Home / ছেলেদের দুনিয়া / স্বামীর সমস্যায় স্ত্রীর পরামর্শ গ্রহণ

স্বামীর সমস্যায় স্ত্রীর পরামর্শ গ্রহণ

পরামর্শঅত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, বর্তমানে মুসলিম পরিবারে নারী সম্পর্কে মন্তব্য করা হয়, নারী অবলা!!

মেয়ে মানুষের কি কোন বুদ্ধি আছে! অত্যন্ত অশালীন ভাষায় নারী সম্পর্কে এ ধরণের অবাঞ্চিত মন্তব্য শোনা যায়। কিন্তু নারীও যে প্রয়োজনের খাতিরে পুরুষের বিচার বিবেচনাকে ম্লান করে দিয়েছে। ইতিহাসে এর বহু প্রমাণ রয়েছে, এ কথা পুরুষ ভুলে যায়। সুতরাং দাম্পত্য জীবনে নারী হলো পুরুষের দুঃখ-সুখের চির সাথী, জীবনসঙ্গী। স্বামী পরামর্শ চাইবে স্ত্রীর কাছে।

আল্লাহর ইচ্ছা পরামর্শে নিমিষে স্বামীর সমস্ত সমস্যার সমাধান হয়ে যেতে পারে। রাসূলে করীম (সাঃ) এর জীবনে এ পর্যায়ের বহু ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায়। সর্বপ্রথম অহী লাভ করার পর তার হৃদয়ে যে ভীতি ও আতংকের সৃষ্টি হয়েছিল, তার অপনোদনের জন্য তিনি ঘরে গিয়ে স্বীয় প্রিয়তমা স্ত্রী হযরত খাদীজাতুল কোবরা (রাঃ) এর নিকট সব অবস্থার বিবরণ দান করেন। বলেছিলেনঃ “আমি এ সম্পর্কে নিজের সম্পর্কে ভীত হয়ে পড়েছি” এ কথা শুনে জীবনসঙ্গিনী হযরত খাদীজা (রাঃ) তাঁকে বলেছিলেন “আল্লাহ আপনাকে কখনোই এবং কোনদিনই লজ্জিত করবেন না।

কেননা আপনি তো ছেলায়ে (আত্মীয়তার সম্পর্ক)-র রেহমী রক্ষা করেন, অপরের বোঝা বহন করে থাকেন, কপদর্কহীন গরীবদের জন্যে আপনি উপার্জন করেন, মেহমানদারী রক্ষা করেন, লোকদের বিপদে-আপদে তাঁদের সাহায্য করে থাকেন, এজন্যে আল্লাহ কখনই শয়তানদের আপনার জয়ী বা প্রভাবশালী করে দেবেন না। কোন অমূলক চিন্তা-ভাবনা নেই যে, আল্লাহ আপনাকে আপনার জাতির লোকজনের হেদায়েতের কার্যের জন্যেই বাছাই করে নিয়েছেন।” হযরত খাদীজার এ সান্ত্বনা বানী রাসূল করীম (সাঃ) এর মনের ভার অনেকখানি লাঘব করে দেয়।

আর এ ধরনের অবস্থায় প্রত্যেক স্বামীর জন্যে তার প্রিয়তম ও সহানুভূতিসম্পন্ন স্ত্রীর আন্তরিক সান্ত্বনাপূর্ণ কথাবার্তা অনেক কল্যাণ সাধন করে থাকে। হুদায়বিয়ার সন্ধিকালে যখন মক্কা গমন ও বায়তুল্লাহর তওয়াফ করা সম্ভব হল না, তখন রাসূলের সঙ্গে অবস্থিত চৌদ্দশ সাহাবী নানান কারণে হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েন।

এ সময়ে রাসূল (সাঃ) তাদেরকে এখানেই কুরবানী করতে আদেশ করেন। কিন্তু সাহাবীদের মধ্যে তার এ নির্দেশ পালনের কোণ আগ্রহ লক্ষ্য করা যায় না। এ অবস্থা দেখে রাসূলে করীম (সাঃ) বিস্মিত ও অত্যন্ত মর্মাহত হন। তখন তিনি অন্দমহলে প্রবেশ করে তার সঙ্গে অবস্থানরত তার স্ত্রী হযরত উম্মে সালমা (রাঃ)-এর কাছে সব কথা খুলে বললেন।

তিনি সব কথা শুনে সাহাবাদের এ অবস্থার মনস্তাত্ত্বিক কারণ বিশ্লেষণ করেন এবং বললেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল! আপনি নিজেই বের হয়ে পড়ুন এবং যে কাজ আপনি করতে চান তা নিজেই শুরু করে দিন। দেখবেন, আপনাকে সে কাজ করতে দেখে সাহাবিগণ নিজ থেকেই আপনার অনুসরণ করবেন এ বং সে কাজ করতে লেগে যাবেন!”

লেখকঃ হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানবী (রহঃ)।

লেখকের বেহেশতী জেওর বই থেকে সংগ্রহ।

রেটিং দিন

User Rating: 4.62 ( 5 votes)

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

আদর্শ স্বামীর গুণাবলী

আদর্শ স্বামীর গুণাবলী ও পরিচয়

একজন আদর্শ স্বামীর গুণাবলী কিরূপ হওয়া উচিৎ তা স্বামী হিসেবে অবশ্যই পুরুষদের তা জানা উচিৎ। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *