Home / যৌন জীবন / সঙ্গম বা সহবাস / ০৬ সহবাসের নীতিমালা

০৬ সহবাসের নীতিমালা

আল্লাহ তাআলা বলেন- ‘মহিলারা তোমাদের পোশাক স্বরূপ এবং তোমরাও তাদের পরিধেয় স্বরূপ।’

স্বামী-স্ত্রী উভয়কে বুঝতে হবে যে, অধিক মাত্রায় খাবার খেলে যেমন পেট খারাপ হয়, অধিক মাত্রায় সহবাস করলেও শরীর দুর্বল ও সুস্থতায় বিঘ্ন ঘটে। অধিক সহবাসে পুরুষদের যে ক্ষতি হয়, মহিলাদেরও তেমন ক্ষতি হয়।

সহবাসের ইচ্ছা করলে এই দুআ পড়তে হবে- হে আল্লাহ! আমাদেরকে শয়তান হতে রক্ষা করুণ এবং আমাদের জন্য নির্ধারিত বস্তু হতে শয়তানকে ফিরিয়ে রাখুন।

উপরোক্ত দুআ সহবাসের সময় পড়লে আল্লাহ তাআলা বিতারিত শয়তান থেকে তাদেরকে হেফাজত করেন। সহবাসের সময় ঐ দুআ না পড়লে, তাদের কাজে শয়তান শরীক হয়।

সহবাসের সময় স্বামী-স্ত্রী নিজেদের উপর বর আকারের কাপড় টেনে দিবে। একেবারে উলঙ্গ অবস্থায় সহবাস করা যদিও জায়েয, তবে তাতে সন্তান জম্ম নিলে অধিকাংশ সময় ঐ সন্তান নির্লজ্জ ও বেহায়াহয়ে থাকে।

সহবাসের সময়ে অধিক কথা না । কেননা এতে সন্তান বোবা বা তোতলা হওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। সহবাসের সময় কুরআন কারীমকে ঢেকে রাখা। যেন তাঁর সম্মানে কোনো কমতি না আসে।

স্বপ্ন দোষে অপবিত্র অবস্থায়, সূর্য উদয় ও অস্তের সময় স্ত্রী সহবাস না করা। কেননা এসব অবস্থায় বা সময়ে সহবাসের দ্বারা যেসব সন্তান জম্মগ্রহণ করে, তারা অধিকাংশই পাগল বা উম্মাদ হয়ে থাকে। দীর্ঘদিন সহবাস না করলে অনেক সময় মহিলারা বিভিন্ন অসুস্থতায় ভোগেন। এজন্য এ বাক্যটি খুব স্বরণীয়- মহিলাদের জন্য সহবাস এমন, ক্ষতস্থানের জন্য মলম যেমন।

সহবাসের পর পেশাব করা খুবই জরুরী। মাটি বা হালকা গরম পানি দ্বারা ইস্তিঞ্জা করতে হবে।

একবার সহবাস করার পর দ্বিতীয়বার সহবাস করতে চাইলে অযু করা। এতে মনে এক প্রকার তৃপ্তি পাওয়া যায়। স্ত্রীর লজ্জাস্থান দেখা মাকরূহ।

লজ্জাস্থান দেখে সহবাসকারীর সন্তান অন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মহিলাদের ঋতুস্রাবের সময় সহবাস করা দুনিয়া ও আখেরাত উভয় দিক দিয়েই ক্ষতিকর। এ সময় সহবাস করলে শরীরে বিভিন্ন রোগ-ব্যাধি দেখা দেয়। আবার তা হারামও। বিস্তারিত জানার জন্য ‘একান্ত গোপনীয় কথা’ বইটি পড়া যেতে পারে। সহবাসের পূর্বে মুহূর্তে আতর-খুশবু ব্যবহার করা জায়েয। খুশবু ব্যবহারে সহবাসে অধিক মজা ও আনন্দ পাওয়া যায়। যৌনশক্তি বৃদ্ধির জন্য চিকিৎসা গ্রহণ করা জায়েয। এর জন্য হালুয়া খাওয়া জায়েয আছে। উদ্দেশ্য হল কেবল স্ত্রীর হক আদায়ে যেন কোনো প্রকার কমতি না আসে। গুপ্তস্থানের পশম বেশি বেশি পরিস্কার । গুপ্তস্থানের পশম উপড়ান উত্তম। সম্ভব না হলে কোনো ভাবে পরিস্কার রাখা।

মাসের প্রথম রাত, আমাবশ্যার রাত ও মাসের শেষ রাতে সহবাস না করাই উত্তম। কেননা এ তিন রাতে শয়তানের বিস্তার বেশি হয়ে থাকে। ঈদের রাতে, ফলদার বৃক্ষের নীচে এবং দাঁড়িয়ে সহবাস করলে আগত সন্তান অধিকাংশ নির্ভীক , বদ ও দাঙ্গাবাজ হয়ে থাকে। চন্দ্র ও সূর্যগ্রহণের রাতে, রাতের অন্ধকার নেমে আসার সময়, রাতের প্রথমাংশ যখন খাবারে পেট ভরপুর থাকে, এসব সময়ের সহবাসে সন্তান হলে অধিকাংশ সন্তান বে-আকল ও নির্বোধ হয়ে থাকে।

কক্ষে সন্তান বা আরেক সতীন নিন্দ্রায় থাকাবস্থায় স্ত্রীর সাথে সহবাসে সন্তান হলে অধিকাংশ সন্তান ব্যভিচারের খাছলত নিয়ে জম্মগ্রহণ করে।

গর্ভবর্তী স্ত্রীর সাথে অযুবিহীন হালতে সহবাস না করা। এতে আগত সন্তান কৃপণ ও কঞ্জুস স্বভাব নিয়ে জম্ম নেয়।

সহবাসের পর পরই ঠান্ডা পানি বা ঠান্ডা কোনো জিনিস ব্যবহার না করা। কেননা সে সময় সম্পূর্ণ শরীর গরম থাকে, ঠান্ডা কিছু পেলে সে খুব দ্রুত গ্রহণ করে। ফলে মুখ ঝলসানো , কাঁপুনি , দুর্বলতা ও ফুলা রোগ হয়ে থাকে।

সহবাসের পর উভয়ের গুপস্থান ভিন্ন ভিন্ন নেকড়া দিয়ে পরিস্কার করতে হবে। এক কাপড় দ্বারা পরিস্কার না করা। এতে পরস্পরের মাঝে অমিল ও দুশমনী সৃষ্টি হতে পারে। অপবিত্র অবস্থায় কোনো কিছু খাওয়া ও পান করা উচিৎ নয়। কেননা এর দ্বারা অভাব অনটন দেখা দিতে পারে। উত্তম হল সহবাসের পর গোসল করে খাওয়া-দাওয়া করা। গোসল সম্ভব না হলে কমপক্ষে অবশ্যই অযু করা উচিৎ।

ভরপেটের সহবাসে সুগারের রোগ দেখা দিতে পারে। এজন্য রাতের শেষ প্রহরে সহবাস উত্তম। আদাবুস সালেহীন কিতাবে রাতের প্রতম দিকে সহবাস করতে নিষেধ করা হয়েছে।

শরিয়তের দৃষ্টিতে যে কোনো দিন সহবাস করতে পারবে। এতে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে যৌনবিদ ও বুজুর্গগণ যেসব দিনে সহবাস করতে নিষেধ করেছেন সেসব দিনে সহবাস না করাই উত্তম।

জুমার রাতে সহবাস করা সর্বোত্তম। নবীগণ, আউলিয়াগণ, উলামায়ে কেরাম, হেকিমগণ এবং এ বিষয়ে বিজ্ঞ ডাক্তাররা জুমাআর রাতে সহবাস করার প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন।

জুমাআর রাতে সহবাস করার দ্বারা যে সন্তান জম্ম নেয়, অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, তারা সাধারণত সৎ, নেককার, আবেদ, পরহেজগার হয়ে থাকে।

ঋতুস্রাব ও নেসাফ চলাকালিন স্ত্রী সহবাস করা মারাত্মক গোনাহ।

ঘটনাক্রমে যদি সহবাস হয়ে যায়, তাহলে খাছ দিলে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং সম্ভব হলে কিছু দান সদকা করা উচিৎ।

যার স্ত্রী অধিক সুন্দরী ও রূপসী, তাঁর সহবাস করার মজাটাই ভিন্ন। এর দ্বারা যদিও বীর্যে তুলনামূলক বেশি নির্গত হয়, তবুও তাঁর প্রতি আসক্তির কারণে আত্মার মাঝে এক ধরণের শান্তি অনুভব হয়। আত্মার এ প্রশান্তির দ্বারা বীর্যেও বেশি বেশি সৃষ্টি হয়ে থাকে।

যার স্ত্রী নাবালেক বা সবেমাত্র যৌবনে পদার্পণ করেছে, এমন স্ত্রীর সাথে সহবাস না করা। তদ্রূপ ভাবে স্ত্রীর মন মেযায ভালো না থাকলে বা যেসব স্ত্রীর মুখে দুর্গন্ধ রয়েছে, তাদের সাথেও সহবাস না করা উচিৎ। স্ত্রী যদি একেবারে হালকা পাতলা ও দুর্বল হয় এবং সহবাসের প্রতি তাঁর কোনো আগ্রহ না থাকে, তাহলে তাঁর সাথে সহবাস করবে না। যেসব অবস্থায় সহবাস করা নিষেধ নিম্মে তা উল্লেখ করা হল-

যেসব অবস্থায় সহবাস করা অনুচিত

* মহিলাদের মাসিক বা ঋতুস্রাব অবস্থায়।

* নিসাফ ( অর্থাৎ মহিলাদের বাচ্ছা প্রসবের পর চল্লিশ দিন বা এর কমে যে কয়দিনে রক্ত আসা পরিপূর্ণ ভাবে গবন্ধ হয়ে যায়) অবস্থায়।

* কাজের ব্যস্ততা বেশি থাকলে সে সময়।

* দুর্বল ও ক্লান্ত অবস্থায়।

* মাতাল অবস্থায় ।

* একেবারে খালি পেটে অথবা ভরপেটেও সহবাস না করা।

* যাদের গনরিয়া রোগ রয়েছে, তাদের জন্যও অনুচিত।

* প্লেগরোগ , অসুস্থ অবস্থা ও জীবাণুযুক্ত বাতাস প্রবাহের সময়।

উপরোক্ত বিষয় গুলো এই বইয়ে সংক্ষিপ্তাকারে এবং ‘একান্ত গোপনীয় কতা’ বইতে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। এছাড়া আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিচে উল্লেখ করা হল-

* দেখতে অসুন্দর, যার সাথে মনের মিলহবে না বা যার প্রতি মনের কোনো প্রকার চাহিদা নেই, এমন মেয়েকে বিবাহ না করা। এজন্যই বিবাহের পূর্বে মেয়ে দেখার কথা বলা হয়েছে। যে স্ত্রীর প্রতি মনের কোনো প্রকার চাহিদা জাগে না, তাঁর সাথে সহবাস করলে পুরুষের শরীরে দুর্বলতা সৃষ্টি হয়।

হযরত লোকমান হাকীম তাঁর ছেলে আরজমন্দ কে নছীহত করেছিলেন যে, বদছুরত মহিলা থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখবে। কেননা, সে নিজে বৃদ্ধ হওয়ার পূর্বেই তোমাকে বৃদ্ধ বানিয়ে দিবে।

* অসুস্থ স্ত্রীর সাথে এজন্য সহবাস করবে না যে, তাঁর মন মানসিকতা আপাতত সহবাসের প্রতি আগ্রহী নয় । এ ছাড়াও তাঁর রোগে স্বামীকে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

* বৃদ্ধা মহিলার সাথেও সহবাস না করা। কেননা, তাঁর সাথে সহবাসের দ্বারা পুরুষের লিঙ্গে দুর্বলতা সৃষ্টি হতে পারে। বৃদ্ধার লজ্জাস্থান শুকনো ও ঢিলে হওয়ার কারণে সহবাসে পুরুষরা তেমন একটা মজা অনুভব করে না। আর মজা কম অনুভব করার দ্বারা পুরুষদের সহবাসের আগ্রহে বিঘ্ন ঘটে। যা তাকে ধীরে ধীরে সহবাসে দুর্বলমনা বানিয়ে দেয়। বৃদ্ধাদের লজ্জাস্থানের ভিতরে সব সময় ঠান্ডা থাকে যা পুরুষাঙ্গের জন্য ক্ষতিকর । কেননা সহবাসের পর ঠান্ডা পানি বা ঠান্ডা কিছু ব্যবহার করাই নিষেধ। সুতরাং স এস্থানে সহবাসে পুরুষেরা অবশ্যই ক্ষতির সম্মুখীন হবে। আরেক ক্ষতির দিক হল, মহিলা বৃদ্ধা হয়ে যাওয়ার কারণে তাঁর জরায়ু পুরুষের বীর্যেকে খুব চুষে থাকে, ফলে পুরুষের চেহারায় ঔজ্জল্যতা হ্রাস পাওয়ার আশংকা রয়েছে এবং দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। তবে বৃদ্ধা মহিলা যদি দেখতে অপরূপা ও সুন্দরী হয়, যাকে দেখলে এখনও সহবাসের ইচ্ছা জাগে, তাঁর সাথে সহবাসে ক্ষতির সম্ভবনা কম।

বিঃদ্রঃ মহিলাদের বয়স যখন পঞ্চাশের উর্দ্ধে চলে যায়, তখনই তারা বৃদ্ধের কাতারে অন্তর্ভুক্ত হয়ে যান।

* নর্তকী, বাজারী বা বেশ্যা নারীর সাথে সহবাসে এইডস নামক মারাত্মক রোগ দেখা দিতে পারে। অনেক মানুষের বীর্য এসব নারিদের লজ্জাস্থানে নির্গত হয় এবং এর প্রভাবে বিভিন্ন কীট-পতঙ্গ সৃষ্টি হয়, যার প্রতিক্রিয়া ও ক্ষতি সন্তানাদির উপরও পড়ে।

* হামেলা বা গর্ভধারিণী নারীর সাথেও সহবাস না করা। বিশেষ করে গর্ভবর্তী হওয়ার প্রথম থেকে তৃতীয় মাস পর্যন্ত এবং অষ্টম থেকে সন্তান জম্মগ্রহণ করার পূর্বে পর্যন্ত সহবাস না করা উচিৎ। এ সময়ে বাচ্ছাদানিতে নাড়াচাড়া মাত্রাতিরিক্ত হলে অনেক সময় গর্ভপাত হয়ে যায়।

বিশেষ করে যে পুরুষদের লিঙ্গ বেশ লম্বা তারা যদি গর্ভবর্তী স্ত্রীর সাথে সহবাস করেন, তবে অধিকাংশ মহিলার গর্ভপাত হয়ে যেতে পারে। কেননা গর্ভাবস্থায় মহিলাদের লজ্জাস্থানে গরমের ভাব তুলনামূলক বেশি থাকে। এর সাথে যদি সহবাসের গরম যোগ হয়, তাহলে অতি সহজেই গর্ভপাত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

* যে সব মহিলাদের মুখে দুর্গন্ধ জাতীয় রোগ রয়েছে, তাদের সাথেও সহবাস না করা উচিৎ। কারন ক্ষুধা ও পিপাসার সময় মুখের দুর্গন্ধ আরো বৃদ্ধি পায়। আর মুখের এ দুর্গন্ধ স্বামীর মনে সহবাসের সুপ্ত খাহেশ হ্রাস পেতে থাকে থাকে এবং তাঁর পুরুষত্বে দুর্বলতা দেখা দিয়ে থাকে।

* যে স্ত্রী অধিক সময় স্বামীকে নিজের কাছে রেখে তাকে চুম্বন করে, জড়িয়ে ধরে যৌন আকর্ষণে লিপ্ত রাখে, কিন্তু সহজে সহবাস করতে দেয় না। বরং স্বামী সহবাস ব্যতিত বাকী সব আনন্দ দিয়ে মাতোয়ারা করুক এবং শেষ পর্যায়ে সহবাস সহবাস করুক। স্বামীকে এমন যৌনকাজে লিপ্ত রাখলে, অনেক সময় স্বামীর বীর্যপাত হয়ে যায়। আর এমন হলে স্বামীর মনে দ্রুত বীর্যপাতের ভয় ঢুকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কেননা পুরুষের সব সময়ই যোউন চাহিদা জেগে থাকে এবং পুরুষাঙ্গের রগসমূহ স্ফীত হয়ে যায়। সহবাসের পূর্বেই স্বামীর বীর্যপাত হলে মানসিক চিন্তা বেড়ে যায় এবং লজ্জিত হয়ে নিজেকে দুর্বল পুরুষদের অন্তর্ভুক্ত মনে করতে থাকে। স্ত্রীর সাথে সহবাস করতে তাঁর এ বিষয়টির স্মরণে সে মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়বে। মানসিকভাবে দুর্বল পুরুষের বীর্যপাত খুব দ্রুত হয়ে যায়।আরো পড়ুন

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

সফল যৌন মিলন

সফল যৌন মিলন! যৌন মিলনে পূর্ণতৃপ্তি লাভ করার উপায়

সফল যৌন মিলন মানে হলো যেই যৌন মিলনের মাধ্যমে স্বামী স্ত্রী উভয়েই চরম পুলক লাভ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *