Breaking News
Home / বই থেকে / স্বামী—স্ত্রীর সুন্দর জীবন (পর্ব ১১)

স্বামী—স্ত্রীর সুন্দর জীবন (পর্ব ১১)

৫১ বাসস্থানের ব্যবস্থা করা, বাসস্থানে আরামের পণ্যসংগ্রহ করা

এ দ্বন্দ্বের জবাব হযরত থানভী (রহঃ) বলেছেন—ঘর বিভিন্ন ধরনের হতে পারে।

প্রথম প্রকারের ঘরঃ হল যা থাকার উপযুক্ত। যেমন, একটি ঝুপড়ী বানিয়ে দিল অথবা একটা ছাপড়া তৈরি করল, এতেও মানুষ বসবাস করতে পারে। এ ধরনের ঘর বানানো বিনা দ্বিধায় জায়েয আছে।

দ্বিতীয় প্রকারের ঘরঃ হল যাতে থাকাও যায় আবার কিছুটা আরামেরও ব্যবস্থা আছে যেমন, বিল্ডিং বানিয়ে নিল যাতে মানুষ আরামে থাকতে পারে এবং ঘরের ভিতরে আরামের উপকরণের ব্যবস্থা করা হয় তবে তা নিষেধ নয় এবং অপচয়ের অন্তর্ভুক্ত নয়। উদাহরণ স্বরূপ, এক ব্যক্তি ঝুপড়িতে বসবাস করতে পারে কিন্তু আরেকজন ঝুপড়িতে বসবাস করতে পারে না। তাঁর বসবাসের জন্য পাকা বাড়ি চাই এবং সেই বাড়ীতে পাখা, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য সামগ্রী চাই। এখন যদি এই ব্যক্তি তাঁর ঘরে আরামের জন্য পাখা ও বিদ্যুতের ব্যবস্থা করে তাহলে তা অপচয়ের শামিল হবে না।

৫২ সাজ-সজ্জাও বৈধ

তৃতীয় প্রকারের ঘর হল, যে ঘরে আরামের উপকরণাদির সাথে সাথে সাজ-সজ্জাও থাকা। উদাহরণস্বরূপ, এক ব্যক্তি বিল্ডিং বানিয়েছেন, বিল্ডিং –এ প্লাষ্টার৩ করেছে, বিদ্যুতের ব্যবস্থা করেছে, পাখাও লাগিয়েছে কিন্তু বিল্ডিং-এ চুন কাম করা হয়নি। বলাবাহুল্য যে, এধরণের বিল্ডিংয়েও বসবাস করা যায় কিন্তু চুনা ও রং ছাড়া সাজ—সজ্জা হয় না। এখন কেউ যদি সাজ-সজ্জার জন্য বিল্ডিং চুনা করে, রং লাগায় তবে শরী’আত এটাও জায়েয। সংক্ষেপে বক্তব্য হল, বসবাস জায়েয, আরাম আয়েশের উপকরণ সংগ্রহ জায়েয। সাজ-সজ্জার মর্মার্থ হল, মনের সন্তুষ্টির জন্য কেউ যদি কোন কাজ করে, যাতে দেখতে ভাল দেখায় এবং দেখে মন খুশি হয়ে ওঠে তবে এ ধরনের ব্যবস্থাতে কোন দোষ নেই। শরী’আতের দৃষ্টিতে এটা জায়েয।

৫৩ আড়ম্বড়তা বৈধ নয়..

চতুর্থ প্রকারের ঘর হল, আড়ম্বড়তা। আড়ম্বড়তা দ্বারা উদ্দেশ্য হল, ঘরে এমন সব উপকরণ সংগ্রহ করা অথবা এমন সাজ—সজ্জা করা যা আরাম উদ্দেশ্য নয় বরং তাঁর উদ্দেশ্য হল, মানুষ আমাকে ভাল বলবে, মনে করবে আমার কাছে অনেক পয়সা আছে, এর দ্বারা অন্যদের উপর শ্রেষ্টত্ব অর্জন করা যাবে এবং নিজেকে সম্মানিত লোক হিসেবে প্রকাশ করা যাবে। এগুলো সবই আড়ম্বড়তা ও অপচয়ের অন্তর্ভুক্ত। এগুলো শরী’আতের দৃষ্টিতে জায়েয নেই।

৫৪ অপব্যয়ের সীমারেখা

পোশাক—পরিচ্ছদ ও খাবার ও এ চার ধরনের  হয়। একজন ভাল ও দামী পোশাক এজন্য পরিধান করে যে, আরাম অনুভূত হবে এবং দেখতে ভাল দেখাবে, ঘরের লোকদের কাছে ভাল লাগবে, বন্ধু-বান্ধব ও সঙ্গী-সাথীরা দেখে খুশি হবে, তবে তাতে কোন অসুবিধা নেই। কিন্তু কেউ যদি ভাল  ও দামী পোশাক এ নিয়তে পরিধান করে যে, তাকে সম্পদশালী মনে হবে, পয়সা ওয়ালা মনে হবে, মনে হবে আমার মর্যাদা অনেক বেশি, তাহলে এটা আড়ম্বড়তা। এটা নিষেধ। হযরত থানভী (রহঃ) অপব্যয় ও অপচয়ের একটি সুনির্দিষ্ট মানদন্ড উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন—যদি কোন ব্যক্তি প্রয়োজন পুরণের জন্য খরচ করে অথবা আরামের উপকরণ সংগ্রহে অথবা মনের তৃপ্তির জন্য সাজ—সজ্জা হিসেবে কোন খরচ করে তবে তা অপচয়ের মাঝে অন্তর্ভুক্ত নয়।

৫৫ এটা অপচয়ের অন্তর্ভুক্ত নয়

আমি একবার এক শহর থেকে করাচীতে ফিরব। গরমের মৌসুম ছিল। আমি একজনকে বললাম, এয়ারকন্ডিশন বাসে আমার টিকেট বুক কর এবং তাকে এজন্য পয়সা দিলাম। পাশে বসা এক লোক তৎক্ষণাৎ বলে ফেলল আপনি অপচয় করছেন এয়ারকন্ডিশন বাসে সফর করা তো অপচয়। অনেকের এ রকম ধারণা যে, উপরের ক্লাসে সফর করলে তা অপচয় হবে। ভালভাবে শুনে রাখুন, যদি আরামের উদ্দেশ্য উপরের ক্লাসে সফর করা হয়, উদাহরণ স্বরূপ, গরমের মৌসুম, গরম বরদাশত হয় না, আল্লাহ তাআলা পয়সা দিয়েছেন, তাহলে উপরের ক্লাসে সফর করা কোন গুনাহ নয় এবং তা অপচয় হবে না। কিন্তু উপর ক্লাসে সফরের উদ্দেশ্য যদি এটা হয় যে, আমি এয়ারকন্ডিশন গাড়ীতে সফর করলে লোকেরা আমাকে ধনী ব্যক্তি মনে করবে তবে তা পোশাক ও আহার্যের ক্ষেত্রেও। আরো পড়ুন

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

মোজার উপর মাসাহ

মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান (হাদিস)

জেনে নিন মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান। রাসূল (সাঃ) ও সাহাবায়ে কেরামগণ চামড়ার মোজা পরিধান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE