Breaking News
Home / বই থেকে / স্ত্রীর অধিকার ও মর্যাদা

স্ত্রীর অধিকার ও মর্যাদা

স্ত্রীর অধিকার ও মর্যাদা

বিয়ের দুটি বুলি আওড়িয়ে যখন স্বামীর সাথে একটি মেয়ের সম্পর্ক স্থাপিত হয়, একজন বলে, আমি বিবাহ করেছি, আপরজন বলে, আমি কবুল করেছি, তখন এ মেয়ে এ দুটি বুলির এমন মূল্যায়ন করে যে, সে মায়ের স্নেহবন্ধন ত্যাগ করে, পিতার স্নেহবন্ধন ছিন্ন করে, ভাই—বোনদের মায়াবন্ধন ত্যাগ কুরে, স্বীয় খান্দান ও মাতৃভূমির ভালবাসা ত্যাগ করে, পূর্বের সকল বাঁধন ছিন্ন করে সম্পূর্ণ স্বামীর হয়ে যায়। স্বামীর ঘরে এসে বন্দী হয়ে যায়। নারী তোমার জন্য কত ত্যাগ স্বীকার করে। তুমি কি এ ত্যাগের মূল্যায়ণ করবে না। যদি বিষয়টি বিপরীত হত, তোমাকে বলা হত, তোমার বিবাহ হয়ে গেছে, এখন তোমাকে তোমার খান্দান ছাড়তে হবে, পিতা—মাতাকে ছাড়তে হবে, তাহলে তোমার জন্য তা কত কঠিন হত! অপরচিত পরিবেশ, অপরিচিত ঘর, অপরিচিত মানুষের সাথে পুরো জীবন অতিবাহিত করার জন্য সে বন্দী হয়ে গেছে। এ ত্যাগের মূল্যায়ণ কর এবং তাঁর সাথে সদ্ব্যবহার কর।

 

০১ হুকূল ইবাদ বা মানুষের হক-এর গুরুত্ব

কুরআনে কারীমের উল্লেখিত আয়াত এবং রাসূলের হাদীসের আলোকে ইমাম নববী (রহঃ) তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘রিয়াযুস সালেহীন’ এ হুকূকুল ইবাদ” সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন। অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা এবং তাঁর পয়গম্বর সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষের যে সকল হক ও অধিকার জরুরী সাব্যস্ত করেছেন এবং যেগুলো বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন, এ সকল আয়াত ও হাদীসের আলোকে এর এক তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা করেছেন। আমি পূর্বেও বহুবার বলেছি, হুকূকুল ইবাস দ্বীনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শাখা এবং এটা এত গুরুত্বপূর্ণ এক শাখা যে, হুকূকুল্লাহ (আল্লাহর হক) তো তাওবা দ্বারা মাফ হয়ে যায় অর্থাৎ আল্লাহ না করুন, যদি আল্লাহ তা’আলার হকের ব্যাপারে কোন ক্রটি হয়ে যায় তবে তা শুধরে নেওয়া অনেক সহজ। মানুষের হৃদয়ে যখন অনুশোচনা আসে তখন তাওবা-ইস্তেগফার করে নিলে তা মাফ হয়ে যায়। কিন্তু মানুষের হকসমূহ এরূপ যে, কখনও যদি কারও হক নষ্ট করা হয় এবং পরবর্তীতে অনুশোচনা আসে ও তাওবা-ইস্তেগফার করে, তবুও সেই গুনাহ মাফ হয় না, যতক্ষণ না পাওনাদারের পাওনা বুঝিয়ে দেওয়া হয় কিংবা হকদার তাকে ক্ষমা করে দেয়। অতএব কারণে হুকূকুল ইবাদ—এর বিষয় বড় মারাত্মক।

০২  হুকূকুল ইবাদ সম্পর্কে উদাসীনতা

হুকূকুল ইবাদের বিষয়টি যত বেশী কঠিন, এ ব্যাপারে আমাদের সমাজে ঠিক ততবেশী উফাসীনতা। আমরা কিছু সংখ্যাক ইবাদতকে ‘দ্বীন’ বুঝে নিয়েছি অর্থাৎ নামায, রোযা, হজ্জ, যাকাত, যিকর, কুরআন তিলাওয়াত, তাসবীহ পাঠ ইত্যাদিকে তো আমরা দ্বীন মনে করি কিন্তু হুকূকুল ইবাদকে আমরা ‘দ্বীন’ থেকে বের করে দিয়েছি। অনুরূপভাবে আমরা সামাজিক হক সমূহকে ও দ্বীনের অন্তর্ভূক্ত মনে করি না। তাতে কেউ যদি ভুলক্রটি করেও ফেলে, তথাপি এর ভয়াবহতা ব্যাপারেও আমাদের কোন অনুভূতি নেই।

০৩ গীবত হুকূকুল ইবাদ—এর অন্তর্ভূক্ত

এর সহজ উদাহরণ হল, আল্লাহ না করুন, কোন মুসলমান যদি মদ পানের অভিশাপে লিপ্ত হয়ে যায় তাহলে যে মুসলমানের, যার দ্বীনের সাথে সামান্যতম সম্পর্ক রয়েছে, সেও তাকে খারাপ জানবে এবং মদপানকারীর নিজেও কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হবে যে, আমি গুনাহর কাজ করেছি। পক্ষান্তরে অন্য এক ব্যক্তি যে মানুষের গীবত করে, এ গীবতকারীকে সমাজে মদ্যপায়ী ব্যক্তির মত খারাপ মনে করা হয়না এবং অপরাধী মনে করে না। অথচ গুনাহ হিসেবে মদপান করা যতবড় গুনাহ, গীবত করাও ততবড় গুনাহ বরং গীবদ মদ পান অপেক্ষা বেশী মারাত্মক। কারণ তাঁর সম্পর্ক হুকুকল ইবাদের সাথে। তাছাড়া কুরআনে আল্লাহ তা’আলা গীবতের যেই দৃষ্টান্ত পেশ করেছেন, অন্য কোণ গুনাহর ক্ষেত্রে এত জঘন্য  দৃষ্টান্ত পেশ করেন নি। আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেছেন, গীবতকারী মৃত ভাইয়ের গোশত ভক্ষণকারীর মত।  

০৪ ‘ইহসান’ চিরকাম্য

আমার শাইখ জনাব ডাক্তার আব্দুল হাই সাহেব (রহঃ) (আল্লাহ তা’আল তার মর্যাদা বৃদ্ধি করুন, আমীন) বলেন, একদিন এক ব্যক্তি আমার কাছে আসল। সে আনন্দচিত্তে ও গর্বভরে বলতে লাগল—আলহামদুলিল্লাহ! আমি “ইহসান’—এর মাকাম লাভ করেছি। ‘ইহসান’ একটি বড় সোপান, যার সম্পর্কে হাদীসে এসেছে যে,

আরবী……………….

তুমি এমন হৃদয় নিয়ে আল্লাহর ইবাদত কর, যেন তুমি তাকে দেখছ। যদি এটা সম্ভব না হয় তাহলে কমপক্ষে এই ধ্যানে ইবাদত কর যে, আল্লাহ তা’আলা তোমাকে দেখছেন। (ইহাকে ‘মাকামে ইহসান’ বলা হয়।) (সহীহ বুখারী)

আগন্তুক হযরত শাইখকে বলে যে, তাঁর মাকামে ‘ইহসান’ হাসিল হয়ে গেছে। জনাব ডাক্তার সাহেব (রহঃ) বলেন—আমি তাকে মোবারক বাদ দিলাম যে, আল্লাহ তা’আলা আপনাকে বরকত দান করুন, এটা তো অনেক বড় নেয়ামত। তবে আমি আপনাকে একটি কথা জিজ্ঞেস করছি যে, আপনার এই ‘ইহসান’—এর হালত কি শুধু নামাযে হয়, না যখন স্ত্রী সন্তানদের সাথে বিভিন্ন আচার-আচরণ করেন তখনও হয়? অর্থাৎ স্ত্রী সন্তানদের সাথে বিভিন্ন ব্যবহার ও আচরণের সময়ও কি আপনার এ খেয়াল থাকে যে, আল্লাহ তা’আলা আমাকে দেখছেন?

উত্তরে আগন্তুক বললেন—হাদীসে তো এসেছে যে, যখন ইবাদত কর, এ ভাবে ইবাদত কর যেন তুমি আল্লাহকে দেখছ কিংবা আল্লাহ তোমাকে দেখেছেন। এটা তো শুধু ইবাদতের মধ্যে, আমি তো মনে করি যে, ‘ইহসান’ এর সম্পর্কে শুধু নামাযের সাথে। অন্য বিষয়ের সাথে ‘ইহসান’ এর কোন সম্পর্ক নেই। জনাব ডাক্তার সাহেব বলেন—আমি এ জন্যই আপনাকে প্রস্ন করেছি যে, আজকাল সাধারণত ভুল অর্থ করা হয় যে, ‘ইহসান’ শুধু মাত্র নামাযের মাঝে কাম্য কিংবা যিকর ও কুরআন শরীফ তিলাওয়াতের কাম্য। অথচ “ইহসান’ সর্বাবস্থায় কাম্য। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে, প্রতিটি মুহুর্তে কাম্য। দোকানে বসে ব্যবসা করছেন, সেখানেও ‘ইহসান’ কাম্য। অর্থাৎ হৃদয়ে সর্বদা জাগ্রত থাকা চাই যে, আল্লাহ তা’আলা আমাকে দেখছেন। যখন অধীনস্থদের সাথে লেনদেন ও আচার ব্যবহার করেন, তখনও “ইহসান’ কাম্য। যখন স্ত্রী-সন্তান, বন্ধু-বান্ধব এবং প্রতিবেশীদের সাথে আদান প্রদান করেন, তখনও হৃদয়ে উপস্থিত থাকতে হবে যে, আল্লাহ আমাকে দেখছেন। প্রকৃত পক্ষে এটাই ‘ইহসান’—এর মাকাম, শুধু নামাযেই সীমাবদ্ধ নয়। আরো পড়ুন

০৫ যে মহিলা জাহান্নামে যাবে

ভালভাবে লক্ষ্য করুন যে, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শিক্ষা আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে পরিব্যপ্ত। এক তিওয়ায়েতে আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এক মহিলা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হল যে, আল্লাহর রাসূল এক মহিলা দিন রাত ইবাদতে মশগুল থাকেন, নফল নামায, প্রচুর যিকর ও তিলাওয়াত করেন, সর্বদা তাতে ব্যস্ত থাকেন, এই মহিলা সম্পর্কে আপনার অভিমত কি? তার পরিণতি কি হবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবায়ে কিরামকে জিজ্ঞেস করলেন, এই মহিলা প্রতিবেশীদের সাথে কিরূপ ব্যবহার করে? সাহাবাগণ উত্তরে বললেন—প্রতিবেশীদের সাথে তার ব্যবহার ভালো নয়। প্রতিবেশী মহিলারা তার উপর সন্তুষ্ট নয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন—এ মহিলা জাহান্নামে যাবে। (আল আদাবুল মুফরাদ পৃঃ৪৮) আরো পড়ুন

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

মোজার উপর মাসাহ

মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান (হাদিস)

জেনে নিন মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান। রাসূল (সাঃ) ও সাহাবায়ে কেরামগণ চামড়ার মোজা পরিধান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE