Breaking News
Home / বই থেকে / স্বামী—স্ত্রীর সুন্দর জীবন (পর্ব ১২)

স্বামী—স্ত্রীর সুন্দর জীবন (পর্ব ১২)

৫৬ প্রত্যেক ব্যক্তির আরামবোধ একরকম নয়

সুতরাং স্বামীর জন্য উল্লেখিত স্তরসমূহের প্রতি লক্ষ্য রেখে স্ত্রীর পোশাক—পরিচ্ছদ ও আহার্যে উদারতার সাথে খরচ করা উচিত। প্রত্যেক ব্যক্তির আরামবোধ আলাদা আলাদা। হযরত মাওলানা মাসীহুল্লাহ খান সাহেব (রহঃ) একবার বয়ানে বলেছেন—ভাই সকল! এক ব্যক্তি এমন যে, তাঁর কেউ নেই, আত্মীয়—স্বজনও নেই, বন্ধু—বান্ধবও নেই।  এরূপ ব্যক্তি যদি ঘরে একটি বিছানা, একটি থালা ও একটি চামচ রাখে, ব্যাস যথেষ্ট। তাঁর জন্য একটি থালাই যথেষ্ট। যদি একাধিক থালা সে ক্রয় করে তবে তা আড়ম্বড়ত্তা ছাড়া আর কিছুই নয় এবং অপচয় হবে। কিন্তু আরেক জনের মেহমান আসে, তাঁর পরিচিত জনের সংখ্যা অনেক, তাঁর আত্মীয় স্বজন অনেক, আর আরামবোধ ও প্রয়োজনের মাত্রা ভিন্ন। এধরনের ব্যক্তির ঘরে যদি কখনও একশ’ সেট প্লেটও থাকে অথবা এক শত বেড সিটও থাকে তাহলে তাঁর একটাও অপচয়ের মাঝে শামিল হবে না। কারণ এগুলো সবই তাঁর প্রয়োজনীয় জিনিস। তাই হযরত বলেছেন—প্রত্যেকের প্রয়োজন ও আরামবোধ ভিন্ন হয়ে থাকে।

৫৭ এই প্রাসাদে আল্লাহকে সন্ধানকারী আহম্মক

অনেক সময় লোকেরা হযরত ইবরাহীম ইবনে (রহঃ)—এর ঘটনা শুনে তা দলিল হিসেবে পেশ করে। তিনি একজন বাদশাহ ছিলেন। তাঁর ঘটনা হল, একদা হযরত ইব্রাহীম ইবন আদহাম (রহঃ) দেখলেন, একব্যক্তি রাজপ্রাসাদের ছাদে হাটা ছলা করছে । তাকে গ্রেফতার করে আনা হলে তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন—এত রাতে তুমি রাজপ্রাসাদের ছাদ্র কি করছ? লোকটি বলল—উট তালাশ করছি। আমার উট হারিয়ে গেছে। হযরত ইবরাহীম (রহঃ) বললেন—রাতে তুমি রাজপ্রাসাদের ছাদে উট খোঁজছ? এখানে উট আসবে কোথা থেকে? লোকটি খুব আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞেস করল—এখানে যদি উট পাওয়া না যায় এবং এ প্রাসাদে উট অনুসন্ধানকারী আহম্মক হয় তবে এটাও শুনে রাখুন যে, আপনি এ প্রাসাদে থেকে আল্লাহকে সন্ধান করছেন, আপনি ও আল্লাহকে পাবেন না, যদি আমি আহম্মক হই তবে আপনি আমার চেয়ে ব্বড় আহম্মক। একথা হযরত ইবরাহীম ইবনে আদহাম (রহঃ)—এর হৃদয় কে প্রচন্ডভাবে নাড়া দিল।

তিনি বাদশাহী ছেড়ে দিয়ে জঙ্গলের দিকে (নির্জনে ইবাদত করার জন্য) রওয়ানা দিলেন। রওয়ানা দেওয়ার সময় ভাবলেন—এখন থেকে তো আল্লাহ তা’আলার ধ্যানে জীবন কাটবে। তাই সাথে একটি বালিশ ও একটি গ্লাস নিলেন। বালিশ শোয়ার কাজে লাগবে  আর গ্লাস পানি পানে ব্যবহৃত হবে। যখন চলতে চলতে কিছু দূর গেলেন, দেখলেন একজন লোক নদীর তীরে বসে হাতের তালু ভরে পানি পান করছে। তিনি ভাবলেন, গ্লাস তো আমি বেহুদা নিয়েছি। গ্লাসের কাজতো হাত দ্বারাও সারা যায়। তিনি গ্লাসটি ফেলে দিলেন এবং চলতে লাগলেন। কিছুদূর যাওয়ার পর একলোককে মাথার নিচে হাত রেখে শুয়ে থাকতে দেখলেন। তিনি ভাবলেন—এই বালিশও আমি বেহুদা নিয়েছি। বালিশ তো আল্লাহ তা’আলাই দিয়ে দিয়েছেন। তা দ্বারাই কাজ চলবে। তিনি বালিশও ফেলে দিলেন।

এই ঘটনার কারণে কেউ কেউ ভুল ধারণার শিকার হন যে, গ্লাস রাখাও অপচয়, বালিশ রাখাও অপচয়। আল্লাহ তা’আলা হযরত থানভী (রহঃ) এর মর্যাদা বৃদ্ধি করুন, (আমীন)। তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাষায় বলেছেন, নিজের অবস্থাকে হযরত ইবরাহীম ইবনে আদহাম (রহঃ) এর অবস্থার সাথে তুলনা কর না। তাঁর যে অবস্থা বিশেষ অবস্থা। তা অনুসরণযোগ্য নয়। বিশেষ মর্মার্থ হল, কোন কোন সময় মানুষের হৃদয়ে কোন বিষয় এতবেশী প্রভাব বিস্তার করে যে, মানুষ ঐ অবস্থায় মাযূর হয়ে যায়। অন্য কিছু ভাবতে পারে না। মাযূর হওয়ার কারণে তাঁর অবস্থা অন্যদের জন্য অনুসরণযোগ্য থাকে না। তাই হযরত ইবরাহীম ইবন আদহাম (রহঃ) এর ঘটনা আমাদের জন্য অনুসরণ যোগ্য নয়। তা নাহলে মাথায় এই চিন্তাই গেড়ে বসবে যে, বালিশ, গ্লাস ঘর—বাড়ী, স্ত্রী—সন্তান কোন কিছুরই প্রয়োজন নেই। এগুলো হলে আল্লাহকে পাওয়া যাবে না। অথচ এটা ইসলামের শিক্ষা নয়। বরং হযরত ইবরাহীম ইবন আদহাম (রহঃ)—এর যে অবস্থা হয়েছিল, তা ছিল বিশেষ অবস্থা।

৫৮ আয় অনুপাতে প্রসার হস্ত হওয়া বাঞ্চনীয়ঃ

দ্বিতীয়ঃ অর্থনৈতিক অবস্থানুযায়ী প্রতিটির মানুষের ছিদাও ভিন্ন ভিন্ন হয়। যে স্বল্প আয়ের মানুষ তাঁর স্বচ্ছলতার পরিধি। এক রকম, যে মধ্যবিত্ত লোক তাঁর চাহিদা ও স্বচ্চলতা আরেক রকম হয়। তাই প্রত্যেক ব্যক্তির আয় অনুযায়ী ব্যয়ে উদার হৃদয় ও প্রসার হস্ত হওয়া চাই। এমন যেন না হয় যে, স্বামীর আয় কম অথচ স্ত্রী ধনী লোকের ঘরে যা কিছু দেখে তা কিনার জন্য পীড়াপীড়ি করে। আর স্বামী বেচারা পেরেশান হয়। এ ধরণের ফরমায়েশের কোন বৈধতা নেই। তবে স্বামীর উচিত, নিজের আয়ের প্রতি লক্ষ্য রেখে সম্ভব সবটুকু উদার হৃদয় ও প্রসার হস্ত হওয়া। স্ত্রীর পাওনাতে কৃপণ ও হাতটানা না হওয়া।

৫৯ স্বামীদের উপর স্ত্রীদের কি হক রয়েছে?

আরবী…

হযরত মু’আবিয়া ইবন হায়দা (রাযিঃ) বলেন—আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলাম—হে আল্লাহর রাসূল, আমাদের উপর আমাদের স্ত্রীদের উপর কি হক আছে? হুজুর আকদাস সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন—যখন তুমি আহার কর, তাকেও আহার করাও, যখন তুমি পোশাক পরিধান কর, তাকেও পরিধান করাও। তাঁর চেহারায় প্রহার কর না। তাকে গালমন্দ ও ভর্ৎসনা কর না। রাগারাগি করা এবং কষ্ট পায় এমন কথা বলা। আর কোন কারণে অসন্তুষ্ট হলে ঘর ছেড়ে তুমি বাইরে থেক না।

৬০ তার বিছানা বর্জন কর

পূর্বেও আলোচনা করা হয়েছে যে, যদি তুমি স্ত্রীর মাঝে কোন নির্লজ্জ আচরণ দেখ তাহলে প্রথমে তাকে বুঝাও। যদি বুঝানোর দ্বারা সে ফিরে না আসে তবে তাঁর বিছানা বর্জন কর এবং অন্য বিছানায় শুতে শুরু কর। আলোচ্য হাদীসে বিছানা আলাদা করার ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। বিছানা আলাদা করার অর্থ এই নয় যে, তুমি ঘর ছেড়ে চলে যাও বরং ঘরেই থাক। তবে তাঁর বোধদয়ের জন্য, শিক্ষা গ্রহণের জন্য এবং মানসিক আঘাত হিসেবে কামরা পরিবর্তন কর অথবা বিছানা আলাদা কর এবং তাঁর থেকে দূরে থাক।  আরো পড়ুন

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

মোজার উপর মাসাহ

মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান (হাদিস)

জেনে নিন মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান। রাসূল (সাঃ) ও সাহাবায়ে কেরামগণ চামড়ার মোজা পরিধান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE