ৷

তাছাড়া ধৈর্য ও শোহিঞ্জুতার জন্য কর্মীদের নিয়মিত পরামর্শ দিতে হবে,

যাতে যে-কেউ পণ্য সম্পর্কে কটুক্তি করলেও, কতৃপক্ষকে জ্ঞাত করা ছাড়া কোনো কথা যাতে না বলে ৷

তবে নৈতিক প্রতিবাদ ভিন্ন যেমন ভোক্তার ভুল বা না কারণে অবাঞ্ছিত কথা ৷

কৃতার্থে- কামাল আহমেদ বাগী।

About কামাল আহমেদ বাগী

ভোলা জেলার পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নাধীন, চরপক্ষিয়া গ্রামে, ৫ই শ্রাবণ ১৪০৫ বঙ্গাব্দে যশশ্রীয় মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন ৷ বাবা মফিজুল হক একজন স্বনামধন্য ব্যাবসায়ী, মা মরিয়ম বেগম গৃহিণী, তিন ভাই, ও তিন বোনের মধ্য তিনি সবার ছোট ৷ —সংক্ষিপ্ত কামাল আহমেদ বাগী'র "রোমান্টিক কবিতা" এন্ড্রয়েড অ্যাপ ডাউনলোড করুন, ধন্যবাদ ৷ www.kabbd.net

Check Also

পণ্য

ইসলাম নারীদের পণ্য বানিয়েছে!

নতুন নতুন গজিয়ে উঠা তথাকথিত নারীবাদীদের প্রায় একটা অভিযোগ করতে দেখা যায়। সেটা হলো, ইসলাম …

3 comments

  1. very good your idea. this article helping young generation.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE