Home / বই থেকে / স্বামী—স্ত্রীর সুন্দর জীবন (পর্ব ১৩)

স্বামী—স্ত্রীর সুন্দর জীবন (পর্ব ১৩)

৬১ এরূপ বিচ্ছিন্নতা জায়েয নেই

উলামায়ে কিরাম এ হাদীসের এই অর্থও বর্ণনা করেছেন যে, এরূপ পরিস্থিতিতে যদিও বিছানা আলাদা করে নিবে, কিন্তু পুরোপুরি কথা বন্ধ করবে না এবং এতটুকু দূরত্ব তৈরী করবে না যে, একে অন্যকে সালামও করা যায় না। এধরণের বিচ্ছিন্নতা জায়েয নেই।

৬২ সফর চার মাসের চেয়ে বেশি হলে স্ত্রীর অনুমতি নিতে হবে

এ হাদীসের আলচনায় ফোকাহায়ে কিরাম এও লিখেছেন যে, এরূপ সন্তুষ্টি ও অনুমতি ছাড়া স্বামীর জন্য চার মাসের চেয়ে বেশি সময় ঘরের বাইরে থাকা জায়েয নেই। হযরত উমর (রাযিঃ) তাঁর শাসনামলে এ ফরমান জারি করেছিলেন যে, যেই মুজাহিদের সাথে তাঁর স্ত্রী নেই এমন মুজাহিদের চার মাসের চেয়ে বেশি সময় ঘরের বাইরে থাকা নিষেধ। একারণেই ফুকাহায়ে কিরাম লিখেছেন, যদি কোন ব্যক্তির চার মাসের চেয়ে কম সময়ের সফর হয় তবে তাঁর জন্য স্ত্রীর অনুমতি নেয়া জরুরী নয়। কিন্তু যদি চার মাসের চেয়ে বেশি সময়ের সফর হয় তবে তাঁর জন্য স্ত্রীর অনুমতি নেওয়া জরুরী। জিহাদ এবং দাওয়াত ও তাবলীগের সফরেরও এটাই হুকুম। সুতরাং যখন এ ধরনের বরতকময় সফরের জন্যও স্ত্রীর অনুমতি নেওয়া জরুরী তখন পয়সা উপার্জনের জন্য, চাকুরীর জন্য যারা দীর্ঘ সফর করে, সেক্ষেত্রে তো আরও আগে স্ত্রীর অনুমতি জরুরী। যদি স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া সফরে য আয় তবে তা স্ত্রীর অধিকার ক্ষুণ্ন করা হবে, গুনাহ হবে এবং শরী’আতের দৃষ্টিতে না জায়েয হবে।   

৬৩ উত্তম ব্যক্তি কে?

আরবী….

হযরত আবু হুরাইরা (রাযিঃ) বলেন—রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, মু’মিনদের মাঝে ঈমানের হিসেবে সব চেয়ে কামেল ব্যক্তি সেই, যে চরিত্রগত দিক থেকে তাদের সকলের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। যে ব্যক্তি যত বেশি সৎ চরিত্রবান হবে সে তত বেশি কামেল মুমিন হবে। কামেল ঈমানের দাবী হল, মানুষ অন্যের সাথে ভাল ব্যবহার করবে। আর তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি সেই, যে নিজ স্ত্রীর কাছে উত্তম, যে তাদের সাথে সদাচারণকারী।

৬৪ সমসাময়ীক চরিত্রমাধুরী

বর্তমানে সব জিনিসের অর্থ পাল্টে গেছে। সব কিছুর মর্মার্থ উল্টে গেছে। হযরত মাওলানা কারী তাইয়িব (রহঃ) বলতেন—পূর্বের যুগের তুলনায় আজকের যুগে সব জিনিস উল্টা হয়ে গেছে। এমন কি পূর্ব বাতির নিচে অন্ধকার থাকত এখন বাল্বের এর উপর অন্ধাকার থাকে। এরপর বলতেন—আজকাল সব জিনিসের কদর বদলে গেছে। সব জিনিসের মর্মার্থ পাল্টে গেছে। এমনকি চরিত্র তথা আখলাকের অর্থও বদলে গেছে । আজকে বাহ্যিক কিছু আচরণের নাম আখলাক। কারও সাথে হেসে হেসে কথা বলা এবং সাক্ষাতের সময় কিছু প্রচলিত শব্দ বিনিময় করার নামই বর্তমানে আখলাক। যেমন বলল—আপনার সাথে হওয়াতে বড় খুশি হয়েছি, অথবা আপনার সাথে দেখা হওয়াতে ভাল লাগছে, ইত্যাদি। মুখে তো এসব কথা বলছে ঠিক কিন্তু অন্তরে প্রতিহিংসার আগুন জ্বলছে, মনে ঘৃণার ঝড় বইছে। ব্যাস, আজকাল এরইনাম চরিত্র মাধুরী। বর্তমানে এ কাজ রিতিমত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে গেছে যে, মানুষের সাথে সাক্ষাতে কি ধরনের আচরন করবে—যাতে সে প্রবভাবিত হয় এবং ভক্ত—অনুরক্ত হয়ে যায়, এ বিষয়ে আজকে রীতিমত গ্রন্থ রচিত হচ্ছে। সমস্ত চেষ্টা এই জন্য ব্যয় হচ্ছে যে, কিভাবে অন্যরা আমার ব্যবহারে প্রভাবিত হয়, আমার প্রতি কিভাবে মুগ্ধ হয় এবং আমাকে ভাল জানতে শুরু করে। আজকাল একেই ‘আখলাক’ নামে অভিহিত করা হয়।

কিন্তু শুনে রাখুন, যে আখলাকের কথা নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন তাঁর সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই। এটা আখলাক নয় বরং রিয়া ও লৌকিকতা। এটা লোক ভুলানো চমক জন সাধারণকে নিজের ভক্ত—অনুরক্ত বানানো এবং নিজের কাছে টানার বাহানমাত্র। যখন এটা যশ ও খ্যাতির মোহ, যা প্রকৃত অর্থে সংক্রামক ব্যাধি ও চরিত্রহীনতা। সত্যিকার আখলাকের সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই।

৬৫ চরিত্র মাধুরী আত্মার অবস্থার নাম

প্রকৃতপক্ষে আখলাক একটি আত্মিক অবস্থার নাম। অঙ্গ—প্রতঙ্গ দ্বারা এর প্রকাশ ঘটে। আর তা হল, আল্লাহর সকল সৃষ্টির কল্যাণ চিন্তা করা, সব কিছুর প্রতি ভালবাসা থাকা, সে কাফির বা শত্রু হলেও। এই মন মানসিকতা হওয়া যে, সব কিছু আমার মনিবের সৃষ্টি। সুতরাং তাদের প্রতি আমার ভালবাসা থাকা উচিত। তাদের সাথে আমার ভাল ব্যবহার করা উচিত। প্রথমে হৃদয়ে এই আবেগ জম্ম নেয়, এরপর এ অনুযায়ী কর্ম সম্পাদিত হয়, সৃষ্টি জীবের প্রতি কল্যাণ আচরণ হয়। কারও মাঝে এ আবেগ থাকার পর যদি চেহারায় হাসি ও আনন্দ ফুটে তাহলে তা অভিনয় হয় না, অন্যকে নিজের ভক্ত বানানোর কৌশল হয় না বরং তা তাঁর হৃদয়ের আবেগ ও অনুভূতির এক স্বাভাবিক পরিণতি হয়ে থাকে। তাই নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বর্ণিত আখলাক ও আজকের আখলাকের মাঝে আকাশ—যমীন পার্থক্য।  আরো পড়ুন…

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

মোজার উপর মাসাহ

মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান (হাদিস)

জেনে নিন মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান। রাসূল (সাঃ) ও সাহাবায়ে কেরামগণ চামড়ার মোজা পরিধান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE