Breaking News
Home / বই থেকে / স্বামী—স্ত্রীর সুন্দর জীবন (পর্ব১০)

স্বামী—স্ত্রীর সুন্দর জীবন (পর্ব১০)

৪৬ স্ত্রীর জন্য অনুমতি ছাড়া বাইরে যাওয়া জায়েয নেই

এখানে আরেকটি কানুন প্রণিধানযোগ্য। তা না হলে ব্যাপার অন্য রকম হয়ে যাবে। কারণ মানুষ যখন এক তরফা কথা শুনে তখন তা দ্বারা অবৈধ ফায়দা উঠায়। পিছনে আমি বিস্তারিত ভাবে উল্লেখ করেছি যে, স্ত্রীর উপর খাবার তৈরি করা শরিয়ত নির্দেশিত ওয়াজিব। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্ত্রীদের সম্পর্কে যেই কথা বলেছেন যে, তোমাদের স্ত্রীগণ তোমাদের ঘরে বন্দী এর মর্মার্থ হল, তোমাদের অনুমতি ছাড়া তাদের জন্য কোথাও যাওয়া জায়েয নেই। ফুকাহায়ে কিরাম রান্না—বান্নার মাসআলা যেভাবে বিস্তারিত লিখেছেন তেমনি এই কানুনও লিখেছেন যে, যদি স্বামী স্ত্রীকে বলে দেয় যে, তুমি ঘর থেকে বাইরে যেতে পারবে না, এমনকি তাঁর পিতা—মাতার সাথে সাক্ষাৎ করতে যেতেও নিষেধ করে, তবে স্ত্রীর জন্য তাদের সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য ঘর থেকে বাইরে যাওয়া জায়েয নেই। কিন্তু পিতা—মাতা যদি নিজ কন্যার সাথে সাক্ষাৎ করতে তাঁর ঘরে এসে যায় তখন স্বামী পিতা—মাতাকে সাক্ষাৎ থেকে বাঁধা দিতে পারবে না। তবে ফুকাহায়ে কিরাম মেয়াদ নির্ধারণ করে দিয়েছেন যে, তাঁর পিতা—মাতা সপ্তাহে একবার আসবে এবং দেখা করে চলে যাবে। এতটুকু স্ত্রীর অধিকার, স্বামী এ থেকে বাঁধা দিতে পারবে না। কিন্তু অনুমতি ছাড়া তাঁর জন্য বাইরে যাওয়া জায়েয নেই। আল্লাহ তাআলা উভয়ের মাঝে এমন ভাবে ভারসাম্যতা বজায় রেখেছেন যে, একদিকে স্ত্রীর জিম্মায় আইনানুগভাবে খাবার রান্না করা ওয়াজিব নয়, অন্যদিকে স্বামীর অনুমতি ছাড়া আইনানুগভাবে তাঁর ঘরের বাইরে যাওয়া জায়েয নেই।

৪৭ দু’জনে মিলে মিশেই জীবনের গাড়ী চালাবে

এসব ছিল আইনের কথা কিন্তু আখলাক ও ভদ্রত হল, স্বামী স্ত্রীকে খুশি করার চেষ্টা করবে, স্ত্রী স্বামীকে খুশি করার চেষ্টা করবে। হযরত আলী (রাযিঃ) ও হযরত মা ফাতেমা (রাযিঃ) নিজেদের মাঝে সকল কাজকে বন্টন করে নিয়েছিলেন। হযরত আলী (রাযিঃ) ঘরের বাইরের কাজ আঞ্জাম দিতেন আর হযরত মা ফাতেমা (রাযিঃ) ঘরের ভিতরের সকল কাজ আঞ্জাম দিতেন। এটাই নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নত। এর উপরই আমল করা চাই।

স্বামী—স্ত্রী সর্বদা কানুনের মারপ্যাচে পড়ে থাকবে না বরং স্বামী স্ত্রীর সাথে এবং স্ত্রী স্বামীর সাথে সদাচরণ করবে। স্বভাবগত দায়িত্ব বন্টন এটাই যে, ঘরের কাজ স্ত্রীর জিম্মায় এবং বাইরের কাজ স্বামীর জিম্মায়। এভাবেই দু’জনে মিলেমিশে জীবনের গাড়ী সচল রাখবে।

৪৮ যদি নির্লজ্জ কোন কাজ করে তাহলে?

এরপর আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন—

আরবী..

হ্যা! যদি স্ত্রী ঘরের কোন নির্লজ্জ কাজ করে তবে এই নির্লজতা কিছুতেই বরদাশত করা যাবে না। এমতাবস্থায় কুরআনে কারীমের নির্দেশিত পন্থা অনুযায়ী প্রথমে তাকে নসীহত কর। যদি এতে  সে সোজা পথে না আসে তবে তাঁর বিছানা আলাদা করে দাও। এতেও যদি সে সংশোধন না হয় তবে অনন্যোপায় হয়ে তাকে মারারও অনুমতি আছে। তবে শর্ত হল, বেশি ব্যথা লাগে এরূপ যেন না হয়। এর যদি সে নিজেকে সংশোধন করে নেয় এবং তোমার আনুগত্য করে তবে তাঁর বিরুদ্ধে অন্য কোন ব্যবস্থা নেয়ার চিন্তা কর না। অর্থাৎ তাকে এরচেয়ে বেশি কষ্ট দেওয়ার অবকাশ নেই।

এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন—

আরবী…

অর্থঃ দেখ! স্ত্রীদের তোমাদের উপর এই অধিকার আছে যে, তোমরা তাদের সাথে ভাল ব্যবহার করবে, তাদের পোশাক পরিচ্ছদ, তাদের আহার্য এবং তাদের অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী, যার ব্যবস্থা করা তোমাদের জিম্মায় ওয়াজিব—তাতে তোমরা ন্যায়ানুগ পন্থা অবলম্বন করবে। এ নয় যে, একান্ত উপায়ন্তর হীন প্রয়োজন গুলোই শুধু পুরো করবে বরং মহানুভবতা ও উদারতার পরিচয় দিবে এবং আনন্দচিত্তে তাদের পরিচ্ছদ ও আহার্যে হাত খুলে ব্যয় করবে।

৪৯ স্ত্রীর হাত খরচ আলাদা দিবে

হযরত হাকীমুল উম্মত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রহঃ) তাঁর বিভিন্ন উপদেশ বাণীতে জোর দিয়েছেন এখানে এমন দু’তিনটি বিষয় আমি উল্লেখ করছি। সাধারণভাবে এসব বিষয়ে উদাসীনতা পরিলক্ষিত হয়। প্রথম বিষয় হল, হযরত থানভী (রহঃ) বলেন, স্ত্রীর খোরপোশ শুধু এতটুকুই নয় যে, তাঁর খাবারের ব্যবস্থা করা হল, পরিচ্ছদের ব্যবস্থা করা হল। বরং খোরপোশের এটাও একটা অংশ যে, আহার্য ও পরিচ্ছদের  খরচ ছাড়াও কিছু অর্থ তাঁর হাত খরচ হিসেবে দিবে। যা সে স্বাধীনতার সাথে ইচ্ছা অনুযায়ী ব্যয় করবে। অনেক লোক আছে, যারা খাবার ও পোশাকের ব্যবস্থা তো করে কিন্তু হাত খরচ হিসেবে স্ত্রীকে কিছু দেয় না। হযরত থানভী (রহঃ) বলেন—হাত খরচ দেওয়া ও জরুরী। কারণ মানুষের এমন অনেক প্রয়োজনীয় খরচ আছে যা অন্যের কাছে বলতে লজ্জা পায় কিংবা সংকোচ বোধ করে। তাই এ ধরণের প্রয়োজন পুরো করার জন্য স্ত্রীর কাছে কিছু অর্থ থাকা চাই, যাতে সে অন্যের মুখাপেক্ষী না হয়। এটা খোরপোশরই অংশ। হযরত ওয়ালা বলেন—যারা এই হাত খরচ দেয় না তারা ঠিক করে না।

৫০ উদার মনে খরচ করা চাই…

দ্বিতীয় বিষয় হলঃ খাবার—দাবারের ভাল ব্যবস্থা করা। এই নয় যে, শুধু প্রাণ বাঁচে, জীবন ধারণ করা যায় এত টুকু খাবার দিবে বরং ইহসান কর। ইহসান এর মর্মার্থ হল, মানুষ তাঁর আয় অনুযায়ী আনন্দচিত্তে ও প্রসন্নতার সাথে ঘরের খরচ স্ত্রীকে দিবে। কারও কারও মনে এই দ্বিধা-দ্বন্দ্ব আছে যে, শরী’আত একদিকে অপব্যয় ও অপচয় কে নিষেধ করেছে, অন্যদিকে ঘরের খরচের কষাকষি না করার নির্দেশ দিয়েছে বরং হাত খুলে খরচ করতে বলেছে। এখন প্রশ্ন হল, এ দুয়ের মাঝে পার্থক্য নির্ণয়কারী মানদন্ড কি? কোন ধরনের ব্যয় অপচয়ের শামিল আর কোন ধরণের ব্যয় অপচয়ের শামিল নয়? আরো পড়ুন

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

মোজার উপর মাসাহ

মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান (হাদিস)

জেনে নিন মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান। রাসূল (সাঃ) ও সাহাবায়ে কেরামগণ চামড়ার মোজা পরিধান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE