Breaking News
Home / বই থেকে / ১০. যিকিরের অধ্যায়

১০. যিকিরের অধ্যায়

১০. ১. আল্লাহর যিকির করা:

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

« مَا مِنْ قَوْمٍ اجْتَمَعُوا يَذْكُرُونَ اللَّهَ لَا يُرِيدُونَ بِذَلِكَ إِلَّا وَجْهَهُ إِلَّا نَادَاهُمْ مُنَادٍ مِنْ السَّمَاءِ : أَنْ قُومُوا مَغْفُورًا لَكُمْ قَدْ بُدِّلَتْ سَيِّئَاتُكُمْ حَسَنَاتٍ » . (أخرجه أحمد ) .

“যে কোনো সম্প্রদায় একত্রিত হয়ে আল্লাহর যিকির করবে এবং এর দ্বারা তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য হয় তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন, সেই সম্প্রদায়কে আসামানের কোনো এক ঘোষণাকারী ডেকে বলবে: তোমরা এমন অবস্থায় দাঁড়িয়ে যাও যে, তোমাদেরকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে এবং তোমাদের গুনাহসমূহকে পরিবর্তন করে সাওয়াবে পরিণত করা হয়েছে।”[1] রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন:

« إِنَّ سُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ تَنْفُضُ الْخَطَايَا كَمَا تَنْفُضُ الشَّجَرَةُ وَرَقَهَا » . ( أخرجه أحمد والبخارى فى الأدب المفرد ) .

“নিশ্চয় « سُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ »  (আল্লাহরই পবিত্রতা ঘোষণা করছি এবং সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আর আল্লাহ ছাড়া উপাসনার যোগ্য কোনো সত্য মা‘বুদ নেই; আর আল্লাহ মহান) — এর যিকির গুনাহসমূহকে এমনভাবে ঝেড়ে ফেলে দেয়, যেমনিভাবে গাছ তার পাতাসমূহকে ঝেড়ে ফেলে।”[2]

১০. ২. মাজলিসের কাফ্ফারা:

যখন মুসলিমগণের মধ্য থেকে কোনো একটি দল বা গোষ্ঠী একত্রিত হবে, তখন তাদের উপর আবশ্যকীয় কর্তব্য হল— তারা আল্লাহ তা‘আলার বেঁধে দেওয়া সীমারেখার মধ্যে থেকে তাদের মাজলিস পরিচালনা করবে এবং কোনো রকম সীমালংঘন করবে না, যেমন: খেল-তামাসা, গীবত তথা তাদের ভাইয়ের গোশ্ত দংশন, তাদের গোপনীয় বিষয় প্রকাশ এবং তাদের ভুল-ত্রুটি ও অপরাধের সমালোচনা ইত্যাদি তাদের আলোচনার বিষয় না হওয়া।

বরং তাদের জন্য ওয়াজিব হল— সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ করার ব্যাপারে পরস্পরকে সহযোগিতা করা, মানুষের মাঝে সংশোধন ও সংস্কারমূলক কাজ করা এবং আল্লাহ তা‘আলার কিতাব ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ নিয়ে শিক্ষামূলক আলোচনা করা।

সুতরাং যে মুসলিমের লক্ষ্য হবে আল্লাহ ও পরকাল, এমন প্রত্যেক মুসলিমের কর্তব্য হল— তার দ্বারা অনুষ্ঠিত প্রত্যেক মাজলিসে এই বিষয়ে সতর্ক করা এবং আল্লাহর যিকির ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি সালাত ও সালাম পেশ করার ব্যাপারে কোনো রকম অমনোযোগী না হওয়া; নতুবা কিয়ামতের দিনে তার উপর নিঃসঙ্গতা, দুঃখ-কষ্ট ও অপমানজনক অবস্থা চেপে বসবে, যদিও সে জান্নাতে প্রবেশ করে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

« مَا مِنْ قَوْمٍ جَلَسُوا مَجْلِسًا لَمْ يَذْكُرُوا اللَّهَ فِيهِ إِلَّا رَأَوْهُ حَسْرَةً يَوْمَ الْقِيَامَةِ » . ( أخرجه أحمد ) .

“যে কোনো সম্প্রদায় কোনো মাজলিসে বসল, অথচ তারা সেখানে আল্লাহর যিকির করল না, কিয়ামতের দিন তারা তাকে দুঃখ-কষ্ট হিসেবে দেখবে।”[3]

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন:

« مَا قَعَدَ قَوْمٌ مَقْعَدًا لَمْ يَذْكُرُوا اَللَّهَ فيهِ , وَلَمْ يُصَلُّوا عَلَى اَلنَّبِيِّ  صلى الله عليه وسلم  إِلَّا كَانَ عَلَيْهِمْ حَسْرَةً يَوْمَ اَلْقِيَامَةِ , وَإِنْ دَخَلُوا الْجَنَّةَ  » . ( أخرجه أحمد و الحاكم ) .

“কোন সম্প্রদায় কোনো আসর বা মাজলিসে বসল, অথচ তারা সেখানে আল্লাহর যিকির করল না এবং নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দুরূদ পাঠ করল না, কিয়ামতের দিনে তাদের উপর দুঃখ-কষ্ট চেপে বসবে, যদিও তারা জান্নাতে প্রবেশ করে।”[4]

কিন্তু ভুলে যাওয়াটাই মানবজাতির জন্য বিপদজনক এবং তাদের প্রয়োজনীয় বস্তুর ঘাটতির কারণ। সুতরাং যখন মুসলিম ব্যক্তি মাজলিসে তার আবশ্যকীয় কর্তব্য পালনে ব্যর্থ বা অক্ষম হবে, তখন সেখান থেকে উঠে আসার পূর্বে সে যেন মাজলিসের কাফ্ফারা আদায় করতে ভুলে না যায়, যেমনটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিক্ষা দিয়েছেন, তিনি বলেন:

« من قال: سبحان الله وبحمده سبحانك اللهم وبحمدك أشهد أن لا إله إلا أنت أستغفرك وأتوب إليك ، فقالها في مجلس ذكر كانت كالطابع يطبع عليه ، ومن قالها في مجلس لغو كانت كفارة له » . ( أخرجه الحاكم و الطبراني ) .

“যে ব্যক্তি যিকিরের মাজলিসে বলে: « سبحان الله وبحمده سبحانك اللهم وبحمدك أشهد أن لا إله إلا أنت أستغفرك وأتوب إليك » (আল্লাহরই পবিত্রতা ঘোষণা করছি এবং তাঁর প্রশংসা করছি; হে আল্লাহ! আপনারই পবিত্রতা ঘোষণা করছি এবং আপনার প্রশংসা করছি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ (মা‘বুদ) নেই, আমি আপনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাওবা করছি), তখন তা হবে মোহরাঙ্কিত বস্তুর মত (টিকসই); আর যে ব্যক্তি তা অর্থহীন মাজলিসে বলবে, তখন তা তার জন্য কাফ্ফারা হয়ে যাবে।”[5] 

* * *


[1] আহমাদ: (৩/১৪২); তিনি বলেন: আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবন বকর, তিনি বলেন: আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন মাইমুন আল-মারায়ী, তিনি বলেন: আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন মাইমুন ইবন সিয়াহ, তিনি আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। আমি বলি: এই সনদটি ‘হাসান’ পর্যায়ের ইনশাআল্লাহ; আর মাইমুন ইবন মূসা আল-মারায়ী ‘মুদাল্লিস’ পর্যায়ের বর্ণনাকারী, তবে তিনি বর্ণনার মাধ্যমে তা স্পষ্ট করে দিতেন।

[2] আহমাদ: (৩/১৫২); বুখারী, আল-আদাবুল মুফরাদ: (৬৩৪); তাঁরা হাদিসটি ত্বরিক আবদুল ওয়ারিসের সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন সিনান, তিনি বলেন: আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু। আমি বলি: এই সনদটি ‘হাসান’ পর্যায়ের; কারণ, সিনান ইবন রবী‘য়া সত্যবাদী, নম্র।

[3] আহমাদ রহ. হাদিসটি আবদুল্লাহ ইবন ‘আমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন: (২/১২৪) । আমি বলি: হাদিসের সনদটি সহীহ। আর তার সমর্থনে জাবির রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে হাদিস বর্ণিত আছে, যা আত-তায়ালসী রহ. বর্ণনা করেছেন: (১৫৭৬) এবং তার সনদটিও সহীহ।

[4] আহমাদ: (২/৪৬৩); ইবনু হিব্বান: (২৩২২— মাওয়ারিদ); হাকেম: (১/৪৯২) ও অন্যান্য মুহাদ্দিস প্রমুখ হাদিসটি আ‘মাশের সনদে বর্ণনা করেছেন, তিনি বর্ণনা করেন আবূ সালেহ থেকে, তিনি আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে ‘মারফু‘’ হিসেবে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। আমি বলি: হাদিসের সনদটি সহীহ।

[5] হাকেম: (১/৫৩৭); ত্ববারানী, আল-কাবীর ( الكبير ), হাদিস নং- ১৫৮৬ ও ১৫৮৭; তাঁরা হাদিসটি নাফে‘ ইবন জুবায়ের ইবন মুত‘য়েমের সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি তাঁর পিতা জুবায়ের ইবন মুত‘য়েম রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে ‘মারফু‘’ হিসেবে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।

হাকেম রহ. বলেন: হাদিসটি ইমাম মুসলিম রহ. এর শর্তে সহীহ। আর একই মত ব্যক্ত করেছেন ইমাম যাহাবী রহ. এবং আমাদের শাইখ আলবানী রহ. তাঁর ‘সিলসিলাতুল আহাদিসিস্ সাহীহা’ ( سلسلة الأحاديث الصحيحة ) নামক গ্রন্থের মধ্যে, হাদিস নং- ৮১; আর তাঁরা যা বলেছেন, বিষয়টি তাই।

আর ত্ববারানী’র দ্বিতীয় জায়গার বর্ণনায় অতিরিক্ত কথা আছে:  « يقولها ثلاث مرات »  (তিনি তা তিনবার বলেন)।

আমাদের শাইখ বলেন: হাইছামী রহ. তার ব্যাপারে কোন মন্তব্য করেননি এবং তা (সনদটি) উৎকৃষ্ট নয়; কারণ, তার সনদের মধ্যে খালিদ ইবন ইয়াযিদ আল-‘আমরী নামে একজন বর্ণনাকারী রয়েছে, যাকে আবূ হাতিম ও ইয়াহইয়া মিথ্যাবাদী বলেছেন; আর ইবনু হিব্বান বলেন: সে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের থেকে ‘মাউযু’ হাদিস বর্ণনা করত। সুতরাং এটা অতিরিক্ত, এর দিকে দৃষ্টি দেয়ার দরকার নেই।

আমি বলি: এটা শাইখের পক্ষ থেকে অনিচ্ছাকৃত ভুল (আল্লাহ তাকে হিফাজত করুন); কেননা, হাইছামী রহ. দুই জায়গায় ঐ বিষয়ে ইঙ্গিত করেছেন, যে বিষয়ে শাইখ অত্যন্ত কঠিন কথা বলেছেন (আল্লাহ তাকে হিফাজত করুন); তিনি ‘আল-মাজমা‘ ( المجمع ) এর মধ্যে বলেছেন (১০/১৪২): “ত্ববারনী রহ. তা বর্ণনা করেছেন এবং তার সনদে খালিদ ইবন ইয়াযিদ আল-‘আমরী নামে একজন বর্ণনাকারী রয়েছেন, যিনি দুর্বল।”

আর তিনি ‘আল-মাজমা‘ ( المجمع ) এর (১০/৪২৩) মধ্যে সহীহ ও দুর্বল— দু’টি বর্ণনা উল্লেখ করার পর বলেছেন: “ত্ববারানী রহ. সবগুলো বর্ণনাই বর্ণনা করেছেন এবং প্রথম বর্ণনার বর্ণনাকারীগণ হলেন সহীহ হাদিসের বর্ণনাকারী।” অতঃপর তিনি যিকির সংক্রান্ত হাদিসের সনদগুলো অগ্রাধিকার দেয়ার বিষয়ে ইঙ্গিত করেছেন।

আর এর দ্বারা স্পষ্ট হয়ে গেল যে, হাইছামী রহ. এই বর্ণার ব্যাপারে নিরব থাকেননি, বরং আমাদের শাইখ কর্তৃক উক্ত বর্ণনাকে দুর্বল বলার পূর্বেই তিনি তাকে দুর্বল বলে আখ্যায়িত করেছেন— সুন্নাতে নববী’র খেদমতের কারণে আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে সাহায্য করুন।  

উপসংহার

“আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে উত্তম পুরষ্কার (জান্নাত) ও বাড়তি (আল্লাহর দীদার) প্রদান করুন”

হে আল্লাহর বান্দা, হে মুসলিম ভাই! জেনে রাখুন যে, আল-কুরআনের এসব আয়াত ও নবীর হাদীসে পাপরাশি ক্ষমার সাথে সংশ্লিষ্ট আমলের ব্যাপারে ব্যাপক উৎসাহ দিয়েছে, কিন্তু বান্দার জন্য উচিৎ হলো তার উপর নির্ভরশীল হয়ে বসে না থাকা। এমন যেন না হয় যে গুনাহ ও মন্দ কাজে জড়িয়ে যাওয়ার ব্যাপারে নিজের নফসের লাগামকে ছেড়ে দেবে এবং এই বাজে ধারণা করবে যে, সে গুনাহ করলেও যখনই এ জাতীয় আমল করবে তখনই তা তার সকল গুনাহ মাফের নিশ্চয়তা বিধান করবে।

নিশ্চয়ই এ ধরনের কল্পনা চরম মূর্খতা ও বোকামির বহিঃপ্রকাশ; কারণ, হে প্রতারিত ব্যক্তি! তুমি কিভাবে জানতে পারবে যে, আল্লাহ তা‘আলা তোমার আমল কবুল করেছেন এবং তোমার গুনাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন?  আল্লাহ সুবহানহু ওয়া তা‘আলা বলেন:

﴿ إِنَّمَا يَتَقَبَّلُ ٱللَّهُ مِنَ ٱلۡمُتَّقِينَ ٢٧ ﴾ [المائ‍دة: ٢٧]

“আল্লাহ তো কেবল মুত্তাকীদের পক্ষ হতে কবুল করেন।”[1]

ঐসব মুত্তাকী বান্দগণ সৎকাজ করে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করার ব্যাপারে যথাসাধ্য চেষ্টা করে এবং পাপকাজ থেকে বিরত থাকে, আর সাথে সাথে এই আশঙ্কাও করে যে, তাদের আমলসমূহ বাতিল করে দিয়ে তাদের কাছে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয় কিনা এবং তাদের মুখের উপর ছুড়ে মারা হয় কিনা:

﴿ إِنَّ ٱلَّذِينَ هُم مِّنۡ خَشۡيَةِ رَبِّهِم مُّشۡفِقُونَ ٥٧ وَٱلَّذِينَ هُم بِ‍َٔايَٰتِ رَبِّهِمۡ يُؤۡمِنُونَ ٥٨ وَٱلَّذِينَ هُم بِرَبِّهِمۡ لَا يُشۡرِكُونَ ٥٩ وَٱلَّذِينَ يُؤۡتُونَ مَآ ءَاتَواْ وَّقُلُوبُهُمۡ وَجِلَةٌ أَنَّهُمۡ إِلَىٰ رَبِّهِمۡ رَٰجِعُونَ ٦٠ ﴾ [المؤمنون: ٥٧،  ٦٠] 

“নিশ্চয় যারা তাদের রব-এর ভয়ে সন্ত্রস্ত, আর যারা তাদের রব-এর নিদর্শনাবলীতে ঈমান আনে, আর যারা তাদের রব-এর সাথে শির্ক করে না, আর যারা যা দেওয়ার তা দেয় ভীত-কম্পিত হৃদয়ে, এজন্য যে তারা তাদের রব-এর কাছে প্রত্যাবর্তনকারী।”[2]

হ্যাঁ, এরাই হলেন সত্যিকার মুমিন।[3]

আর এই মহান অর্থের দিকেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘উসমান ইবন ‘আফ্ফান রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু কর্তৃক বর্ণিত হাদিসে ইঙ্গিত করেছেন, যাতে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের অযুর পদ্ধতি বর্ণনা করেছেন; অতঃপর তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন:

« مَنْ تَوَضَّأَ مِثْلَ هَذَا الْوُضُوءِ , ثُمَّ أَتَى الْمَسْجِدَ , فَرَكَعَ رَكْعَتَيْنِ , ثم جلس , غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ , قَالَ وَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «لَا تَغْتَرُّوا» . ( رواه البخاري) .

“যে ব্যক্তি এই অযূর ন্যায় অযূ করবে, অতঃপর মাসজিদে এসে দুই রাকা‘য়াত সালাত করবে, তার অতীতের সব গুনাহ্ ক্ষমা করে দেওয়া হবে। তিনি বললেন: নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন যে, তোমরা ধোঁকায় পড়ো না।”[4]

হে আমার ভাই! আপনি আরও জেনে রাখবেন যে, যেসব অপরাধ জনগণের হক বা অধিকারের সাথে সংশ্লিষ্ট, এসব আয়াত ও হাদিস তা অন্তর্ভুক্ত করে না; বরং ওয়াজিব হলো ঐ হক বা অধিকার তার মালিকের নিকট ফিরেয়ে দেওয়া; তার দলীল হলো ঐ হাদিস, যা শহীদের ঋণ ব্যতীত সকল গুনাহ্ মাফের কথা বর্ণনা করে।[5]

সুতরাং হে আমার ভাই! সতর্ক ও সাবধান হও— আল্লাহ তোমাকে তাঁর পক্ষ থেকে প্রাণশক্তির মাধ্যমে সাহায্য করবেন। আর জেনে রাখবে যে, শয়তানের পথ অনেকগুলো এবং তার পাতানো ফাঁদগুলো অনেক বড়; সুতরাং এই দরজা দিয়ে সে তোমার কাছে অনুপ্রবেশ করবে— সে ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করবে।

« سبحان الله وبحمده سبحانك اللهم وبحمدك أشهد أن لا إله إلا أنت أستغفرك وأتوب إليك » .

(আল্লাহরই পবিত্রতা ঘোষণা করছি এবং তাঁর প্রশংসা করছি; হে আল্লাহ! আপনারই পবিত্রতা ঘোষণা করছি এবং আপনার প্রশংসা করছি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ (মা‘বুদ) নেই, আমি আপনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাওবা করছি)।

* * *

সমাপ্ত 


[1] সূরা আল-মায়িদা, আয়াত: ২৭

[2] সূরা আল-মু’মিনুন, আয়াত: ৫৭ – ৬০

[3] এই বিষয়টি আমি আমার ‘মুবতিলাতুল আ‘মাল’ ( مبطلات الأعمال ) নামক পুস্তিকার মধ্যে ‘খাওফুস সালফিস সালিহ রহ. মিন আন তাহবাতা আ‘মালুহুম ওয়াহুম লা ইয়াশ‘উরুন’ ( خوف السَّلف الصالح ـ رحمهم الله ـ من أن تحبط أعمالهم و هم لا يشعرون) [পূর্ববর্তী সৎ বান্দগণের আশংকা যে, তাদের অজান্তেই তাদের আমলসমূহ নষ্ট হয়ে যাবে] নামক শিরোনামে অন্তর্ভুক্ত করেছি; প্রকাশক: দারু ইবনিল কায়্যিম, দাম্মাম।

[4] বুখারী, হাদিস নং- ৬০৬৯

[5] মুসলিম, হাদিস নং- ৪৯৮৮ ও ৪৯৯২

� ই�h� ��������য়েম রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে ‘মারফু‘’ হিসেবে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।

 

হাকেম রহ. বলেন: হাদিসটি ইমাম মুসলিম রহ. এর শর্তে সহীহ। আর একই মত ব্যক্ত করেছেন ইমাম যাহাবী রহ. এবং আমাদের শাইখ আলবানী রহ. তাঁর ‘সিলসিলাতুল আহাদিসিস্ সাহীহা’ ( سلسلة الأحاديث الصحيحة ) নামক গ্রন্থের মধ্যে, হাদিস নং- ৮১; আর তাঁরা যা বলেছেন, বিষয়টি তাই।

আর ত্ববারানী’র দ্বিতীয় জায়গার বর্ণনায় অতিরিক্ত কথা আছে:  « يقولها ثلاث مرات »  (তিনি তা তিনবার বলেন)।

আমাদের শাইখ বলেন: হাইছামী রহ. তার ব্যাপারে কোন মন্তব্য করেননি এবং তা (সনদটি) উৎকৃষ্ট নয়; কারণ, তার সনদের মধ্যে খালিদ ইবন ইয়াযিদ আল-‘আমরী নামে একজন বর্ণনাকারী রয়েছে, যাকে আবূ হাতিম ও ইয়াহইয়া মিথ্যাবাদী বলেছেন; আর ইবনু হিব্বান বলেন: সে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের থেকে ‘মাউযু’ হাদিস বর্ণনা করত। সুতরাং এটা অতিরিক্ত, এর দিকে দৃষ্টি দেয়ার দরকার নেই।

আমি বলি: এটা শাইখের পক্ষ থেকে অনিচ্ছাকৃত ভুল (আল্লাহ তাকে হিফাজত করুন); কেননা, হাইছামী রহ. দুই জায়গায় ঐ বিষয়ে ইঙ্গিত করেছেন, যে বিষয়ে শাইখ অত্যন্ত কঠিন কথা বলেছেন (আল্লাহ তাকে হিফাজত করুন); তিনি ‘আল-মাজমা‘ ( المجمع ) এর মধ্যে বলেছেন (১০/১৪২): “ত্ববারনী রহ. তা বর্ণনা করেছেন এবং তার সনদে খালিদ ইবন ইয়াযিদ আল-‘আমরী নামে একজন বর্ণনাকারী রয়েছেন, যিনি দুর্বল।”

আর তিনি ‘আল-মাজমা‘ ( المجمع ) এর (১০/৪২৩) মধ্যে সহীহ ও দুর্বল— দু’টি বর্ণনা উল্লেখ করার পর বলেছেন: “ত্ববারানী রহ. সবগুলো বর্ণনাই বর্ণনা করেছেন এবং প্রথম বর্ণনার বর্ণনাকারীগণ হলেন সহীহ হাদিসের বর্ণনাকারী।” অতঃপর তিনি যিকির সংক্রান্ত হাদিসের সনদগুলো অগ্রাধিকার দেয়ার বিষয়ে ইঙ্গিত করেছেন।

আর এর দ্বারা স্পষ্ট হয়ে গেল যে, হাইছামী রহ. এই বর্ণার ব্যাপারে নিরব থাকেননি, বরং আমাদের শাইখ কর্তৃক উক্ত বর্ণনাকে দুর্বল বলার পূর্বেই তিনি তাকে দুর্বল বলে আখ্যায়িত করেছেন— সুন্নাতে নববী’র খেদমতের কারণে আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে সাহায্য করুন।  

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

মোজার উপর মাসাহ

মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান (হাদিস)

জেনে নিন মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান। রাসূল (সাঃ) ও সাহাবায়ে কেরামগণ চামড়ার মোজা পরিধান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE